বাস্তব কাহিনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাস্তব কাহিনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২০

খুব বেশি মনে পড়ে তোমাকে ২০২০

জানুয়ারি ১৪, ২০২০ 0
S...খুব বেশি মনে পড়ে তোমাকে আমাকে কী তোমার মনে পড়ে? না না, আমাকে তো তোমার মনে পড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, তুমি তো আর এখন এই পৃথিবীর বুকে নেই। আমি পাগল না হলে কী আর তোমাকে এমন কথা বলতে পারি? কিন্তু তোমাকে আমার ঠিকই মনে পড়ে। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে তোমাকে আমার মনে পড়ে। মনে পড়বেই না কেন? তোমার-আমার সেই দিনের পুরনো কথাগুলো যে আমাকে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকে। প্রথম যেদিন তুমি আমাকে বন্ধুত্বের আহ্বান করলে সেদিন আমি কিন্তু তোমাকে পাত্তাই দেইনি। আমি একজন ছেলে হয়ে তোমার প্রথম বন্ধুত্বের আহ্বান ফিরিয়ে দিয়েছি, তবুও তুমি পর পর কয়েক দিন চেষ্টা করার পর আমি তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছি। আমি কী কোনো মহানায়ক ছিলাম যে, তোমার মতো এমন একজন সুন্দরী মেয়ে আমাকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আহ্বান করার পরেও প্রথমে সাড়া দেয়নি। না, আমি মোটেও কোনো মহানায়ক বা সাধারণ, অসাধারণ কোনো নায়ক ছিলাম না। আমি ছিলাম সরল-সহজ একজন সাধারণ ছেলে, এখনো তাই আছি। তবে কেন তোমার মতো একটা মেয়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব করতে আপত্তি ছিল? আসলে তোমার আগে আমার আরো কয়েকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। তারা আমার সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্বের ভালো ব্যবহার দেখিয়ে সরল মনে দাগ দিয়েছে। আমি তাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম। আমি জানতাম যে, জীবনে চলার জন্য মানুষের বন্ধুত্বের প্রয়োজন আছে, এও জানি যে বন্ধু ছাড়া মানুষ একা চলতে পারে না। তাই তো আমি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলাম। কিন্তু তারা কি করল জানো? আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে প্রতারণা করলো, আস্তে আস্তে কুড়ে কুড়ে আমাকে যেন শেষ করে দিচ্ছিল। কিভাবে কি করল তারা আমার সঙ্গে সে বর্ণনা নাইবা দিলাম। সে কথাগুলো বলতে গেলে কষ্ট আমার বাড়তে থাকবে। তারা আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে প্রতারণা করে চলে যাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, আর জীবনে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুমি এসে আমাকে যেন চুম্বকের মতো টেনে নিলে। প্রথমে তো পাত্তা দিইনি। কিন্তু একের পর এক যখন তুমি আমার পিছু লেগে থাকতে শুরু করলে তখন আমার মনটাকে একটু নরম করলাম। দেখে না শেষবারের মতো তোমার সঙ্গে বন্ধুত্বটা করে। তাই তো হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বন্ধুত্বে। হ্যাঁ, তুমি আমার শেষ বন্ধু হলেও খুব ভালো একজন বন্ধু ছিলে। তোমার সব কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করতে। আমি আস্তে আস্তে তোমার সঙ্গে আমার দুঃখ, কষ্ট, বেদনার কথাগুলো শেয়ার করতাম। তোমার সঙ্গে মিশে বুঝতে পারলাম যে, আমার চেয়ে তোমার মনে অনেক কষ্ট। তোমার মা নেই, তোমাকে আট বছর বয়সে রেখে তোমার মা মারা যায়। তোমার বাবা আবার দ্বিতীয় বিয়ে করে। তোমার সৎ মা তোমাকে ভালোবাসতো না। অনেক কষ্ট দিত। তোমাকে দিয়ে কাজের বুয়ার চেয়েও বেশি কাজ করাত। এছাড়াও আরো নানানভাবে তোমাকে কষ্ট দিত। তাছাড়া তুমি একটা ছেলেকে ভালোবেসেছিলে তাও আমার সঙ্গে শেয়ার করেছো। ছেলেটি তোমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তোমাকে ঠকিয়েছে। ভালোবাসার অভিনয় করে তোমার দুচোখে শুধু স্বপ্ন এঁকে দিয়ে অন্যকে নিয়ে ঘর করছে। তোমার মতো আমার বেলাতেও হয়েছে। তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে আমাকেও দুয়েকজনে ভালোবাসি বলে স্বপ্ন দেখিয়ে চলে গেছে। তবে আমার চেয়ে তোমার কষ্টগুলো অনেক বড় মনে হয়। যখন তোমার কষ্টের কথাগুলো শুনতাম তখন আমি আস্তে আস্তে তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে যেতে থাকি। তোমার কষ্টে আমি কষ্ট পেতে থাকি। তোমার কষ্টের ভাগিদার হতে চাই। কিন্তু তা আর হতে পারলাম না। একদিন সকালে শুনতে পেলাম যে, তুমি নাকি ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলাতে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছো। প্রথমে তো আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে, তুমি আত্মহত্যা করেছো। আমি দেখতে গিয়েছিলাম তোমার লাশ। তোমার মরা মুখ দেখে আমি বলেছিলাম যে, তুমি মরনি, ঘুমিয়ে আছ। আমার কথা শোনে অনেকে পাগল বলেছে আমাকে। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, তুমি সত্যি সত্যি ঘুমিয়েছিলে। তখন সবার সামনে একটুও কাঁদিনি। কিন্তু বাসায় আসার পর আমি গোপনে অনেক কেঁদেছি। এখনো তোমার জন্য আমার দুচোখে জল ঝরে। তোমার কবরে যখন আমি মাটি ছুঁই তখন আমার বুকের ভেতরটা যেন দাউ দাউ করে জ্বলে। এতটা কষ্ট এখনো আমি তোমার জন্য পাই। যদি বেঁচে থাকতে তাহলে তোমাকে ছাড়া আমার জীবন সাথী আর কাউকে করতাম না। আজো তোমাকে ভেবে দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। তোমাকে অনেক, অনেক মনে পড়ে। খুব মিস করি তোমায়। আমাকে কী তোমার মনে পড়ে? না না, আমাকে তো তোমার মনে পড়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, তুমি তো আর এখন এই পৃথিবীর বুকে নেই। আমি পাগল না হলে কী আর তোমাকে এমন কথা বলতে পারি? কিন্তু তোমাকে আমার ঠিকই মনে পড়ে। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে তোমাকে আমার মনে পড়ে। মনে পড়বেই না কেন? তোমার-আমার সেই দিনের পুরনো কথাগুলো যে আমাকে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকে। প্রথম যেদিন তুমি আমাকে বন্ধুত্বের আহ্বান করলে সেদিন আমি কিন্তু তোমাকে পাত্তাই দেইনি। আমি একজন ছেলে হয়ে তোমার প্রথম বন্ধুত্বের আহ্বান ফিরিয়ে দিয়েছি, তবুও তুমি পর পর কয়েক দিন চেষ্টা করার পর আমি তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছি। আমি কী কোনো মহানায়ক ছিলাম যে, তোমার মতো এমন একজন সুন্দরী মেয়ে আমাকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আহ্বান করার পরেও প্রথমে সাড়া দেয়নি। না, আমি মোটেও কোনো মহানায়ক বা সাধারণ, অসাধারণ কোনো নায়ক ছিলাম না। আমি ছিলাম সরল-সহজ একজন সাধারণ ছেলে, এখনো তাই আছি। তবে কেন তোমার মতো একটা মেয়ের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব করতে আপত্তি ছিল? আসলে তোমার আগে আমার আরো কয়েকজনের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল। তারা আমার সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্বের ভালো ব্যবহার দেখিয়ে সরল মনে দাগ দিয়েছে। আমি তাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম। আমি জানতাম যে, জীবনে চলার জন্য মানুষের বন্ধুত্বের প্রয়োজন আছে, এও জানি যে বন্ধু ছাড়া মানুষ একা চলতে পারে না। তাই তো আমি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলাম। কিন্তু তারা কি করল জানো? আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে প্রতারণা করলো, আস্তে আস্তে কুড়ে কুড়ে আমাকে যেন শেষ করে দিচ্ছিল। কিভাবে কি করল তারা আমার সঙ্গে সে বর্ণনা নাইবা দিলাম। সে কথাগুলো বলতে গেলে কষ্ট আমার বাড়তে থাকবে। তারা আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে প্রতারণা করে চলে যাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে, আর জীবনে কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব করব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুমি এসে আমাকে যেন চুম্বকের মতো টেনে নিলে। প্রথমে তো পাত্তা দিইনি। কিন্তু একের পর এক যখন তুমি আমার পিছু লেগে থাকতে শুরু করলে তখন আমার মনটাকে একটু নরম করলাম। দেখে না শেষবারের মতো তোমার সঙ্গে বন্ধুত্বটা করে। তাই তো হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম বন্ধুত্বে। হ্যাঁ, তুমি আমার শেষ বন্ধু হলেও খুব ভালো একজন বন্ধু ছিলে। তোমার সব কথা আমার সঙ্গে শেয়ার করতে। আমি আস্তে আস্তে তোমার সঙ্গে আমার দুঃখ, কষ্ট, বেদনার কথাগুলো শেয়ার করতাম। তোমার সঙ্গে মিশে বুঝতে পারলাম যে, আমার চেয়ে তোমার মনে অনেক কষ্ট। তোমার মা নেই, তোমাকে আট বছর বয়সে রেখে তোমার মা মারা যায়। তোমার বাবা আবার দ্বিতীয় বিয়ে করে। তোমার সৎ মা তোমাকে ভালোবাসতো না। অনেক কষ্ট দিত। তোমাকে দিয়ে কাজের বুয়ার চেয়েও বেশি কাজ করাত। এছাড়াও আরো নানানভাবে তোমাকে কষ্ট দিত। তাছাড়া তুমি একটা ছেলেকে ভালোবেসেছিলে তাও আমার সঙ্গে শেয়ার করেছো। ছেলেটি তোমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তোমাকে ঠকিয়েছে। ভালোবাসার অভিনয় করে তোমার দুচোখে শুধু স্বপ্ন এঁকে দিয়ে অন্যকে নিয়ে ঘর করছে। তোমার মতো আমার বেলাতেও হয়েছে। তোমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে আমাকেও দুয়েকজনে ভালোবাসি বলে স্বপ্ন দেখিয়ে চলে গেছে। তবে আমার চেয়ে তোমার কষ্টগুলো অনেক বড় মনে হয়। যখন তোমার কষ্টের কথাগুলো শুনতাম তখন আমি আস্তে আস্তে তোমার প্রতি দুর্বল হয়ে যেতে থাকি। তোমার কষ্টে আমি কষ্ট পেতে থাকি। তোমার কষ্টের ভাগিদার হতে চাই। কিন্তু তা আর হতে পারলাম না। একদিন সকালে শুনতে পেলাম যে, তুমি নাকি ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলাতে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছো। প্রথমে তো আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে, তুমি আত্মহত্যা করেছো। আমি দেখতে গিয়েছিলাম তোমার লাশ। তোমার মরা মুখ দেখে আমি বলেছিলাম যে, তুমি মরনি, ঘুমিয়ে আছ। আমার কথা শোনে অনেকে পাগল বলেছে আমাকে। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, তুমি সত্যি সত্যি ঘুমিয়েছিলে। তখন সবার সামনে একটুও কাঁদিনি। কিন্তু বাসায় আসার পর আমি গোপনে অনেক কেঁদেছি। এখনো তোমার জন্য আমার দুচোখে জল ঝরে। তোমার কবরে যখন আমি মাটি ছুঁই তখন আমার বুকের ভেতরটা যেন দাউ দাউ করে জ্বলে। এতটা কষ্ট এখনো আমি তোমার জন্য পাই। যদি বেঁচে থাকতে তাহলে তোমাকে ছাড়া আমার জীবন সাথী আর কাউকে করতাম না। আজো তোমাকে ভেবে দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। তোমাকে অনেক, অনেক মনে পড়ে। খুব মিস করি তোমায়। মোঃআসাদ রহমান কোটচাঁদপু, ঝিনাইদহ

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

||পার্সেল ||md asad Rahman||

নভেম্বর ০৯, ২০১৯ 0
||পার্সেল ||md asad Rahman||
জীবন থেকে নেয়া . সকাল সকাল কলিংবেলের শব্দে ঘুম ভাংলো। দরজা খুলে দেখি কেউ নেই। আসে পাশে তাকালাম। কারো দুষ্টুমি ভেবে যেইনা দরজাটা লাগাতে যাবো, চোখ পড়লো নিচের দিকে। তাকিয়ে দেখলাম বেশ মাঝারি আকারের একটা বক্স। খুব সুন্দর করে বাধাই করা। হাতে নিলাম, লেখা ছিল 'শুধু তোমার জন্য তামান্না '। চোখ কপালে উঠলো। কারন এই শহরে কেউ আমায় এই নামে জানেনা। আর আমাকে পার্সেল করে কিছু পাঠানোর বিশেষ কারো কথা আমার মাথায় আসছেনা। আমার বিয়ে হল আজ ১ বছর। আমার স্বামি এতই হিসাবি একটা মানুষ যে বাসর ঘরেও আমাকে ১ টাকার একটা চকলেট উপহার করেনি। তারপর আজ অব্দির কথা নাহয় বাদই দিলাম। তাই আমার স্বামি আমাকে কিছু পাঠাবে, তাও আবার পার্সেল করে যখন সে কাজের সূত্রে শহরের বাইরে আছে তা হতেই পারেনা ! তাই সেই চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিতে বেশি সময় অপচয় করিনি। খানিকটা দ্বীধা নিয়েই বক্সটা নিয়ে দরজা আটকালাম। আমার ঘুম পুরো হয়নি, তাই আবার ঘুমাতে চলে গেলাম। বক্সের প্রতি কোন কৌতুহলই আমার ছিলনা। কারন বরাবরই আমি এমন স্বভাবের । কোন কিছুর প্রতি অতিরিক্ত কৌতুহল আমার কাজ করেনা । অতঃপর ২ ঘন্টা পর ঘুম ভাংলো। ফ্রেস হয়ে, নাস্তা খেয়ে যখন দুপুরের মেনু নিয়ে ভাবতে যাবো তখন বক্সের কথা মনে পড়লো। বক্সটি না খোলে জানা যাবেনা ঠিক এর ভেতর কি বা কে এটা পাঠালো তাই রেপিং পেপার গুলো খোলতে লাগলাম। . প্রথমেই দেখলাম খুব সুন্দর করে রেপিং করা আরেকটা সরু ডাইরি বা কোন বই টাইপের মত মনে হল কিছু আছে। রেপিং খুললাম, বেড়িয়ে এলো একটা বেশ বড় আকারের ডাইরি। ডাইরির গায়ে লেখা "তামান্নার ডাইরি, 'মহোদয়ার অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করা নিষেধ ” লেখাটা দেখে মুখে হাসি চলে আসলো। পুরো ডাইরি উলটে ১ম পৃষ্টায় লেখা ছাড়া আর কিছুই লেখা পাইনি। . ১ম পৃষ্টায় সুন্দর করে ছোট করে দুলাইনের একটি ছন্দ লেখা " তামান্না, চোখ যেন তোমার মায়ার বাঁধন স্নেহের জলে ঢাকা, আমার দেহের প্রতিটি অংগে তোমার ছবিই আঁকা " বাহ! বেশতো! আমার দুচোখের আজ পর্যন্ত অনেক প্রশংসা শুনেছি, কিন্তু আজকের মত এমন প্রশংসা জীবনেও শুনিনি। . ডাইরি পাশে রেখে আরো একটা ডাইরি পেলাম। তবে এটা বেশ মোটা। স্টিলের রিং এর মত গোল গোল চাকার মত কাঠামো দিয়ে বাধাই করা। এই ডাইরি ক্রমান্বয়ে খুলতে লাগলাম, যতই খুলতে লাগলাম অবাক হলাম। যেমন . ১ম পাতায় এক পাশে লেখা ছিল "আজ তোমায় প্রথম দেখলাম। আচ্ছা তুমি কি জানো! কাজল কালো চোখে তোমায় লাগে বেশ? " সাথে ২২ টা কাজল। আচ্ছা ২২টা কাজল কেন! আমার বয়স ২২ বলে! সে কিকরে জানলো আমার বয়স কত! এমন অনেক প্রশ্ন মাথায় ভর করলো। একি! আমিতো কৌতুহলি নই! তবে এখন কেন কৌতুহলি হয়ে যাচ্ছি! ধ্যাত, আমি বরং চুপচাপ দেখতে থাকি আরও কি কি আছে ডাইরিতে। . ২য় পৃষ্টায় "আচ্ছা, তুমি টিপ কেন পড়না৷! তুমি কি জানো একটা ক্ষুদ্র টিপ তোমার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিবে? " সাথে কালো লাল নীল হরেক রকম টিপের একটি বক্স . ৩য় পাতায় "অবশ্য তোমার গোলাপি ঠোঁট কোন লিপ্সটিক ছাড়াই মাশাল্লাহ । তবু তুমিকি জানো! এই লিপ্সটিকগুলি রঙধনুর রঙের মত তোমার সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিবে? " সাথে ১০টি হরেক রকম লিপ্সটিক। . ৪র্থ পাতায় "আচ্ছা তোমার হিজাবে এত পিন দাও,এগুলো শেষ হয়না! তাই তোমার জন্য " সাথে হিজাব বাঁধার পিনের জন্য ১০ টি বক্স। . ৫ম পাতায় " আজ তোমাকে সবার আরালে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে দেখলাম। সামনে গিয়ে চোখের পানি মুছে দিতে পারিনি। তাই তোমার জন্য " সাথে ৫ টি রোমাল। . ৬ষ্ঠ পাতায় " আজ তোমার হাতে চুড়ি পড়তে দেখলাম, আমি চাই তুমি প্রতিদিন পড়ো " সাথে ৫ ডজন অনেক রকম চুড়ি। প্রত্যেক রঙের ৪টি করে চুড়ি। . ৭ম পাতায় "তোমাকে কখনো হিজাব ছাড়া দেখিনি। বাসায় নিশ্চয়ই হিজাবে থাকোনা ! তখন পড়িও "সাথে ছোট দুটো কানের দুল, একটি চেইন। . ৮ম পাতায় " শুনেছি তুমি গান খুব পছন্দ কর! অবশ্য প্রায় সবাই করে। তাই তোমার জন্য। " সাথে একটি ৩২ জিবি মেমোরি কার্ড আর একটি ব্লুথুড৷ . ৯ম পাতায় " ঘুরতে গিয়েছিলাম কক্সবাজার, তোমার জন্য কি আনবো ভেবে এইটা নিলাম " সাথে খুব সুন্দর একটি মুক্তার মালা৷ . ১০ম পাতায় " অনেক লিখতে গিয়ে যখন কালি ফুরিয়ে যাবে, তাই তোমার জন্য প্রিয়া " সাথে ২২ টি হরেক রকম কলম। . ১১ তম পাতায় লেখা " শুনেছি আমার অপ্সরীর কেশবতীর চাইতেও লম্বা ঘন কালো কেশ। যখন কেশ গুলি বেখেয়ালি হয়ে যাবে তখন সেগুলোকে পোষ মানাতে কেশবতীর জন্য " সাথে খোপা করার ১২ টি কাঠি । . ১২তম পাতায় লেখা "ভেবেছিলাম তোমায় এইটা দিয়ে প্রপোস করবো। আমার কাছে থাকার চেয়ে তোমার কাছেই থাকুক " একটি শুকনো গোলাপ আর একটি স্বর্নের রিং। ডাইরি শেষ। . কিন্তু বক্সে আরও অনেক কিছুই বাকি মনে হচ্ছে। একে একে খোলতে লাগলাম। . প্রথমে দুটো শাড়ি। একটি লাল, আরেকটি নীল। শাড়িতে পিন দিয়ে আটকানো একটা কাগজে লেখা " শুনেছি তোমার পছন্দ লাল, আর আমার নীল। তাই ২টিই দিলাম। কখনো যদি মনে হয় পড়িও। আশা করে ঐ পরিটিকে আরও অপ্সরী লাগবে " . এরপর পেলাম একটি চাদর, কাগজে লেখা" শীত অনুভব হলে গায়ে জড়িয়ে নিও কোন কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে। ভেবে নিবো আমিও আছি তোমার পাশে। " . তারপর পেলাম ১০ টি ভিন্ন রঙের হিজাব উড়না। কাগজে লেখা " হিজাবে বারবার দেখেও বিরক্ত হয়নি জানো! বারবার তোমার প্রেমে পড়েছি " . তারপর পেলাম একটি পানির বোতল। কাগজে লেখা "যতবারই দেখেছি তোমায়, সবসময় তোমার সাথে একটি পানির বোতল দেখেছি। পানি খাওয়া স্বাস্থের জন্য ভালো। তাই তোমার জন্য "। . এরপর পেলাম একটি ভ্রমণ করার জন্য গাইড বই। কাগজে লেখা "আচ্ছা! তোমার নাকি খুব ঘুরতে যাবার সখ? অজানা জায়গায় যেতে খুব বেশি পছন্দ করো? যদি কখনো কোথাও হারিয়ে যাও গন্তব্য খোঁজে নিও। " . তারপর পেলাম একটা ছোট পার্শ ব্যাগ। যেটার গায়ে লেখা " যদি হারিয়ে যাও ফিরে আসতেতো টাকার প্রয়োজন। তাই সংগে রেখো। ও হ্যা, টাকা রাখতে ভুলনা যেন " . বক্সের ভেতর সব দেখা শেষ। . আর কিছুই নেই একটা বেবি ফ্রগ আর একটা কাগজ ছাড়া। কাগজে যা লেখা ছিল তা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। . কাগজটাতে লেখা ছিল " সবতো তোমাকেই দিলাম। এখন নাহয় আরেকজন বিশেষ কাউকে দেই! গত পরশু তুমি হঠ্যাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলে। হসপিটালে একদিন কত ঝামেলাইনা পোহাতে হল। একটা বারও রিপোর্ট দেখোনি । তুমি বোকা প্রেশার কমে গেছে কথাটা বিশ্বাস করে নিলে। রিপোর্টে কি লেখা ছিল জানো! তুমি মা হতে চলেছো আমার ভালবাসা। তাই এই ফ্রকটা আমাদের ভালবাসার ফসলের জন্য। আর কত বাইরে দাড়িয়ে রাখবে! নিশ্চয়ই আবার ঘুমিয়ে গিয়েছিলে ঘুম কাতুরে বাবুটা? দরজা খুলে দাও, আমার বাচ্চার মাকে একটু প্রানভরে দেখি। ঠিক যেমন বিয়ের আগে দূর থেকে দেখতাম। ইতি তোমার কিপটা স্বামি

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৯

ছোট সাহেব

অক্টোবর ১১, ২০১৯ 0
গল্পঃছোট সাহেব [পর্বঃ ০১] শরীরে হাত দিচ্ছেন কেন? __ -ম্যাডাম.! আমি আর আপনাদের বাসায় কাজ করতে চাইনা। আপনি এই মাসের বেতন দিয়ে দিলে খুশি হতাম... (কাজের বুয়া) -কেন? আমি তো তোমাকে অন্য সব কাজের বুয়ার থেকে তোমাকেই বেশি বেতন দিতাম? (মা) . -না, ম্যাডাম! আমি আর কাজ করতে চাইনা।ভয় করে এই বাসায় কাজ করতে।আমার কিছু হলে মার কি হবে।সে এখনো অসুস্থ..(কাজের বুয়া) . -তুমি অনেক ভালো কাজ করতে পারো।সেজন্যই বলছি থাকতে।কোনো কারণ ছাড়াই কেন চলে যাবা? (মা) . -ছোট সাহেব আজ আমার কোমরে হাত রেখে পিছনে জোরিয়ে ধরেছিলো।সাহেবের নজর প্রথম থেকেই সুবিধার লাগছিলো না...(কাজের বুয়া) . -মজা করো না প্লিজ! আমার ছেলে সোহান একটু দুষ্টু বটে কিন্তু মোটেও এমন অসভ্য না।সোহান অনেক ভালো।সবাইকে শ্রদ্ধা করে...(মা) . -(দু'হাত খপকরে ধরে) বিশ্বাস করেন.! আমি মিথ্যা বলছিনা! প্রথম দিন আপনাদের বাসায় কাজের জন্য এসেছিলাম মনে পরে? (কাজের বুয়া) . -হ্যাঁ মনে আছে, কেন? (মা) . -আমার নোংরা কাপড় দেখে প্রথমেই কাজের জন্য মানা করে দ্যান..(কাজের বুয়া) . -তারপর তো আমার ছেলে কাজে নিতে বলল।তাই তো কাজে রেখে দিলাম।তখন তো খুশিই হয়েছিলে..(মা) . -ছোট সাহেব প্রথম দিনেই আমার বুকের দিকে চোখ দেয়।সেটা প্রথম থেকেই বুঝতে পারছি তার দিন দিন লোভ বারছে..(কাজের বুয়া) . -পুরুষ মানুষ লোভ দেখালে তো লোভ লাগবেই। শাড়ীর আঁচল ঠিক রাখতে পারো না..? (মা) . -আজব তো! নিজের ছেলের ভুল না ধরে, আমার ভুল ধরছেন।আর হ্যাঁ আঁচলটা ঠিকি ছিলো।তবুও আমি নড়েচড়ে ঠিক ভাবে দাড়িয়ে, গলা ঝারিয়ে কেঁশে আঁচল ঠিক করি।ছোট সাহেবের চোখ যেন সরছিলোই না ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে ছিলো, লুচ্চাদের মতো..(কাজের বুয়া) . --কিইইই্??? সম্পূর্ণ ঘটনা পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে বলো? আজ সকালে কি হয়েছে.. (মাধবীলতা) . -সকাল ১০টায় আপনি অফিসের কাজে চলে যান।তখন আমি দরজা হালকা চেপে দিয়ে একটু ঝুঁকে ঝাড়ু দিচ্ছিলাম আমার মনে ছিলো না শাড়ীর আঁচল পরে গেছে ,তখনি পিছন থেকে কেউ জোরিয়ে ধরে কোমরটা।তাকিয়ে দেখি ছোট সাহেব লজ্জায় মাথা নিচু করে বলি "ছোট সাহেব আপনি?" (কাজের বুয়া) . ছোট সাহেব তখন বলে... -কেমন লাগছে তোর? মাধবীলতা? . -শরীরে হাত দিচ্ছেন কেন? ছোট সাহেব? (কাজের বুয়া) . -মাধবী, তোকে আমি বিয়ে করে আমার বউ বানাবো।একটু আদর করতে দেনা প্লিজ।আমি তোকে অনেক ভালোবাসবো.. . -না, না আমার দরকার নেই এমন ভালোবাসার।কিছুদিন পর ঠিকি আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবেন, নয়তো বা মান-সম্মানের ভয়ে গলা টিপে মেরে ফেলবেন? (কাজের বুয়া) . -ওহহ্ মাধবী, আরো কাছে আসো।আই লাভ ইউ মাধবী! আই লাভ ইউ মাধবী! (ঘাড়ে গলায় একের পর এক চুমু দিয়ে) . -ছাড়েন, ভয় করছে যদি কেউ দেখে ফেলে.! তখন কাজ থেকে বের করে দিবে।আপনার কিছুই হবেনা, যত দোষ আমার উপর দিয়ে যাবে... (কাজের বুয়া) . -কোনো দোষ হবেনা।দরজা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিয়েছি।কেউ দেখবে না, এখন শুধু তুই আর আমি ছাড়া পুরো বাসাটা ফাঁকা..(হেসে হেসে বলছে) . হাত দুমরে মুচরে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কাজের মেয়ে।পিঠের উপর উপচে পরে থাকা চুল গুলো। হাত দিয়ে সরিয়ে দিয়ে পিঠে চুমু দিলো। গালে গাল ঘেষে বলে... . -তোর মাইনে বেরে দিব,আম্মুকে বলে।শুধু আমাকে একটু সময় দে।আমি তোকে অনেক ভালোবাসিরে মাধবী.. . -ছিঃ ছিঃ ছোট সাহেব আপনাকে তো ভদ্র ভাবতাম। কিন্তু আপনি..?কাজের মেয়ের সাথে কোনো বড়লোক দের প্রেম ভালো হয়না, ছাড়েন বলছি... (কাজের বুয়া) . -তোকে দেখলে কি ভদ্র থাকতে ইচ্ছা করে..! ইচ্ছা করে তোর ঠোঁট দুটো কামরে-চুষে খেয়ে ফেলি।আহহ্ গোলাপী ঠোঁট দেখেই লোভ ধরে যাচ্ছে।। . -ছোট সাহেব দয়া করে এই গরিবের মেয়ের এমন ক্ষতি করবেন না।আপনার দুটি পায়ে পরি।ছাড়ুন আমায়..? (কাজের বুয়া) . -যদি না ছাড়ি তাহলে কি করবি করেনে।আমি তোকে আর আজ ছাড়ছিনা (এক গাল হেসে) . থতমতো হয়ে তোঁতলাতে তোঁতলাতে বলে... -আ-আমি চিৎকার করে আশে-পাশের সব প্রতিবেশীদের জরো করবো, বলে দিলাম.. (কাজের বুয়া) . -তোর চিৎকার কেউ শুনতে পাবেনা।পারলে নিজের গলা ফাঁটিয়ে চিৎকার কর তবুও তোকে ছাড়ছিনা..! . তারপর ছেলে আমার দুটো হাত শত্ত করে চেপে ধরে।পুরুষ মানুষের শক্তির কাছে নারীর শক্তি হেরে যায়। আমাকে দেওয়ালের সাথে সেটে ধরে।দু'হাতে চেপে ধরে দেওয়ালে আমি অনেক ছুটার চেষ্টা করি কিন্তু পারিনি। । ঠোঁট লাগিয়ে দিয়ে ছিঃ ছিঃ বলতেও লজ্জা করছে আমার।ভাগ্যিস প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকে একটা মেয়ে "চিনি" নিতে এসেছিলো, তাই হয়তো বেঁচে গেছি? । মুখের উপর শক্ত হাতে চেপে ধরে আপনার ছেলে বলেছিলো "ভুলেও এসব কথা প্রতিবেশীর কাছে বললে তোর ব্যবস্থা আমি নিবো, মাইন্ড-ইট" শার্টের বোতাম ঠিক করতে করতে চলে গেলো ছোট সাহেব। আমি চোখের জল মুছে দরজা খুলে দিলাম। ' কাজের বুয়ার মুখ থেকে এমন একটা কথা শুনে, মা প্রথমে বিশ্বাস করছিলো না।যে ছেলেটা ভূতের গল্প পড়ে ভয় পেয়ে প্যান্ট নষ্ট করে দেয়.! । সে-কিনা একটা বস্তির অপরিষ্কার, নোংরা কাপড়-চপড় পরা মেয়ের উপর লোলুভ দৃষ্টিতে তাকাবে? বিশ্বাস হয়না! । -ম্যাডাম চুপ করে আছেন কেন?আমার বেতনটা দিয়ে দ্যান।ছোট সাহেব যদি কিছু করে বসে... (কাজের বুয়া) (ভয় ভয় কণ্ঠে বলে) . -সোহান এমন হতেই পারেনা।এসব নিয়ে দ্বিতীয় বার কথা উঠলে জেলার ভাত খাইয়ে ছাড়াবো তোকে! মনে থাকে যেন....(মাধবীলতা) . -কিন্তু..! (কাজের বুয়া) . কথার মাঝ খানেই থামিয়ে দিয়ে বলে... -আর একটা কথাও শুনতে চাইনা।কাল থেকে নিয়মিত কাজে আসবি...(মাধবীলতা) . মাথা ঝাঁকিয়ে হ্যাঁ জবাব দেয়। গ্রামের মেয়ে এখানে এক বস্তিতে থাকে তার অসুস্থ মাকে নিয়ে।বাবা শখ করে নাম রেখেছিলে "মাধবীলতা"। । জন্মের ঠিক ৬ মাস পরেই যক্ষ্মা-রোগে মারা যায় তার বাবা।১২ বছর বয়সে মা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পরে আছে।পেট বাঁচানোর দায়ে অন্যর বাড়িতে কাজ করা শুরু করে। ° এখন মাধবীলতার বয়স সাড়ে ১৬, পুলিশ তো বড় লোকদের হাতে চলে।আমাদের মতো নিম্ন ব্যক্তিদের কি সাহায্যর জন্য এগে আসবে? মন হয়না আসবে? এসব ভাবতে ভাবতে আবারও রুম পরিষ্কার করায় ব্যস্ত হয়ে গেলো।সন্ধ্যা হলেই যেন লম্বা একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে "আজকের মতো বাঁচে গেলাম" . মাধবীলতার মনের ভেতরের ভয়টা কুঁরে-কুঁরে খাচ্ছে তাকে।আজ না হয় প্রতিবেশীর জন্য বেঁচে গেলাম কাল কি করব? কাল যদি আবারও ছোট সাহেব খারাপ কিছু আবদার করে তখন? এসব ভাবতে ভাবতেই মাধবীলতা বুক ফাঁটা কান্না ভেঙ্গে পরে। পরদিন সকালে উঠে নিজের মাকে খাইয়ে দিয়ে মাধবীলতা কাজে উদ্দেশে বের হয়।দরজায় কলিংবেল চাপলো মাধবীলতা।দরজা খুলে বলল... । -ওহ তুই এসেছি তাহলে? আজ এত দেড়ি করার কারণটা কি?? (মা) . -ম্যাডাম, মাকে খাইয়ে দাইয়ে দিতেই একটু বেশি দেড়ি হয়ে গেছে।কাল থেকে আর দেড়ি হবেনা (মাধবীলতা) হেসে হেসে কথা গুলো বলে.. । -আচ্ছা ঠিক আছে,কাপড় গুলো ময়লা হয়ে গেছে একটু ভালো করে ধুয়ে দিস, আমি অফিসে চলে যাচ্ছি!" (মা) . -জ্বী আচ্ছা ম্যাডাম।আপনে কোনো চিন্তা কইরেন না।আমি সব কাজ করে দেবো (মাধবীলতা) মাধবীলতা সবার ম্যাডামের রুম পরিষ্কার করে ছোট সাহেবের রুমে ঢুকলো।রুমে ঢুকেই লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যায় মনে মনে বলল "ছোট সাহেব কত নোংরা পড়ার টেবিলেও মেয়েদের ম্যাগাজিন!" কাল সেই ঘটনার কথা মনে পরে আত্মা কেঁপে উঠে।পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন -চলবে????

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

গল্পটা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে

সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ 0
গল্পটা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে
গল্পটা শুরু হয় প্রায় ৯ বছর আগে। আমার ১৩ তম জন্মদিনে হঠাৎই একটা পার্সেল আসে অজ্ঞাত নামে। আজও আমি জানতে পারিনি কে সে প্রেরক। সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি কবে আমার সামনে আসবে সেটা নিয়ে আমি আজও সন্দিহান। আমি বিভা। কিছুক্ষণ আগেই আমার নামের পাশে বিবাহিত তকমাটা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাস্টার্স এ ভর্তি হয়েছি কিছুদিন আগে। অনেকদিন যাবতই বাবা বিয়ে নিয়ে তোড়জোড় করছিলো।অবশেষে আজ বাবার জেদের কাছে হার মেনে বিয়েটা করতেই হলো। অথচ যার সাথে বিয়ে হয়েছে তাকে আজই আমি প্রথম একনজর দেখেছি।এখনও অবধি তার সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।শুনেছি সে ডাক্তার।কর্মসুত্রে রাজশাহী থাকে।অনুষ্ঠানের পর আমাকেও রাজশাহী চলে যেতে হবে। ফাতিন ( আমার বর) আর ওর পরিবার আজই আমাকে প্রথম দেখতে এসেছিলো।যদিও ওরা আগেই আমাকে দেখেছে,বাবার সাথে তাদের কথাবার্তা আগেই বলে রাখা। অফিশিয়ালি আজই প্রথম এসেছিলো।আজই ওরা কাবিন করিয়ে নিয়েছে।অনুষ্ঠান করে একমাস পর আমাকে নিয়ে যাবে। বাবার মুখের ওপর আমি কথা বলতে পারিনি।বললেও বাবা শুনতো না। গত দুবছর যাবতই বাবা বিয়ের কথা বলছিলো। আমি সাত পাঁচ বুঝিয়ে এতোদিন আটকে রেখেছিলাম।আজ আর শেষ রক্ষা হলো না। আর আজ আমি বাবাকে জোর গলায় কিছু বলতেও পারিনি।বলার মতো কিছুই ছিলো না। বাবাকে বলতে পারিনি আমি এখনই বিয়ের জন্য প্রস্তুত না। নিজেকে অন্যের জন্য তৈরি করতে আমার একটু সময় লাগবে।বাবাকে বলতে পারিনি আমার মনটা আমি অনেক আগেই কাউকে দিয়ে বসে আছি। যাকে কখনো চোখে দেখিনি,যার নামটাও আমি জানিনা।আমি তাকেই ভালোবেসে বসে আছি।যদিও গতকাল সে আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে তার প্রতি আমার ফিলিংসগুলো শুধুই মরীচিকা। তাকে আমার পাওয়া হবে না। গতকাল আমার জন্মদিন ছিলো। গত ন'বছরের মতো গতকালও সেই অজ্ঞাত নামে পার্সেল এসেছে। এটা তার পাঠানো ১০ ম পার্সেল। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। আমরা দু বোন। প্রভা আমার ছোট বোন। আমার আর ওর মধ্যে বয়সের তফাত দেড় বছর। আমার আর প্রভার মধ্যে গলায় গলায় ভাব।আমাদের মধ্যে ঝগড়া কখনই হয়না।দুজনই দুজন অন্ত প্রাণ।বাবা মা দুজনই চাকরিজীবী। সেদিন আমার জন্মদিন ছিলো। আমি আর প্রভা বাসায়ই ছিলাম সেদিন। আম্মু আর বাবা তাড়াতাড়ি চলে আসবেন বলে আশ্বাস দিয়ে বেরিয়ে যায়। ভরদুপুরে কলিংবেল বেজে উঠায় আমরা ভেবেছিলাম আম্মু বাবা হয়তো চলে এসেছে। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। অথচ আম্মুর কড়া রেসটিকশন ছিলো লুকিং গ্লাসে না দেখে কে সেটা শিউর না হয়ে দরজা খোলা যাবে না। সেদিন আমি এতোকিছু ভাবিনি। দরজা খুলে খুব অবাক হয়ে গেলাম। কেউ নেই। প্রভাও আমার পিছনে এসে দাঁড়ালো। চারদিকে কাউকেই দেখলাম।প্রভা ফ্লোরের দিকে ইশারা করলো। " আপু দেখো গিফট,, ফ্লোরে তাকিয়ে দেখি আসলেই একটা পার্সেল রাখা। বক্সের ওপরে প্রাপকের জায়গায় আমার নামটা জ্বলজ্বল করছে।কিন্তু প্রেরকের জায়গায় 'অজ্ঞাত' লিখা। আমি আর প্রভা অবাক হয়ে বক্সটা ভেতরে নিয়ে আসি। বক্সটা খুলবো কি না ভাবছিলাম। " আপু খুলে দেখ কি আছে ভেতরে। " বক্সটা খুলা কি ঠিক হবে? " ঠিক হবে না কেন? খুলে দেখ না কি আছে ভেতরে। " কিন্তু কে পাঠিয়েছে সেটা তো জানিনা।অপরিচিত কারও গিফট,, " তুই বক্সটা খুলে তো দেখ। হয়তো ভেতরে তার পরিচয় পাবি। প্রভার কথায় বক্সটা খুললাম। বক্স থেকে প্রথমেই বের হলো একটা বেলীফুলের মালা। এরপর পেলাম একটা কালো জমিনে সাদা সুতোয় হালকা কাজ করা আর সাদা পাড়ের একটা শাড়ী।শাড়ীটা ভীষণ সুন্দর। কালো আর সাদা ৪ ডজন কাচের চুড়ি। ২ পা-টি পায়েল। শাড়ীর সাথে ম্যাচ করে কানের দুল আর একটা বড়সড় ডাইরি সাথে কিছু বেশ সুন্দর কলম। তলানিতে পড়ে ছিলো একটা নীল কাগজের চিরকুট। অতিউৎসাহী হয়ে কাগজের ভাজটা খুব জলদি খুললাম। "বিভা,, Happy birthday dear,, Many many returns of the day. আমি কে সেটা জানার খুব ইচ্ছে হচ্ছে বুঝি? ইচ্ছেটা আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। যখন সময় হবে আমি নিজেই তোমার সামনে এসে দাঁড়াবো। তার আগে আমি কে, কেন তোমাকে গিফট পাঠাই সেসব নিয়ে একদম চিন্তা করবে না। পড়াশোনায় মন দাও। আর আমার এই পার্সেলটার কথা ঘূর্ণাক্ষরেও কাউকে বলবে না। তোমার পাশের পিচ্চিটা তো জানেই ওকে বলে দিবে কাউকে না বলতে। অবশ্য তুমি নিজেও পিচ্ছি। তোমার ডাইরি লেখার অভ্যাস আছে কি না জানিনা। তবে এখন থেকে করে ফেলো। যে ডাইরিটা পাঠিয়েছি তাতে আজ থেকে তুমি রোজ লিখবে।তোমার ভালো লাগা খারাপ লাগা সব লিখে রাখবে। প্রতিদিন একটা লাইন হলেও লিখবে। আমি আবারও বলছি পড়াশোনায় কোনো প্রভাব যেন না পড়ে। পড়াশোনা ঠিক মতো না করলে আমি কখনই তোমার সামনে আসবো না। ভালো থেকো। ডাইরির কোনো একটা পাতায় একটা ফোন নাম্বার লিখা আছে। ওখানে ছোট্ট করে একটা মেসেজ দিবে। তবে হ্যা তুমি কখনই কল দেওয়ার চেষ্টা করো না। আর আমি কে সেটা জানারও চেষ্টা করবে না। *অজ্ঞাত কাগজটা ভাজ করে আমি আর প্রভা একে অপরের মুখের দিকে তাকালাম। দুজনেরই জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। কে হতে পারে? প্রভা আমাকে তাড়া দিলো জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলার। আম্মু চলে আসলে আর এসব জানলে খুব বকবে। দুজন মিলে গিফটগুলো কাভার্ড এ রেখে দিলাম।আম্মু কখনই আমাদের জিনিসপত্রে হাত দেয়না। আম্মু চাকরিজীবী বলেই নিজেদের কাজটা আমরা নিজেরাই করতে শিখে গেছি। আম্মু আব্বু বিকেল নাগাত ফিরে আসে। ঘরোয়া ভাবেই আমার জন্মদিন পালন হয়। রাতে আম্মু আব্বু শুয়ে পড়ার পর আমি ডাইরি নিয়ে বসলাম। কি লিখবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। অনেক ভেবে লিখে রাখলাম এই দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কোনো একটা রহস্য এখান থেকেই শুরু।এর শেষটা কোথায় আমার জানা নেই। তবে সেই অজ্ঞাত লোকটা কে জানার খুব ইচ্ছে হচ্ছে। তার পাঠানো গিফটগুলো আমার খুব পছন্দ হয়েছে। ডাইরির ঘেটে একটা পৃষ্ঠায় একটা নাম্বার খোঁজে পেলাম। আম্মু আব্বু বাইরে থাকে বলে বাসায় একটা মোবাইল রেখে যায়। যদিও এই ফোনটাতে একচ্ছত্র আধিপত্য আমারই। ফোনটা হাতে নিয়ে নাম্বারটাতে হাই লিখে একটা টেক্সট করে নাম্বারটা ডিলেট করে দেই। আম্মু সচরাচর ফোন চেক করে না। তাও রিস্ক নিতে চাইনি। নাম্বারটা ততোক্ষণে আমার ব্রেনে সেভ হয়ে গেছে। খুব ইচ্ছে করছিলো নাম্বারটাতে একটা কল দিতে। শেষ অবধি ইচ্ছেটাকে আর পশ্রয় দেইনি। হঠাৎ ফোনের মেসেজ টোন বেজে উঠে।দেখলাম সে নাম্বার থেকে টেক্সট এসেছে। মনে হয়েছিলো আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে। যদিও তখন এতোকিছু বুঝিনি তবে একটা অদ্ভুত ফিলিংস হচ্ছিলো সেটা বুঝেছি। মেসেজটা ওপেন করতেই দেখলাম " থ্যাংকস। আমি জানি তোমার কল দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। আমি কে সেটাও জানতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সঠিক সময় এখনও আসেনি। অনেক রাত হয়েছে এবার ঘুমিয়ে পড়ো। শুভরাত্রি। মেসেজটা ডিলেট করে শুয়ে পড়ি। সকালে স্কুল আছে। বেশি রাত জাগা ঠিক হবে না। সেদিন থেকেই আমার ডাইরি লেখা শুরু। এখন ডাইরি লেখাটা আমার নেশা হয়ে গেছে বলতে পারি। যাই ঘটুক আমাকে রাতে ডাইরি নিয়ে বসতেই হবে। পরদিন থেকে আগের মতোই সব চলছে।স্কুল, বাসা,পড়াশোনা। তবে এরমধ্যে যুক্ত হয়েছে ডাইরি লেখা আর ফোনটা একটু পর পর চেক করা কোনো মেসেজ এসেছে কি না সেটা দেখার জন্য। তবে সে মেসেজ খুব কম করতো।মাসে একটা মেসেজ আসতো তার। তাও আবার আমার কোনো কাজ তার ভালো না লাগলে সেটা জানানোর জন্য। আমার ১৪ তম জন্মদিনেও সে পার্সেল পাঠিয়েছিলো। সেখানেও একটা কলাপাতা রংয়ের শাড়ী, শাড়ীর সাথে ম্যাচিং কানের দুল আর চুড়ি, পায়েল সাথে ১৪ টা গোলাপ ফুল। ডাইরি আর কলম তো ছিলোই। ডাইরির ওপরে একটা ছোট্ট চিরকুট লাগানো ছিলো। যাতে লিখা ছিলো " তোমার প্রতিদিনকার ঘটনাগুলো লিখে রাখবে।তোমার ভালো লাগা খারাপ লাগা সব। একদিন হুট করে এসে ডাইরি গুলো চেয়ে বসবো। আর তোমার সব অনুভুতি, ভাবনাগুলো একেবারে জেনে যাবো। এবারও তার কোনো পরিচয় পাইনি। তবে সেদিন রাতে আমাকে অবাক করে দিয়ে তার কল আসে। ফোনের স্ক্রিনে তার নাম্বারটা দেখে বুকের ভেতর কেমন যেন ঢিপঢিপ করছিলো। কলটা রিসিভ করে চুপ করে রইলাম। ওপাশের মানুষটাও চুপ। আমিই প্রথম কথা বললাম। " কেমন আছেন? " প্রথমে সালাম দিতে হয় সেটা নিশ্চয় জানা আছে? আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম। আসলেই সালাম দেওয়া উচিত ছিলো। " সরি। " ইট’স ওকে। হ্যাপি বার্থডে ডিয়ার। " থ্যাংকস। " মাই প্লেজার। বাই দ্যা ওয়ে গিফট পছন্দ হয়েছে? " জ্বি। " ডাইরি লিখছো তো রোজ? " জ্বি। " গুড। তাহলে ঘুমিয়ে পড়ো। " আপনি,, আমি কথাটা শেষ করতে পারিনি।তার আগেই সে বলে উঠলো " তোমাকে বলেছিলাম আমি কে সেই প্রশ্নটা আমাকে করবে না। আমিই তোমাকে বলবো আমি কে। তবে সেটা সঠিক সময়ে। রাখছি এখন। বলেই সে কল কেটে দিলো।কি অদ্ভুত মানুষ! এরপর আবারো তার মেসেজ হঠাৎ হঠাৎ আসতো। একদিন আমি স্কুল থেকে বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় ফিরি।বাসায় আসার কিছুক্ষণ পরই সেই নাম্বার থেকে কল আসে। কল রিসিভ করার পরই তার গুরুগম্ভীর কন্ঠটা শুনলাম। মনে হচ্ছিলো সে খুব রেগে আছে। " আর কখনো বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় হাটবে না। আর কখনও যেন এরকম না হয়। " কেন,,, সে কিছু না বলে কল কেটে দিলো। কিছুক্ষণ পর মেসেজ দিলো। " বৃষ্টিতে ভেজার পর তোমার জামা শরীরের সাথে লেপ্টে ছিলো। তুমি বড় হচ্ছো সেটা ভুলে গেলে চলবে না। ভেজা কাপড়ে রাস্তায় হাটছিলে।রাস্তার লোকজন তোমাকে আড়চোখে দেখছিলো।আমি চাইনা তোমার বডি শেপ কেউ এভাবে দেখুক। আর কখনও যেন এরকম না হয়। মেসেজটা পড়ে আমারও ভীষণ অসস্তি হচ্ছিলো। লজ্জাও পেয়েছি ভীষণ। এরপর আর কখনওই আমি বৃষ্টিতে ভিজে ফিরিনি। বাইরে থাকা অবস্থায় বৃষ্টি হলে বৃষ্টি থামা অবধি অপেক্ষা করি নয়তো ছাতা নিয়ে বা রিক্সা করে ফিরে আসি।বৃষ্টি বিলাস নিজের জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছি এরপর থেকে। পড়াশোনা, বাবা মা বোন আর তাকে নিয়ে ভালোই কাটতো সময়গুলো। ক্লাস এইটে বৃত্তিও পেলাম।সে ও খুব খুশি হলো। পরের জন্মদিনে আবারও তার গিফট।তবে গিফটটা আসে জন্মদিনের পরের দিন।আমার জন্মদিনটা সেবার শুক্রবারে ছিলো।আম্মু আব্বু বাসায় থাকবে বলে সে গিফটটা পরের দিন পাঠাবে বলে আমাকে মেসেজ করে জানিয়েছিলো। আমি শরীর খারাপের বাহানা করে পরেরদিন স্কুলে যাইনি। বারবার দরজার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে লুকিংগ্লাসে দেখছিলাম কেউ আসে কি না। হতাশ হয়ে আমি রুমে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই কলিংবেল বেজে উঠলো। আমি দরজা খুলে শুধু পার্সেলটাই পেলাম।তখন আফসোস হলো আর একটু সময় থাকলেই হয়তো দেখতে পারতাম কে গিফট টা রেখে গেছে। এবারও সেই একই গিফট। একটা সাদা জমিনের লাল পাড়ের শাড়ী,চুড়ি,কানের দুল, ডাইরি কলম আর বকুল ফুলের মালা। আমার জন্মদিনের পরদিন থেকে নতুন ডাইরি লিখা শুরু করতাম। তার কথামতো একটা লাইন হলেও লিখতাম। তার কল বা মেসেজ এর জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করতাম। যদিও এই তিনবছরে সে তিনবার কল দিয়েছে। সে চতুর্থবার কল দেয় যখন আমি ক্লাস টেন এ পড়ি। আমি কোচিং শেষ করে আমার কিছু ছেলে ফ্রেন্ডস দের সাথে কথা বলতে বলতে বাসায় ফিরেছিলাম।এটা তার ভালো লাগেনি। সেটা জানানোর জন্যই কল দেওয়া। খুব অবাক হতাম। এই লোক কি সারাক্ষণ আমাকে ফলো করে নাকি? এরপর থেকে বাসা থেকে বের হলে বারবার আশেপাশে তাকাতাম।তাকে দেখার আশায়। কিন্তু দেখিনি কখনও।হয়তো দেখেছি কিন্তু চিনতে পারিনি। আমার ১৬ তম জন্মদিনে সে বাসন্তী রংয়ের একটা শাড়ী দিয়েছিলো।আর বাকি জিনিসগুলো আগের মতোই।চুড়ি আর কানের দুল বরাবরের মতো শাড়ীর সাথে ম্যাচিং। সাথে কিছু কাঠগোলাপ। " লোকটার পছন্দ অনেক ভালো রে আপু। খুঁজে খুঁজে কি সুন্দর শাড়ী আর বাকি জিনিসগুলো কেনে। সৌখিন অনেক। কিন্তু কে বল তো? " সেটা আমি কি করে বলবো? আমিও তো খুঁজছি। " ইসস,,, তুই কতো লাকি বলতো,, তোর প্রতি জন্মদিনে কতো ভালো গিফট আসে তোর। " তোর হিংসে হচ্ছে? " কি যে বলিস, হিংসে হবে কেন? তুই লাকি সেটাই বললাম। " হয়েছে এতো বলতে হবে না। নিজের কাজে যা। এবার গিফট নিয়ে বেশি মাথা ঘামানোর সময় নেই। সামনে এক্সাম। রেজাল্ট ভালো করতে হবে। তাই পুরো কনসেনট্রেশান পড়াশোনাতে দিয়ে দিলাম। অন্যকিছু ভাবার সময় নেই এখন। এবারও আমার রেজাল্ট ভালোই হলো৷ ভালো একটা কলেজে ভর্তিও হয়ে গেলাম।আম্মু আব্বু ছাড়াও আমার রেজাল্টে যে সবচেয়ে বেশি খুশি তিনি হলেন সেই অজ্ঞাত মানুষটি। কলেজের নবীন বরন অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো। বাসায় এসে ফ্রেস হয়েই লম্বা একটা ঘুম দিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিতেই দেখলাম সে ৮০ বারের কল দিয়েছিলো। আমি তো অবাক।এতোবার কল দেওয়ার কারন কি? আমি কল ব্যাক করে ভাবছিলাম তখনই তার কল আসে। আবারও তার থমথমে কন্ঠ।বুঝলাম কোনো কারনে রেগে আছে। " এতোক্ষণ কি করছিলে।কল দিয়েছি দেখোনি? " ঘুমাচ্ছিলাম। " তুমি আজ কাজটা মুটেও ভালো করোনি। " কোন কাজটা? " কলেজে শাড়ী পড়ে যাওয়াটা। এতো সুন্দর করে সাজার কি দরকার ছিলো? ছেলেরা তোমাকে দেখছিলো।তোমাকে অন্যকারও চোখে দেখতে আমার ভালো লাগে না। আর কখনো খোলা চুলে কারও সামনে নিজেকে উপস্থাপন করবে না। আমি চাই না তোমার সৌন্দর্য বাইরের কেউ দেখুক। বোরকা পড়ে হিজাব করে যাবে এখন থেকে। মনে থাকবে? " থাকবে। " গুড গার্ল। লোকটার প্রতি আমার একটা অন্যরকম এট্রাকশন ছিলো। কেনো জানিনা তার সব কথা আমি মেনে নিতাম।মেনে চলতাম। ভালো লাগত তার কথা শুনতে।তার শাসনগুলো,বিধিনিষেধ গুলো আমাকে অন্যরকম ফিলিংস দিতো। তাকে দেখার ইচ্ছেটাও আরও তীব্র হতো।এদিকে তার কন্ঠের ওপর তো ক্রাশ খেয়ে বসেই আছি।তার বাচনভঙ্গি যেকোনো মেয়েকেই তার প্রতি উইক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তার প্রতি নিজের ফিলিংসগুলো ও ডাইরিতে লিখে রাখতাম। সে বয়সে ভালোবাসা না বুঝলেও ভালোলাগাটা বুঝতাম। তাকে না দেখলেও আমার তাকে ভালো লাগতো।ভীষণরকম। তবে সে কেন আড়ালে আছে সেটাই এখনো বুঝতে পারছি না।কবে সে সামনে আসবে সেটাও রহস্য। কলেজে যাওয়া আসার পথে একটা ছেলে আমার পিছু নিচ্ছিলো কিছুদিন যাবত। ছেলেটা বখাটে নয়।তবে আমাকে নাকি তার ভালো লেগেছে।তাই প্রোপোজ করেছিলো। আমি রিজেক্ট করে দেই।তা সত্ত্বেও রোজ দাঁড়িয়ে থাকতো। আমার সাথে কথা বলতে চাইতো। আমি কখনই পাত্তা দেইনি।কথাও বলিনি সেভাবে। একদিন হঠাৎ সে আমার হাত ধরে আমাকে দাঁড়াতে বলে। তার কিছু কথা বলার জন্য। তার হাত এক ঝটকায় ছাড়িয়ে আমি চলে এসেছিলাম। তারপরদিন থেকে আমি আর ছেলেটাকে দেখিনি। আসা যাওয়ার পথে চোখ ঘরিয়ে চারদিকটা দেখতাম ছেলেটা আছে কিনা।তবে সেদিনের পর তাকে আর দেখিনি।মনে মনে খুব খুশিই হয়েছিলাম। " কলেজ ছুটি হলে সোজা বাসায় চলে আসবে।আশেপাশে এতো তাকানোর কি আছে? কাউকে খুঁজো তাই না? লাভ নেই।তোমার আশিক আর কখনোই রাস্তায় দাড়াবে না।তাকে খুজে লাভ নেই। সে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।চলে গেছে বলা ঠিক হবে না বাধ্য করেছি চলে যেতে। তোমাকে অন্য কেউ দেখবে সেটাই সহ্য হয়না তোমাকে অন্য কেউ স্পর্শ করবে সেটা মানবো কি করে? আর তোমাকে বলছি আশেপাশে না তাকিয়ে সোজা বাসায় আসবে। কোনো হেরফের যেন না হয়। আমিও তার কথা মতো চুপচাপ বাসায় চলে আসতাম। কলেজ আর বাসা এইভাবেই চলছিলো। সাথে তার টুকটাক মেসেজ আর হঠাৎ কল তো ছিলোই। আমার পরের জন্মদিনে তার গিফটে একটু পরিবর্তন আসে। গিফট বক্সটা এবার সে একটা ছেলের হাতে পাঠিয়েছে। ছেলেটা এসে কলিংবেল বাজানোর পর দরজা খুলবো কি খুলবো না সে নিয়ে ভাবছিলাম। তিনবার কলিংবেল বাজানোর পর অবশেষে খুলেই দিলাম। " আপনার নামে একটা পার্সেল এসেছে ম্যাডাম। " কে পাঠিয়েছে? " সেটা বলার পারমিশন নেই। আপনি নিন এটা। " কিন্তু কে দিয়েছে? " প্লিজ ম্যাডাম আমার কাছে জানতে চাইবেন না।সময় হলে নিজেই জানতে পারেন। বক্সটা আমার হাতে দিয়েই সে হনহন করে চলে গেলো। আমি ভাবছিলাম সেই অজ্ঞাত মানুষটার গিফট এখনো এলো না।আবার নতুন কে গিফট পাঠানো শুরু করলো।গিফট বক্সের ওপর কিছুই লেখা নেই। চলবে

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

বাগান 2019

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ 0
বাগান 2019
 শ্যারন এই সুযোগটি নিয়েছিল যে আমরা বাসনগুলি ধুয়ে ফেলছিলাম সে আমাকে বলার জন্য যে সেদিনের কথা ভাবছিল যখন আমার প্রেমিকা উইলি আর আমাদের সাথে থাকবে না। “আমি তার সম্পর্কে চিন্তাভাবনা থামাতে পারি না, নেস্টিটো। আমি তাকে সর্বদা এতটাই নীচ থেকে দেখি, আরও খারাপ হচ্ছে, যেন সে ইতিমধ্যে অনুভূত হয়েছে যে তিনি শীঘ্রই আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। " এটা সত্যি. সেদিন সন্ধ্যার পর থেকে তিনি এটি অনুভব করেছিলেন যে ফলাফলটি ফিরে পেয়েছেন এবং এটি তার প্যান্টের পকেটে রেখেছিলেন, সরাসরি তার বাস্তবতা গ্রহণ করে। তার সাথে আমার সেই রাতে মিরামার একটি লেসবিয়ান পার্টিতে দেখা হয়েছিল। যখন আমাদের পরিচয় হয় তখন আমি তার সাথে একটি কথোপকথন শুরু করার চেষ্টা করি তবে কয়েক মিনিটের পরে তিনি বিরক্ত বলে মনে হয়; তিনি নিজেকে ক্ষমা করে দিয়ে কিছু মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলেন। তিনি আমাকে সারা রাত উপেক্ষা করলেন। তিনি স্বর্ণকেশী ছিল, পেশী বাহু এবং একটি প্রশস্ত বুক ছিল। একটি সাদা ছেলে (আমি কীভাবে সাদা ছেলেদের আদর করি এবং এখনও পূজা করি) আমি তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য যা করতে পেরেছিলাম তা করেছি, জোরে হেসে, জোরে কণ্ঠে কথা বলছিলাম, এবং এমনকি অতিথিদের মধ্যে আমি হর্স ডিওউভ্রেসের কাছাকাছি গিয়েছিলাম এবং তার যা কিছু হয়েছিল তা প্লেটের দিকে তাকিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছিল। এক মুহুর্তে আমি একা বসে থাকি এবং সে আমার প্রতি দয়া দেখায় কিনা তা দেখার জন্য একটি দু: খিত মুখ onুকিয়ে রাখি, কিন্তু কিছুই না। যাওয়ার সময় না হওয়া পর্যন্ত এবং আমি বলেছিলাম যে আমি চলে যাচ্ছি, কারণ শেষ বাসটি রাত এগারোটায় এসেছিল। তিনি তখন বলেছিলেন: "আপনি কোন দিকে যাচ্ছেন?" "পরদা 20." "আমি তোমাকে নিয়ে যাব." আমরা লিফটটি নামানোর সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন যে তিনি ইতিবাচক। তিনি এটিকে বলেছিলেন যেন অন্তর্নিহিত করার কারণেই তিনি পার্টির সময় আমাকে উপেক্ষা করেছিলেন। আমি দু'বার ভেবেছিলাম কিন্তু তারপরে তাকে বলেছিলাম যে সমস্যা হয়নি। "আমি আজই সন্ধান পেয়েছি," তিনি যোগ করেছেন, তার পাশের পকেটটি টোকা দিয়েছিলেন এবং আমি সেই অঙ্গভঙ্গি থেকে বুঝতে পারি যে ফলাফলগুলি সহ কাগজ রয়েছে was "আপনি কি করতে যাচ্ছেন?" তিনি আমাকে বললেন, “তোমাকে বাইরে ডিনারে নিয়ে যেতে দাও। আমরা সেই রাত থেকেই একসাথে ছিলাম। দুই বছর, তিন মাস, এবং এগারো দিন। উইলি আমাকে তারিখ সম্পর্কে এত বড় চুক্তি করার জন্য কর্নি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন আমি তার ভাই বোন শ্যারনের মতোই থাকি, যিনি সান্তা রিতায় আমাদের সাথে থাকেন। শ্যারনের উদ্বেগের সাথে এই বিষয়টা ছিল যে উইলির মাথায় তা এসেছিল যে আমাদের ১৯৮৯-এ বিদায় জানাতে একটি নতুন বছরের অনুষ্ঠান করা উচিত। তিনি একটি রসালো রাতের খাবার এবং ভাল ওয়াইন চেয়েছিলেন। তিনি আমার জন্য প্যারাডা 15 এ রেকর্ড অর্ডার করতে দিন কাটিয়েছেন It এটি আমাকে যেতে বিরক্ত করে না। উইলির সাথে থাকার আগে আমি সাগ্রাডোর কাছেই থাকতাম, যেখানে আমি জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতাম তা কেন জানি না, এখন কেন। আমি সেই পাড়ায় বাড়িতে অনুভূত। রিও পাইরেডসে আমি ভয় পেয়েছিলাম। শ্যারন যে কৃষকদের বাজারকে খুব পছন্দ করেছিল তা আমাকে ভয় পেয়েছিল। রাস্তায় প্রচুর ক্রেজি মানুষ, প্রচুর গহনার দোকান, অনেকগুলি লাউডস্পিকার একই জিনিস বারবার বারবার বলছে। কেবল উইলির ঘরেই আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। "আমি ফুল চাই," উইলি আবার আদেশ করলেন: "তার জন্য কলা লিলি, শ্যারনের গার্ডেনিয়া এবং আমার জন্য টিউলিপস। ইয়ামায়ার জন্য নীল মোমবাতি আনুন, আমি যেমন তার সন্তান, তেমনি আপনি এবং শ্যারনও। । । " আমরা তিনজনই মীন ছিলাম। উইলি বলেছিলেন যে তাঁর উঠতি লক্ষণটি ছিল লিও, এ কারণেই তিনি পরিবারের প্রধান ছিলেন। আমার ছিল বৃষ, সুতরাং আমি একগুঁয়ে ছিলাম, এবং শ্যারনেরও মীন ছিল, আর সে কারণেই সে ছিল এক বিপর্যয়। শ্যারন মেনুটি লিখেছিল, যা অবশ্যই উইলি তার বিছানা থেকে নির্দেশ করেছিলেন। নববর্ষের আগের দিন পার্টির জন্য সবকিছু প্রস্তুত ছিল। দু'দিন যেতে হবে। উইলি আমাকে টেলিভিডিওতে প্রেরণ করেছিলেন, যেখানে নর্মমা, যে মেয়েটি সর্বদা তার সাথে অপেক্ষা করতে পারত যখন সে যেতে পারত, মুভির ভাড়া প্রস্তুত ছিল যা তিনি ফোনে অর্ডার দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি ছিল: শ্যারনের জন্য একটি মেক্সিকান মেলোড্রামা এবং আমার জন্য একটি সংগীত, দ্য সাউন্ড অফ মিউজিক, আমার সর্বকালের প্রিয় সিনেমা। দ্যাট অ্যান্ড লাভ স্টোরি — যা উইলিকে ঘৃণা করেছিল কারণ এটি অত্যন্ত কর্ণধার। যে কারণে শ্যারন তার উদ্বেগটি আমার সাথে ভাগ করে নিল: “তিনি খুব বাস করছেন, নেস্টিটো এবং আপনি কীভাবে তাঁর কাজ করতে পছন্দ করেন তা কারও চেয়ে আপনি বেশি জানেন। এই সব খুব আশ্চর্যজনক। উইলি যাচ্ছে, নেস্টিটো। আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না, আপনি এখানেই থাকুন, যেহেতু আমি খুব শীঘ্রই মারা যাব এবং তোমাকে সমস্ত কিছু ছেড়ে দেব, "তিনি পুরোপুরি স্বীকৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে তিনি আমাকে যে প্রস্তাব দিচ্ছেন তা ছিল একটি দুর্দান্ত বিষয়, তবে এটি ছিল একটি সৎ প্রস্তাব। "আপনি যুবক এবং উইলি চলে যাওয়ার পরে আপনার জীবন আবার যেতে পারে, আপনি জানেন। এবং যদি আপনার কোনও বয়ফ্রেন্ড থাকে তবে তাও ঠিক। " সিনেমাগুলিতে শ্যারন ও উইলি "উদ্যান" নামে পরিচিত প্যাটিওতে ছিলাম, তারা শিক্ষাবিদদের একটি পরিবারের অন্তর্গত ছিল। তাদের দাদা এবং দাদী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছিলেন। তাদের বাবা-মা স্পেনে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিল এবং রিও পাইদারাস ক্যাম্পাসে শিক্ষকতা করতে ফিরে এসেছিল। শ্যারন কখনও পড়াশোনা করেননি, তবে পরিদর্শনকারী অধ্যাপকদের সহায়ক হিসাবে বহু বছর কাজ করেছিলেন। তিনি এস্পেরান্তো ছাড়াও চারটি ভাষায় সাবলীল ছিলেন, সেই লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা কিছু পুরাতন মেরু দ্বারা স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা উইলি শব্দের নির্বোধ আবিষ্কার হিসাবে অস্বীকার করেছিলেন যা কোনও জীবিত অভিজ্ঞতার সাথে অনুরণিত হয়নি। উইলি কলম্বিয়া চলে যান এবং ফিল্ম স্টাডিজের একটি বিশেষজ্ঞের সাথে শিল্প ইতিহাসে পিএইচডি নিয়ে ফিরে আসেন। তাদের শেষ নামটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবদন্তি ছিল, বেল টাওয়ারের মতোই তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থোপার্জনের একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে শেক্সে বিভক্ত হওয়ার আগে থেকেই তারা সান্তা রিতায় বসবাস করেছিল। বাসভবনে উচ্চ সিলিং, তিনটি বাথরুম, চারটি শয়নকক্ষ এবং একটি গ্যারেজ ছিল যেখানে বিশ বছরেরও বেশি প্রেমিককে দেখার জন্য শ্যারন লুকিয়ে থাকত। "আমি জানি না কেন তারা এটাকে গোপন রাখে," উইলি সবসময় ভাবত। "আমি জানি না যে পাপ মারা যাওয়ার পরে কেন তাকে বিয়ে করলেন না বা কেন সেখানে তাকে গ্রহণ করলেন।" আমার মতো ত্রিশ বছর বয়সী কারও কাছে কুড়ি বছর দীর্ঘ সময় ছিল। এটি কারও জন্য দীর্ঘ সময় ছিল। প্রেমিকের সাথে তারিখটি কখন গ্যারেজে স্থান পাবে সেই রাতগুলি জানা খুব সহজ ছিল। শ্যারন হঠাৎ করে নিজেকে বদলে ফেলবে, নার্ভাস হয়ে অভিনয় করবে, লুকানোর জন্য নিরর্থক চেষ্টা করবে, কিছু স্ব-শোষিত অঙ্গভঙ্গির সাথে, এখনও তার যা ইচ্ছা তা না পেয়ে তার উদ্বেগ। রাত নয়টার দিকে, যদি আমরা বাগানে বা উইলির ঘরে থাকি তবে তিনি সর্বদা একই বাক্যটিতে নিজেকে ক্ষমা করবেন: "আমি রাতের জন্য অবসর নিচ্ছি।" "তিনি পাপ করতে চলেছেন," উইলি মুভি স্টারের কণ্ঠের অনুকরণ করে বিদ্রূপাত্মক সুরে বলতেন। গ্যারেজ থেকে আমরা শুনতে পেলাম যে কোনও রেডিও স্টেশনের বিবর্ণ শব্দটি কেবল বোলেরোস খেলেছে। পরে, দর্শনার্থী চলে যাওয়ার পরে, শ্যারন বাগানে বসে ধূমপান করত, একটি সাদা পোশাকের মধ্যে জড়ানো ছিল যা দেখে মনে হত নিশাচর আলোর মধ্যে রৌপ্যটি প্যাটিওয়ে intoুকে পড়ে। আমি তার সাথে যোগ দিতে বাইরে গিয়েছিলাম। সে আমাকে দেখে হাসল। সিগারেটের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, "এটি কেবলমাত্র একটি ছোট্ট পাপ"। তিনি আমাকে বাগানের চারপাশে ঘুরতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং আমি, ইচ্ছাকৃতভাবে, আমাদেরকে গ্যারেজের কাছে হাঁটাতে বাধ্য করেছিলাম। একবার সেখানে এসে, আমি ভান করে মিথ্যা বললাম যে আমি আমার গোড়ালিটি পাকিয়েছি এবং গ্যারেজের প্রাচীরের দিকে ঝুঁকেছি। "আমি কষ্ট পেয়েছি," আমি তাকে একটি সিনেমার মতো বলেছিলাম। "দয়া করে শ্যারন, আপনি কি গ্যারেজে গিয়ে এমন কিছু বের করতে পারেন যা আমি ক্র্যাচের মতো ঝুঁকতে পারি?" এই মুহুর্তে আমরা শুনেছিলাম উইলির বাড়ির পিছন থেকে তাঁর ঘর থেকে ভয়েস ভয়েস। আমি ভয় পেয়েছিলাম এবং সিনেমার মতো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠার ভান করি। শ্যারন আমাকে তার হাতের উপর ঝুঁকে পড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং আমাকে বলেছিল: “কখনই সেই গ্যারেজে যাবেন না। আপনার জীবন বিপদে পড়বে ” তার কোনও সাধারণ সতর্কতা ছিল না, যেমনটি আমার বোন বলেছিলেন, "আমি তোমাকে মেরে ফেলছি, তুমি অভিশাপ দেবে।" তার বাইরেও বিপদ ছিল অন্যরকম। "নেস্টিটো," তিনি তার মেয়েশিশু অনুনাসিক কণ্ঠে বলেছিলেন, "আমি আপনাকে একটি গোপন কথা বলতে যাচ্ছি।" আমার হৃদয় দ্রুত প্রস্ফুটিত হয়েছে, তিনি কী বলতে যাচ্ছেন তা শুনে আনন্দিত হওয়ার প্রত্যাশায়। “আমি অপহরণের শিকার। গত বিশ বছর ধরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি বড় শট আমাকে তার সাথে গ্যারেজে দেখা করতে বাধ্য করে চলেছে। তিনি মাফিয়া থেকে এসেছেন, "তিনি স্বীকার করেছেন, তার চোখ খোলা রয়েছে যাতে আমি তার মুখের উপরে দেখতে পাই এটি কত বড় ব্যাপার। "অপহৃত? বিশ বছর ধরে? ”আমি জিজ্ঞাসা করলাম, স্পষ্টতই অবিশ্বাসে। “হ্যাঁ, আপনি আমাকে বিশ্বাস না করলেও। বিশ বছর আগে এক রাত, ইচ্ছা না করেই আমি তাঁর। এবং আমি বলি ‘না চাই’ কারণ আমি সত্যই ছিলাম না। তিনি সিনেমার কালো অভিনেতা সিডনি পোয়েটিয়ারের মতো সুদর্শন ছিলেন। অভিন্ন। প্রথমে আমি তাদের দুজনকেই গুলিয়ে ফেললাম। এক রাতে তিনি এখানে এসেছিলেন এবং আমরা কথা বলতে শুরু করি। আমি তাকে বললাম, কিছুক্ষণ পরে গ্যারেজে চলুন, এবং নির্বুদ্ধি হয়ে আমি তার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম। স্পষ্টতই আমি তাকে শেষ বার বলেছিলাম, কিন্তু তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে পাপিকে এটি সম্পর্কে সমস্ত কিছু বলা এবং বিবাহে আমার হাত চাওয়া। তিনি যখন আমাকে বলেছিলেন যে তিনি হাম্পা মাফিয়ায় রয়েছেন তখন আমাকে গ্রহণ করা ছাড়া আমার আর কোনও উপায় ছিল না। যদিও তিনি চীনা নন, তিনি হাইতি থেকে এসেছেন, তবে তিনি চীনা জানেন। তিনি আমাকে শিক্ষা দেন। আমি এটি ভালভাবে শিখতে যাচ্ছি যাতে আপনি এবং আমি উইলির দ্বারা আমরা কী বলছি তা খুঁজে না পেয়ে কথা বলতে পারি। নেস্টি, কারও কাছে এই কথাটি বলবেন না। আমাদের জীবন বিপদে রয়েছে। ” আমি নির্বাক ছিলাম, তবে এটি ছিল তার বাস্তবতার ব্যাখ্যা দেওয়ার উপায়। আমি বে indমান বলে খারাপ লাগলাম। সম্ভবত আমি তাকে উন্মুক্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলাম এবং তার মতো উত্কৃষ্ট হয়ে ওঠে যে সে তার নিজের দিকে এগিয়ে যেতে এবং নিজেকে সরাসরি প্রকাশ করতে পছন্দ করে। তার নিজের উপায়ে, আমি যা বোঝাতে চাইছি সেটাই। উইলি আবার ফোন করল। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানে গিয়েছিলাম। "পরে আমি আপনাকে আরও বলব। তিনি আমাকে দৃinc় প্রত্যয় সহকারে বলেছিলেন, "আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি" চাইনিজ ভাষায় হ'ল চন চুয়ান 'বা' চুন চুন। ' প্রাক্তন লিভিংরুমে, যেখানে একবার পিয়ানো ছিল, উইলির মতে, শ্যারন দরিদ্র চোপিনের গণহত্যা করত, যখন থেকে তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায় তখন থেকেই আমরা সিঁড়ি বেয়ে চলা এড়াতে সজ্জিত করেছিলাম। আমরা বাগানের দিকে বিশাল জানালার মুখোমুখি বিছানাটি রেখেছিলাম, সেখান থেকে তিনি বোগেনভিলাস দেখতে পেতেন। ঘরে বই পড়ে রেখেছে। উইলি ছিলেন এক অস্পষ্ট পাঠক। তিনি অ্যামি টান পড়ার মতো হেসিকেও একইভাবে পড়তেন। সেগুলি সেগুলি বিক্রি করতে আমাকে পোনস দে লে on n এর বইয়ের দোকানে নিয়ে যেতে দেয় নি এবং সেই সাথে অন্য যেটি চায় সেগুলি কেনে। সেখানে তিনি পড়তে চশমা নিয়ে ছিলেন, হাতে একটি বই নিয়ে। যখন আমি তার সাথে সাক্ষাত হয়েছিলাম তখন তাঁর মুখটি একটি নতুন চেহারায় নিমজ্জিত হয়েছিল যা আমি কেবল তাঁর অভিব্যক্তি দ্বারা তার হিসাবে চিহ্নিত করতে পারি। তিনি এখনও হ্যান্ডসাম সত্তার মতো অভিনয় করেছিলেন। সে তার বোনকে চিৎকার করে বলেছিল: "শ্যারন, সেলুনে যান যাতে কুইক নতুন বছরের প্রাক্কালে আপনার চুলগুলি করতে পারে।" শ্যারন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু উইলি জোর দিয়েছিলেন। "সেগুলি আপনাকে ডায়ানার মতো দেখায়।" শ্যারন, যেন যাদু দ্বারা, ধারণাটি দেখে উত্তেজিত হয়ে এই বলে ঘর ছেড়ে চলে গেল: “আমি, লেডি ডি এর মতো? এটা পাগলামি." যেন পাগল হ'ল বিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল জিনিস। আমি উইলির পাশে শুয়ে পরলাম। তিনি সম্প্রতি স্নান করেছিলেন। তিনি যখন শয্যাশায়ী হয়েছিলেন তখন থেকেই তিনি আমার সাথে পরিবর্তন করেছিলেন। কয়েক মাস ধরে আমাদের যে পার্টিতে দেখা হয়েছিল সেখানে তিনি আমাকে অগ্রাহ্য করেছিলেন। আমি আমি ছিলাম না, আমি শ্যারনের সাথে একটি জুটির অংশ ছিলাম। “তোমরা এই দুজন, ওহে লোকেরা!” আমি তাঁর শরীরের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে তাকালাম এবং আমার হাতটি তার বুকের উপরে দিয়ে গেলাম। তার বগল ছিল ছোট ফুলের কোমল ভূমি। আমি ওকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলাম। তার হাড়গুলি ভঙ্গুর অনুভূত হয়েছিল। দেহ, হোস্ট। বাগানের এলিয়েন পুষ্টির সাথে খাওয়ানো। আমি তার মুখের সন্ধান করলাম, শুকনো ঘা চুম্বন করলাম, চোখের পলক ফেললাম যা তার গালে বিশ্রাম নিল। আমি তার চোখে তাকালাম, অবশেষে, আট মাস ষোল দিন পরে, ইচ্ছা। আমি তার পিঠে আমার বাহু রাখতে সক্ষম হতে যত্ন সহকারে তার দেহ সরিয়ে নিই। তার মুখ শুকনো, বালির কাগজের মতো, আমার ঠোঁটে তার তৃষ্ণায় তালে তালে আমাকে চুমু খেতে লাগল। দুর্বল ঝোপের ডালের মতো পাতলা তার বাহু আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেছিল। তিনি সম্প্রতি গন্ধযুক্ত পৃথিবীর গন্ধ পেয়েছিলেন। প্যাচগুলির কারণে আমি তার বুকের সাথে স্টিকের বিরুদ্ধে আমার নাকটি ঘষেছিলাম। সে যেন আমার ত্বককে এমনভাবে চেপে ধরেছিল যেন পড়ে না যায় তবে তার তৃষ্ণা তাকে ধরে রেখেছিল। নিষ্পত্তিযোগ্য ডায়াপার, আমাদের আটকে গিয়েছিল, মরা পাতার ঝাঁকুনির মতো শোনাচ্ছিল। আমরা একে অপরের দিকে তাকালাম। আমরা নীরবে অবিরত, নিজের সম্পর্কে নিশ্চিত, নিরাপদ safe আমি তাঁর সাথে বিছানায় থেকেছি। মনে পড়ল প্রথমবার ওর বাসায় আসলাম, বাগানে আমরা দুজন। তিনি একটি রোচ জ্বালিয়েছিলেন এবং আমরা ধূমপান করি। তিনি আমাকে তাঁর মুগ্ধতা দিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন, দার্শনিক এবং লেখকদের সম্পর্কে এমন কথা বলছিলেন যেন তিনি তাদের চেনেন, তাঁর প্রাকৃতিক, ভালভাবে অভিমানী অভিমান নিয়ে। তার পরে, বিছানায় নগ্ন হয়ে, তার গলায় একটি চেইনে ভার্জিন মেডেলিয়ন দিয়ে, গাঁজা দিয়ে তার শ্বাস ভারী। তিনি চেয়ারের সাথে ঝুলন্ত তার প্যান্টের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন: “আমি কান্নাকাটি করা উচিত, এবং এখনও, আমি ভাল লাগছে। আপনি দেখতে দেখতে আমার কেমন সুন্দর লাগছে? ”তিনি আমাকে তাঁর হাত বাড়ানোর দিকে জিজ্ঞাসা করলেন। বৃষ্টি আরম্ভ হল. আমি খেয়াল করলাম সে গুজবাম্পস পাচ্ছে এবং আমি তাকে কম্বল দিয়ে coveredেকে দিয়েছি। "শ্যারন বলেছে পার্টির কারণে আপনি মারা যাচ্ছেন।" তিনি বললেন, "আমি আপনাকে একটি অনুগ্রহ চাইব নেস্তি," তিনি গুরুতরভাবে বললেন, একইভাবে তাঁর বোন যেমন চান। “শ্যারনের যত্ন নিন। তিনি আপনার কাছে বাড়ি ছেড়ে যেতে চান এবং তিনি বলেন যে তিনি এমনকি আপনার জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টও তৈরি করবেন, "তিনি দৃhat়তার সাথে বলেছিলেন:" আপনি জানেন? আমার পরিবারের প্রতিটি একক সদস্য, একেবারে সবাই মিছের চিহ্নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ” আমরা বোগেনভিলাসে বৃষ্টি পড়তে দেখলাম। আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি। আমি যখন জেগে উঠি আমি আমার বাথরুমে গিয়ে গোসল করেছি। উইলির সাথে প্রেম করার পরে আমি সুরক্ষার সেই অনুভূতিটি অনুভব করেছি। আমি নিজেকে শুকনো এবং ধূমপায়ী পাত্র মুছে ফেললাম। আমি শ্যারনের গল্পটি ভেবেছিলাম এবং আমি এই ভেবে হাসিছিলাম যে এই লোকেরা আমার আসল পরিবার এবং আমার জীবনের এই মুহূর্তটি উইলির সাথে চলে যাচ্ছিল। সবকিছু পরিবর্তন হতে চলেছে। এরপরে, উচ্চতার সাথে, আমার কাছে মনে হয়েছিল যে উইলি মারা গেছে died যে সে বিছানায় শুয়ে ছিল। আমি কল্পনা করেছিলাম যে পুলিশ আমাকে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে এবং আমি নিজেই বেহাল হয়ে উঠছি o আমি আমার তোয়ালে বাথরুম থেকে বের হয়ে সোজা ঘরে চলে গেলাম। উইলি দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি দৃ strong়, স্বাস্থ্যকর দেখছিলেন। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: "আপনার এই বাটটি আশ্চর্য কাজ করে।" আমরা বাগানে শ্যারনকে পেলাম। তিনি উজ্জ্বল চেহারা দেখায় এবং স্বর্ণকেশী রেখাচিত্রমালা দিয়ে সজ্জিত হয়ে নিজের নতুন করা চুলকে কাঁপানোর সাথে সাথে তিনি মুখমণ্ডল তৈরি করেন। "আপনি দেখতে একেবারেই দৃষ্টিনন্দন," উইলি আনন্দিত। হঠাৎ সে নিজের থেকে বাইরে এসে দেখল যে তার ভাই, কয়েক মাস ধরে বিছানায় সিজদা করছে, তার সাথে ছোট্ট বাগানে বসে আড্ডা দিচ্ছে। "উইলি, তুমি কি করছ? নেস্টিটো, এখানে উইলি কী করছে? " আমি একটি চিহ্ন দিয়েছিলাম যে সে যেন তাকে ছেড়ে যায় এবং সে বুঝতে পারে। তিনি একজন সৈনিকের মতো সোজা হয়ে নিজের ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন: "আপনি যা কিছু বলুন না কেন এবং আপনি যদি চান তবে আমি প্যাপের ওয়াইনগুলির একটি বোতল খুলব, যেহেতু এটি একটি সুন্দর সন্ধ্যা এবং সামান্য ওয়াইন কোনও ক্ষতি করে না।" তিনি যখন মদ পরিবেশন করলেন তখন তিনি কাঁপলেন। তিনি একজন মীন ছিলেন: আমি তার মধ্যে কঠিন পরিস্থিতি এবং হারিয়ে যাওয়া কারণগুলির সাথে মোকাবিলা করার দক্ষতাটি স্বীকার করেছি। আমরা চিয়ার্স না করেই পান করেছিলাম: তাদের জন্য টোস্টিংয়ের অর্থ ছিল সত্যিকারের মুহূর্তের অপচয় করা, যেখানে টোস্টটি সর্বদা কল্পনার অভাব ছিল। আমরা উইলির ঘরে শেষ হয়ে গেলাম, আমরা তিনজনই তার সামঞ্জস্যপূর্ণ বিছানায়, সাউন্ড অফ মিউজিক দেখেছি। আমি শুনলাম উইলির শ্বাস ফেলা আবার তার আসল বাস্তবতার সাথে শান্তিতে। আমি আমার বুকের ভিতরে এমন এক টান অনুভব করলাম যেন কোনও কুকুর আমাকে সেখানে কামড় দিচ্ছে। আগের রাতে, যখন তার দেহ দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তার মুক্তির ঝাঁকুনিটি আর্কাইভ করে চলেছিল, তখন আর যা ছিল না তা ছড়িয়ে দিয়েছিল, তবুও, তাকে আমার বাহুতে নিয়ে গিয়ে, তার দুর্বলতার উপর ঝুঁকে পড়ে আনন্দিত হয়েছিল। একটি সত্য আনন্দ বিছানায়, আমার বাহুতে, এই উদার সত্তা যিনি এত সাহসী, এত কামুক ছিলেন। এত বোকা, যেমন তার বোন বলবে। আমরা প্রথমদিকে যেমন করতাম, পরপর দুটি ছবি দেখতে তাকে সিনেমাতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমি তাকে অ্যারোইয়ের আমার বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম যাতে সে বুঝতে পারে যে আমি কেন এমন একজন হিচ was যাতে আমার বাবা-মা জানতে পারবেন যে তিনি একজন ভাল পরিবার থেকে একজন অধ্যাপক। যাতে আমরা গায়ামার উপর দিয়ে কবি পলিস মাতোসের বাড়িতে যেতে পারি, চাইনিজ আইসক্রিম পার্লারে হাসান আইসক্রিম, ক্যালিমানো থিয়েটারে একটি সিনেমা দেখতে পেলাম। টিভিতে, ভন ট্রাপ পরিবার একটি গানকে বিদায় জানিয়েছিল। উইলি তাঁর শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুত সবকিছু রেখে গিয়েছিল। তাকে শ্মশান দেওয়া হবে এবং তার ছাই বোগেইনভিলাসের কাছে, রিও পাইদারাসে তার বাড়ির বাগানে ফেলে দেওয়া হবে। এটি একটি শান্ত অনুষ্ঠান ছিল: পার্টির সেই রাত্রি যে বন্ধুরা আমাদের পরিচয় করিয়েছিল, একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু উইলি তাঁর এক শেষ রাতে গাঁজা নিয়ে তাঁর জানাজার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন এবং শ্যারন এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছিলেন; তিনি, আমি এবং একজন ভদ্রলোক যিনি আমার পরিবারের এক প্রাচীন বন্ধু হিসাবে পরিচয় করেছিলেন। তিনি কালো, লম্বা এবং শক্তিশালী ছিলেন এবং সিডনি পোয়েটিয়ারের মতো হাসি পেয়েছিলেন এবং তিনি আমাকে তাঁর সমবেদনা জানিয়েছেন। উইলি কখনই তাকে দেখতে পেলেন না, বা গল্পের শেষে শুনবেন।

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

রাত দশটা

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ 0
writer: Md Asad Rahman Kotchandpur,Jhenaidah
বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে।কে যেন দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে বারবার।দরজা খুলে দেখি একটা মিষ্টি মেয়ে দাঁড়িয়ে! আমি একটা বড়সড় হোচট খেলাম।এমন ঝড় বৃষ্টির রাতে এত সুন্দর একটা মেয়ে কোথ থেকে এসে হাজির হলো! মেয়েটি আমাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়লো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখছি শুধু।মেয়েটি ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপছিল।নিশ্চয় ই অনেক্ষণ ধরে বৃষ্টিতে ভিজছিল।আমি দরজা লাগিয়ে দিয়ে মেয়েটিকে বললাম, আপনি কে? কোথ থেকে আসলেন? - পরে বলবো। আগে একটা তোয়ালে দিন।আমার ভীষণ ঠাণ্ডা লাগছে।আর আপনার বাসার মেয়ে লোকদের ডাকুন প্লিজ। - বাসায় কোনো মেয়েলোক নেই।ইভেন আমি ছাড়া আর কেউই নেই এ বাড়িতে। একথা শুনে মেয়েটি একটু চমকে উঠল। খানিক টা ভয় ফুটে উঠল চেহারায়।আমি বললাম, ভয়ের কিছু নেই।আপনি দাঁড়ান আমি তোয়ালে এনে দিচ্ছি। এরপর ছুটে গিয়ে একটা তোয়ালে এনে দিলাম। বললাম,বাসার সবাই মিলি আপুর বিয়েতে গেছে।আগামী পরশু আসবে।আমিও কালকে বিয়ে বাড়িতে চলে যাবো।তবে আপনি ভয় পাবেন না।জামা কাপড় বদলে আসুন। আমার ছোট বোন নিঝুমের একটা কামিজ ও পায়জামা এনে দিলাম ওকে।মেয়েটি পাশের রুমে গিয়ে ভেজা জামা কাপড় বদলে আসলো।আমার রুমে এসে চুল মুছতে মুছতে বলল,থ্যাংকস। - ঠিক আছে।এবার তো বলুন কোথা থেকে এত রাতে? - আমি ঢাকা থেকে বগুড়া যাচ্ছিলাম। রাস্তায় হঠাৎ আমাদের বাসটা ব্রেকফেল করেছে।ওটা ঠিক করতে সময় লাগছিল সেই সময়ে এমন ঝড় বৃষ্টি।লোকজন ছুটাছুটি করে এদিক সেদিক চলে গেছে।আমি ছুটে এসে একটা দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। কিন্তু দু তিনটা লোক সেখানে এসে আমাকে... বলতে বলতে মেয়েটি একবার ঢোক গিলল।তারপর বলল,ওরা আমাকে বিরক্ত করছিল।খারাপ লোক বুঝতে পেরে সবকিছু ফেলে ছুটতে আরম্ভ করি।কিন্তু কোথাও কোনো বাড়ি চোখে পড়ছিল না।একদম ফাকা রাস্তায় আটকে ছিলাম আমরা।তারপর ছুটতে ছুটতে এই বাড়িটাই প্রথম চোখে পড়লো। আমি বললাম, ভালো করেছেন।কিন্তু এ বাড়িতে তো আর কেউ নেই।আমি একা একটা ছেলে।আপনার আমাকে ভয় করছে না? মেয়েটি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট গলায় বলল,না।আপনার চোখে ভালোমানুষি ছাপ আছে।আর আপনাকে মোটেও আমার খারাপ লোক মনে হচ্ছে না। মেয়েটির কথা শুনে আমি হাসলাম।খুবই সহজ সরল একটা মেয়ে।কিন্তু দেখতে ভারী মিষ্টি।ওর বৃষ্টিভেজা চেহারা টা এখনো চোখের সামনে ভাসছে।মুখটা অসম্ভব মায়াবী দেখাচ্ছিল,ভেজা চুলে একটা স্নিগ্ধ ভাব এসে গেছিল চেহারায়।আর ঠোট দুটো ভিজে এতটাই মোহময়ী হয়ে উঠেছিল যে,এক মুহুর্তের জন্য হলেও মনে রোমান্টিক ভাবনার উদয় হয়েছিল।ইচ্ছে করছিল হাত দিয়ে একবার ওই ঠোট দুটো ছুঁয়ে দিই। মেয়েটির কথা শুনে চমকে উঠলাম। ও বলল,আপনাকে কি বিরক্ত করলাম? - আরে না।বিপদে মানুষ ই তো মানুষের পাশে দাঁড়াবে,তাইনা? - হুম।আপনি খুবই ভালো মানুষ। কথাটা বলেই মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি আবারো হাসলাম।চোখাচোখি হতেই বুকের ভিতর টা ধুকপুক করে উঠল।অনেক স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে ওকে! ও বলল,আমি দুঃখিত। - আরে এতে দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই।আমি ভাবছি আপনাকে কি খেতে দেই? আমিতো হোটেলে খেয়ে এসেছি। বাসায় কোনো খাবার নেই। - থাক,লাগবে না।আশ্রয় পেয়েছি এটাই অনেক। এরপর মেয়েটা চুপচাপ আমার বিছানায় বসে রইলো। আমি কি করবো বুঝতে পারলাম না।ওকে একা রেখে অন্য ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বো? কিন্তু আমার তো ইচ্ছে করছে এখানেই সারারাত বসে ওকে দেখি।এমন সুন্দরী একটা মেয়ে নিজের ঘরে এসে দাঁড়ালে কি আর ঘর ছাড়তে ইচ্ছে হয়? ও বলল,আপনি গিয়ে ঘুমাতে পারেন।আপনার কষ্ট হচ্ছে। - একদম না।আমার বেশ ভালো লাগছে। - ভালো লাগছে কেন? - জানিনা। বলেই হাসলাম।হাসির অর্থ মেয়েটি হয়ত বুঝতে পেরেছে।সে ও মাথা নিচু করে হাসল।আমার হঠাৎ মনে পড়লো, পাশের রুমে বিস্কুট আছে হয়ত। ছুটে গিয়ে দেখি কয়েক টা বিস্কুট আছে।বিস্কুট কটা ও এক গ্লাস পানি এনে ওকে খেতে বললাম।ও দ্রুত সেগুলো খেয়ে বলল,থ্যাংকস।অনেক উপকার করলেন। বড্ড খিদে পেয়েছিল। - ইটস ওকে।আপনি কি ঘুমাবেন? - হ্যা।একটু চেষ্টা করি ঘুমানোর।খুব ঠাণ্ডা লেগেছিল তো। আমি মাথা ঝাঁকিয়ে বললাম, ওকে।আপনি তাহলে ঘুমান।আমি পাশের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছি। . মেয়েটিকে ও রুমে রেখে অন্য রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।বিদ্যুৎ চলে গেছে,সৌরবিদ্যুতের আলো জ্বলছিল।এ ঘরে লাইট জ্বালাই নি।এমন বৃষ্টির রাতে অন্ধকারে শুয়ে থাকতেই বেশ লাগে।কিন্তু পাশের রুমে অমন সুন্দরী একটা মেয়েকে রেখে এ রুমে কিভাবে আরামে ঘুমাই? এমনি তেই ওকে দেখার পর আমার হার্টবিট বেড়ে গেছে।তারউপর মেয়েটা অনেক ফ্রেন্ডলি।হাজার চাইলেও এ রাতে আর ঘুম আসবে না। চুপচাপ শুয়ে শুয়ে অনেক কিছু ভাবছি।বারবার মেয়েটির ভেজা চুল আর স্নিগ্ধ মুখের দৃশ্য চোখে ভেসে উঠছে! কিছুতেই স্থির থাকতে পারছি না।চরম অস্থিরতা কাজ করছে।এভাবে কতক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকা যায়? এমন সময় মেয়েটির গলা শুনতে পেলাম।ও এ ঘরের দরজায় এসে দাড়িয়েছে।বলল,আপনি কি ঘুমাচ্ছেন? - না।ঘুমাই নি এখনো। আসুন। মেয়েটি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। বলল,আমার না একদম ই ঘুম আসছিল না।তাই আপনাকে বিরক্ত করতে আসলাম। - বারবার বলছেন বিরক্ত করার কথা।আমি মোটেও বিরক্ত হচ্ছিনা।এমন সুন্দর একটা রাতে আপনার মত কাউকে.. কথাটা এ পর্যন্ত বলে থমকে গেলাম।খুব লজ্জা লাগলো আমার।মেয়েটি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।আমি বললাম, ভিতরে আসুন। - অন্ধকার যে.. - এ ঘরের লাইট টা নষ্ট।আমার মোবাইল টাও ওই ঘরে।চলুন ওই ঘরে গিয়ে বসি। - না।এ ঘরেই বসে গল্প করবো। আমার অন্ধকারে বসে গল্প করতে খুব ভালো লাগে। মেয়েটি হাতরে হাতরে রুমে ঢুকল।তারপর বিছানার দিকে এগোতে লাগলো। আমি কথা বলে যাচ্ছি আর ও আইডিয়া করে করে এগোচ্ছে।বিছানার কাছে আসতেই আমি অকস্মাৎ ওর হাত ধরে ফেললাম। হাত ধরে বললাম, এইতো এখানে আমি।আসুন,বিছানা এদিকে। তারপর নিজের খেয়াল হলো।একি! আমি ওর হাত ধরে ফেলেছি অন্ধকারে! মেয়েদের হাত এত নরম হয় এটা আমার জানা ছিল না।এর আগে কখনো কোনো মেয়ের হাত ধরার সুযোগ পাইনি।আজই প্রথম! কিন্তু এত সফট আর মসৃণ কারো হাত হতে পারে,এটা না ধরলে বুঝতাম না। মেয়েটি আমার একদম কাছে এসে বসলো। তারপর আস্তে করে হাতটা ছাড়িয়ে নিতেই আমি বললাম, সরি। মেয়েটি কিছু বলল না।চুপ করেই বসে রইলো। আমার এই রাত টাকে স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে।আমার বিছানায় পাশে একটি অপূর্ব মেয়ে বসা,পুরো ঘরে অন্ধকার,বাইরে ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে,মেয়েটি আমার একদম কাছে বসে আছে! ভাবতেই আমার হার্টবিট বেড়ে গেলো! একটি বৃষ্টিভেজা রাত পর্ব ২ আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম, বাইরে খুব সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে তাইনা? মেয়েটি মৃদুস্বরে বলল,হ্যা। - রোমাঞ্চকর রাত। কথাটা বলেই লজ্জা পেলাম। আজ যে আমার হয়েছে টা কি! একটু আগেই হুট করেই ওর হাত ধরে ফেলেছি। এখন আবার মুখ ফসকে এমন একটা কথা বলে ফেললাম। কি জানি এরপর আরো ভয়ংকর কিছু করে ফেলি নাকি! মেয়েটি বলল,আপনি বিয়ে করেন নি? - না করিনি।এখনো পড়াশুনাই শেষ করতে পারিনি। - ও আচ্ছা।বাসায় কে কে থাকে? - বাবা মা,ভাইয়া ভাবি আর আমি।আর আপনার? - আমরা দুবোন,আব্বু আম্মু আর দাদা দাদি। এরপর দুজনেই অনেক্ষণ চুপচাপ। আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না।বাইরে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে।থেকে থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,বজ্রপাত ও হচ্ছে।মেয়েটি কি বজ্রপাতের শব্দে ভয় পায় না? বললাম, আপনার নামটাই তো জানা হলোনা। - আমি নীলাম্বরী। - বাহ! খুব সুন্দর নাম তো! কিসে পড়েন? - অনার্স ফাস্ট ইয়ারে। এরপর আবারো দুজনেই অনেক্ষণ চুপচাপ।গল্প করার জন্য একটা টপিক খুঁজে বের করা দরকার। এভাবে তো চুপচাপ বসে থাকাও যায় না।কিন্তু কি বিষয়ে গল্প করা যায়? আমার তো এই মুহুর্তে মেয়েটি ছাড়া আর কিছুই মাথায় আসছে না।শুধু নীলাম্বরীর মুখটা দেখতে ইচ্ছে করছে।ঘরটা একদম গাঢ় অন্ধকার হওয়ায় ও আমার চেয়ে কতটা দূরত্বে বসে আছে তাও দেখতে পাচ্ছিনা।তবে আন্দাজ করতে পারছি।ও আমার পাশেই বিছানায় পা তুলে বসে আছে নিশ্চয় ই।গলার স্বর খুব কাছে মনে হওয়ায় বুঝতে পেরেছি ও আমার একদম কাছেই বসে আছে।ইচ্ছে করছে ওকে একটি বার ছুঁয়ে দেখি। নীলাম্বরী বলল,আপনাকে একটা পারসোনাল প্রশ্ন করি? - অবশ্যই,বলুন। - আপনার গার্ল ফ্রেন্ড নেই? - নাহ নাই। - কেন নাই? - ছিল একজন। গত বছর ব্রেক আপ হয়ে গেছে।তারপর আর নতুন করে রিলেশনে জড়ানো হয়নি।আপনার? - আমি কখনোই রিলেশন করিনি।ছোট থেকেই অনেক প্রপোজাল পেয়েছিলাম কিন্তু ভেবেছিলাম আগে অনার্সে উঠি, তারপর ওসব। - এখন তো উঠেছেন। এখন প্রেম করবেন? আমার প্রশ্ন শুনে মেয়েটি শব্দ করে হেসে উঠল। আমি লজ্জা পেয়ে গেলাম।তবুও মনে হতে লাগলো মাঝেমাঝে একটু নির্লজ্জ হতেও হয়।সবসময় লজ্জা পেলে কখনো প্রেম করা যায় না।তাই আরেক টু সাহস নিয়ে বললাম, হাসলেন যে? প্রেম করবেন না? - হুম করবো। কিন্তু সেরকম কাউকে পেতে হবে তো।আগে পাই,তারপর ভেবে দেখবো। - এত কাছে এমন হ্যান্ডসাম একটা ছেলে বসে আছে।হাত বাড়ালেই যাকে ছোঁয়া যায়।তবুও আর কাউকে খুঁজতে হবে? কথাটা বলেই আমি মুখ টিপে হাসলাম।জানিনা এরপর মেয়েটার রিয়্যাক্ট কেমন হবে! কিন্তু খুব ভয় হতে লাগলো। যদি ও রেগে যায়? কিন্তু আমার ভয় কাটিয়ে দিয়ে নীলাম্বরী বলল,এত দ্রুত বুঝি কারো প্রেমে পড়া যায়? - আমিতো পড়ে গেছি। - কার? - বারে! একটু আগে যার হাত স্পর্শ করলাম।ওই বৃষ্টিস্নাত চেহারা দেখেই তো আমার মনের ঘন্টা বেজে গেছে। নীলাম্বরী বোধহয় খুব লজ্জা পেয়েছে।লাজুক লাজুক স্বরে বললো,সত্যি! - হুম তিন সত্যি। একথা বলার পর আমার কেমন যেন লাগতে শুরু করলো। বুকের ভিতরে ঢিপঢিপ করছে।লাগামহীন ভাবেই তো ওকে প্রপোজ করে বসলাম। জানিনা কিভাবে নেবে ব্যাপার টা! যদি রাগ করে উঠে চলে যেতে চায়? আমি কি ওকে আটকাতে পারবো? ওর সামনে দাঁড়িয়ে কিভাবে আকুতি করে বলবো, আমাকে ফেলে যেও না।আমি সত্যিই প্রথম দেখাতেই তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। এমন সময় কাছেই কোথাও খুব জোরে শব্দ করে বাজ পড়লো।নীলাম্বরী ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠল, ও মাগো! আপনি কোথায়? ওকে ভয় পেতে দেখে আমি নিমেষেই অন্ধকারেই ওকে ধরে ফেললাম। একেবারে বুকের কাছে। ওর নিঃশ্বাস পড়ছে আমার গলায়।মুহুর্তেই আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো।জীবনে কখনোই এত কাছে কোনো মেয়েকে পাইনি।একদম আমার বুকে লুকিয়ে পড়েছে নীলাম্বরী।শক্ত করে জাপটে ধরে আছে।আমার এত ভালো লাগছে যা বলে বুঝানো সম্ভব না।এভাবে এমন আকর্ষণীয় একটা রাত,বুকের মাঝে একটা অপরূপ মেয়ে।কি যে অন্যরকম ফিলিংস হচ্ছে! ইচ্ছে করছে আজীবন এভাবেই ওকে বুকে চেপে রাখি।এই রাতটা যেন কখনো শেষ না হয়।যুগ যুগ ধরে না ফুরালেও আপত্তি নেই তাতে।এমন বৃষ্টির একটা নেশাভরা রাতে এ কোন নেশা হয়ে কাছে এলে নীলাম্বরী? এভাবে কেটে গেলো অনেক্ষণ।নীলাম্বরী নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,সরি। আমি ওকে ছেড়ে দিলাম। ও একটু দূরে সরে বসলো। অন্ধকারেই মনে হচ্ছে ও অনেক বেশি লজ্জা পেয়েছে।ইচ্ছে করছে ওর লাজুক মুখটা দেখি।কিন্তু এমন অন্ধকারে কিভাবে দেখবো? আমি বললাম, জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়েকে জড়িয়ে ধরলাম।এই কাজটায় এতটা ভালো লাগা মিশে থাকে আমার জানা ছিল না।নীলা,তুমি আমার উপর রেগে যাচ্ছো? - না না,রাগ করবো কেন? প্রেমে পড়ে যাওয়াটা তো স্বাভাবিক তাইনা? তাছাড়া এমন ঝড় বৃষ্টির রাতে একা একটা মেয়েকে কাছে পেলে কি অবস্থা হয় আমি বুঝতে পারছি। নীলাম্বরী'র কথা শুনে আমি ভীষণ লজ্জা পেলাম।আমার ব্যাপার টা তাহলে ধরে ফেলেছে? কিন্তু কি আর করার? মনকে বুঝানো যে অনেক কষ্টের আর খুবই কঠিন।নীলাম্বরী'র নেশায় মেতে উঠছি ক্রমাগত।জানিনা এরপর কি হবে আমার! নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি ওর ওই বৃষ্টিস্নাত শরীরে! শেষ মুহুর্তে পারবো কি নিজেকে সামলাতে? যদি কোনো ভুল হয়ে যায়? চিন্তাটা মাথায় আসতেই একটু দূরে সরে এসে বসলাম।নীলাম্বরী ও হয়ত বুঝতে পেরেছে ব্যাপার টা।ও একটু চুপ থেকে বলল,আমি বরং ওই ঘরে যাই।আপনি ঘুমান। কথাটা বলেই ও বিছানা থেকে নেমে পড়লো। আমি দেখলাম ও দরজার সামনে চলে গেছে।তারপর বলল,শুভরাত্রি। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে এখন আবার শুভরাত্রি বলা হচ্ছে? কিন্তু কিছুই করার নেই।একটা মেয়েকে তো আর জোর করে বুকে চেপে রাখতে পারিনা।কিন্তু মনটা বড্ড ছটফট করছে। অনেক্ষণ বিছানায় এপাশ ওপাশ করলাম।পুরো বাড়িটা ফাকা,তারউপর প্রবল বর্ষণ হচ্ছে বাইরে।পাশের রুমে নীলাম্বরী'র মত একজন মেয়ে।যাকে দেখে প্রেমেও পড়ে গেলাম,কি করে ঘুমানো সম্ভব? প্রায় পনের মিনিটের মত বিছানায় ছটফট করলাম। অস্থির লাগছে ভীষণ।নীলাম্বরী কে দেখার জন্য মনটা ছটফট করছে।নাহ,এভাবে শুয়ে থাকা যায়না।নীলাম্বরীর মুখটা একবার দেখেতেই হবে।ওকে না দেখা অব্দি আমার ঘুম আসবে না আমার। দ্রুত দরজার কাছে চলে আসলাম।দুই রুমের মাঝখানের দরজাটা ও খোলাই রেখেছে।ওর রুমে সৌর বিদ্যুতের মিটিমিটি আলো জ্বলছে।সেই টিমটিমে আলোয় যা দেখলাম,তাতে আমার হৃদস্পন্দন আরো বেড়ে গেলো। দ্রুত হার্টবিট বাড়তে লাগলো। #চলবে.... #AsadRahman

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

|| এক সফলতার গল্প ||

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ 0
|| এক সফলতার গল্প || || মোঃ আসাদ রহমান || ||কোটচাঁদপুর || ঝিনাইদহ || আমি যখন বাড়ি ছেড়ে ছিলাম তখন আমার কাছে মাত্র ৫০ টা টাকা ছিল, ফোনের ব্যাক কভারে😘 ।তাও এগুলি ছিল আমার পরের দিন কলেজে যাওয়া আসার ভাড়ার টাকা।বাবার মুখের উপর এক প্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েই সেদিন বাড়ি ছেড়েছিলাম।আমি যখন বেরিয়ে আসছিলাম তখন আমার পরিবারের প্রতিটা মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল।কিন্তু কেউ আমাকে বাধা দেয়নি।এর পিছনে হয়তো ২টি কারন ছিল ১/আমি নির্বোধ মেয়ে মানুষ সন্ধ্যার আগেই বাসায় ফিরবো আর ২/আমাকে তাদের আর কোন প্রয়োজন ই নেই। পরিবারের ছোট মেয়ে আমি,।আমার বড় একটা বোন রয়েছে।আমার বড় এক ভাই আছে সে পাড়ায় ই একটা মদি দোকান দিয়েছিল।আমাদের সংসারে তেমন কোন অভাব নেই।মা -বাবা,,ভাই আর আমি।আপু তো শশুর বাড়িতে।গুছানো সংসার।তবে অভাব ছিল বিশ্বাস,ভরশা, আর ভালোবাসার।যেটা না আমার বাবার আমার মায়ের প্রতি ছিল, না আমার ভাইয়ের আমাদের প্রতি ছিল। ছোট থেকেই নারী আর পুরুষের তফাত টা দেখে আসছিলাম। কোন প্রশ্ন করলে মা বলতো ওরা পুরুষ মানুষ। ওদের অধিকার বেশি।তখন মাকে বলতাম দেখো এই পুরুষ মানুষ ই না একদিন জাত ডুবায়।চড় মেরে মা আমায় থামিয়ে দিত। একটু একটু করে বড় হতে লাগলাম।প্রাইমারি স্কুল ছেড়ে হাই স্কুল ধরেছিলাম। প্রায় আমার বান্ধবীদের অভিযোগ ছিল আমার ভাই নাকি তাদের মাঝপথে বিরক্ত করতো।অন্য ছেলেদের নিয়ে রাস্তায় মেয়েদের টিজ করে হাসি তামাসা করতো।আমি এক ঘন্টা আগেই যেতাম প্রাইবেট পড়ার জন্য। ব্যাপার টা নিশ্চিত হতে আমি সেদিন প্রাইবেট না পড়ে ওদের সাথে গিয়েছিলাম।স্কার্ফ দিয়ে মুখ টা বাধা ছিল আমার। ঘটনা সত্যি,, মুখ টা খোলার পর ভাই কোন রকমে পালিয়ে বেচেঁছিল।তখন আমি ক্লাস ৭এ ছিলাম। বিকেলে বাসায় ফিরে মাকে জানিয়েছিলাম।কিন্তু বিধি বাম।আমি নাকি ভাইয়ের নামে বদনাম করছি।আবারো খেলাম মার। আমার ক্লাস সেভেনের শেষের দিকে তখন আমার আপুর বয়স ছিল ১৬। আপুর বিয়ে ঠিক করা হল এক ৪৭ বছর বয়সী বিলেত ফেরত বুইড়া খাটাসের সাথে।আপু সবার অগোচরে অনেক কেদেঁছিল।প্রতিবাদ করতে পারেনি।জোর করে ইয়া মোটা বুইড়ার সাথে আপুকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়েত রাতেই আপুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।সেদিন কারন টা না বুঝতে পারলেও এখন আমি বুঝি কারন টা কি ছিল।ধুকে ধুকে আমার বোন টা শেষ হয়ে যাচ্ছিলো।শুকিয়েকাঠ হয়ে গেছিলো,,চোখের নিচে গাঢ় কালো দাগ।আমার এখনো মনে আছে,একবার আমি আপুর শশুর বাড়িতে গিয়েছিলাম।ওর জামাই আমার সামনেই আমার বোনকে ৩-৪টা চড় মেরেছিল।কারন ছিল তরকারীতে লবন কম ছিল। আমি সেদিন না খেয়েই চলে এসেছিলাম।বাড়ীতে এসে মাকে বলেছিলাম মা উত্তর দিয়েছিল মেয়েদের মানিয়ে নিতে হয়। হ্যা আমার বোন ও মানিয়ে নিয়েছিল।আজ উব্দি সে সন্তানের মুখ দেখেনি।তার জরায়ু তে ইনফেকশন হয়েছিল।চিকিৎসারঅভাবে একসময় জরায়ূ বাদ দিতে হল ডাক্তারদের।সারাজীবনের জন্য মা ডাক শোনা বন্ধ হয়ে গেলো আমার বোনের।আমি তখন এস এস সি এক্সাম দিয়েছিলাম।তখনো রেসাল্ট ও বের হয়নি। তখনি প্রেসার দিতে লাগলো বিয়ের জন্য আমাকেও।কিন্তু নাহ,আমি সহজে হার মানবোনা।কলেজের প্রথম বছর এই সেই করে কাটিয়ে দিলেও ২য় বর্ষে আমার বিয়েও এক বিলেত ফেরত এর সাথে ঠিক করে।আমি বার বার না করার পর ও তারা বিয়ের ডেট ফেলে দেয়।পরে শুনতে পারি এই লোকের বয়স আমার আপু জামাইয়ের কাছাকাছি মানে ৪০+। সেদিন আমি প্রতিবাদ করেছিলাম আর বাবা সেদিন আমায় তার বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেছিল।জেদের বশে আমিও বেরি এসেছিলাম।অভিজ্ঞতা ছিলনা কখনো না খেয়ে থাকার।সন্ধ্যা হয়ে গেছিলো,,ভাবছিলাম হাতে আছে এই ৫০টাকা।কোথায় যাবো, কি করবো মাথায় আসছিলোনা।আত্নীয়স্বজনদের কাছে গেলেও তারা সেই বাড়ীতে ফোন করে বলে দেবে।ক্ষুদায় অস্থির হয়ে সেই ৫০টাকা ভেঙে ২০টাকা দিয়ে ২টি ডাল পুরি হাতে নিলাম।তখনি ফোন টা বেজে উঠলো। আপু ফোন দিয়েছে,, ------হ্যালো আপু,  ----হ্যা তুই কোথায় বোন। ----আছি একটা খাবার হোটেলের সামনে। ----আচ্ছা শুন আমি তোকে লুকিয়ে ফোন করেছি।এরা বাড়ি ফিরলেই তোকে বিয়ে দিয়ে দিবে।আমি তোকে আমার এক বান্ধবীর নাম্বার দিচ্ছি।তুই এখন ওর কাছে চলে যা।বাকিটা পরে দেখা যাবে। ----আচ্ছা ঠিক আছে আপু। ----হ্যা খেয়েছিস কিছু। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।কান্নায় ভেঙে পড়লাম। ওপাশ থেকে আপুর কান্নার শব্দ পাচ্ছিলাম। ----আচ্ছা রাখিরে। আবার ফোন দিবো।বলেই আপু ফোন টা কেটে দিল। মেসেজে ওর বান্ধবীর নাম্বার দিলো। যোগাযোগ করে রাত হওয়ার আগেই সেই আপুর বাড়িতে গেলাম।বাড়িতে উনি,উনার মা আর একটা ৩বছরের মেয়ে থাকে।কথা বলে জানলাম উনার স্বামী বিদেশ থাকে।৪দিন ওই বাড়িতে থাকার পর জামসেদ ভাই আমার খালাতো ভাই আসে দেখা করতে। তারপর আমাকে একটা বৃদ্ধাশ্রম এ সেবিকার একটা চাকরী দেন।জীবন টা মোটামুটি গুছিয়ে উঠলো।১১হাজার টাকা স্যালারী আর থাকা খাওয়া তাদের।এটা মহিলাদের বৃদ্ধাশ্রম আর সকল কর্মী ও মহিলা।সব রকম সুযোগ সুবিধা ছিল।মনে মনে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলাম।আপুর সাথে মাঝে মাঝেই দেখা করতাম।নিজের খরচের জন্য ১হাজার টাকা রেখে বাকি ১০হাজার টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট সিস্টেমে রেখে দিলাম ৫বছর মেয়াদে। আমি এখানে আসার ৬মাসের মাথায় এক মহিলাকে আনা হয় যিনি প্রচন্ড অসুস্থ।উনার ছেলে দেশের বাইরে একটা বড় কোম্পানিতে চাকরী করে।উনার ছেলেই উনাকে এখানে রেখে যায়।কারন ১দিন পরেই উনার ছেলে দেশের বাইরে চলে যাবে আর ভদ্র মহিলাকে দেখার কেউ নেই।তিনি আমাকে মোটা অংকের কমিশন দেওয়ার প্রত্যয় করেন শুধু মাত্র তার মায়ের এক্সট্রা সেবা করার জন্য।সেদিন তার কমিশন ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলাম সেবা করা আমার দায়ীত্বের মধ্যে পড়ে আর টাকা টা বেয়াইনি। আমার জন্য সবাই সমান আর আমি সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করবো। আমরা মোট ৪জন সেবিকা ছিলাম।আমাদের কাজ ছিল পুরো বৃদ্ধাশ্রম বাসীর খেয়াল রাখা,রান্না,বান্না,পরিষ্কার ইনটোটালি সব। ওই লোক থেকে টাকা না নিলেও আমি তার মায়ের ব্যাপারে প্রচন্ড যত্ন নিতাম।এমনকি তার কাপড় ছোপড় ধোয়া থেকে শুরু করে,মাথা আচড়িয়ে দেওয়া,চুলে তেল দেওয়া আর সবাই মিলে গল্প করা।সব মিলিয়ে আমার জীবনে যোগ হয়েছিল এক অন্যন্য মাত্রা।জামসেদ ভাইয়ের প্রতি ও কৃতজ্ঞ থাকবো সারাজীবন। আপু মাঝে মাঝে আসে দেখা করে যায়। দেখতে দেখতে দেড় বছর সময় কেটে যায়।সে ভদ্রমহিলার ছেলে বিদেশ থেকে ফিরে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে।কেমন জানি বুকের ভেতর টা খা খা করে উঠলো।হয়তো মায়ায় পড়ে গেছিলাম।উনি ও কাদঁছিলেন যাওয়ার দিন আর আমিও।আজ মাকে খুব মিস করছিলাম। আমার বোনের রিন শোধ করার মত নয়।আমি চাই ও না শোধ করতে।পরিবারকে ছাড়া থাকাটা অনেক কষ্টের।😂 মহিলা চলে যাওয়ার ৭দিন পরে ছেলে সহ আবার আসলেন।কোন অযূহাত না দেখিয়েই সরাসরি তার ছেলের বউ হওয়ার প্রস্তাব দিলেন।আমি সরাসরি না করে দিয়েছিলাম।কিন্তু তারা ২,জনেই নাছোড়বান্দা। একটা সময় পরে তারা কমিটি,মালিক আর আমার পরিবারের কাছে সিদ্ধান্ত জানানোর পরে সবাই আমাকে সুপারিশ করে বিয়ে টা করে নেওয়ার জন্য।যদিও আমার পরিবার কোন উত্তর জানায় নি।তবে আমার আপু ওই ভদ্রলোক কে চয়েজ করে রাজী হতে বলে। 😍 বিয়েটা হয়ে যায়।একসাথে থাকি আমরা সবাই।বিয়ের ৬মাস পরেই আমার স্বামীর কাজের জন্য আমি আমার শাশুড়ী সহ দেশের বাইরে চলে যাই।১ কন্যা সন্তানের জননী হয়ে ৫বছর পরে দেশে ফিরে আসি।এসেই ডিপোজিট এ এত দিনের রাখা সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬লক্ষ টাকা তারা আমাদের দেয়। দেশে ফিরেই আগে আপুর সাথে দেখা করি।তারপর আমার স্বামীসহ সেই বৃদ্রাশম এ যাই।তারপাশেই আমরা আরেকটা বড় বৃদ্রাশ্রম আর পাশেই একটা ফ্যাশনিং ডিজাইন হাউজ বানানোর জন্য কথা বলতে যাই। আজ খুব মনে পড়ছে পরিবারের কথা ৫০টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলাম।আল্লাহ চাইলে কি না করতে পারে।জেদ করে সবাই সব সময় হেরে যায়না কেউ কেউ জিতেও যায়।বাসায় যাওয়ার আগে বৃদ্ধাশ্রমের সকলের সাথে দেখা করতে গিয়ে চক্ষু আকাশে উঠে যায় আমার। মাকে দেখে সেখানে।জীর্ন সীর্ন অবস্থায় এক বিছানায় শুয়ে আছে।আমি গিয়েই জড়িয়ে ধরলাম।মা ও আমাকে চিনতে পেরে কাদঁতে শুরু করে। আমার স্বামী কিছুটা অবাক হয়ে যায়।পরে অবশ্য বুঝতে পারে।কারন আমি তাকে সব বলেছিলাম বিয়ের আগেই। আমার মেয়েকে মায়ের কোলে দিলাম। তারপর বাবার কথা জিজ্ঞেস করলাম। মা জানালো বাবাও পাশের আরেকটা বৃদ্ধাশ্রম এ রয়েছে।মা আর বাবাকে নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম।তাদের কাজের জন্য তারাই আজ ভোগান্তিতে আছে।তায় পুরানো ঘা খুচিঁয়ে তুলিনি। আপুকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম বাবা-মায়ের সাথে এত কিছু হয়ে গেলো আমাকে জানায়নি কেনো।আপু সাফ উত্তর দিলো এটা তাদের কর্মফল।আরে আমি তো তাও বৃদ্ধাশ্রম এ রেখে এসেছি রাসেল(ভাই) তো রাস্তায় ফেলে গেছিলো।আমার আর কিছু বুঝতে বাকি রইলোনা।আপুকেও দাওয়াত দিয়ে রাতে আমরা সবাই একসাথে ডিনার করলাম। আমার বোন পাশে না থাকলে হয়তো এতদুর আসা হতোনা।সত্যিই বড় বোন মানে বট বৃক্ষ,বড় বোন মানেই দ্বিতীয় মা,বড় বোন মানেই আবদারের ভান্ডার,বড় বোন মানেই ভালোবাসা। 🤔 ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন🤔

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

একটা ছেলের জীবনের আত্মকাহিনী।

সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯ 0
<mark> একটা ছেলের জীবনের আত্মকাহিনী। </mark>
||একটা ছেলের জীবনের আত্মকাহিনী।|| কাঁদবেন||আপনিও||জেনে😭😭 -বাবা কিছু বলার ছিলো(আমি) -আমার এখন সময় নাই?(বাবা) -বাবা.... -তুই এখন থেকে যাবি?(গরম করে) মাথা নিচু করে সেখান থেকে চলে আসি, এটা আমার সাথে নতুন না, - সেদিন থেকে দেখছি,...... আম্মুর কাছে গেলাম.... -আম্মু?(আমি) -কি বলবি, বলে আমাকে উদ্দার কর!? -আম্মু আমার খুব প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে!! -তোর এসব ফালতু নাটক দেখার সময় আমার কাছে নাই,রুবাকে স্কুলের জন্য রেডি করতে হবে... -আম্মু আমি ওকে আজ দিয়ে আসি.. -আমরা তোকে কোনো কিছু করতে বলেছি মুখ পোড়া,যেভাবে আছিস সেভাবে থাক, -আম্মু আমি কি তোমাদের ছেলে না? -সেজন্য তো এখনো খাইতে পারছিস? -আম্মু,তোমারা কি আমার সাথে একটু ভালো করে কথা বলতে পারো না? -এর থেকে ভালোর তুই যোগ্য না? -তাহলে গলা টিপে মেরে ফেলোনি ক্যানো? বলে ওইখান থেকে চলে এলাম, মানুষ ভুল করে কিন্তু সেই ভুলের প্রতিদান যে কাউকে এভাবে দিতে হয় আমি জানতাম না!!!! ***তখন সেই ছয় বছরের আমি, আর আমার পিচ্ছি ৪ বছরের ছোট বোন নুসাইবা, আমার জীবনের পুরোটাই ও ছিলো,আমার বেড়ে ওঠার সঙ্গী, আমার আর মা-বাবার চোখের মনি ছিলো, দিনের ৪ ভাগের তিন ভাগ ও আমার কাছে থাকতো, সেদিন ও আমরা দুই ভাই বোন পুকুরেই গিয়েছিলাম,ও পুকুর পাড়ে দাড়িয়ে ও ছোট্ট দাত গুলা বের করে আমার দিকে থাকিয়ে হাসছিলো, কিন্তু পরের ডুব দিয়ে ঊঠে আর আমার সেই পিচ্ছি বোনের মুখ আমি দেখতে পাই নি, আমি ভাবছিলাম বাসায় চলে গেছিলো, তাই অত টা মাথায় নেয় নি, তারপর কিছুক্ষন পর যখন বাসায় গিয়ে ওকে না দেখি,আবার পুকুর পাড়ে ছুটে আসি, এসে পুকুরের মাঝে একটা ছোট্ট পুতুলের মতো আমার পিচ্ছি বোন টা কে ভাসতে দেখি, সেদিন আমি আমার বোনকে হারাই আর হারিয়ে ফেলি আমার সারাজীবনের সুখ, ও বেচে থাকতে মা-বাবা যখন ওকে আমার চেয়ে বেশি আদর করতো, আমি মা-বাবাকে অভিযোগ দিতাম, কিন্তু ও মারা যাওয়ার পর সেটাকে হিংসা বলে সবাই,আর সবার কাছে আমি খুনি হয়ে যাই, বিশ্বাস করেন আমার চোখের মনি টার প্রতি আমার বিন্ধু মাত্র হিংসা থাকলে আমার লাইফ টা এখানেই শেষ হয়ে যেতো, আমার মা-বাবা কখনো বুঝেনি আমি ওকে হারিয়ে কতটা একা হয়েছি,কতটা কষ্ট পেয়েছি, উল্টা তারা আমাকে মানসিক আর শারিরিক নির্যতান দুইটায় করে, আমার এখন পিচ্ছি দুইটা ভাই বোন আছে, কিন্তু আমি তাদের দ্বারে কাছে যেতে পারিনা,***** -বাবা আমার কাল পরীক্ষা আমার পরীক্ষার ফিস দিতে হবে? -পরীক্ষার ফিস দিতে পারি একটা শর্তে জিপিএ ফাইভ পেতে হবে... -আচ্ছা সেদিন বাবা পরীক্ষার ফিস দিয়েছিলো, কিন্তু সে টাকাটা আমার লাইফে আরেক বিপদ ডেকে আনে? আমার পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভের বদলে ৪.৮১ পেয়েছিলাম জেএসসি তে, কিন্তু তার জন্য আমার উপর যে মানসিক যন্ত্রনা হয়েছিলো তা আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মনে থাকবে? সেদিন বাবা আমাকে মাথার উপর থেকে ফেলে, একটা লোহার রড দিয়ে মেরেছিলো , রক্তে আমার সারা শরীর মাখামাখি হয়ে গেছিলো, আমার মাথা ফেটে গেছিলো, কিন্তু জ্ঞান না হারানো পর্যন্ত আমার উপর এ নির্যাতন চলতে থাকে.. সেদিন থেকে আমার প্রতি রাতে মাথা ব্যাথা করতো, এমন হত যে মাথা ব্যাথা সয্য করতে না পেরে বেহুস হয়ে যাই, আমি ব্যাথায় চিৎকার করতাম কিন্তু কেঊ আমার ডাকে সারা দিতো না, মাঝে মাঝে ভাবতাম চলে যাই, কিন্তু ওরা আমাকে যত কষ্ট দেখ না কোনো ওরাই তো আমাকে জন্ম দিছে? ওরা আমাকে যত টা অবহেলা করতো আমি তাদের কাছে ততটাই যাওয়ার চেষ্টা করতাম, আমি সাধারনত কোথায় বেড়াতে যাই না,কিন্তু কি মনে করে আমার ফুফাতো বোনের বিয়েতে যাই, কিন্তু সেদিন টাও আমার জন্য ভালো ছিলো না, আমার একটা সম_বয়সী ফুপাতো বোন ছিলো,যার দুর্বলতা আমার প্রতি ছিলো, ও সেদিন আমাকে সেখানেই প্রপোজ করে বসে, কিন্তু আমি কোনো মতেই রাজী হয়নি, আমি চুপ করে একটি রুমে বসে ছিলাম, কিন্তু সে সময় ও মেয়েটা রুমে ডুকে দরজা বন্ধ করে দেয়,আর চিৎকার শুরু করেতে থাকে , আমার মা-বাবা ও ছূটে আসে, কিন্তু তারা আমার কাছে একবারের জন্য ও জানতে চাই নি ,আমার কোনো দোষ আছে কিনা, সেদিন থেকে সবাই আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, আমার ঠিকানা হয় আমার সেই অন্ধকার রুম, রাতের অন্ধকারের বাড়ির ছাদ, আমি প্রতি রাতে ছাদে যেতাম, তখন আকাশে একটা তারাকে টার্গেট করতাম আর ওটাকে নুসাইবা বলে ডাকতাম -হাই আপি কেমন আছিস? -এই বুড়ি হাসছিস ক্যান? -কথা বলবি না তোর ভাইয়ের সাথে? -তুই ও কি আমাকে অন্যদের মতো তোর খুনি ভাবিস? -আচ্ছা আপু তোর মনে পড়ে না তুই ভাত খেয়ে এসে তোর মুখের ময়লা গুলো আমার শার্টে মুছে দিতি, তোর মনে পড়ে না,তোর হাতের মুঠোয় আমার একটা আঙ্গুল থাকতো, আপু বিশ্বাস কর আমি তোকে একটুও হিংসা করতাম না, কিন্তু এখন করি কারণ মা-বাবা তোর জন্য সারাক্ষণ কাদে আর আমার জন্য একটু ভাবে না, আচ্ছা আপু আমি যদি তোর মতো তোর কাছে চলে যাই আম্মু আব্বু কি আমার জন্য একটু ও কাদবে না,????তাদের দুচোখের এক ফোটা জলের কারন ও আমি হতে পারবো না???? তারা কি আমাকে জড়িয়ে ধরে একটু কাদবে না,বলবে না কেনো চলে গেলি... আকাশের ওই তারা টাও হয়তো আমাকে দেখে কাদছে,আর বলছে কাদবেরে ভাই খুব কাদবে... ওই ঘটনার পর আব্বু আর মুখের দিকে তাকায় নি... আর আমার সবার সাথে কথা বলা অফ, আকাশের দিকে থাকিয়ে যখন এই কথা গুলো ভাবছিলাম আর চোখের জল ফেলছিলাম তখন একটা ছোট্ট হাত আমার মুখের জল মুচে দিলো, আমার আরেক পিচ্ছি বোন রুবা, পিচ্ছি টা দেখতে একদম আমার নুসাইবার মতো... -কিরে তুই এতো রাতে এখানে আম্মু দেখেনি? -নারে আম্মু ঘুমাচ্ছে, -তুই ঘুমাস নি ক্যান? -তোর কান্নার আওয়াজ শুনে ঘুম আসছিলো না,ভাইয়া তুই প্লিজ আর কাদিস না,আমার কষ্ট লাগে, -আচ্ছা আর কাদবো না,তুই চলে যা আম্মু দেখলে আমাকে বকবেরে, -না আমি যাবো না,জানিস আমার খুব ইচ্ছা করে তোর কাছে আসতে,তোর সাথে কাদতে,তোর চোখের জল মুছে দিতে,কিন্তু আম্মু আসতে দেয় না, ও যখন এই কথাগুলো বলছিলো তখন আম্মু আসলো... -আমার একটা মেয়ে খেয়ে তোর শান্তি হয় নি, আবার ওকে..... আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনা, আমার চোখে শুধু জল আসে, আমি বুঝিনা আমার চোখে এতো জল ক্যান? আমার ইচ্ছা করে আমার কলিজা টা ছিড়ে দেখতে কত সহ্য করতে পারি, সেদিন রাত ১ টায় ঘুমাই কিন্তু ঘুম ভাঙে সন্ধা ৮ টায়, আসলে ওটা ঘুম ছিলো আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম,কিন্তু ওরা আমার রুমে এসে আমাকে একবার ডেকেও দেখে নি, আমি বেচে আছি কিনা, আমার সবার সাথে খাওয়া অনেক আগে বন্ধ হয়ে গেছিলো, আমার খাওয়ার কোনো খবর তাদের কাছে ছিলো না, আমি খেতাম যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়তো, এমন কোনোদিন নেই,আমার ভাতের উপর আমার চোখের জল পড়েনি, কিন্তু তাতেও আমার সুখ আমি ওদের কাছে আছি, কিন্তু ইদানীং মাথা ব্যাথাটা খুব বেশি হচ্ছে... খুব বেশি, দিনের ১৫ ঘন্টা আমার মাথা ব্যাথা হয়,আর দিনের ৪ ঘন্টা সেন্সলেস, কিন্তু তাতে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, আমার মনে হয় আমি যদি আমার রুমে মারা যাই,তাহলে তারা তখন জানতে পারবে যখন লাশ পচে গন্ধ বের হবে... আজ মাথা ব্যাথা টা খুব বেশি লাগছে,সব কিছু কেনো জানি না অন্ধকার লাগছে, হাতের কাছের ডাইরির পৃষ্টাটা কাছে টেনে নিলাম আর লিখতে শুরু করলাম... "বাবা মা বিশ্বাস করো নুসাইবার মৃত্যুতে আমার কোনো হাত ছিলো না,ওটা একটা আকস্মিক ঘটনা ছিলো, তোমরা ওকে যতটা না ভালোবাস তে আমি তার থেকে বেশি ভালোবাসতাম, ও তো আমার চোখের মনি ছিলো বলো, আমি কি করে ওকে, আর হ্যা বাবা ওই মেয়েটাকে আমি কিছু করিনি, তোমরা আমাকে মারতে আমার কোনো কষ্ট ছিলো না,কিন্তু যখন থেকে আমার সাথে কথা বলা অফ করে দিলে তখন থেকে খুব কষ্ট পাইছি, আমার খুব ইচ্ছা করতো তোমাদের এক টেবিলে বসে খাই, আমার ভাই বোনের সাথে কথা বলি, কিন্তু ওরা তোমাদের ভয়ে আমার সাথে কথা বলতো না,আম্মু যখন রুবাকে খাইয়ে দিতো,আমার খুব ইচ্ছা হতো আমি ও আম্মুর হাতে খাবো,আমিও তোমাদের ছেলে,তাহলে আমি যত দোষই করি না কেন তোমরা আমাকে এতো অবহেলা করো কেনো,আমার জন্য কি তোমাদের চোখে একটু ও জল আসে না,আমার খুব দেখার ইচ্ছা আমার জন্য তোমাদের চোখে জল আসছে ,আমার জন্য যদি এরপর ও চোখে জল না আসে ,তাহলে পৃথিবির মা- বাবার তাদের সন্তানের প্রতি ভালোবাসা মিথ্যা হয়ে যাবে,"হঠাৎ করে হাতের কলম টা ছুটে গেলো,আর এক ফোটা জল চিঠির টার উপর পড়লো, সাথে একটি নিষ্পাপ মুখ,,,,,,, ইতি হল আর একটা জীবনের.........

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

একটি ব্যার্থ সফলতার গল্প!

সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯ 0
পুরো আকাশটাকে মনে হচ্ছিল যম,যেন হঠাৎ করে আমার মাথার উপরে চেপে পড়তে পারে!আর আমি মরে যাবো তা নয়,আমার শরীরের অনেক বেশি ক্ষতি হবে যার জন্য আমি কষ্টে ছটফট করছি। এরকমই মনে হচ্ছিলো আমার তখন,কারণ সেই মূহুর্তের কথা আজও রয়েছে শুধু আজ বললে হবে না সারা জীবনই থাকবে। আমি যে ভুলটি করেছি সারা জীবন দিয়েই দিতে হবে সে ভুলের মাসূল! আমি আইমান আলম।আমি যখন অনেক ছোট তখনই আমার মনে স্বপ্ন জাগে ডাক্তার হবার,মনে মনে প্রতিজ্ঞাও করে নেই বড় হয়ে অনেক ভালো একজন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করবো।এরকমই স্বপ্ন দেখতে দেখতে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়া হয়।ফাইভের ফাইনাল পরিক্ষা সামনের মাসে,হঠাৎ একদিন বাবা বললেন আমাকে স্কুল পরিবর্তন করতে হবে।আমি মানা করি কিন্তু বাবা ত আর আমার মানা শুনার পাত্র নয়।তিনি বললেন ব্যবসার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে তাই তার সাথে আমাকেও স্থান পরিবর্তন করতে হবে। অনেক জোর করার পরও কাজ হলো না,কি আর করবো তাই বাবার সাথে বাসস্থান পরিবর্তন করলাম। নতুন একটি শহরে বাবার সাথে পাড়ি জমালাম।এসেই বাবা আমার জন্য একটি স্কুল থেকে ফরম আনলেন এডমিশনের জন্য। আমাকে ভর্তি করা হয় নতুন একটি স্কুলে তবে হ্যাঁ ক্লাস ফাইভে নয়, এক ক্লাস পেছনে কেননা স্কুল কতৃপক্ষ ক্লাস ফাইভে আমাকে ভর্তি করেনি আর করবেই বা কেন? আর মাত্র ২৪-২৫ দিন বাকি আছে পরিক্ষার।আমার পুরো মনটাই উলোটপালোট হয়ে গেল।নতুন শহর, নতুন জায়গা, তার মধ্যে সারাদিন একা একা থাকতে হয়।যেমন স্কুলে তেমন বাসায়,বাবা পুরো দিনই তার অফিসে কাটিয়ে দেন আর আমি কিছুটা স্কুলে কিছুটা বাসায় টিভির সাথে।এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমার ভিতরে আবারও ডাক্তার হওয়ার প্রবঞ্চনা দেখা দেয়,তাই আমি আবার নিজের মত করে পড়াশোনা করতে শুরু করি।সব পরিক্ষায় ফলাফল খুব ভালো ছিল।কিছুটা দুষ্টুপ্রকৃতির ছিলাম, এর জন্য স্কুল থেকে মাঝে মাঝে গার্জেন্ট ডাকলে নিজাম চাচাকে বাবা পাঠাতেন।লাগাতার লেখা পড়া করে ক্লাস নাইনে উঠি।যেহেতু আমার সারা জীবনের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার তাই আমি বাবাকে না বলেই সাইন্স নিয়ে নিলাম।ভর্তি হবার ৩-৫ দিন পর, বাবা জিজ্ঞেস করলেন আমি কি নিয়ে লেখা পড়া করতে চাই,আমি আমার স্বপ্নের কথা বলি;কিন্তু জবাবে বাবা বলেন ডাক্তার হওয়া অনেক কঠিন,সুতরাং আমি ডাক্তার হতে পারবো না।(সাইন্সে বা ডাক্তারি পড়লে অনেক টাকা ব্যয় হবে,এটিই ছিল মূল কথা)।আমি অনেক কান্নাকাটি করেও বাবার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারিনি।স্কুলের স্যারের সাথে কথা বলে বাবা আমার স্বপ্ন পরিবর্তন করে দিলেন। আমার সেই ছোট বেলা থেকে দেখা স্বপ্নটি বাস্তব হলো না।অনেক কান্নাকাটি করেছিলাম সেদিন কিন্তু কোনো লাভ হয় নি।বাবার প্রতি এক ধরনের ঘৃণার জন্ম হয় আমার মনে, তাই সিদ্ধান্ত নেই বাবার সাথে আর থাকবো না। দিনটি ছিল রবিবার,আমি সুযোগ বুঝে আমার দরকারি সমস্ত কিছু নিয়ে বাসা ত্যাগ করি।আব্বুর থেকে অনেক দূরে একটি শহরে পাড়ি জমাই।যেখানে না আছে কোনো রকম পরাধীনতা আর না আছে শাসন-বারণ। একটি বাসায় উঠি;আমার ফুপির বাসা।সেখানে দুই-তিন মাসা ভবঘুরে থাকার পর ফুপি আমাকে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়।যদিও প্রথম প্রথম একটু উল্টো পাল্টা করেছিলাম কিন্তু কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে যায়।কেননা,ফুপির একটি মেয়েও আমার সাথে নাইনে পড়ে,তাই তার সাথে অনেকটা গভীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়। যতদিন যায় বন্ধুত্ব ততই গভীর হতে থাকে। এভাবে এস এস সি পরিক্ষা দেই। অনেক ভালো ফলাফল আসে আমার।আমার আর মহিমার সিদ্ধান্ত ছিল একসাথে দুজনেই একটি কলেজে ভর্তি হবো।প্রায় সব কাজই শেষ, শুধু ভর্তি হওয়ার বাকি।কিন্তু একদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে শুনি মহিমাদের পরিবারের সকলের বিদেশ যাওয়ার তারিখ হয়ে গেছে,কিছুদিনের মধ্যেই চলে যাবে(অবশ্য আগের আ্যপ্লাই করা ছিল)। মহিমা চলে গেল,সে আমেরিকা গিয়ে একটি কলেজে ভর্তি হলেও আমি ভর্তি হতে চাই নি।আবারও একা হয়ে গেলাম। একদিন সকালে ভাইয়া ফোন দিয়ে বললেন বিদেশ যাওয়ার জন্য আমাকে ন্যূনতম ইন্টারমিডিয়েট পাস করতে হবে।তাই আমাকে আবার কলেজ যেতে হবে। রীতিমতো কলেজে যাওয়া শুরু করি।কলেজে কারও সাথে বেশি কথা বলি না,কারও সাথে আবার বেশি মিশিও না।আমি নিজের মতো করে চলতে থাকি।মনের মধ্যে একটি ভয় কারো সাথে কথা বলতে বলতে মিশে যাবো আর কার সাথে যদি ঝগড়াঝাটি হয়ে যায় তাহলে কলেজ থেকে টিসি ধরিয়ে দিবে। প্রায় এক বছর এভাবে চলতে লাগলো এবং ১ম বর্ষ শেষ হয়ে গেল প্রায়। ইয়ার চেইঞ্জ পরিক্ষা কিছু দিন পর।১৫-২০ দিন বাকি আছে, হঠাৎ একদিন ঢাকা থেকে নিজাম চাচা ফোন করলেন;বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। বিকেল ৫ টার গাড়ি ধরে আমি ঢাকায় চলে গেলাম। ঢাকায় যাওয়ার পর দেখলাম বাবার অবস্থা বেশি ভালো নয়,স্কয়ার হসপিটালের সি সি উ তে ভর্তি। ডাক্তার বলেছেন হার্টে রিং বসাতে হবে, যেকোনো ভাবে ৪-৫ দিন থাকতে হবে। যাক,ডাক্তারের নিয়ম মতো হসপিটালে থাকা হয় ৪ দিন। এদিকে আমার পরিক্ষার দিন ঘনিয়ে আসছে, তিন মাসের বেতন বকেয়া ও পরিক্ষার ফি ও দেওয়া হয়নি। বাবাকে এই অবস্থায় রেখে কেমন করে আসি,আবার না এসেও কি করবো! হঠাৎ মনে হলো দূর সম্পর্কের একজন মামার কথা। তাঁকে ফোন দিলাম এবং বললাম সবকিছু,বিকাশে নিজাম চাচাকে দিয়ে টাকা পাঠাই মামার কাছে। বেতন বুক আমার রুমে টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ছিল,পাশের বাসার আন্টির কাছে আমার বাসার চাবি ছিল। মামাকে বললাম বেতন বুক নিয়ে বেতনগুলো দিয়ে কলেজ থেকে আমার এডমিট কার্ড এনে রুমের ড্রয়ারে রাখার জন্য। একদিন পরে মামাকে ফোন দেই,ফোন রিসিভ হয়নি। আমি বাবাকে নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলাম তাই পরে আর ফোনও দেইনি। পরিক্ষার দুইদিন আগে ঢাকা থেকে আসি,দিন ছিল বৃহস্পতিবার। বাসায় এসেই ড্রয়ার চেক করে দেখি বেতন বুক আছে কিন্তু এডমিট কার্ড নেই।যা বুঝার বুঝে নিলাম, সাথে সাথে মামাকে ফোন দেই রিসিভ হয়নি ফোন।একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধার পরে তার বাসায় যাই,সেখানে যাওয়ার পর যা শুনলাম তা বলা বাহুল্য!পরের দিন শুক্রবার, শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকে, তাই আমার আর বেতন দেওয়া হলো না। কলেজে যোগাযোগ করলেও কোন লাভ হয়নি। আমি যেহেতু প্রাইভেট কলেজে পড়তাম তাই সেখানকার নিয়ম একটু কড়া।একটি বন্ধুর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিলাম প্রাইভেট কলেজ থেকে টিসি নিয়ে পাশের একটি সরকারি কলেজ ভর্তি হবো। আমি আমার একজন স্যারের সাথে যোগাযোগ করি টিসির জন্য।তিনি আমাকে বললেন দুই বছরের বেতন দিয়ে টিসি নিতে হবে।যেহেতু আমার চোখে এতদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন বাসা বেধে নিয়েছে তাই স্যারের চুক্তিতে রাজি হয়ে গেলাম।আমার বন্ধু সরকারি কলেজ থেকে কাগজ পত্র এনে ভর্তির কাজ প্রায় সম্পন্ন,এখন শুধু টিসি পেপার জমা দেব আর ইয়ার চেইঞ্জ পরিক্ষা দেব। কিন্তু এরই মধ্যে আবার…! একদিন দুপুরে মেসেঞ্জারে স্যারের একটি মেসেজ আসে,বলেন তাঁর সাথে ফোন করে কথা বলার জন্য। যথারীতি মতো আমি সন্ধার পরে ফোন দেই। স্যার আমাকে বারন করেন আমি যেন আর টিসির বিষয়ে ভিপি স্যারের সাথে কথা না বলি।আমাকে এই সেই বলে ভয় দেখান।আমি স্যারের ভালোর জন্য টিসির খোঁজে আর কলেজে গেলাম না।মনে করলাম আমার ত আর কোন স্বপ্নই পূরণ হবে না তাহলে অন্যের জীবন যাত্রায় কেন বোঝা হব। আমি নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে ব্যর্থ মানুষ মনে করি কিন্তু একবারও মনে হয় নি স্যার আমার সাথে মিথ্যা কথা বলছেন। স্যারের মিথ্যার প্রমাণিত হয় কয়েকদিন পর ভিপি স্যারের সাথে একটি কফি হাউজে দেখা হয়।সেদিন আলোচনা সাপেক্ষে আমি বুঝতে পারলাম আমি যদি টিসির জন্য কলেজ যেতাম তাহলে ক্লাস টিচারের চাকরিও যেতে পারতো (আমাকে পরিক্ষার হলে ঢুকতে না দেওয়ার অপরাধ) আমি ভিপি স্যারকে ক্লাসটিচার এর বিষয়ে কোন কথা বলিনি শুধু নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করছিলাম। আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল আব্বুর কারণে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং শাবিতে পড়া হয়নি স্যারের দূর্নীতির কারণে! ভবঘুরে হয়ে জীবন-যাপন করতে লাগলাম। একদিন একটি স্টেটাস চোখে পড়লো আমার অনেক প্রিয় একজন স্যারের। তাতে লিখা রয়েছে ‘ আমার ছোট থেকে স্বপ্ন ছিল দুইটি,শিক্ষক অথবা সেনাবাহিনী হওয়া।সেনাবাহিনী হতে পারবো না কোনদিনও এটি মনে হয় মহান আল্লাহ আমার কপালে লিখে দিয়েছেন। কিন্তু আমি আশা ছাড়িনি, আমি আমার মতো করে চলেছি।ফলস্বরূপ পেয়েছি একটি চাকরি, আল্লাহর অশেষ রহমতে সেনাবাহিনী ও শিক্ষকতা দুইটির মোহনায় ❤’ স্যারের উচ্চতা কম তাই সেনাবাহিনী হতে পারেননি কিন্তু এমন একটি চাকরি হয়েছে যেখানে সেনাবাহিনী তৈরি করা হয়। একসাথে স্যারের দুইটি স্বপ্ন পূরণ হয়, ক্যাডেট কলেজে স্যারের একটি মহা মূল্যবান চাকরি হয়। সেদিন স্যারের জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি মনে মনে কথায় আবদ্ধ হই কোনদিন কোন কাজে আশা ছাড়তে নেই। সফলতার পিছনে না দৌড়ে নিজেকে সঠিক ভাবে প্রস্তুত করতে পারলে সফলতা আপনার কাছে আসবে।…

মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৯

সতেরো বছর পর

আগস্ট ১৩, ২০১৯ 0
😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍😍 রূপা দেখলো ফুটফুটে সুন্দর দুটি বাচ্চা কি মায়াবী তাদের চেহারা। রূপা জেনো এক নিমিষেই সব কষ্ট ভুলে গেল, বাচ্চা দুটিকে পেয়ে। অপরদিকে রাজুকে ছেড়ে দেওয়া হল। রাজু ফিরে এসে দেখল রূপা আর নেই। রূপার বড় ভাবি বলল, টাকাওয়ালা স্বামী পেয়েছে। স্বামীর বয়সটা যদিও একটু বেশী কিন্তু টাকা-পয়সা আছে ঢের। তাই রূপা তোমার জন্য আর অপেক্ষা করেনি। -- আমি আমার রূপাকে চিনি ভাবি। যেই টাকার লোভে ঐ বুড়োর সাথে ওর বিয়ে দিয়ে দিলেন। আমাকে আটকে রাখলেন। তার চেয়ে দ্বিগুণ টাকা আমি কামাই করে আনবো। তখন আমার রূপাকে আমার কাছে থেকে কেউ কেড়ে নিতে পাড়বে না। -ফকিন্নির ছেলের বড় বড় কথা। মুখে না বলে কাজে করিয়ে দেখাস। এই বলে মুখ ঝামটা দিয়ে ঘরে চলে গেল রূপার বড় ভাবি। রাজু ছিল অত্যন্ত মেধাবী। সে তার লেখাপড়াতে আরো মননিবেশ করল। একদিন সে স্কলারশিপ পেয়ে বাহিরে চলে গেল। রূপার খুব ভয় করে এখন প্রতি রাতেই বুড়ো রূপার ঘরের কাছে এসে উঁকিঝুঁকি মারে। বুড়োর কি এই বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে? রূপার বুঝে আসেনা। এতো কিছুর পরেও রূপা এই বাড়িতে পড়ে আছে শুধু মাত্র ও ফুটফুটে বাচ্চা দুটির পানে চেয়ে। বাচ্চা দুটো প্রথমে রূপাকে মা, মা বলেই ডাকতো। কিন্তু রূপা বারণ করায় তারা রূপা আন্টিকে রূপা আন্টি, রূপা আন্টি বলেই ডাকে। আজ রূপার ভিষন ভয় করছে বুড়োটা কি সব ছাইপাঁশ গিলে এসেছে। জোরে, জোরে দড়জা ধাক্কাচ্ছে। বাচ্চা দুটোই নেই আজ। তারা তাদের মামার বাসায় গিয়েছে। বাচ্চা দুটোর নাম ছিল নন্টে ফন্টে, রূপা তাদের নাম পালটিয়ে নতুন নাম দিয়েছে, বিশাল, আকাশ। বড়টার নাম বিশাল আর ছোটটার নাম আকাশ। নন্টে ফন্টে বজ্জাতের হাড্ডি রূপার ধারণা এই সব নাম থাকলে ওরা ওদের মতো বজ্জাত হবে। তাই রূপা নাম দুজনের নাম পালটিয়ে রেখেছে। রূপার নাম পাল্টানোতে বুড়োটা খুশি না হলেও নন্টে, ফন্টের মামা মানে বিশাল, আকাশের মামা বেশ খুশি হয়েছেন ওনারো ধারনা এসব আজেবাজে নাম বাচ্চাকাচ্চার রাখলে তারা নামের মতো বজ্জাতই হয়। বিশাল, আকাশের মামা রহমান সাহেব বেশ ভালো মনের লোক। তিনি বাচ্চা দুটোকে বেশ ভালোবাসেন সেটা দেখে রূপারো খুব ভালোলাগে। এতোদিন রূপার কারনে রহমান সাহেব তার ভাগ্নেদের নিয়ে যেতে পারেননি। কিন্তু আজ রূপা অনুমতি দেবার কারনে পেরেছেন। বুড়োটা এবার দরজাটা ভেঙেই ফেলেছে। বুরোটার চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে আছে। দরজা ভাঙবার আনন্দতে বুড়োটা একপাটি দাঁত বের করে হাসতে লাগল। আস্তে আস্তে রূপার দিকে এগুতেই রূপা দৌড়ে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। বুরোটাও রূপার পিছন, পিছন গেল। রূপার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল রূপা নিজেকে বাঁচাতে রান্নাঘরের আশ বটি নিয়ে বুড়োর গলায় দিলো এক কোপ। বুড়ো জাগায় শেষ। রূপা বুঝতে পাড়ল না সে কি করবে এখন। ঝোঁকের মাথায় মেরে ফেলেছে, কিছুক্ষনের ভিতরেই আশেপাশের লোকজন এসে হাজির হল। এরপর পুলিশ এসে রূপাকে জেল হাজতে নিয়ে গেল। রূপার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলো। এভাবেই কেটে গেল রূপার ১৪টি বছর। রূপা এখন আর সে রূপা নেই। চেহারাতে বয়সের ছাপ ফুটে উঠেছে। রূপার বাসা থেকে কেউ আসেনি। বিশাল, আকাশ ও তার রূপা আন্টিকে দেখতে আসেনি। আজ রূপার ছাড়া পাবার খবর শুনেও আসেনি। ওরা চায়না ওদের বাবার খুনির সাথে যোগাযোগ রাখতে। কিন্তু রূপার খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল। ছেলে দুটিকে । কেমন হয়েছে ওরা? সেই ভাবনায় রূপা তার শশুর বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু গ্রামের লোকজন রূপাকে গ্রামে ঢুকতে দিলোনা বের করে দিল। একজন খুনির গ্রামে থাকার অধিকার নেই। কোথায় যাবে রূপা পথে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে গেল। গ্রাম ছেড়ে খুব দূরে শহরের এক বিড়াট বাড়িতে রূপা রাতটা কাটানোর জন্য আশ্রয় নিল। রূপা যেই বাড়িতে আশ্রয় নিল সেই বাড়িতে আজ অনুষ্ঠান ছিল। হাজারো দরিদ্র মানুষকে খাওয়ানো হল আজ। বাড়ির মালিকের ১৭ বছর পরদেশে ফেরা উপলক্ষে। রূপার ভিষন খুধা লেগেছে খুধার চোটে রূপা মাথা ঘুরে পরে গেল। বাড়ির মালিক খবর পেয়েই নিচে নেমে এলো এসে দেখল এই মেয়েটি তার সেই চিরচেনা রূপা। বাড়ির মালিক রাজু শহরের সব চেয়ে বড় ড. ডেকে নিয়ে এলো। রাজুর ভাবনায় একটাই প্রশ্ন রূপারতো খুব বড় ঘরে বিয়ে হয়েছিল শুনেছিলাম। তাহলে রূপার আজ এই পরিণতি কেন? হিসেব টা জেন মিলছিল না। রূপা চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলে তার পাশের লোকটিকে খুব চেনা চেনা লাগছে। আগেও তাকে কোথাও জেন দেখেছে সে। তখন রাজু রূপাকে বলল, তোমার এই অবস্থা কেন? -কে আপনি? - আমি তোমার রাজু। - সেই রাজু যে রূপার দায়িত্ব নেওয়ার ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল? কথা দিয়ে আসেনি আর। তখন রাজু সবটা খুলে বলল, যে রূপার ভাই ভাবি তাকে ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। রূপা সবটা শোনারপর রাজুকে জড়িয়ে ধরল। কিন্ত যখন রূপা বুঝল এটা অন্যায় তখন রাজুকে ছেড়ে দিয়ে বলল, আপ্নিতো এখন অন্য কারো। রাজু রূপাকে কাছে টেনে নিয়ে বলল, রূপা ছাড়া রাজু অন্য কারো হতে পারেনা। তখন রূপা তার সব কথা রাজুকে খুলে বলল। রাজু সবটা শুনে রূপাকে আরো কাছে জড়িয়ে নিলো। এপর দুজনে বিয়ে করে সিখে সংসার কাটাতে লাগলো সতেরো বছর পর রাজু তার রূপাকে নিজের করে পেল। ভুল ক্ষমা করে দেবেন সমাপ্ত ব্যাস্ততার জন্য গল্পটি অগোছালো ভাবেই সমাপ্ত করে দিলাম

সতেরো বছর পর

আগস্ট ১৩, ২০১৯ 0
আকাশের ঐ মিটিমিটি তারার সাথে, কইবো কথা। নাইবা তুমি এলে... এখনো আসছেনা রাজু, ওর কি মাথায় নেই? রূপা একা একটি মেয়ে, এই রাতের আধারে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ দেখলেওতো লোকে পাঁচখানা কথা বলবে। এতো অপেক্ষা ভালোলাগেনা। রাজু কি জানেনা? অপেক্ষা অনেক কষ্টের হয়। আর কতো তারাদের সাথে রূপা কথা কইবে? এখন রূপার বড্ড অভিমান হচ্ছে, রাজুর ওপর। কত সখ করে রূপা বকুল ফুল কুড়িয়ে এনেছিল, মালা গেঁথে রাজুর গলায় পরাবে বলে। সে'যে কেন এলো না? কিছু ভাললাগেনা। এবার আসুক তারে আমি, মজা দেখাবো... যদি ফুল গুলি হায়্! অভিমানে ঝড়ে যায়। বল মালা গেঁথে আমি কারে পরাবো? নিশিরাত ভোর হতে আর বেশি দেরী নেই। রূপা আবুল মিয়ার বাড়ির পিছনটায় পুকুরপাড় টাতে বসে মশার কামড় খাচ্ছে। আর রাজুর উপর রেগে দাঁত খিটমিট করছে। রাজুর জানা উচিৎ চারিদিকে ডেঙ্গু মহামারী রুপ নিয়েছে। রূপার যদি ডেঙ্গু হয়। রূপার ডেঙ্গু হলে রাজুর তাতে কি? রাজুতো বেঁচেই যাবে। এই রূপার দায়িত্ব, তাকে আর নিতে হবেনা। মনে মনে বলতে থাকে রূপা। চারিদিকে পাখির গুঞ্জন শোনা যায়। মসজিদে মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনি। ভোরের আলো এসে পড়েছে পুকুরপাড়ে, হাসেরা নায়তে নেমেছে। তবুও রাজু আসেনি। অথচ রাজু কথা দিয়েছিল। আজ রাতেই রূপাকে নিয়ে পালাবে। রূপার যে বিয়ে। নাহ্ রাজুর জন্য আর অপেক্ষা নয়। রাজু তার কথা রাখেনি কিন্তু রূপা তার কথা রাখবে। রূপা বলেছিল রাজুকে, "তুমি যদি আজ না আসো নিতে? তবে আমি ঐ বুড়োর গলাতেই মালা দেবো"। "রূপা আমি আসবো পৃথিবীর কোনো শক্তি আমাকে আটকে রাখতে পারবেনা। তুমি আবুল মিয়ার বাড়ির পিছনের পুকুরপাড়টাতে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করিও"। রূপা যদি আগে জানতো তবে সে ঘর ছেড়ে আসতো না। ঐ বুড়োকে বিয়ে করে ভাই-ভাবিদের মুখে হাসি ফুটাতো। এখন নিশ্চয় তার ভাইয়েরা তাকে খুঁজতে বেড় হয়ে গেছে। আগে যদি জানতাম রে বন্ধু তুমি হইবা পর.. ছাড়িতাম কি বাড়ি আমার? ছাড়িতাম না ঘর... উজানে ভাসাইলাম নাও ভাটি কোথাও নাই আমি আমার ছিলামরে .....বন্ধু..... তুমি কোথাও নাই রূপা বাড়িতে ফিরে এলো। তার ভাইয়েরা তাকে কিছুই বলল না। তারা হয়ত জানতো রূপা ফিরে আসবেই। রূপার বড় ভাবি রূপাকে বলল, যা রুমে যেয়ে বেনারসিটা পড়ে নে। তোর শশুর বাড়ি থেকে দিয়ে গেছে। আর কতো ভাই-ভাবিদের ঘাড়ে বসে বসে খাবি? রূপা চুপ করে রইলো। কিইবা বলবে সে তার বলার মতো কিছুই নেই। বাবা-মা মারা যাবার পর থেকেই রূপার ভাষা হারিয়ে গেছে। পৃথিবীর আর কোনো ভাই তার বোনকে একটা বুড়োর সাথে বিয়ে দিতে পারে কিনা রূপা জানেনা। কিন্তু রুপার ভাইয়েরা পারে। এই বুড়োর সাথে বিয়ে দিলে। তারা এক বিঘা জমি পাবে ফসল ফলানোর জন্য। সকল ঋণ মাফ করে দিবে। রূপাও ভাল থাকবে। রাজু ও কথা দিয়ে কথা রাখল না। রূপা ভেবেছিল রাজু হয়ত তাকে এই নরক যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু রাজুও শেষ পর্যন্ত এলো না। জন্ম থেকে যার কপালে দুঃখ লেখা সে সুখের মুখ কিভাবে দেখবে? রূপাকে লাল বেনারসিতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে। প্রতিটি মেয়েকেই বিয়ের দিন সুন্দর লাগে। কিন্তু রূপাকে একটু বেশী-ই সুন্দর লাগছে। রূপার বুড়ো হাবলা বড়টাও রূপার দিকে হা করে তাকিয়ে রয়েছে... গ্রামের লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো। রূপার ভাগ্যটা খুব ভালো। নয়লে এতো বড় ঘরে বিয়ে হয়? বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রূপাকে শশুর বাড়িতে নিয়ে আসা হল। শশুর বাড়িতে এসেই রুপা দেখল...! চলবে... ভুল মাফ করবেন।

বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৯

কিশোরী বধু

আগস্ট ০৭, ২০১৯ 0
বাসর রাতে বউ বিছানায়,আর সামি মেজেতে থাকবে এই অদ্ভুদ ঘটনাটা মনে হয় আমার কপালে লেখা ছিলো। ~~বাসর ঘড়ে ঢুকে দেখি মেজেতে ১টা চাদর বিছানো সাথে ১টা বালিশ। ~~বউ কে খুব নরম শুরে বললাম এটা তুমি কি করছো নিচে বিছানা কেন? ~আপনি নিচে থাকবেন আর আমি উপরে। ~~কিন্তু কেন? কেন আবার আমি কারো সাথে ঘুমাতে পারি না,আমার একা থাকার অভ্যাস তো তাই ~~ও আচ্ছা বুঝলাম।কিন্তু এখনো তো তুমি আর একা না।এই যে আমি আছি,মানে তোমার সামি। সামি তাতে কি হইছে আপনি নিচে আমি উপরে ঘূমাবো। আচ্ছা ঠিক আছে বুঝলাম।কিন্তু বিয়ের পর তো সামি স্ত্রী এক সাথে ঘুমায়। হুম,এক সাথে তো আছি এই যে একি রুমে আমরা তো আছি ~কে বলে এ পিচ্ছি এ তো দেখি সিয়ানার দাদী। ~~কিছু বললেন? না কিছু না।আচ্ছা শোন না আমার তো নিচে থাকার অভ্যাস নাই,তাই বিছানার এক পাশে তুমি আর অন্য পাশে আমি ঘুমাই? ~~~হিহিহি আমার কাছে তো এ বিছানাটা ছোট হয়ে গেছে. ~এত বড়ো বিছানা সেটাও তোমার কাছে ছোট মনে হচ্ছে? ~~আমি কি ভাবে ঘুমাই জানেন?দাড়ান দেখাচ্ছি। এই এই থাক লাগবে না দেখানো। এ কোন মেয়ে বাবা ।এক পা উত্তলে আর এক পা দক্ষিনে দিয়ে ঘুমায়। ~~বলছি কি পা দুটো তোমার কাছা কাছি রাখে আমিও বিছানায় ঘুমাতে পারতাম। একবার হইছে কি জানেন? আমার বড়ো আপু আমার পাশে ছিলো।ঘুমের ঘোরে এখন যে লাথি মারছি জানি না।আপু বিছানা থেকে পরে গিয়ে ও মা গো ও আল্লাহ ইস বলে চিৎকার করছিলো। ~~আল্লাহ এ মেয়ে বলে কি।এ মেয়ের পাশে ঘুমানোর ইচ্ছা রুচি কোনটা এখন আমার নেই। ~আচ্ছা শোন আমি এমনি বললাম।আমার নিচে ঘুমানোর অভ্যাস আছে।। ~~~কখনো নিচে ঘুমাইছি বলে আমার মনে নাই কিন্তু কি আর করার লাথি খাওয়ার চেয়ে নিচে ঘুমানো অনেক ভালো হবে। ~~আপনার ইচ্ছা আপনি সবটা শুনার পর যদি আমার পাশে ঘুমান তো ঘুমাতে পারেন। ~~না না আমি নিচেতে ঠিক আছি।তুমি বিছানায় ঘুমাও। ~~কিছু বুজি না এ মেয়ে কথা বলে আমার মুচকি মুচকি হাসে।এ ইচ্ছা করে এ সব করছে না তো? ~~না মানে আপনার বাড়ি আপনার ঘড় আপনি বিছানায় ঘুমালে তো আমি বাধ্য দিতে পারবো না। ~~আরে তুমি এ ভাবে বলছো কেন? এখন থেকে তো এ বাড়ি তোমারো। ~~~আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে নিচে ঘুমান। ~~কি আর করার লাথি খাওয়ার চেয়ে নিচে ঘুমানোটা আমার কাছে বেটার।কিন্তু এই শীতে একটা চাদরের উপর থাকবো কেমনে বুজতেছি না। ~~হুম ঠিক আছে তুমি ও ঘুমাও। ~~আচ্ছা একটু উঠে দাড়ান তো? ~কেন আবার কি হলো? না মানে ঐ সালাম করতে ভুলে গেছি তো তাই। ~~ওহ ~হুম দেন এবার টাকা দেন? মানে? মানে সালাম করছি এখন টাকা দিবেন। কিন্তু আমার কাছে তো এখন টাকা নেই। ~ বাসর রাতে বউ পা ছুয়ে সালাম করলে টাকা দিতে হয় এটা আমার জানা ছিলো না। ~ ~~নাই বললে তো হবে না বস,আজকে নগদ কালকে বাকি,টাকা বের করেন। ~~এ সব তুমি কি বলছো,আর বাসর ঘড়ে কেউ টাকা নিয়ে আসে নাকি? "~ ~বুজতেছি না এ মেয়ের কি মাথায় প্রবলেম আছে নাকি।আর মা যে এই মেন্টাল পিচ্ছির সাথে কেন বিয়ে দিলো বুজলাম না। " ~~ও তার মানে আপনি টাকা দিবেন না? ~~আরে আমি এখন টাকা কই পাবো।ধমক দিয়ে বললাম। ~~ধমক দিলে কান্না করবো কিন্তু? ~~আচ্ছা শোন সকালে আমি তোমাক টাকা দিবো প্রমিস, ~~ঠিক আছে মানবো যদি এখন আপনি আমাকে চটপটি খাওয়ান, ~~চটপটি এখন আমি কই পাবো আর আমার কাছে তো টাকা নেই। ~~এই যে আমার কাছে টাকা আছে।আর আমি গাড়িতে আসার সমায় দেখিছি আপনাদের বাড়ির পাশে একটা চটপটির দোকান আছে। " শুনছি নুতুন বউ লজ্জায় মাথা নিচু করে থাকে।আর তুমি আশে পাশে কি আছে এসব দেখছো? ~~ঐ চুপ চলেন এবার চটপটি খেতে যাবো। ~~কিন্তু এত রাতে বাহিরে যাবো কি ভাবে? গেইট এ তো তালা লাগানো। ~~হি হি হি এ বুদ্ধি আমার কাছে আছে।আপনি শুধু আমার সাথে থাকবেন। ঠিক আছে কিন্তু বাহিরে যাবো কি ভাবে? ~দেয়াল টপকে। মানে তুমি....? * Conti.........

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯

পিচ্চি বউ ২০১৯

জুলাই ২২, ২০১৯ 0
লেখকঃSagor Ahmmed Akash আমি আর প্রিয়া অফিস এর জন্য বের হলাম আচ্ছা প্রিয়া আমাকে একটা কথা বলতো প্রিয়াঃহ্যা বলেন কি কথা তুই অফিসে গিয়ে কি করবি বলতো প্রিয়াঃকেনো আমি দেখবো আচ্ছা ভালো।এই মেয়ের সাথে বেসি কথা বলে লাভ নেই। উল্টো নিজেরি বিপদ।আম্মু কি দেখে যে এই পিচ্চি মেয়ে কে বিয়ে করালো আল্লাই ভালো যানে। প্রিয়াঃকিছু বললেন নাকি না আমি আবার কি বলবো তার পর আমরা অফিসে গেলাম প্রিয়াকে আমার কেভিনে নিয়ে গেলাম প্রিয়া প্রিয়াঃহ্যা বলেন আমার একটা মিটিং আছে আমি মিটিংটা শেষ করে আসছি তুই এখানে বস।খবরদার কোথাও যাবি না কিন্তু প্রিয়াঃআচ্ছা ঠিক আছে। আপনি তারাতাড়ি আইসেন আমি মিটিংটা শেষ করে আসবো। তার পর আমি মিটিং রুমে গেলাম। মিটিংটা ছিলো অন্য একটা কম্পানির সাথে ডিল এর জন্য। আমি মিটিং শেষ করে এসে দেখি প্রিয়া রুমে নেই। গেলো কোথায় এই মেয়ে আমি এতো করে বললাম কোথাও না যেতে। আমি আমার কেভিন থেকে বের হয়ে দেখি প্রিয়া আমার অফিস এর এক স্টাফ নাম মিস্টি প্রিয়া সাথে বসে গল্প করতাছে আমি যেতেই আমাদের কম্পানিতে যে মেয়েটি কাজ করতো সে আমাকে সালাম জানায়। প্রিয়া তুই এখানে কি করছিস প্রিয়াঃদেখেন না কি করছি চল আমার সাথে। আমি প্রিয়া কে নিয়ে আমার কেভিনে আসি প্রিয়া তকে না বলেছিলাম কোথাও না যেতে প্রিয়াঃহ্যা বলেছিলেন তো তা হলে গিয়েছিলি কেনো প্রিয়াঃআমি এখানে একা একা বসে কি করবো তাই ভাবলাম একটু বেড় হই। আর বেড় হয়ে পাসের কেভিনে দেখি একটা মেয়ে কাজ করতাছে তাই আমি অর কাছে যাই। যানেন মিস্টি আপু না অনেক ভালো হ্যা আমি যানি প্রিয়াঃএই এপনি যানেন কি করে আপনি কি অফিসে এসে এগুলো করেন। আমি আজি আম্মু কে বলে দিবো যে আপনার অন্য মেয়েদের সাথে চক্কর আছে প্রিয়া কি অবল তাবল বকছো তুমার মাথা ঠিক আছে প্রিয়াঃহ্যা আমার মাথা ঠিকি আছে। প্রিয়া মিস্টি আমাদের অফিসে কাজ করে। আর একজন লোক কাজ করলে সে কেমন তা কি যানা যায় না প্রিয়াঃহ্যা জানা জায় তা হলে এগুলো বলছো কেনো।আচ্ছা বাদ দাও এগুলো চলো বাসায় যাবো প্রিয়াঃনা আমি এখুনি বাসায় যাবো না কেনো বাসায় যাবি না কেনো প্রিয়াঃআমি সব কিছু দেখবো আচ্ছা চল আমার সাথে। তার পর পিয়ে কে সব কিছু দেখালাম এবার খুসি প্রিয়াঃহ্যা অনেক খুসি এবার তা হলে বাসায় যাই প্রিয়াঃহ্যা চলেন তার পর আমি আর প্রিয়া অফিস থেকে বেড় হলাম বাসায় আসার সময় প্রিয়াঃএই গাড়ি থামান কেনো আবার কি হলো প্রিয়াঃআমি ফুস্কা খাবো। ঠিক আছে চলো প্রিয়া কে নিয়ে একটা ফুস্কা এর দুকানে গেলাম আমি দোকানদার কে বললাম এক প্লেট ভুস্কা দিয়েন তো প্রিয়াঃএক প্লেট কেনো আপনি খাবেন না না আমি এই আবি যাবি খাই না প্রিয়াঃআপনি ফুস্কা কে আবি যাবি বলছেন কেনো তা হলে কি বলবো প্রিয়াঃফুস্কা কে ফুস্কা বলবেন দোকানদার ফুস্কা দিয়া গেলো প্রিয়া খাওয়া শুরু করলো আমি বুঝি না মেয়েরা এই ফুস্কা কে যে কি পায়। একবার যদি কাছে পায় তা হলে যেনো অমৃত পেয়ে গেলো প্রিয়াঃকি হলো এই ভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো আমার কি পেট খারাপ হবে নাকি তাকিয়ে থাকলে কি অএট খারাপ হয় নাকি প্রিয়াঃহ্যা হয় তাকিয়ে থাক্লেও যে পেট খারাপ হয় সেটা আমি আজ প্রথম সুনলাম এই মেয়ের কাছ থেকে যে আরো কতো কি শুনতে হবে তা কে যানে প্রিয়ার ফুস্কা খাওয়া শেষে বিল দিয়ে এবার তা হলে বাসায় যাই প্রিয়াঃনা আগে আপনি চকলেট নিয়ে আসেন তার পির যাবো। আবার চকলেট কেনো প্রিয়াঃএই আপনি এতো কিপটা কেনো। আমার শশুরের তো কোনো কিছুর অভাব নেই তা হলে আপনি এতো কিপ্টামকি করছেন কেনো আমি কোথায় কিপ্টামকি করলাম প্রিয়াঃএই আমি চকলেট আনতে বলছি তাই পারছেন না আচ্ছা ঠিক আছে এনে দিচ্ছি তুমি গাড়িতে গিয়ে বসো প্রিয়া গাড়িতে বসলো আর আমি প্রিয়ার জন্য চকলেট আনতে গেলাম তার পর প্রিয়া কে চকলেট এনে দিলাম এবার তা হলে চলি তা কি আরো কিছু লাগবে প্রিয়া ঃহ্যা চলেন আর কিছু লাগবে না আমি গাড়ি ড্রাইভ করছি আর প্রিয়া চক্লেট খাচ্ছে। তার পর আমরা বাসায় আসলাম বায়াস এসে কলিং বেল দিতেই আম্মু দরজা খুলে দিলো প্রিয়া আম্মু কে জরিয়ে ধরলো আম্মুঃপ্রিয়া মা কেমন দেখলি অফিস প্রিয়াঃভালো আম্মু আম্মুঃঠিক আছে যা গিয়ে ফ্রস হয়ে নে আম্মু ফ্রস হয়ে নিবো মানে। আম্মুঃএক্টু পর প্রিয়াদের বাসায় যেতে হবে প্রিয়ার আম্মু ফো ন দিয়ে ছিলো কেন্তু কেনো যেতে হবে আম্মু আম্মুঃএমনি যেতে বলেছে তকে আর প্রিয়া কে আচ্ছা আম্মু ঠিক আছে তার পর আমি গিয়ে ফ্রেস হলাম ফ্রেস হয়ে বিছানায় একটু শুয়ে পরেছি। এমন সময় প্রিয়া রুমে এসে আমার উপর শুয়ে পরলো চলবে.... কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন সারা পেলে পরবর্তী পর্ব দিবো ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯

সুন্দরী মেয়ে ২০১৯

জুলাই ২০, ২০১৯ 0
 সুন্দরী মেয়ে ২০১৯
  লেখকঃ মোঃ আসাদ রহমান কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ এক সুন্দরী মেয়ে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়ছে ৷ তার প্রোফাইলের পিকচারটা জোশ ছিল ৷ ভাল করে লক্ষ্য করলাম সে আমার কলেজের ম্যাডাম ৷ ওনার রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করলাম ৷ উনি টেক্সট করে রেখেছে ৷ লিখছে,  ___আপনার লেখা প্রতিটা গল্প আমার ভাললাগে ৷ অসাধারণ লিখেন!  আপনার গল্পের প্রেমে পড়ে গেছি ৷ জানিনা আপনার প্রেমে পড়বো কিনা!  আমি খুশিতে গদগদ হয়ে রিপ্লাই দিলাম, ___ধন্যবাদ গল্প পড়ার জন্য!  আর আমিও আপনার মত এত সুন্দরীর অপেক্ষায় আছি!  উনি ফের টেক্সট করলো, ___দেখা যাক ৷ আপনার প্রেমে পড়তে পারি কিনা! ___আমার মত ভাল ছেলেদের কপালে প্রেম নাই, আগে থেকেই জানি ৷ তবুও আশায় আছি কারো জন্য!  ____বুঝলাম, কোন ক্লাসে পড়েন আপনি? ___ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার!  ___কোন কলেজ?  ___পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়!  ___আশ্চর্য আমি তো এই কলেজের ইংলিশ টিচার হয়ে এই বছর যোগদান করেছি!  ____ম্যাডাম আমি আপনাকে চিনি!  ____চিনো? বাহ! তার মানে ছাত্রের সাথে কথা বলছিলাম!  ___হুম, আর চিনি বলেই রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করছি ৷ প্রোফাইল পিকচার জোশ হয়েছে ম্যাডাম!  ____থ্যাংকস! কি করো এখন?  ___মুড়ি খাই . ১০ মিনিট হয়ে গেল ম্যাডামের রিপ্লাই নাই ৷ পরে নিজেই টেক্সট করতে গিয়ে দেখি ব্লকড মেরে দিছে!  কিছুই বুঝলাম না ৷ মুড়ি খাওয়ার কথা বলাতে উনি ব্লকড করলো?  মুড়ি কি এত নিম্নমানের খাবার হয়ে গেল? হায়রে ম্যাডাম 😭

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৯

বেঁচে থাকুক ভালোবাসা পুরাটাই বাস্তব

জুন ০৩, ২০১৯ 0
বেঁচে থাকুক ভালোবাসা পুরাটাই বাস্তব
বেঁচে থাকুক ভালোবাসা পুরাটাই বাস্তব লেখাঃ #আসাদ বাবা কাঁদছো কেন? -কই কাঁদছি নাতো। পাগল ছেলে। - বাবা তোমার কান্না দেখে আমারো খুব কান্না পাচ্ছে, বলনা বাবা কি হয়েছে? স্পর্শ কাঁদতে কাঁদতে ছেলেকে বলল, আজ তার জীবনের একটা বিশেষ দিন, এই দিনেই তার ভালোবাসার মানুষটি তাকে চিরোবিদায় দিয়ে চলে যায়। সে তার ছেলেকে বলতে শুরু করল। তখন খুব ছোটো আমি। বিয়ে কি জিনিশ বুঝতামনা। বয়স ৮/৯ হবে। আমার বাবা তার ছোট ভাইয়ের মেয়ের সাথে আমার বিয়ে ঠিক করলেন। তখন মেয়েটিও অনেক ছোটো। সবে আধো আধো কথা বলা শিখেছে। ওই মেয়ের সাথে আমার বিয়ে হলো। কাজি সাহেব আমাকে কবুল বলতে বললেই আমি। এক নিশ্বাসে ৩বার কবুল বলে ফেললাম। তখন বুঝতামনা এটার মানে কি। মেয়েটি মানে যার সাথে আমার বিয়ে হল নিহাল, তার কবুল বলতে অনেক সময় লেগেছিল। কিছুতেই বলতে পারছিলনা পরে নিহালের নানু মেয়েটিকে কবুল বলানোর জন্য অনেক কিছু করল। তারপর সে আধো আধো বোলে কবুল বলে ছিল। এরপর থেকে পাড়ার সবাই আমাকে নিহালের জামাই বলেই ডাকতো। আমার নামটা আস্তে আস্তে অকেজো হয়ে গেল। ও যেহেতু আমার চাচার মেয়ে সেহেতু দুই পরিবার একই সাথে থাকতাম। নিহালের সাথে খেলা খেলতাম। ওর সাথে খেলা খেলেই আমার পুরাটা সময় পার হয়ে যেতো। আস্তে আস্তে দুজনেই বড় হতে লাগলাম। নিহালকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হল। আর আমি স্কুলে যাবার আগে অকেও স্কুলে দিয়ে আসতাম। ও আমার সাথে ছাড়া যেতো না। এমনকি আমার হাতে ছাড়া খেতো না পর্যন্ত। এই নিয়ে পাড়ার মানুষেরা ঠাট্টা তামাসা করতো। নিহাল যখন ক্লা ফাইভে আমি তখন ক্লাস এইটে। আস্তে আস্তে ও আমার থেকে দূরে সরে যেতে লাগল। আমার সাথে খেলতনা। স্কুলে যেতোনা। এমনকি আমি ওর সামনে থাকলে খেতও না। এর বেশ কিছুদিন পর ওরা শহরে চলে গেল। আর আমরা গ্রামেই রয়ে গেলাম। আমি প্রায় কিছুদিন পর পরি ওদের বাসায় যেতাম। ও আমাকে দেখে দরজা লাগিয়ে রাখতো। যতক্ষণ আমি না যেতাম ততক্ষণ দরজা খুলতোনা। তখন আমার খুব কষ্ট হতো। জানিনা কেন? হয়ত ওকে আমি ভালোবেসে ফেলেছিলাম। তখন আমি বুঝতাম ভালোবাসা কি? বউ কি? এরপর আমার আর লেখা পড়া হলোনা ক্লাস নাইনেই ইতি টেনে দিলাম। কেননা ওকে ছাড়া আমার স্কুলে যেতে ভালোলাগত না। কিছুইনা। এভাবেই দু বছর কেটে গেল। আমি নিহাল কে চিঠি লিখতাম। চিঠির উত্তর কখনো পাইনি। সেযুগে এতো ফোন ছিলনা। তাই নানান ছন্দে ওকে আমি চিঠি লিখতাম। ওর উত্তর না পেয়ে আমি প্রায় পাগলের মতো হয়ে গেলাম। আবার ওর কাছে ছুটে গেলাম ও আমার আসার কথা শুনেই এলাকার কারো একজনের বাসায় লুকিয়ে পড়ল। সারাদিনেও ওর দেখা পেলাম না। এরপর নিহালের বাবা আর আমার বাবা যুক্তি করে আমাকে বাহিরে পাঠিয়ে দিলেন। তারা মনে করলেন বাহির থেকে ফিরে এলে হয়ত আমাদের সম্পর্ক্টা ঠিক হয়ে যাবে। আর নিহাল ও বুঝতে পাড়বে। যে আমি ওর জামাই। আমি বিদেশ থেকে ৩বছরের মাথায় চলে এলাম। ওর জন্য অনেক গহনা এনে ছিলাম। ভাবলাম ওকে এবার বউ করে ঘরে নিয়ে যাবো। ছোট্ট একটা সংসার পাতবো। যেদিন আমি ওর সাথে দেখা করার জন্য ওদের এলাকাতে মানে শহরে ছুটে এলাম। ও আমার সাথে দেখা করতে চাইলো না। কিন্তু সবার জোরাজুরিতে দেখা করেছিল। আমি ওকে সব কিছু দিলাম ওর জন্য যা যা এনেছিলাম। তখন ও আমাকে বলল, আপনি আরো কয়েকবছর বিদেশ করে আসুন। তাহলে আমার এস. এস. সি পরিক্ষাটাও হয়ে যাবে। আমি ওর কথামতো আবারো সৌদিআরব চলে আসলাম। ওদের এলাকার একজনের সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল। যার সাথে কথা হয় সে নিহালের মামাতো ভাই। ও আমাকে জানালো নিহাল ওর ভাইয়ের বন্ধু আরিয়ানের সাথে একটা সম্পর্কে জড়িয়েছে। আরিয়ান ওর ভাইয়ের সাথে ওদের বাসায় সন্ধ্যায় পড়তে আসতো। একথা আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি। আমি ভেবেছিলাম হয়ত মিথ্যে বলছে। কিন্তু যখন আমি আবার দেশে ফিরে আসলাম। তখন আমি নিজেই জানতে পারলাম। আমি ওর আব্বু, আম্মু, মামা, মামির হাত ধরে খুব কেঁদেছিলাম। এর দুদিন পর নিহালের আব্বু মানে আমার চাচা নিহাল কে একরকম জোর করেই আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিল। ও আমার বাসায় কয়েকমাস ছিল। কিন্তু আমাদের ভিতরে কখনো স্বামী, স্ত্রীরির সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। এর ভিতরে নিহাল যেই ছেলেটির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিল। ও মাঝে মাঝে আসতো। আর চিঠি দিয়ে যেতো । আরিয়ান মানে নিহালের প্রেমিক আমার ভাবিকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিয়েছিল। সে এসবের কিছুই জানায়নি। আমার পরিবারকে। একদিন একটা চিঠি আমি পেয়েছিলাম। চিঠিটা পরে সেদিন নিহালের হাত চেপে ধরে কেঁদে বলেছিলাম। কখনো আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। আমি বাঁচতা পারব না। যেদিন ওর চিঠির কথা জানাজানি হয়ে গেল। সেদিন ও ওর ওর্না দিয়ে গলায় ফাঁস দিতে গেছিল। আমার আম্মু দেখে ফেলায় সে যাত্রায় ওকে আটকায়। তখন আমার আম্মু ওকে ওর বাসায় পাঠিয়ে দিলো। যদি ও একটা কিছু অঘটন ঘটিয়ে ফেলে, এই ভয়ে। ও এসেই আরিয়ান কে বিয়ে করে নিয়েছিল। এই কথা ওর মা অর্থাৎ আমার চাচি সব জানতো। যখন বাড়ি সুদ্ধ লোক জানাজানি হয়ে গেল। তখন নিহাল আর আরিয়ান পালিয়ে গেল। ওদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করে ছিল আমার চাচি। খুঁজতে খুঁজত দুদিন পর দুজনকে একসাথে পেয়েছিল নিহালের এক বন্ধুর বাসায়। দুজনকে এনে খুব মেড়েছিল। এতোকিছুর পরেও আমি ওর সাথে দেখা করতে যেতাম। ওকে না দেখে থাকতে পারতাম না দূর থেকেই ওকে দেখতাম। আমি একবার ওর সামনাসামনি এসে কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম। তুমি আমার সাথে চল, তোমার একটা বিয়ে হয়েছেতো কি হয়েছে। তোমার যদি ১০টাও বিয়ে হয় তুমি যদি ১০ বাচ্চার মা ও হয়ে যাও তবুও আমি তোমাকে মেনে নিবো। সে আর কখনো আসেনি। আমাকেও ওর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মা আমার অন্য জাগায় বিয়ে দিয়ে দিল। মায়ের মুখের দিকে চেয়ে বিয়ে করে নিলাম। আমার বউকে আমি বাসর রাতেই আমার সব কথা বলেছিলাম। ও বলেছিলো আমি আপনার পাশে আছি। অই বউ ও আমায় কথা দিয়ে কথা রাখেনি। আমাকে ছেড়ে চলেগেল না ফেরার দেশে। আমার এক ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়ে। ওর সাথে বিয়ে হবার পরেও আমি নিহালকেই ভালোবাসতাম। নিহালের জায়গাটা আমি আজও কাউকে দিতে পারিনি। সেই আগের মতোই ওর জন্য তুলে রেখেছি। এখন শুনেছি ওকে নাকি ছেলেটা অনেক তরচার করে। ও ওর সাথে ভালো নেই। ও হয়ত ওর নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছে। আমি জানিনা কাওকে কাঁদিয়ে কেউ সুখি হতে পারে কিনা। তাই হয়ত ও ও পারেনি। আমি এখনো ওর পথ চেয়ে আছি। হয়ত ও আসবে হয়ত কখনো আসবেনা লজ্জায় ঘৃনায়। আজকের এই দিনেই ও আমায় ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমার ছেলে আমার চোখের জল মুছিয়ে দিতে দিতে বলল, চিন্তা করনা বাবা আমি তোমায় ছেড়ে কখনো যাবোনা। ছেলেটিও কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জড়িয়ে ধরল। বিঃ দ্রঃ গল্পের চরিত্রের নাম গুলো ছাড়া পুরাটাই বাস্তব। তাই আমি আমার কল্পনা শক্তি দিয়ে সেভাবে গুছিয়ে লিখতে পাড়লাম না। লেখাতে বানান ভুল হলে মাফ করবেন। সমাপ্ত