বাহিরে খুব জোরে বাতাস বইছে! আকাশটা বার বার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে সাথে খুব জোরে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে, মনে হয় বৃষ্টি নামবে। কিন্তু আবির ঘুমিয়েই চলেছে।
,,,,,,,,,,
এইদিকে সৌরভ বার বার আবির কে ফোন করেই চলেছে। আবির দিব্বি ঘুমিয়ে চলেছে। ঘুমের মাঝেই ফোনটা একবার রিসিভড করলো আবির।
ওপাশ থেকে সৌরভ.....
.
-- কিরে ঘুমাইতাছোস এখনো??
.
-- উমমমম!!
.
-- আবে সালা উঠ জলদি। তোর আসার কথা ছিলো কখন?
.
-- উমমমম কোথায়?
.
-- দেখ মেজাজ টা গরম করিসনা, আবহাওয়াটা ঠান্ডা বলে এখনো আমি ঠান্ডা হয়ে আছি ১ ঘন্টার ভেতর তোকে যেনো আমি আমার বাসায় দেখি।
...........
আবির ঘুমের মাঝে ভুলেই গেছে তার বন্ধুর বাড়িতে তার পূজা দেখার নিমন্ত্রণ আছে। আবির আর সৌরভ দু'জন খুব ভালো বন্ধু। তাদের বাড়ির দূরত্বটা এ মহল্লা থেকে ওই মহল্লা যদিও খানিকটা দূরের পথ। ওদের অনার্স ২য় বর্ষ পরিক্ষাটা শেষ হয়েছে সবে মাত্র!! তাই দু'জনের চিন্তা ভাবনা এইবার পূজোয় আর ঈদে দুজন খুব মজা করবে। পূজা আর ঈদ বলতে হয়ত বুঝেননি, আসলে আবির মুসলিম আর সৌরভ হিন্দু। কিন্তু তাদের দুজনের বন্ধুত্ব এতটাই গাড়ো কেউ বলবেই না দুজন পৃথক ধর্মের।
.....
যাই হোক আবির এখনো ঘুমোচ্ছো, সৌরভ আবারো কল করেই চলেছে......
.
-- এ কুত্তা তুই উঠবি নাকি আমাকে যাইতে হবে!!
.
-- দোস্ত একটু ঘুমাই নাহ প্লিজ!!
.
-- ওকে ঘুমা তাহলে বাট পরে কিন্তু আবার দোষ দিবিনা।
.
-- মানে কি?
.
-- বুইজা লো বেটা না বুজলে ঘুমা 😁😁।
.
-- তার মানে লেডিস আইছে মামা 😀😀😆।
.
-- তা তো বলবো না আইলে আই নইলে ঘুমা।
.
-- রাগ করস কিল্লাই বন্ধু আইতাছি খাড়া।
.....
আবির ঘুম থেকে জলদি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নেই। বাহিরের আবহাওয়াটাও কিছুটা শান্ত মনে হচ্ছে। এটাই বেরোনোর জন্য পারফেক্ট সময়।
আবির নিল একটা পাঞ্জাবি পড়েছে, ব্যাগে করে কিছু জামা কাপড় নিয়ে বেরোতেই আবিরের মা জানতে চাইলো....
-- কোথায় যাবি আবির?
.
-- তোমাকে বলেছিলামনা মা এবার আমি আর সৌরভ পূজা আর ঈদে অনেক আনন্দ করবো।
.
-- তা তো বলেছিলি কিন্তু এখন কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি।
.
-- মা মা আজ থেকে পূজা শুরু তাই আমি সৌরভের বাসায় যাচ্ছি, বাসায় ফিরতে তিন চার দিন লাগতে পারে।
.
-- আচ্ছা যা কিন্তু কারোর সাথে বেয়াদবি করবিনা।
.
-- ওকে ওকে এখন আসি বাই।
.....
আবির বাইক নিয়ে ছুটে চলেছে,,, কিছু সময় পর আবির হাজির সৌরভের বাসায়। দুজনে একটু ফাজলামি করার পর বেরিয়ে পড়লো মন্দিরের উদ্দেশ্যে। ১২ টা পার হয়ে গেছে একটু পরেই আরতি শুরু হবে। সৌরভের বাসা থেকে খুব বেশি দূরে না মন্দির, মাত্র দুই মিনিট সময় লাগবে।
মন্দিরে এসেই আবিরের নজর কেড়ে নেই এক নিল পরি।
হয়ত সে নিল পরি নাহ কিন্তু নিল শাড়ীতে বেশ মানিয়েছে তাকে। আবির মনে মনে ভাবছে,, নিল পাঞ্জাবি+নিল শাড়ী আহা।
কিন্তু মেয়েটির নামটি অজানা তাই ভালো লাগছেনা আবিরের।
-- সোরভ!!
.
-- বল আবির।
.
-- I think I fall in love.
.
-- কি বলিস!! congratulation. তা কে সেই রমনী যার রুপে মুগ্ধ হয়েছে আবিরের মরুভূমি!!
.
-- তোর সামনে তাকিয়ে দেখ নিল শাড়ী,নিল চুড়ি সাথে কালো টিপ উহহহ I am fidaa.
.
-- আরে থাম থাম সালা নিজেই মরবি আমারেই মারবি। ওর বাবা বড়ো পুলিশ অফিসার আর ও তোর ধর্মেরও না।
.
-- তাতে কি ভালবাসা কি জাত ধর্ম দেখে হয় নাকি??
.
-- তুই সালা পাগল হয়ে গেছিস, এখান থেকে চল ভাই নয়তো মরবি।
.
-- Already I am death রে পাগলা।
.
-- আবির তুই বোঝার চেষ্টা কর, অন্য মেয়েকে পছন্দ কর আমার কোন আপত্তি নাই কিন্তু পূজাকে প্লিজ ছেড়ে দে।
.
-- আহ পূজা what a sweet name. I love puja wooo.
.
-- আবির একটু বোঝার চেষ্টা কর।
.
-- কি রে সালা তুই কোথায় সহযোগিতা করবি নয়ত কি এসব!! এইই তুই আবার তলে তলে....
.
-- ধুর কি সব বলিস। আসলে আমি চাইনা তোর কোন ক্ষতি হোক। সত্যিই বলছি ওদের পরিবার খুব Danger.
.
-- ভাই ছাড়তো ওসব, এইটা বল একে তো আগে কখনো দেখিনি।
.
-- ওরা পরিবার সহ চট্রগ্রাম থাকে, পূজার ছুটিতে বেড়াতে এসেছে।
.
-- ওহহ,,,, আচ্ছা দোস্ত জয়+পূজা কেমন হবে??
.
-- জয় আবার কে??
.
-- আমি আবার কে!! নাহ অন্য একটা নাম দেনা ভাই।
.
-- আবির নামটাই ভালো...
.
-- যদি ধরে ফেলে আমি অন্য ধর্মের।
.
-- ব্যাপার না আমি আছি তো।
.
-- এই না হলে বন্ধু!! Love you yaar.
.
-- হয়েছে এত ভালবাসা দেখাতে হবেনা। এখন লক্ষ্য রাখ ও কি তোর দিকে বার বার তাকাচ্ছে কি নাহ!!
.
-- ভাই মনে হয় আমার সময় হয়ে এসেছে।
.
-- কিসের সময়??
.
-- আবির+পূজা লিখার!!
.
-- পাগল!!
.
-- ভাই পূজার সাথে কথা বলতে হবে, দেখনা কত মায়াবি ভাবে দেখছে আমায়। আমি মরে যাবো রে ভাই।
.
-- আবে সালা মরতে তো দেবোনা তোকে কারন তোকে যে অনেক ভালবাসি রে পাগল।
.
-- তাহলে চল নাহ ভাই একটু কথা বলি।
.
-- আরতি টা শেষ হতে দে, এখন কথা বললে সবার চোখে পড়বে।
.
-- ওকে যা ভালো মনে করিস.....
,,,,,,
আরতি চলছে আর এদিকে পূজা আবিরের চোখে চোখে কথা। আবির সুযোগ বুঝে একবার চোখ টিপলো মানে যেটাকে আমরা চোখ মারা বলি।
পূজা কিছু একটা বলে মুচকি একটু হাঁসি দিলো। আবির সেই কিছু একটা বলা বুঝে নিয়েছে। পূজা তাকে দুষ্টু বলেই মুচকি হেঁসেছে।
আবির ফিদা বলেই সৌরভের ঘাড়ে মাথাটা ঠেকিয়ে দিলো.............
to be continue.......md Asad Rahman
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন