শিক্ষণীয় গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষণীয় গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

Bangla Love Story | Bondhuttota Valobashar part (1)

ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ 0
কিরে কই তুই কখন থেকে দাড়িয়ে আছি তুই কি আসবি না???? না আসলেও বলে দে আমি বাসায় চলে যাবো আমার ভালো লাগছে না সেই বিশ মিনিট আগে কল দিয়েছি বললি বের হয়েছিস। আর এখনো তোর আসা হলো না???? - দোস্ত আসছি থাম অনেক জ্যাম চলেই আসছি আর একটু থাম যাস না। - দুই মিনিট ওকে? আর বেশি টাইম লাগলে চলে যাবো রাখ ফোন। শীতের সকাল। শীতে সকালে অনেক ঘুম আসে আর এই সময় পেত্নিটা কল দিয়ে বাইরে সাইকেল চালানোর জন্য ডাকছে। যেতে ও ইচ্ছা করছে না এই ঠান্ডায় কম্বল জরিয়ে শুয়ে থাকতেই সবার ভালো লাগে। কেনো যে রাতে কথা দিয়েছিলাম ভোরে ঘুরতে বের হবো ধুর। কাপতে কাপতে একটা গরম কাপড় পরে সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পড়লাম গান শুনতে শুনতে সাইকেল চালাচ্ছি যেইদিকেই তাকেই সেইদিকেই কুয়াশা সব মানুষ হয়তো এখনো ঘুমাচ্ছে। সাইকেল চালিয়ে মিশুর কাছে যাচ্ছি। কারণ আমি জানি সেই কথায় আসে। আমরা দুইজনই গ্রামে থাকি আর গ্রামে ছোট্ট একটা নদী আসে আর পাশে মাঠ সেই মাঠে তাকে বলেছিলাম দারিয়ে থাকতে। ওর কাছে গিয়ে দেখি নদির দিকে তাকিয়ে কি যেনো একটা ভাবছে। - কি ভাবছেন মহারানী জানতে পারি??? - আমি ভাবছি একটা কুত্তাকে যদি এই পানি তে ফেলা যায় তার কি অবস্থা হবে??? - কি আর হবে গোসল করে উঠে চলে আসবে। - ওহ আচ্ছা তাই তাহলে যা দেখি। - আমি কুত্তা নাকি আমি যাবো এমনি ঠান্ডায় কাপছি তার মধ্যে খোলামেলা জায়গা ঠান্ডা হাওয়া হচ্ছে। - তো এইখানে আমি তো একটা কুত্তায় দেখতে পাচ্ছি মনে হচ্ছে লাথি মেরে এই পানি তে ফেলে দেয় তাহলে শান্তি পেতাম। - হয়েছে???? কিসের জন্য আমার ঘুমটা ভাঙিয়ে এইখানে ডাকলেন বলবেন??? - তোর সাথে প্রেম করবো তাই ডাকছি কুত্তা। - না না আপনার সাথে প্রেম করার চেয়ে আমাদের গ্রামের রোকেয়া কে করা আরো ভালো হবে। - কিহহহহহহ ওই পাগলীর সাথে আমার তুলনা দিচ্ছি কুত্তা তোকে আজকে খায়ছি। তোর প্রেমের গুষ্টি। ভাগো পেত্নি খেপছে। এইটা বলেই সাইকেল নিয়ে অনেক দিলাম টান পিছে পিছে মিশুও আসছে। কিন্তু আমার সাথে পারছে না কিন্তু তার মুখ আর বন্ধ হচ্ছে না চিল্লায় যাচ্ছেই গরুর মতো। ওই আমাক্র ধরার জন্য পিছে পিছে আসছে আর আমি গান শুনতে শুনতে সাইকেল চালাচ্ছি। কিছুটা গরম অনুভব করছি অনেক রাস্তা সাইকেল চালিয়েছি সাইকেলটা থামিয়ে পিছে তাকিয়ে দেখি মিশু নাই। আজব পেত্নি টা কই হারিয়ে গেলো??? এই পেত্নির জালায় আর থাকতে পারবো না। এই এলাকা টা চিনি ও না নতুন জায়গা মনে হচ্ছে অনেক দুরে চলে আসছি কুয়াশায় তখন কিছু দেখা যাচ্ছিলো না। এখন কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। যেই রাস্তা দিয়ে আসছিলাম ওই রাস্তা দিয়েই মিশুকে খুজতে খুজতে যাচ্ছি। তাকে ফোন করলাম ফোন ও অফ পাচ্ছি এই এলাকায় কিছু হয়ে গেলো নাকি বুজতেও পারছি না কিছুটা সামনে যেতে একটা মেয়ের আওয়াজ পেলাম সাথে একটা ছেলের খুব চিল্লিয়ে কথা বলছে কথা শুনেই বুজে গেছি এইটা মিশু। আরও কাছে গেলাম দেখি একটা ছেলে তাকে জালাচ্ছে। আমি - কি সমস্যা ভাই????? অচেনা ছেলেটি - তোর কিবে??? যেইখানে যাচ্ছিলি সেইখানে যা। - দেখো ভাই ভদ্র ভাবে কথা বলো একটা মেয়ের সাথে রাস্তায় কি হচ্ছে????? - তুই যাবি নাকি হাত পা ভেঙে দিবো। মিশু - দেখ আমি এইদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম এতো কুয়াশায় দেখতে পায়নি ওর সাথে লেগে গেছে। আমি সরি বলছি আমাকে থাপ্পড় মারছে। ( মিশু কাদছে) যতো হোক ছোট থেকেই সুবাই যানে মিশুর কান্না আমি সহ্য করতে পারি না। ছেলেটাকে দিলাম এক লাথি মাটিতে পরে গেলো। সামনে একটা বাশ ছিলো সেইটা দিয়ে তার হাতে পায়ে মারছিলাম রাস্তায় কোনো মানুষ নাই। অনেক মারার পর মিশু বাধা দিলো। আমি - দেখ ছোট ভাই অনেক বড় জায়গায় তুই হাত দিয়েছিস আমার আজকে ছেড়ে দিলাম ভালো থাক। আমি চলে আসছিলাম মিশু ও সাথে আসলো দুইজন সাইকেল চালাচ্ছি কারও মুখে কোনো কথা নাই। মিশু - আচ্ছা এতো রেগে গেছিলি কেনো এতো মারলি কেনো বেচারা উঠতে পারবে না বিছানা থেকে অনেকদিন ইস। - চুপ পিচ্চিদের মতো কাদছিলি কেনো?? ছেলে হয়েছে তো কি হয়েছে তুই একটা থাপ্পড় মারতে পারলি না?? আর আমাকে বলিস আমাকে মেরে ফেলবি???? - ভয় লাগছিল যদি আরও বেশি কিছু করে দিতো। আর ওইতো আমাকে থাপ্পড় মারেনি আমার সাথে চিল্লায় কথা বলছিলো আমার রাগ উঠছিলো কিছু করতে পারছিলাম না তাই নাটক করলাম তোর সাথে। - মানে এমনি এমনি ছেলেটাকে এতো মারলাম??? - এমনি কেনো ভালো করছিস মারছিস। তুই না আসলে আমিই মেরে দিতাম মারবো মারবো ভাবছিলাম তুই চলে আসছিস। - অরে আমার গুন্ডিরে চল বাসায় এইগুলো বিষয়ে বাসায় কথা বলবি না ওকে?? - হুম আচ্ছা। মিশুকে নিয়ে চলে আসলাম ওই ওর বাসায় চলে গেলো আমি আমার বাসায়। এই মেয়ের জন্য কতো ছেলেকে মারছি ছোট থেকে আল্লাহ ভালো জানে। ছোট থাকতে যখন স্কুলে পড়তাম তখন তাকে একটা ছেলে আই লাভ ইউ বলছিলো মিশু দিয়েছিলো একটা থাপ্পড় বসায়। তখন ছেলেটাও তাকে মেরে দেয় আমি সামনেই ছিলাম সেদিন ছেলেটাকে মারছিলাম অনেক সেদিন থেকেই শুরু মিশুকে কেও কিছু বললে মাথা ঠিক থাকে না। কেনো ঠিক থাকে না এইটাও জানি না। আপনারা ভাব্বেন আমি হয়তো তাকে ভালোবাসি কিন্তু তা না, ওর প্রতি ভালবাসা আমার একটুও নাই এগুলো বিষয়ে কখনো ভাবিনি। তাকে শুধু ভালো বন্ধু ভাবি। বাসায় এসে ঘুমানোর আর ইচ্ছা হলো না, নাস্তা করে টিভি দেখছিলাম শুয়ে শুয়ে। বাইরে রোদ ও ওঠেনি যে বাইরে যাবো। কিন্তু শীতকালটা আমার অনেক ভালো লাগে গরমের চেয়ে। কিছু করার নাই একা একা খারাপ লাগছে কিজে করি এইদিকে মিশুও কল ধরছে না মনে হয়ে বেস্ত আছে। কিছু করার নাই যখন বসে বসে গেম খেলি। ( আপনারাও খেলেন খেলা হলে আবার আসবেন) to be continued................................

রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯

মিস্টার ইয়ে

আগস্ট ১৮, ২০১৯ 0
বৃষ্টি হচ্ছে সারাদিন। আজ আমার জরুরি কাজ আছে। পাত্রী দেখতে যাব। বাপের বন্ধুর মেয়ে। ট্রেনের টিকিট কাটাও হয়ে গেছে। ভিজেটিজে ট্রেনে উঠলাম। ট্রেনে উঠেই প্রথমে খেয়াল করি আমার পাশের সিটে কে? মেয়ে হলে তো কথাই নাই। ভাগ্য কখনোই সুপ্রসন্ন হয়না। আজ মনে হয় হয়েছে। পাশে শ্যামলাবতী এক মেয়ে। আমার সিটে বসে আছে। . - এক্সকিউজ মি, সিটটা আমার। - আপনি এখানে বসেন প্লিজ। জানালার সিট আমার পছন্দ না। মেয়ের এই কথা শুনে তাজ্জব হয়ে গেলাম। কারো যে জানালার সিট অপছন্দ হতে পারে এই প্রথম শুনলাম। যাই হোক, আমি জানালার সিটেই বসলাম। . ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। আকাশে কালো মেঘ আর বৃষ্টি। দুপুরেই পরিবেশ অন্ধকার হয়ে গেছে। পাশে অপরিচিত মেয়ে থাকলে আমার অস্বস্তি লাগে। মেয়েটা যেন সেটা বুঝে ফেলেই বলল, - আপনার কি অসুবিধা হচ্ছে? - মোটেও না। - দেখেতো তাই মনে হচ্ছে। কেমন যেন জড়সড় হয়ে বসে আছেন। - না মানে ইয়ে ঠিকই আছি। - নাম কি আপনার? - তনয়। আপনার? - যা ধরা যায় না। - মানে? - অধরা। অধরা আমার নাম। - ওহ আচ্ছা। - তা কোথায় যাচ্ছেন? - মেয়ে দেখতে। ইয়ে মানে না, একটা কাজে আরকি! - হিহিহি! সত্য কথা মুখ ফসকে বের হয়ে যায়। তা পাত্রী দেখতে যাচ্ছেন ভাল তো। - হ্যাঁ। বাবার বন্ধুর মেয়ে। অনার্স শেষ করেছে সবে। মেঘলা মেয়ের নাম। - কখনো প্রেম করেছেন? - নাহ। আপনি? - হ্যাঁ করছি তো। এখন করছি আপনার সাথে। - হাহাহা। আপনি খুব ফাজলামো করতে পারেন। - ফাজলামি করি। কিন্তু রাগও আছে সেইরকম। জানালাটা লাগিয়ে দেন তো। বৃষ্টির ঝাপটা আসছে। . আমি জানালা লাগিয়ে দিয়ে বললাম, - বৃষ্টি পছন্দ না? - পছন্দ কিন্তু সবসময় না। - কেন? - জানিনা। বৃষ্টির সময় আমার খুব গান গাইতে ইচ্ছা করে। - ওয়াও শোনান একটা। - শোনাব। তবে এখন না। বিয়ের পর। - মানে? - মানে বুঝেন না? আপনার সাথে বিয়ের পর প্রথম বৃষ্টির দিনে আপনাকে গান শোনাব। - হাহাহা। আপনি আবারো ফাজলামি শুরু করলেন। - এই যে মিস্টার, আমি কিন্তু মিথ্যা কথা বলি না। আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ভড়কে গেলাম। যেভাবে সিরিয়াস লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে দেখে মনে হল সত্যি সত্যি বলছে। মেয়েটা তখনি হাসি দিয়ে বলল, - কি ভড়কে গেলেন? - না মানে ইয়ে... - এত যে ইয়ে ইয়ে করেন, যান আপনার নাম দিলাম 'মিস্টার ইয়ে!' - হাহা। আমরা কিন্তু প্রায় পৌঁছে গেছি। - হুম - আপনার সাথে আর দেখা হবে না? - এই যে 'মিস্টার ইয়ে' আপনার মতলব কি শুনি? পাত্রী দেখার আগেই আমাকে পছন্দ করে ফেললেন নাকি? - না মানে ইয়ে... - হিহি। দুনিয়াটা ছোট, দেখা হবে হয়তো কখনো। . স্টেশনে নেমে অধরাকে রিকশায় তুলে দিলাম। - আসি তাহলে মিস্টার ইয়ে - আবার শুরু করলেন? - হিহি। এখন পাত্রীর বাসায় যাবেন? - ওকে বেস্ট অফ লাক মিস্টার ইয়ে। মেয়েটা চলে গেল। আমি তাকিয়ে থাকলাম। তখন তার একটা কথা মাথায় ঘুরছিল, সে অধরা। যাকে ধরা যায় না। . *** পাত্রীর বাসায় বসে আছি। আর আমার সামনে আংকেল। - বাবা তুমিতো ভিজে গেছ। এই মেঘলা, তাড়াতাড়ি গামছা নিয়ে আয়। - আংকেল ব্যস্ত হবেন না। ঠিক তখন পাত্রী গামছা নিয়ে এলো। আমিতো তাকে দেখেই হতভম্ব। মেয়েটা যে সেই ট্রেনের অধরা। আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগে আংকেল বললেন, - মেঘলা কাল তোমাদের শহরেই ছিল। কত করে বললাম ওখানেই দেখা করে ফেলতে, তাহলে তোমার কষ্ট হত না। কিন্তু মেয়ে রাজি না। - ইয়ে মানে, না আংকেল ব্যাপার না। - তোমরা তাহলে কথা বলো। আমি আসি। . আংকেল চলে গেলেন। মেঘলা বলল, - আসুন আমার রুমটা দেখুন। ওর রুমে ঢুকলাম। রুম পরিপাটি। বারান্দায় টবের মেলা। - তা আপনি মিথ্যা বললেন কেন মেঘলা? - কি মিথ্যা বললাম? - নামটাই তো মিথ্যা ছিল। - ভাগ্যিস নামটা সত্য ছিল না। তাহলে তো আমাকে খুঁজেই পেতেন না। - ইয়ে মানে ইয়ে... - কি মিস্টার ইয়ে, বিয়ে করবেন আমাকে? - হ্যাঁ। . বৃষ্টিটা আবার শুরু হয়েছে। মেঘলা গান ধরেছে, "এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে নাতো মন....😍 _____সমাপ্ত_____

রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০১৯

Devil Queen

আগস্ট ১১, ২০১৯ 0
Writer - তানিশা আপু 😍 Part - 4 -- সকালে নাস্তার টেবিলে বসে কাব্য তার বাবাকে বলল,,, কাব্য : বাবা আমি একটা কাজে বাহিরে যাচ্ছি। আজকে অফিসটা তুমি সামলে নিয়ো। বাবা : আচ্ছা ঠিক আছে। কাব্য : নীলা যাওয়ার সময় তোকে ভার্সিটিতে পৌঁছে দিবো। তৈরি থাকিস,, নীলা : হঠাৎ আমা,, ( বলতে গিয়ে আর বললো না ) কাব্য : আমি ঐ দিকে যাচ্ছি তাই,, নীলা : ওকে ভাইয়া। --- কাব্য রুমে এসে ভাবছে তানিশাকে একটা কল করবে। যদি মেয়েটা আজ ভার্সিটিতে না আসে? যেই ভাবা সেই কাজ। কাব্য কল করতে তানিশা রিসিভ করে বলল,,, তানিশা : কি চাই আপনার? কাব্য : আজ ভার্সিটিতে আসতে যেন লেট না হয়। তানিশা : একশবার হবে, হাজারবার হবে, কোটিবার হবে। তাতে আপনার কি? আমি আজকে ভার্সিটিতে যাবো না। কাব্য : তুমি না আসলে তোমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসবো।( বলেই হেসে দিলো ) তানিশা : সাহস থাকলে আসেন। আপনাকে কুপিয়ে কিমা বানিয়ে পরটার সাথে খাবো। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কেটে রোদে শুকিয়ে দিবো। ছুরি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ভুনাখিচুড়ি সাথে রান্না করে ফেলবো। কাব্য : আর কিছু? তানিশা : আপনার মতো বজ্জাত devil, নাইজেরিয়ান এনাকন্ডা, আফ্রিকান গন্ডার, মুখ পুড়া হনুমান, লাল বাদর, কালো কুমির, বন মানুষ, ডাইনোসর, ডায়েন, জলহস্তী, গরিলাকে আরো অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করে। যদি সামনে পেতাম তাহলে দেখাতাম তানিশা কি জিনিস। কাব্য : really...?? miss devil_queen... তুমি চাইলে আমি এখনি তোমার সামনে চলে আসতে পারি। একবার বলে দেখো,, তানিশা : ঐ ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আপনি আমাকে devil_queen... বললেন কেন? কাব্য : আমি devil হলে, তুমি devil_queen... right...?? তানিশা : মুখ পুড়া হনুমান, লাল বাদর, লুচুর হাড্ডি তুই আমাকে devil_queen বলবি না। আমাকে আর কোনোদিন কলও দিবি না ( রাগে ফুঁসাতে ফুঁসাতে ) কাব্য : stop it... ( ধমক দিয়ে ) এতক্ষণ যা ইচ্ছে বলেছো আমি কিছু মনে করিনি। তাই বলে তুইতোকারি করবে? I can't tolerate it... আর আমার সাহস দেখতে চাইছো। তাইনা? আজকে তোমাকে দেখাবো "নাহিল মাহমুদ কাব্য" সাহস কতটুকু। ( দাঁতে দাঁত চেপে ) --- কাব্য প্রচন্ড রেগে কল কেটে দিলো। আর যাই হোক কাব্য তুইতোকারি সহ্য করতে পারেনা। এই মেয়ের সাহস হয় কিভাবে কাব্যর সাথে এভাবে কথা বলার? এই মেয়ে কি কখনো মানুষ হবে না? তানিশা মোবাইল হাতে নিয়ে নিজেই নিজেকে বলতে লাগলো,,, তানিশা : devil তো রেগে পুরো লাল বাদর হয়ে গেছে। আমি কুপানোর আগে মনে হয় আজকে আমাকে কুপিয়ে রান্না না করে কাঁচাই খেয়ে ফেলবে। আজকে মনে হয় আমি শেষ। না শেষ হওয়ার আগে আমি বরং ভার্সিটিতে চলে যাই। নিজের জীবন বাচানো ফরজ কাজ, আমার এতো তাড়াতাড়ি মরার কোনো ইচ্ছে নাই। তান্নিমা : আপ্পি কে মারবে তোমাকে? তানিশা : আর বলিস না বোন, আমার পিছনে এক এনাকন্ডা লেগেছে। এখন এটার থেকে পিছু ছাড়াতে পারছিনা। আমি মনে হয় এবার শেষ হয়ে যাবো রে,, বোন আমি মরে গেলে কি তোরা আমাকে ভুলে যাবি? ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) তান্নিমা : আপ্পি কি যে বলো! তোমার মতো কইতরিকে আবার ভুলা যাবে নাকি? তানিশা : বজ্জাত মেয়ে, শেওড়া গাছের সাদা পেত্নী, জলহস্তিনী তুই আর কখনো আমাকে আপ্পি বলবি না। --- তান্নিমাকে ইচ্ছে মতো বকে তানিশা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। কাব্য নীলাকে ভার্সিটিতে ড্রপ করে গাড়িটা রাস্তায় সাইড করে রেখে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। খুব ভালো করে জানে তানিশা ভার্সিটিতে আসবে। কাব্য দূর থেকে দাড়িয়ে দেখে তানিশা আসছে। তানিশাকে দেখে নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে হাসি চলে আসলো। তানিশার দিকে তাকিয়ে থেকে তার কাছে কল করলো, তানিশা কলটা কেটে দেয়। যেটা কাব্যর চোখে এড়ায়নি। কাব্য তানিশার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে আবারো কল করলো। তানিশা কলটা কেটে ভার্সিটিতে ঢুকতে যাবে তখনি কাব্য তার হাত ধরে ফেললো। তানিশা তাকিয়ে দেখে কাব্য! সকালে এই devil কে যেভাবে বকছে। এখন কি করবে আল্লাহ জানে? ভাবতেই তানিশার গলা শুকিয়ে গেছে,,, তানিশা : আ,,আ,,আপনি এখানে? ( কাঁপা কাঁপা গলায় ) কাব্য : তুমি আমার call কাটার সাহস পেলে কোথায়? ( রাগী গলায় ) তানিশা : আমার হাত ছাড়েন। ( ছাড়ানোর চেষ্টা করে ) কাব্য : আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। তানিশা : দেখুন ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আমার সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে কিসের কথা? অযথা কেন আমাকে call করে বিরক্ত করছেন? আর আমার মতো কইতরির পিছনে কেন পরে আছেন? ( করুণ গলায় ) কাব্য : আমি তোমাকে বিরক্ত করছি? ( চোখ রাঙ্গিয়ে ) তানিশা : না মানে,, আমি কি এমন দোষ করছি? আমার সাথে কেন এমন করছেন? আর please... আমার হাতটা ছাড়েন। আশেপাশের মানুষ গুলো দেখছে। ( ভয় পেয়ে ) কাব্য : দেখুক I don't care... চলো আমার সাথে। --- বলেই তানিশাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। ভয়ে তানিশার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে তবুও বলল,,, তানিশা : আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? কাব্য : গেলেই দেখতে পাবে। তানিশা : আমি কোথাও যাবো না। আমি কিন্তু এখন চিৎকার করবো। কাব্য : করো তাতে আমার কি? --- তানিশাকে গাড়িতে বসিয়ে কাব্য ড্রাইভ করতে শুরু করলো। তানিশা ভাবছে না জানি devil তাকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে। ভাবতেই তানিশা কেঁদে দিলো। তানিশার কান্না দেখে কাব্য বলল,,, কাব্য : কি হলো কাঁদছো কেন? ( ভ্রু কুচকে ) তানিশা : আমি জানি,, সকালে আপনাকে অনেক বকছি তাই আপনি আমাকে এখন নিয়ে মেরে ফেলবেন। তার আগে আমি আপনার নামে মামলা করবো। পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে। তখন বুঝবেন কেমন লাগে ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) কাব্য : what...?? are you lost of your mind...?? তানিশা : আমার অনেক বড় ভুল হয়েছে। আমি আর জীবনেও আপনার সামনে আসবো না। আর কোনোদিনও আপনাকে কিছু বলবো। আমাকে ছেড়ে দেন মারবেন না please... কাব্য : চুপ করে গাড়িতে বসে থাকো। ( সামনে তাকিয়ে ) --- তানিশা আর কিছুই বলছে না শুধু কান্না করছে। কাব্য শহর পেরিয়ে অনেকটা দূরে এসে গাড়িটা একটা কাঁচা রাস্তায় থামালো। নিরিবিলি রাস্তা দেখে তানিশা আরো জোরে কাঁদতে লাগলো। আজকেই তার জীবনের শেষ দিন। কাব্য গাড়ি থেকে নেমে অনেকটা বিরক্তি নিয়ে বলল,,, কাব্য : যদি তোমার কান্না শেষ হয়? এখন নামো,, তানিশা : না আমি আরো কাঁদবো। ( বলেই আরো জোরে কাঁদতে লাগলো ) কাব্য : এতো কান্নার কি আছে? ( বিরক্তি নিয়ে ) তানিশা : আমার তো এখনো বিয়েও হয়নি তার আগে আপনি আমাকে মেরে ফেলবেন। আমার জামাই বিয়ের আগে বিধবা হয়ে যাবে। আমার অনাগত সন্তান গুলো মা হারা হয়ে যাবে। আমার স্বামী বাচ্চা গুলো দেখার সুযোগ পাবোনা তার আগে পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যাবো। আপনি কত বড়,, কাব্য : just shut up... তোমার nonstop বকবক শুনার জন্য এখানে আসিনি। চলো আমার সাথে। --- বলেই তানিশার হাত ধরে নদীর কিনারায় নিয়ে গেলো। চারপাশটা অনেক সুন্দর নিরিবিলি জায়গা। এই জায়গাটা কাব্যর খুব ভাললাগে। নদীর কিনারায় নিয়ে যেতে, নদী দেখে তানিশা আরো জোরে কাঁদতে লাগলো,,, তানিশা : আপনি কি আমাকে নদীতে ফেলে দিবেন? আমি জানতাম আপনি আস্ত একটা devil, বজ্জাতের হাড্ডি,, কাব্য : তানিশা please... at least... ২ মিনিট চুপ থাকো। তোমার এই nonstop বকবক শুনে আমি কিন্তু প্রচন্ড রেগে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমার এখন রাগার কোনো ইচ্ছে নাই। তানিশা : মানুষের মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হয়। আমার একটা শেষ ইচ্ছে আছে। আমি আগে আপনাকে ইচ্ছে ম,, --- কাব্য এবার প্রচন্ড রেগে গেছে, তানিশার কথা শেষ হওয়ার আগে তার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলো,,, কাব্য : এই মেয়ে তোমাকে না বলেছি ২ মিনিট চুপ থাকতে। আর আমি কি সাইকো নাকি? যে তোমাকে মারার জন্য এখানে নিয়ে আসবো। --- তানিশা গালে হাত দিয়ে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,,, তানিশা : তাহলে কেন নিয়ে এসেছেন? --- কাব্য তানিশার অনেকটা কাছে এসে দাড়ায়, তানিশার যে গালে চড় মেরেছিল সেই গালে হাত দিয়ে শান্ত গলায় বলল,,, কাব্য : sorry... আসলে আমি নিজের রাগকে কেন জানি control করতে পারিনা। next time কখনো এমন হবেনা promise... তানিশা :... ( নিশ্চুপ ) কাব্য : জানো এই জায়গাটা আমার অনেক ভাললাগে। শুধুমাত্র আমার প্রিয় মানুষদের এখানে নিয়ে আসি। তোমাকে কেন নিয়ে এসেছি জানো? ( একটু হেসে ) তানিশা :... ( নিশ্চুপ ) কাব্য : তুমি বলেছিলে আমি কেন তোমাকে বিরক্ত করি, কেন বারবার কল করি, তোমার পেছনে কেন লেগে আছি। এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়ার জন্য তোমাকে উৎসর্গ করে একটা কবিতা লিখেছি,, --- বলতেই পারো তোমাকে আমার আছে কি কোনো প্রয়োজন? যদিও তোমার অজানা তোমাকে নিয়ে আমার যত আয়োজন। বলতেই পারো তোমার মাঝে আমি কি এমন পেয়েছি খোঁজে যদিও তোমার অজানা আমি তোমাতেই রয়েছি ডুবে। বলতেই পারো আমার জীবনে তোমাকে কেন দিতে চাই এতো প্রধান্য যদিও তোমার অজানা তুমি আমার জীবনে অনন্য। এখান থেকে তোমার প্রশ্নের উত্তর গুলো খোঁজে নিয়ো। তানিশা : আরে ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আপনি কবিতা লিখতে পারেন? ( অনেক খুশি হয়ে ) কাব্য : তোমার জন্য এই প্রথম লিখেছি ( মুচকি হেসে ) তানিশা : আপনি জানেন? আমি আপনার থেকে আরো ভালো কবিতা লিখতে পারি। কাব্য : really...?? তাহলে একটা কবিতা তো শুনতেই হয়। তানিশা : তাহলে শুনেন,, চলবে,,, ( ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ) আমি এতোদিন ধরে আমার আইডিতে ডুকতে পারছিলাম না। তাই গল্প পোস্ট করতে পারি নাই তার জন্য দুঃখিত। আজ থেকে প্রতিদিন গল্প পোস্ট করা হবে।

বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

ছাত্রী থেকে বউ

জুলাই ৩১, ২০১৯ 0
ছাত্রী থেকে বউ লেখকঃমোঃআসাদ রহমান কোটচাঁদপু,ঝিনাইদহ 😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😘😗😗 তাবিব : actually... গাড়িতে উঠো ( আমতা আমতা করে ) প্রিয়া : কেন? ( অবাক হয়ে ) তাবিব : গাড়িতে উঠো তারপর বলছি। --- তাবিব গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে প্রিয়াকে ইশারায় বসতে বলল। প্রিয়া তাবিবের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে একদৌড় দিতে লাগলো। দৌড় দেওয়ার আগে তাবিব তার হাত ধরে ফেললো,,, তাবিব : what happened...? প্রিয়া : স্যার আমি আপনার নামে পুলিশ কেস করবো। ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) তাবিব : কি? ( অবাক হয়ে ) প্রিয়া : আমি জানি আপনি এখন আমাকে নিয়ে মেরে ফেলার প্লান করছেন। আপনার প্লান আমি কখনো সফল হতে দিবনা, তার আগে আপনাকে জেলে দিয়ে দিবো। তাবিব : what do you mean...?( রাগী চোখে ) প্রিয়া : কালকে শাহরিন আপনাকে সব সত্যি কথা বলে দিয়েছে। তাই এখন আপনি আমাকে নিয়ে হাত পা বেধে মেরে ফেলার প্লান করছেন। স্যার আমার স্বপ্নগুলো এখনো পূরণ হয়নি। আমার মরার কোনো ইচ্ছা নাই, আমাকে ছেড়ে দেন please... ( কাঁদোকাঁদো গলায় ) তাবিব : ok fine... ছেড়ে দিচ্ছি। শাহরিন কালকে সব বলেছে, I just went to say thanks for everything... and কালকের behavior এর জন্য I'm sorry... and I'm not a murderer so chill... আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না। কালকের behavior জন্য তোমাকে একটা sorry treat দিতে চাইছি that's it... ( হাতটা ছেড়ে দিয়ে ) --- প্রিয়া অবাক তাবিবের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, এনাকন্ডা এতো ভালো হলো কিভাবে? নাকি মাথায় কোন সমস্যা হয়েছে,,, প্রিয়া : স্যার আপনি ঠিক আছেন তো? তাবিব : I'm absolutely ok... ( এক গাল হেসে ) প্রিয়া : না মানে শয়তান থেকে এতো ভালো হয়ে গেলেন কিভাবে? এটাই মাথায় আসছেনা আরকি। ( আনমনে ) তাবিব : আমি মোটেওশয়তান না। তুমি আমার বোনের জন্য যেটা করেছো সেটা হয়তো আমার পক্ষেও করা সম্ভব ছিল না। আর কালকে শাহরিন না বললে সত্যিটা হয়তো কখনো জানা হতনা। প্রিয়া : মানে? শাহরিন আপনাকে বলেনি যে কালকে আপনাকে কি কি বলছি? তাবিব : না। কেন কি কি বলছো? ( ভ্রু কুচকে ) প্রিয়া : কিছুনা। ( হাসি দেওয়ার চেষ্টা করে ) তাবিব : এখন যাওয়া যাক? প্রিয়া : হুম। --- প্রিয়া গাড়িতে বসে ভাবছে, এখন যদি গন্ডারটা জানতো কালকে আমি তার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছি। তাকে কিমা বানিয়ে খাওয়ার প্লান করছি। তাহলে ট্রিটের বদলে আমাকে ফাঁসির দরিতে ঝুলিয়ে দিতো। তাবিব আড়চোখে প্রিয়াকে বারবার দেখছে আজ দেখতে ভালই লাগছে। প্রিয়া আনমনে কি যেন ভাবছে, তাবিব এতদিন খেয়াল করেছে মেয়েটা দেখতে পিচ্চি হলেও অসম্ভব সুন্দর। বড় একটা রেস্টুরেন্টে পৌছে তাবিব গাড়িটা ব্রেক করলো। দুজনে রেস্টুরেন্ট গিয়ে বসলো, তাবিব মেনুকার্ড প্রিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে অর্ডার করতে বলল। প্রিয়া তার পছন্দমত ৭-৮ টা আইটেম অর্ডার করলো। তাবিব অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে এতটুকু পিচ্চি পেয়ে এতো খাবার খাবে? প্রিয়া : স্যার এভাবে কি দেখছেন? তাবিব : হুম, কই না কিছুনা। প্রিয়া : যাইহোক স্যার আজকে আপনাকে দেখতে অনেক ভাললাগছে। --- ততক্ষণে খাবার চলে এসেছে, তাবিব কফিতে চুমুক দিয়ে বলল,,, তাবিব : Oh thanks... আগে কি খারাপ লাগতো নাকি? ( মুচকি হেসে ) প্রিয়া : স্যার খারাপ লাগতো বলতে, আপনি যখন শয়তান রূপ ধারন করেন তখন আপনাকে পুরাই আফ্রিকান গন্ডার আর নাইজেরিয়ান এনাকন্ডার মতো লাগে। এমনিতে আপনি জিরাফের মতো লম্বা, তার উপর মুখটা পেঁচার মতো করে রাখেন। আর রাগলে তো পুরা লাল বাদর আর মুখ পুড়া হনুমানের হয়ে যান। আর হাটাচলা তো পুরাই মহিষের মতো, সব মিলিয়ে আপনি ডাইনোসরের থেকে কম না। মাঝেমাঝে তো জলহস্তীর মতো,,, --- প্রিয়া খেতে খেতে কথাগুলো এতো জোরে বলছিল আশেপাশের মানুষগুলো তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাবিব রাগের চোটে তার হাতে থাকা গ্লাস এতটাই জোরে চেপে ধরেছে গ্লাসটা ভেঙ্গে তার হাত থেকে রক্ত পরছে। গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ শুনে প্রিয়া তাবিবের দিকে তাকালো তাবিব তার দিকে আগুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। প্রিয়া রক্ত দেখে তার ব্যাগ থেকে একটা রুমাল আর এন্টিসেপটিক ক্রিম বের করে তাবিবের দিকে এগিয়ে গেলো,,, তাবিব : just leave... I can't tolerate you any more... ( দাঁতে দাঁত চেপে ) প্রিয়া : স্যার আপনার হাত থেকে রক্ত পরছে তাবিব : পরুক তাতে তোমার কি? ( রাগী গলায় ) প্রিয়া : আমার কিছুনা একদম চুপ করে বসে থাকেন। কোনো কথা বলবেন না( ধমক দিয়ে ) --- প্রিয়া তাবিবের হাত টেনে নিয়ে রুমাল দিয়ে রক্তটা মুছে এন্টিসেপটিক ক্রিমটা খুব যত্ন করে লাগিয়ে দিলো। তাবিব কেমন যেন অদ্ভুত নজরে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো। তাবিবের এমন অদ্ভুত চাহনি দেখে প্রিয়া বলল,,, প্রিয়া : স্যার আমার কোন দোষ নেই আপনি জিঙ্গাসা করছেন আগে কেমন লাগতো।আমার কাছে আগে আপনাকে যেমন মনে হতো আমি তেমনি বলছি। তাতে আমার কি দোষ? স্যার কালকে কি কলেজে আমাকে কানে ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখবেন? ( করুণ গলায় ) --- তাবিব প্রিয়ার অবস্থা দেখে সব রাগ উধাও হয়ে গেলো। খুব হাসি পাচ্ছে তার,,, তাবিব : কালকেরটা কালকে ভেবে দেখবো।( বসা থেকে উঠে ) প্রিয়া : স্যার যাওয়ার আগে বিলটা মিটিয়ে যাইয়েন। আমার কাছে টাকা নাই ( অসহায়ের মতো ) তাবিব : তোমাকে কে বলল বিল দেওয়ার জন্য? ( ভ্রু কুচকে ) প্রিয়া : না মানে যদি ভাবেন যে, এই শাঁকচুন্নি মেয়েটা আমাকে এতগুলো নাম দিয়েছে তাকে আমি খাওয়াতে যাবো কেন? নিজের বিল নিজে দিবে আমি দিবনা। তাহলে রেস্টুরেন্টের মালিক আমাকে বার্গার বানিয়ে খাবে, কারন আমার কাছে বিল দেওয়ার মতো টাকা নাই। তাবিব : don't worry... তোমাকে কেউ বার্গার বানাবে না। বিল আমি paid করছি। --- তাবিব বিল মিটিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে গেলো সাথে প্রিয়াও। প্রিয়া রিক্সা নেয়ার জন্য রাস্তার পাশে গেলো, তাবিব এগিয়ে গিয়ে বলল,,, তাবিব : তুমি গাড়িতে না বসে এখানে কি করছো? প্রিয়া : স্যার রিক্সার জন্য। তাবিব : আমি যেহেতু নিয়ে এসেছি obviously... আমি পৌছে দিবো। তাইনা? প্রিয়া : আপনি তো এমনি আমাকে সহ্য করতে পারেন না। আমি আর জীবনেও,,, --- প্রিয়া কথা শেষ না করতেই তাবিব তার হাত ধরে টেনে গাড়িতে বসিয়ে দিলো। তাবিব গাড়ি ড্রাইভ করছে প্রিয়া পাশে চুপচাপ বসে আছে। মেয়েটা চুপচাপ থাকতে একদম ভাললাগে না। তাই তাবিব নিজ থেকে বলতে শুরু করলো,,, তাবিব : তোমার কি কি স্বপ্ন যেগুলো এখনো পূরণ হয়নি? প্রিয়া : হু,, ( তাবিবের দিকে তাকিয়ে ) তাবিব : তখন বলছিলে না, তোমার স্বপ্নগুলো এখনো পূরণ হয়নি। সেগুলোর শুনতে চাইছি আরকি প্রিয়া : না মানে জেনে আর কি করবেন? ( আমতা আমতা করে ) তাবিব : পূরণ করার চেষ্টা করবো। after all... you are my student... প্রিয়া : না থাক আপনাকে পূরণ করতে হবে না। ( বিচলিত হয়ে ) তাবিব : তাও বলো শুনি কি স্বপ্ন? প্রিয়া : না মনে স্যার,,, বিয়ে করবো, তারপর আমার ছেলেমেয়ে হবে। তারপর তারা বড় হয়ে তাদেরকে বিয়ে দিবো তাদের বাচ্চা হবে আমার নাতি নাতনি। তাদের সাথে আমি খেলবো এই আরকি। ( মাথা নিচু করে ) --- তাবিব গাড়ি ড্রাইভ করা বন্ধ করে প্রিয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। এতটুকু বয়সে কারো এমন স্বপ্ন হয় তাবিবের জানা ছিলনা। আর এই স্বপ্ন নিজে পূরণ করার কথা তাকে বলেছে, ভাবতে তাবিবের কেমন জানি লাগছে। প্রিয়ার থেকে চোখ ফিরিয়ে আবার ড্রাইভ করতে শুরু করলো। প্রিয়াকে তার বাসায় পৌছে দিয়ে তাবিব চলেগেলো। পরেরদিন কলেজে প্রিয়া তার বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। তার মধ্যে শাহরিন উঠে বলল,,, চলবে,,,?? আপনাদের মন্তব্য জানাবেন প্লিজ👏😏😏😏😏

সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯

বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে

জুলাই ২৯, ২০১৯ 0
বেঁচে আছি সপ্ন নিয়ে
নীলাকে নিয়ে hospital এ গেলাম তখনো নীলার নাক মুখ থেকে ক্রমশ রক্ত বের হচ্ছে । পাগল পাগল লাগছিলো নিজেকে (হৃদয়) -doctors রা ওকে O.T তে নিয়ে গেছে (হৃদয়) -আমি কেন পানি খেতে চাইলাম অয়ন । পানি খেতে গিয়েই আমার বাবুইপাখির আজ এই অবস্থা । আমার জন্য সব সময় ও বিপদে পরেছে অয়ন 😭😭 (মাহি) -মাহি নিজেকে দোষ দিও না । এইসবে তোমার কোন হাত নেই , বুঝেছো , শরীরের কি হাল হয়েছে দেখেছো । হা করো , কিছু খাও (অয়ন) -নাহ অয়ন কিছুই খাবো না এখন । বাবুইপাখির এই অবস্থা আর তুমি আমায় খেতে বলছো (মাহি) -বাবুর অবস্থা হয়তো খারাপ , কিন্তু তোমার শরীর নিয়েও আমাকে ভাবতে হবে (অয়ন) -বাসায় খবর দিয়েছো (মাহি) -মুন্না ভাইয়া খবর দিয়েছে , ওনারা হয়তো পথে আছে , আচ্ছা তুমি একটু খাও আমি হৃদয়ের কাছে যাই একটু (অয়ন) -হৃদয় (অয়ন) -😭😭😭 (হৃদয়) -কেদো না , বাবু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ (অয়ন) -কিছুতেই শান্ত হতে পারছি না আমি অয়ন , কি হতে গিয়ে কি হয়ে গেলো , মানুষ এতো টা নিচে কিভাবে নামতে পারে , যে একটা মানুষ কেই মেরে ফেলতে চায় । মোহনার কি ক্ষতি করেছিল আমার বোন আর নীলা।যে ও এইভাবে তার বদলা নিল , আমিই খারাপ অয়ন জানো , আমিই চরম লেভেলের খারাপ যে কাচ কে হিরা ভেবেছি , নীলার বদলে যদি ওই বিষ টা আমার পেটে যেতো , তাহলে আমার নীলা বেচে যেতো অয়ন (হৃদয়) -কেদো না , যা হবার হয়ে গেছে , মোহনার ক্ষোপ ছিল কারন আমরা ওর সব কিছু ফাঁশ করে দিয়েছি তার জন্য ও এইরকম ভাবে বদলা নিয়ে নিল (অয়ন) -অয়ন (আম্মু) -মাহি (মাহির আম্মু) -আম্মু 😭😭😭😭 (মাহি) -আমার মেয়ে কেমন আছে অয়ন , কি হয়েছে আমার মেয়ের (আম্মু) -............................(অয়ন) -কিরে চুপ কেন , এই মাহি তুমি বলো কি হয়েছে আমার মেয়ের (আম্মু) -মা 😭😭😭😭 , মোহনা আমায় বিষ দিয়ে মারতে চেয়েছিল মা , আর আমার বাবুইপাখিটা সেই বিষ টা নিজেই খেয়ে নিয়েছে মা 😭😭😭😭 (মাহি) -কিহহহহহহহ 😭😭😭 । আমার মেয়ে 😭😭😭😭 (আম্মু) -মাহি কি বলছিস এইসব তুই 😭😭(মাহির আম্মু) -হ্যা আম্মু , আমাকে বাচাতে গিয়ে আজ আমার বাবুইপাখি টার এই অবস্থা (মাহি) -আহহহহ অয়নের আম্মু কেদো না প্লিজ , আল্লাহ কে ডাকো , আমাদের নীলার কিচ্ছু হবে না , অয়ন কি অবস্থা এখন নীলার (অয়নের আব্বু) -আব্বু I.C.U তে আছে , ডাক্তাররা সব clean করছে , (অয়ন) -হৃদয় 😭😭😭 (হৃদয়ের আম্মু) -আম্মু 😭😭😭 নীলা আমার নীলা আম্মু 😭😭 কি হতে গিয়ে কি হয়ে গেলো আম্মু , যা আমি কোন দিনও আশাই করি নি আজ তাই হয়েছে আম্মু (হৃদয়) -হৃদয় কেদো না , আল্লাহ কে ডাকো , নীলা মায়ের কিছুই হবে না ইনশাআল্লাহ , (হৃদয়ের আব্বু) -আব্বু 😭😭😭😭 দেখেছেন নীলার কি হয়েছে (হৃদয়) -আল্লাহ কে ডাকো হৃদয় (হৃদয়ের আব্বু) -প্রায় ১ ঘন্টা পর .......... -doctor কি অবস্থা এখন আমার নীলার (হৃদয়) -..........(doctor) -আরে কি হয়েছে টা কি চুপ করে আছেন কেন হ্যা বলেন কি হয়েছে , কি অবস্থা এখন বাবুইপাখির (মাহি) -আহ মাহি উত্তেজিত হও কেন দাড়াও আমরা কথা বলছি তো তাই না (অয়ন) -হ্যা doctor এখন কি অবস্থা (হৃদয়ের আব্বু) -আমরা সব clean করে দিয়েছি , দেখুন আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি । বাকিটা আল্লাহর হাতে , দোয়া করুন (doctor) -এখন condition কেমন বুঝছেন (নীলার আব্বু) -দেখুন কিছুই বলতে পারছি না , আল্লাহ আল্লাহ করুন (doctor) -উনি এইসব কি বলে গেলো ভাইয়া , নীলা আমার নীলা 😭😭😭😭 (হৃদয়) -কাদিস না ভাই চুপ কর আল্লাহ কে ডাক (মুন্না) -হ্যা হৃদয় কেদো না আল্লাহ আছে তো উপরে , আল্লাহ কে ডাকো (ভাবী) -রাত ৩ টা ........ -নীলার অবস্থা এখনো ক্রিটিকাল , রাত টাও শেষ হচ্ছে না , বিপদের রাত বুঝি শেষ হতে গিয়েও শেষ হয় না । আমার জীবন টা কেন এমন হয়ে গেলো , ভালোই তো ছিলাম , কেন মোহনাকে ভুলতে পারলাম না , কেন নীলাকে নিয়ে ভালো থাকতে পারলাম না , তাহলে হয়তো আমার নীলা টা আজ ভালো থাকতো (হৃদয়) -রাত প্রায় শেষের দিকে ....... -নার্স এসে খবর দিয়েছে , নীলা এখন একটু ভালো আছে , আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকুর আদায় করি উনি আমার নীলাকে ভালো করেছেন , আল্লাহ আসলেই অনেক মহান অনেক উদার হয় , এখন আল্লাহর কাছে শুকুর আদায়ের সময় , তাই অযু করে তাহাযুত্বের নামায আদায় করে ফজর নামায টাও আদায় করে নিয়েছি (হৃদয়) -সবাই এক এক করে নীলাকে দেখতে গেছে । শুধু আমি যাই নি । কেমন যেনো একটা জড়তা কাজ করছিল (হৃদয়) -এই ভাইয়া কিরে এইখানে কি করিস , যা বাবুইপাখির কাছে যা , তোকে খুজছে তো (মাহি) -হ্যা হৃদয় যাও বাবু তোমার কথা জিজ্ঞাসা করতেছে যাও দেখা করো গিয়ে (অয়ন) -যা , গিয়ে দেখা করে আয় (মুন্না) -I.C.U এর সামনে গিয়েও পা টা কেমন যেনো আটকে গেছে আমার (হৃদয়) -কি হলো যাও , ভয় পাচ্ছো কেন , যাও দেখা করো গিয়ে নীলা মায়ের ভালো লাগবে (নীলার বাবা) -রুমে গেলাম , গিয়ে দেখি আমার নীলা টা বেডে পরে আছে , কেমন ক্লান্ত হয়ে আছে , চোখের নিচ টা কেমন কালো হয়ে গেছে , খুব কষ্ট পেয়েছে আমার বউটা আজ , হাত পা গুলা কেমন জানি সাদা হয়ে গেছে , চোখ থেকে আপনা-আপনি পানি পরছে নীলাকে এইভাবে দেখে 😭😭😭 (হৃদয়) -কারো কান্নার হালকা শব্দ কানে বাজলো , চোখ খুলে দেখি আমার পাগল বর টা আমার পাশে বসে কাদছে । খুব মায়া হলো , এই একটা রাতের মধ্যে কেমন হয়ে গেছে (নীলা) -কি হলো কাদছেন কেন ? (নীলা) -চমকে উঠলাম , কেমন আছো এখন , শরীর টা কেমন লাগছে (হৃদয়) -ভালো আছি , শরীর টাও ভাল লাগছে , মরে তো আর যাই নি এতো কাইদেন না তো (নীলা) -নীলা.............. কি বললা তুমি , খবরদার এই ধরনের কথা ফের বলছো তো , (হৃদয়) -আচ্ছা বলবো না , হয়েছে এবার এখন কান্না থামান (নীলা) -খুব কষ্ট হচ্ছিলো তখন তাই না (হৃদয়) -হুম কিন্তু এখন আপনাকে দেখলাম এখন ভালো লাগছে একরকম শান্তি পাচ্ছি (নীলা) -খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম জানো , খুব ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে , কি দরকার ছিল ওই পানি টা খাবার (হৃদয়) -তা না হলে যে মাহিকে খাইয়ে দিত , আর আমি মাহির কিছু হতে দিতে পারি না (নীলা) -তাই বলে নিজের ক্ষতি করে যদি কিছু হয়ে যেতো তোমার (হৃদয়) -কি আর হতো মরে যেতাম ভালোই হতো , আপনি তো বিরক্ত আমার উপরে , একেবারে শেষ হয়ে যেতাম , ভালোই হতো (নীলা) -নীলা আবারো সেই কথা বললা (হৃদয়) -আরে আরে যাচ্ছেন কোথায় ,আচ্ছা আর বলবো না বসেন প্লিজ (নীলা) -আর বললে খবর আছে তোমার । প্লিজ তারাতারি সুস্থ হয়ে যাও প্লিজ (হৃদয়) -এখন একটু ঘুমাও , কেমন , আমি আছি এইখানেই (হৃদয়) -হুম (নীলা) -😙😙😙😙😙😙 (হৃদয়) -☺☺☺☺☺☺ (নীলা) -আচ্ছা আমি বাসায় যাবো কবে ? আমার একদম ভালো লাগছে না এইখানে (নীলা) -নিয়ে যাবো দেখি doctor কি বলে কাল দেখি নিতে পারি কিনা (হৃদয়) -দেখি না আমি কালই যেতে চাই আপনি ব্যবস্থা করেন প্লিজ (নীলা) -আচ্ছা এখন ঘুমাও একটু (হৃদয়) -হুম (নীলা) -ঘুমিয়ে গেছে আমার বউটা , কত সুন্দর লাগছে আমার লক্ষীটাকে । কি অপরুপ রুপে সজ্জিত আমার বউ ।ভালো না বেসে কিভাবে থাকি এই ঘুমন্ত মুখ টাকে 😙😙😙😙😙😙😙😙 আমি তোমায় আর কখনো কষ্ট দিব না নীলা , তুমি শুধু আমার , আমার সব টা জুড়ে শুধু তোমার বসবাস , ভালোবাসি তোমাকে আমি , কখনো আলাদা হতে দিবো না তোমায় । আগলে রাখবো এই বুকে , কোন কষ্ট তোমাকে ছুতেও পারবে না । অনেক অনেক ভালোবাসবো তোমায় , তুমি শুধু সুস্থ হয়ে যাও আমার লক্ষী বউ (হৃদয়) ** চলবে **

শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০১৯

পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা 2019

জুলাই ১৯, ২০১৯ 0
পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা 2019
মোঃআসাদ রহমান কোটচাঁদপু, ঝিনাইদহ প্রথম শ্রেণির এক পিচ্চি মেয়ে এসে বললো, নিন চকলেট খান। আমি জানি, সম্পর্কে আপনি আমার ভাশুড় হবেন। . মনে হলো আমাকে কেউ ফ্রিজ থেকে মাত্র বের করেছে। আমি বরফ হয়ে গেছি, কোনো নড়াচড়া নেই। স্বাভাবিক হয়ে বললাম, তা বাবু আমি তোমার ভাশুড় হলাম কীভাবে? পিচ্চি বললো, এ মা, আপনার ছোট ভাই আমাকে বিয়ে করলে আপনি আমার ভাশুড় হবেন না। আমি বললাম, ও আচ্ছা, ছোট ভাই! তার মানে তুমি রোহান কে পছন্দ করো? পিচ্চি লজ্জা, লজ্জা ভাব এনে বললো, পছন্দের পর্বতো অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন তো আমরা একে অপর কে। আমি অবাক হয়ে বললাম, একে অপর কে কী? পিচ্চি বললো, কী যে বলেন! আপনাকে এসব বলা যায়, লজ্জা লাগে তো। আমি অবস্থা উথাল পাতাল দেখে বললাম, আচ্ছা লজ্জা যেহেতু লাগছে, তাহলে থাক, বলতে হবেনা। তুমি এখানে বসো, তোমার সাথে একটু কথা বলি। পিচ্চি বললো, বেঞ্চটি অনেক উঁচু, উঠতে পারছিনা। একটু উঠিয়ে দেন। . আচ্ছা এবার বলতো বাবু, তোমার নাম কী? পিচ্চি বললো, আমার নাম রিমি। আমি বললাম, তুমি থাকো কথাই? রিমি বললো, নীমতলি, পুলিশ কোয়াটারে। আমি হকচকিয়ে গিয়ে বললাম, তু, তু, তুমি, পুলিশের মেয়ে। রিমি বললো, হ্যাঁ আমার বাবা পুলিশ। আমি অস্পষ্ট ভাবে বললাম, হায়রে ছোট মিয়া আর কোনো মেয়ে পেলিনা! রিমি বললো, কিছু বললেন? আমি বললাম, না কিছু না। আচ্ছা রিমি একটা কথা বলতো, তোমাদের পরিক্ষা না তিনঘন্টা, তোমার দুই ঘন্টার মধ্যে পরিক্ষা দেওয়া শেষ হলো কীভাবে? তাছাড়া রোহানের পরিক্ষা তো এখনো শেষ হয়নি। রিমি বললো, আমিতো ইচ্ছে করে তাড়াতাড়ি লিখা শেষ করে, রোহান কে খাতা দিয়ে এসেছি। এখন রোহান লিখছে, ওর লিখা শেষ হলে, তবেই তো আসবে। আমি একরকম আতংকিত হয়ে রিমির দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর রিমি বললো, এই যে ভাশুড়, দেখুন না। জুতোর ফিতে খুলে গেছে, একটু ঠিক করে দিনতো। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, হ্যাঁ দিচ্ছি। আচ্ছা রিমি, তোমাকে নিতে আসে কে? রিমি বললো, আমাকে আমার আম্মু নিতে আসে। আম্মু ব্যাস্ত থাকলে আপু নিতে আসে। আমি বললাম, হুম, ভালো। কিছু খাবে রিমি, কিনে দিবো? রিমি বললো, না কিছু খাবোনা। সকাল থেকে অনেক কিছু খেয়েছি, রোহান কিনে দিয়েছিলো। ক্যাটবেরী খেতে ইচ্ছে করছিলো না, তাইতো আপনাকে দিলাম। আমি আহাম্মকের ভঙ্গিতে বললাম, এই ক্যাটবেরী তোমাকে রোহান কিনে দিয়েছে? রিমি স্বাভাবিকই ভাবেই বললো, হ্যাঁ রোহান তো আমাকে অনেক কিছু কিনে দেয়। আইসক্রিম, জুস, চকলেট অনেক কিছু। এজন্যই তো রোহান কে আমি এতো ভালোবাসি। . রিমি ভালোবাসি বলেই দু'হাত দিয়ে চেহারা আড়াল করলো। বিষয়টি এমন যে, কথাটি বলে রিমি খুব লজ্জা পেয়েছে। এবার বুঝতে পারছি। বাবার ম্যানিব্যাগ থেকে একশত টাকা নিলে। বাবা কেনো, আমার দুইশত টাকা কে নিয়েছে বলে চিল্লাচিল্লি করে। হায়রে মতিউর সাহেব! আপনার দুই ছেলে, দুটোই চোর বের হলো। কী আর করবেন, সবই আপনার কপালের দোষ। . সমাপ্ত। . গল্প: পিচ্চির মেয়ের ভালোবাসা লিখা:মোঃআসাদ

রবিবার, ৯ জুন, ২০১৯

আলোর পথে

জুন ০৯, ২০১৯ 0
আলোর পথে
#আলোর পথে ২য় পার্ট লেখকঃ মোঃআসাদ রহমান অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে অর্পার মায়ের মুখটা বেশ গম্ভীর হয়ে গেল।অর্পার বেপারে এমন কথা শুনে তার কিছুটা রাগও হল।তবুও তিনি নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে হাসি মুখেই ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসল।বেড়িয়ে আসার আগে ডাক্তার কিছু ঔষধ এর কথা লিখে একটা ছোট কাগজ ধরিয়ে দিলেন অর্পার হাতে। অর্পা নিজের প্যাগনেন্ট এর কথা শুনার পর থেকেই কিছুটা ভয় পেয়ে মুখটা কালো হয়ে গেছে।সে ভাবছে বাসায় গিয়ে মা বাবা ভাইকে কি জবাব দিবে সে। নিলয়কে এত করে বলার পরও সে বলছিল প্যাগনেন্ট এর বেপারে কোন চিন্তা নাই।কিন্তু আজ কি থেকে কি হয়ে গেল। তাহলে কি সেদিনের বমিটা এই প্যাগনেন্ট এর কারনেই হয়েছিল।কি জবাব দিবে নিজের পরিবারকে, নিলয় কি তাকে এগুলা জানার পর বিয়ে করতে রাজি হবে। হায় আল্লাহ এ আমি কি করে ফেললাম।ভালবাসার মানুষটিকে তার ভালবাসার পরিক্ষা দিতে গিয়ে আজ আমার এই অবস্থা। কি করব এখন আমি,এখন যদি নিলয় আমাকে বিয়ে করতে রাজি না হয় তাহলে তো আত্নহত্যার পথ ছাড়া আর কিছুই করার পথ নেই আমার কাছে।এরকম আরও অনেক কিছুই ভাবতে থাকে অর্পা। এসব ভাবতেই অর্পার চোখে পানি চলে আসে।মা কে কিছু বুঝতে না দিয়ে কোন রকম চোখ মুখ মুছে মায়ের সাথে বাসায় ফিরে আসে। । । । বাসায় আসতেই অর্পার মা অর্পার বাবাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলে উঠে--কই গো,শুনছ তুমি।তোমার মেয়ে তো আমাদের মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিল। অর্পার মায়ের এমন চিৎকার শুনে রুম থেকে বেরিয়ে আসল অর্পার বাবা আর অর্পার ভাই নিরব। ----কি হইছে এমনভাবে চেচ্চাছো কেন?কি করছে কি আমার মেয়ে! ---- কি করছে শুনতে চাও।তোমার মেয়ে প্যাগনেন্ট , কার বাচ্চার মা হতে চলেছে তাই জিজ্ঞেস কর তোমার মেয়েকে? অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে বাবা হতবাক হয়ে অর্পার দিকে তাকিয়ে রইল। অর্পা তাৎক্ষণিক দৌড়ে এসে বাবাকে জরিয়ে ধরে--বাবা আমাকে মাফ করে দাও প্লিজ।আমি না জেনেবুঝে এমন কাজ করেছি।আমাকে তোমরা ভুল বুঝ না, বলেই বাবার বুকে মাথা রেখে কান্না শুরু করে দিল অর্পা। বাবা কিছু বলতে যেয়েও অর্পার কান্নার ফলে কিছুই বলতে পারলেন না তিনি। মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন---এইরকম একটা কাজ তুই কি করে করতে পাড়লি মা?এখন তর কি হবে, কে তোকে এসব জেনেশুনে বিয়ে করবে? অর্পা কিছু না বলে বাবার বুকে মুখ গুজে নিঃশব্দে কান্না করতে লাগল। ----- কি রে মা,কিছু তো বল।এমন করে চুপচাপ থাকলে আমরা কি করব বলতো তুই!তারচেয়ে ভাল বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেলি,কি বলিস তুই? অর্পা বাবার কথায় কিছুটা চমকে উঠে, বাবাকে ছেড়ে দিয়ে বলল --- না বাবা এমন কাজ আমি করতে পারব না!ও যে আমাদের ভালবাসার ফসল।আমাদের ভুলের কারনে আমরা তো ওকে মেরে ফেলতে পারি না তাই না?আমি যে ওর মা, আমি মা হয়ে কি করে আমার সন্তানকে মেরে ফেলব বাবা? বাবা কিছুক্ষন চুপ থেকে বললেন---- তাহলে এখন কি হবে তোর!কি হবে তোর ভবিষ্যৎ এর,আমি কখনওই তর কাছে থেকে এমন কিছু আশা করিনি! অর্পা শান্ত স্বরে বলল--- তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করো না বাবা,আমি নিলয়কে বুঝিয়ে সবকিছু বললে নিশ্চিয় নিলয় রাজি হয়ে যাবে। আমার গর্ভে নিলয়ের সন্তান জানলে নিলয় অনেক খুশি হবে।তুমি দেখ বাবা আমি নিলয় কে বুঝিয়ে বললে ও কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে! ------ কিন্তু এই নিলয় কে?আমি তো এই নিলয়কে ঠিক চিনলাম না! অর্পা খানিকটা হেঁসে উত্তর দিল---নিলয় আমাকে খুব ভালবাসে।আমাকে ছাড়া একদম কিছু ভাবতে পারে না।ও খুব ভাল ছেলে!আমার গর্ভে নিলয়েরই সন্তান।আমাদের পাশের এলাকাই থাকে। কিছুদিন আগেই লেখাপড়া শেষ করে একটা কোম্পানিতে ভাল একটা পদে চাকরি পেয়েছে নিলয়।বেতনও খুব ভাল। তুমি আর চিন্তা করো না,নিলয় রাতে অফিস থেকে বাসায় আসলেই, আমি নিলয়কে সবকিছু বুঝিয়ে বললেই সে আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাবে! অর্পার বাবা স্লান হেসে অর্পার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে রুমে চলে গেলেন।তার পিছুপিছু অর্পার মাও রুমে চলে গেল। এতক্ষণ তাদের পাশে দাড়িয়েই অর্পার সব কথা শুনল অর্পার বড় ভাই নিরব। বোনকে সে খুব বেশিই ভালবাসে।এখন অর্পার বেপার নিয়ে সে চিন্তিত মনে হচ্ছে। কোথাও একটা ভয় কাজ করছে নিরবের মনে,সাথে পুরনো এক কথাও মনে পড়ে গেল নিরবের।চিন্তিত মনেই অর্পার সাথে কোন কথা না বলে বাসা থেকে বেড়িয়ে গেল সে। । । রাতে অর্পা খেতে না চাইলেও বড়ভাইয়ের জুরাজুরিতে খেতে বাধ্য হল সে!জাস্ট বড় ভাইয়ের কথা রাখতেই কিছুটা খেয়েই রুম্র চলে আসল অর্পা।কেন জানি খুব চিন্তা হচ্ছে। , রাত প্রায় ১২ টা ছুঁই ছুঁই, ঠিক তখনি অর্পা ফোন দিল নিলয়কে। ------হ্যালো কে? ------ কিহ,তুমি আমার নাম্বার চিনতে পারছ না।আমি অর্পা, তোমার অর্পা। ------ ওহ,অফিসের কিছু কাজ করছিলাম তো, তাই মোবাইলের নাম্বারের দিকে খেয়াল করতে পারিনি।তা এত রাতে কেন ফোন দিছ? ------ কেন আমি কি তোমাকে ফোন দিতে পারিনা? ------ আমি কি তাই বলছি?কখনওই তো এত রাতে ফোন দেও না তাই বললাম!তা কি জন্য ফোন দিছ সেটা বল!কাল অফিসের মিটিং আছে,আমাকে জরুরী কিছু কাজ করতে হবে। নিলয়ের কথায় অর্পা মন খারাপ হয়ে গেলেও তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল---- নিলয় আমি প্যাগনেন্ট! আমার গর্ভে তোমার আমার ভালবাসার ফসল!আমাকে নিয়ে এখন বাবা মা অনেক চিন্তায় আছে।আমি তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেছি, তুমি আমকে বিয়ে করবে,কিছুদিন এর মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবে আমার বাসায়! ওপাশে নিলয় নিশ্চুপ।কোন কথাই বলছে না সে! নিলয়ের নিশ্চুপ থাকার ফলে অর্পার বুকে ধুক ধুক শব্দ হতে লাগল----- কি হল নিলয়,কিছু বলছ না যে!তুমি কি আমাকে মেনে নিবে না,আমাদের ভালবাসাকে, আমাদের সন্তানকে স্বীকৃতি দিবে না,আমাকে বিয়ে করবে না? নিলয় কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলল--- দেখ অর্পা এখন আমার পক্ষে বিয়ে করা সম্ভব নয়।আমার পরিবার কিছুতেই এসব জানার পর তোমাকে মেনে নিবে না,,আর তোমার গর্ভের সন্তান যে আমার তার কি প্রমান আছে?ওটা তো অন্য কারও সন্তানও হতে পারে? নিলয়ের কথা শুনে অর্পার বুকের ধুক ধুক শব্দের পরিমান আরও বেরে গেল,মনের অজান্তেই চোখের লোনাজল গড়িয়ে পরতে লাগল,তবুও কান্নাভেজা কন্ঠে বলতে লাগল---- এসব কি বলছ নিলয়? তুমি না আমাকে ভালবাস?তুমিনা সেদিন বলছিলে তোমার প্রোমোশন হলেই আমাকে বউ করে ঘরে তুলবে? আর তুমি তো আমাকে খুব বেশিই বিশ্বাস করতে,,তাহলে কি সেসব কথাই মিথ্যে ছিল? নিলয় অর্পার কথায় নিশ্চুপ। অর্পা এবার আর কান্না থামাতে না পেরে বলল---প্লিজ নিলয় আমাদের ভালবাসাকে,আমাদের ভালবাসার ফসলকে এভাবে অপমান করো না।আমি যে বাবা মাকে বড় মুখ করেই বলেছি যে,তুমি আমাকে বিয়ে করে তোমার ঘরে তুলে নিবে।তারা যে এখন সেই আশায়ই আছে।এখন তুমি আমাকে বিয়ে না করলে যে আমার আত্নহত্যার পথ ছাড়া আর কোন পথই খোলা থাকবে না।প্লিজ তুমি এমন করো না আমার সাথে,আমি যে তোমাকে বড্ড বেশিই ভালবাসি,অর্পার আর কিছু না বলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে লাগল। অর্পার মুখে আত্নহত্যার কথা শুনে নিলয়ের বুকের বা পাশে কেমন জানি একটা চিনচিন ব্যাথ্যার অনুভুটি শুরু হল,------ দেখ অর্পা আমি এখন তোমার কথা রাখতে পারব না।কিন্তু তোমাকে এটা বলি যে,নিজের ইচ্চায় নিজেকে শেষ করে দিও না।আত্নহত্যা করে মারা যেয়ে কেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।তাই এই কাজটা ভুলেও করতে যেও না,ওকে। আর কিছু না বলেই নিলয় ফোন কেটে দিল। অর্পার কথায় কিছূটা মন খারাপ হলেও, তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,---ধুর কি না কি ভাবছি আমি।যা হবার তা হবেই।এসব ভাবলে যে আমার কোন কাজই পরিপূর্ন ভাবে হবে না। তবুও নিলয়ের ভাললাগছে অর্পার প্যাগনেন্ট এর কথা শুনে। তাই নিজের ডান হাত ঝাঁকিয়ে খুশি মনেই বলে উঠল, ""ইয়েসসসসস""। পরক্ষনেই অরিনের কথা মনে পরতেই আবারও মন খারাপ হয়ে গেল নিলয়ের। মাথা নিচু করেই পুরানো কিছু কথা ভেবেই চুপচাপ চোখের জল ফেলতে লাগল নিলয়। , , , সেদিন অফিস শেষে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিল নিলয়।হঠাৎ করে কেও একজন এসে রিকশা থামিয়ে পা জরিয়ে ধরে কান্না করে দিল। নিলয় তাকে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে না না চেনার ভান করে বলল---- একি কে আপনি!আর এভাবে আমার পা জড়িয়ে ধরে আছেন কেন?পা ছাড়ুন বলছি! -----না আমি আপনার পা ছাড়ব না ভাই, আগে বল তুমি আমার বোনকে বিয়ে করবে? ----- কি আবোলতাবোল বলছেন,কাকে বিয়ে করব কে আপনি? ----- আমি অর্পার ভাই নিরব।তুমি আমার বোনকে বিয়ে কর প্লিজ ভাই।আমি তোমার পায়ে ধরে বলছি! ----- কিন্তু আপনি আমাদের বেপারে জানলেন কি করে? ------ গতকাল রাতে যখন তোমার আর অর্পার কথা হয় তখন আমি অর্পার রুমের পাশে দাঁড়িয়ে সব কথা শুনেছি।তারপর অর্পার কাছে থেকে সব জেনে তোমার কাছে আসলাম।আমার একমাত্র আদরের বোনকে এভাবে কষ্ট দিও না ভাই।তুমি অর্পাকে বিয়ে করে গ্রহন করে নেও। নিরবের কথা শুনে ত নিলয় খুশিতে আত্নহারা।নিলয় হা হা করে বিজয়ী হাসি দিয়ে বলল--+ হা হা, বিয়ে করব আমি,তাও আবার তোর ওই নষ্টা বোনকে। নিলয়ের মুখে তুই শুনে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল নিরব। -----অরিনের কথা মনে আছে মিস্টার নিরব। আজ এত বছর পর অরিনের নাম শুনেই চমকে উঠল নিরব😇😇😇😇😇😇😇 চলবে........................................???

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

বিপদে ধৈর্য্য হারানো ঠিক নয় by Asad Rahman 2019

মে ২১, ২০১৯ 0
বিপদে ধৈর্য্য হারানো ঠিক নয় by Asad Rahman  2019
সমুদ্রের মাঝখানে এক জাহাজ প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে পরে লন্ডভন্ড হয়ে গেল। সেই জাহাজের বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ভাসতে ভাসতে এক নির্জন দ্বীপে এসে পৌছালো। জ্ঞান ফেরার পর প্রথমেই সে আল্লাহর কাছে প্রান খুলে ধন্যবাদ জানালো তার জীবন বাঁচানোর জন্যে। প্রতিদিন সে দ্বীপের তীরে এসে বসে থাকতো যদি কোনো জাহাজ সেদিকে আসে এই আশায়। কিন্তু প্রতিদিনই তাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হতো। এরই মধ্যে সে সমুদ্রতীরে তার জন্যে একটা ছোট ঘর তৈরী করে ফেললো। সমুদ্রের মাছ ধরে এবং বনের ফলমূল খেয়ে সে বেঁচে থাকলো। এরই মধ্যে সে একদিন খাবারের খোঁজে বনের মধ্যে গেল। বন থেকে সে যখন ফিরে এলো তখন দেখলো যে তার রান্না করার চুলা থেকে আগুন লেগে পুরো ঘরটিই ছাই হয়ে গিয়েছে এবং তার কালো ধোঁয়ায় আকাশ ভরে গিয়েছে। লোকটি চিৎকার করে উঠলো, ‘হায় আল্লাহ, তুমি আমার ভাগ্যে এটাও রেখেছিলে!’ পরদিন সকালে এক জাহাজের আওয়াজে তার ঘুম ভাঙলো। জাহাজটি সেই দ্বীপের দিকে তাকে উদ্ধার করার জন্যই আসছিলো। সে অবাক হয়ে বললো, তোমরা কিভাবে জানলে যে আমি এখানে আটকা পড়ে আছি। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানালো, তোমার জ্বালানো ধোঁয়ার সংকেত দেখে।’ যখন আমরা খুব বিপদে পরি তখন আমরা প্রায় সবাই হতাশ হয়ে পড়ি। আমরা ভুলে যাই, তিনি যা করেন তা আমাদের ভালোর জন্যেই করেন। তাই এরপর যখন আপনার ঘর পুড়তে থাকবে মনে রাখবেন এটা হয়তো সেই ধোঁয়ার সংকেত যা আপনাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে।

বিপদের সময়ের প্রকৃত বন্ধুর নাম আত্মবিশ্বাস

মে ২১, ২০১৯ 0
বিপদের সময়ের প্রকৃত বন্ধুর নাম আত্মবিশ্বাস
বিপদের সময়ের প্রকৃত বন্ধুর নাম আত্মবিশ্বাস একবার একজন বিজনেস এক্সিকিউটিভ প্রচন্ড অর্থ সংকটে পড়লেন। তিনি দেনার দায়ে ডুবে ছিলেন ও সেটা থেকে মুক্তির কোন উপায়ই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তার বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল, সাপ্লায়াররা তাদের অর্থ ফেরত চাচ্ছিলো। এরকম সঙ্কটময় মূহূর্তে তিনি একটি পার্কে চুপচাপ বসে ছিলেন। ভাবছিলেন এরকম কোন উপায় বের করা যায় কিনা যাতে তিনি এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তার প্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাবে ব্যাঙ্কের হাতে বাজেয়াপ্ত হওয়া থেকে। হঠাৎ করেই একজন বৃদ্ধ লোক সেখানে এসে দাঁড়ালেন। বৃদ্ধঃ আপনাকে চিন্তিত মনে হচ্ছে? কিছু কি হয়েছে? আমাকে কি বলা যাবে? বিজনেস এক্সিকিউটিভ তাকে সব খুলে বললেন। সব শুনে বৃদ্ধ বললেন, “আমার বিশ্বাস আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারবো।“ তিনি লোকটিকে তার নাম জিজ্ঞেস করলেন, একটী চেক বের করে তাতে বিজনেস এক্সিকিউটিভের নাম লিখলেন ও স্বাক্ষর করে চেকটি তাকে দিলেন, বললেন, “এই চেকটি রাখুন। ঠিক এই জায়গায় আবার ১ বছর পর আমাদের দেখা হবে। তখন ইচ্ছা করলে আপনি আমার টাকা ফেরত দিতে পারেন।“ এই বলে বৃদ্ধ দ্রুত চলে গেলেন। বিজনেস এক্সিকিউটিভ দেখলেন, তার হাতে ৫ লাখ মার্কিন ডলারের চেক, যেটিতে স্বাক্ষর রয়েছে জন ডি. রকফেলারের। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন। তিনি ভাবলেন, “এখন আমি আমার আর্থিক অনটন নিমিষেই কাটিয়ে ফেলতে পারি।“ কিন্তু তিনি সেটা না করে চেকটি নিজের ক্কাছে রাখলেন। ভাবতে শুরু করলেন, “চেক তো আমার কাছে আছেই। কিন্তু এটা ব্যবহার না করেই কি আমি এই বিপদ থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় পেতে পারি না?” নতুন আশা, সাহস ও উদ্যোম, আর পরিকল্পনা নিয়ে তিনি আবার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ধীরে ধীরে তিনি তার নিজস্ব চিন্তা ও পরিকল্পনার সাহায্য নিয়ে দেনা থেকে মুক্ত হতে শুরু করেন। এক সময় তিনি সব বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেন। কর্মীদের ও সাপ্লায়ারদের বেতন একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাঝে এনে পরিশোধ করেন। কয়েক মাসের মাঝেই তিনি আবার লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। ঠিক এক বছর পর তিনি সেই চেকটি নিয়ে সেই পার্কে এসে বৃদ্ধকে খুঁজতে শুরু করেন ও দেখা পেয়েও যান। তিনি তাকে নিজের সাফল্যের গল্প বলতে শুরু করেন। এরকম সময় একজন নার্স এসে বৃদ্ধকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। নার্স বিজনেস এক্সিকিউটিভকে বললেন, “আপনি উনার কথায় কিছু মনে করবেন না। বার্ধক্যজনিত কারণে উনি কিছুটা এলোমেলো আচরণ করেন ও নিজেকে জন ডি রকফেলার বলে দাবি করেন।“ এই বলে নার্স বৃদ্ধকে নিয়ে চলে গেলেন। হতভম্ব হয়ে ব্যবসায়ী ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি বুঝলেন, তার সাফল্যের কারণ আসলে চেকটি নয়। বরং তার মাঝে পুনরায় জন্ম নেয়া সাহস ও আত্মবিশ্বাসই তাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

বুধবার, ১৫ মে, ২০১৯

নীল অপরাজিতা রুপা

মে ১৫, ২০১৯ 0
♥নীল অপরাজিতা রুপা♥ আজ রুপা রোহানের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। রুপা তার রুমটা সুন্দর করে সাজিয়েছে,কেক রেডি করেছে,মোটামুটি সব করা শেষ, এখন শুধু রোহানের আসার অপেক্ষা। রোহানের অফিস শেষ হবে রাত ৯ তার দিকে।রুপা আজ অনেক সুন্দর করে সেজেছে,ঠিক যেন হিমুর রুপার মত। ড্রেসিং টেবিলে বসে আয়নায় নিজেকে দেখে চুল আঁচড়াচ্ছে রুপা, টেবিলের উপর রাখা রুহান আর রুপার বিয়ের ছবির দিকে চোখ্ পরলো রুপার....মনে পাতায় ভেসে উঠল তাদের প্রেমময় দিন গুলি.... এক্সকিউজ মি... এক্সকিউজ মি.....এক্সকিউজমি... !!! (রুপা মনে মনে ভাবছে,তবে কি ছেলে টা কানেকম শুনে? এতবার ডাকার পরেও কোনো সাড়া নেই ) এক্সকিউজ মি !!! হুম ( মোবাইলে গেমস খেলছিল,না তাকিয়েই উত্তর দিল রুহান ) রুপা - কি ব্যাপার?এতবার ডাকছি,কানে যায় না? রুহান - হুম,বলেন কি বলবেন? ( এবার রুহান মুখ তুলে তাকালমেয়েটির দিকে ) রুপা - I love you ( অনেক টা রাগ নিয়ে ) রুহান - কি বললেন বুঝি নাই !!! রুপা - I love you,I love you,I love you এবার বুঝেছেন? রুহান - সরি ? এটা তো আমাকে আমার আম্মু বলে,আপনি কি ভাবে জানলেন? রুপা -( রেগে গিয়ে ) আমি কি একটু বসতে পারি? রুহান - না !!! আসলে আমি বাচ্চাও কোলে নেই না,আর আপনাকে কোলে নিব?অসম্ভব!!! রুপা -( রেগে গিয়ে )অসভ্য আমি তর কোলে বসতে চায় নাই. রুহান - ওহ !!! তা আমার কোলে বসতে না চাইলে কোথায় বসতে চেয়েছেন?এখানে তো বসার জায়গাই নেই,একজনের বেঞ্চ এটা দেখতেই তো পাচ্ছেন. রুপা - কুত্তা,এমনি তে ক্লাসে তোর গলায় আওয়াজ বের হয়,এখন তো দেখছি খুব পাকনা তুই। রুহান- সরি,আমার নাম কুত্তা না,রুহান।আর হা,আমি ক্লাসে অযথা বকবক পছন্দ করি না। রুপা - এই কিসেরএত ভাব তোর?এত Rude কথা বলিস কেন? রুহান - আজব,একটু আগে আপনি করে বলেছেন,এখন তুই? উঁহুঁ,একটু ধীরে এগুবেন তো?আপনি এর পর তুমি এবং তাঁরপর তুই !!! রুপা - আমি এত কিছু জানি না, I loveyou দিছি উত্তর দেন। রুহান - সরি !!! আম্মু হলে আই লাভ ইয়ু টু দিতাম।কিন্তু আপনাকে আই হেট ইয়ু ওদিতে পারছি না। রুপা - কেন দিতে পারছেন না?আমি কি খুব খারাপ? ( রাগ আর কান্না মিশ্রিত গলায় ) রুহান - দেখুন,আপনি অনেক সুন্দরী,কিউট,ড্যাশিং,আপনি অনেক ভালও ছেলে পাবেন,দুয়া করি।প্লিজ আমাকে আর জ্বালাবেন না।বলে উঠে চলে গেল রুহান.... রুপা চোখের পানি থামিয়ে রাখতে পারল না... শিখা রুপার বান্ধবী :- শিখা - আরে তুই এটা কি করলি?কলেজে এত পোলা থাকতেঐ কুচকুচে কালো পোলা টার কাছে গেলি প্রেম নিবেদন করতে?কলেজের সব ছেলে রা তূর জন্যে পাগল,কত সুন্দর সুন্দর ছেলে।আর তুই ঐ রোহানের কাছে গেলি?যার সাথে আমরা কথাও বলি না কালো বলে।সে নিজেও দূরে রাখে নিজেকে।আচ্ছা। তূর ওঁকে ভালও লাগলো কি ভাবে?কি আছে অর মাঝে?এত ছেলে তোকে অফার দিছে , মানিস না,গেলি কালাইয়ের কাছে?আর সে তূর মতো মেয়েকে ফিরিয়েও দিল?এত বড় অপমান?শিখা একাই বক বক করছে...রুপার মন খারাপ..ও চুপ করে আছে... রুপা কলেজে অন্যতম সুন্দরী মেয়ে গুলার মধ্যে একজন।কলেজে আসার পর মোটামুটি সব ছেলেই অর সাথে কথা বলতে চেয়েছে,প্রেম অফার দিয়েছে,কিন্তু শুধুমাত্র একজন ছাড়া,সে রুপার দিকে ফিরেও তাকালো না।শুধু রুপা না ! সে কারো দিকেই তাকাই না,কথা বলে না,একা একা থাকতো। মানুষসাধারণত তার দিকে আগ্রহী হয় উৎসাহী হয় যে সবার চেয়ে আলাদা,ব্যতিক্রম। রুপাও আস্তে আস্তে কালো ছেলে টার সম্পর্কে জানা শুরু করলো,ছেলে টাকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিলও রুপার মনে,সব উত্তর সে বের করেও ফেলেছে। নাম রুহান।খুব মেধাবী,বাবা মায়ের একটা মাত্র ছেলে।অনেক হ্যান্ডসাম,তবে গায়ের রঙ টা একটু কালো।আর কালো বলেই সবাই ওকে রাগাই,আর এই জন্যেই রুহান নিজে কে দূরে রাখে সব কিছু থেকে।একা একা থাকে। রুপা রোহানের ব্যাতিক্রমতা ভাবতে ভাবতে দুর্বল হয়ে পড়েছে... ওর কাছে রুহান এর গায়ের রঙ কালো তা কোনো বড় দোষ এর কিছু মনে হল না।কালো বলে কি তার হাসার অধিকারনেই?ফ্রেন্ডশীপ করার অধিকার নেই? আর ১০ জন সুন্দর ছেলে দের মতো চলার অধিকার নেই? রুপা অনেক চেষ্টা করেছে ফ্রেন্ডশীপ করার,কথা বলতে চেয়েছে,কিন্তু রুহান সুযোগ দেইনি। সময় যেতে যেতে রুপা রোহানের প্রেমে পড়ে গেছে।মনে মনে প্রেম অনেক দিন হয়েছে।এবার রুহান কে সত্যি সত্যি চায় রুপার।আর চুপ থাকলে চলবে না... পর দিন,কলেজে :- রুহান তার মোবাইলে মেসেজ পেল '' ছাদেআসো প্লিজ,আমি ওয়েট করছি। আমি জানি তুমি আমাকে অনেক লাভ করো,কালো বলেই দূরে সরে থাকো। তুমি কালো এতে আমার কিছু যায় আসে না।আমি তোমার সুন্দর মন কে বুঝেছি ভালবাসছি।প্লিজ লাস্ট একটা বার আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাঁই। '' রুহান মেসেজ টা পড়ে একটু ভয় পেল,মেয়ে টা উল্টা পাল্টা কিছু করবে না তো... রুহান ছাদের দিকে দোর দিল..রুপা দাড়িয়ে আছে ছাদে... রুপা -( রোহানের দিকে তাকিয়ে ) তুমি যদি আমার ভালবাসা গ্রহন না করও তবে আমি এই ঘুমের অষুধ গুলা খেয়ে মরে যাব। ( হাতের মুঠোয় অনেক গুলা ট্যাবলেট দেখিয়ে বলল) রুহান - ( ভয় পেয়ে ) প্লিজ এসব পাগলামী করও না। তুমি আমার মতও কালো ছেলে কে কেন ভালবাসলে? কত সুন্দর সুন্দর ছেলে তোমাকে পাগলের মতও ভালবাসে আর তুমি আমাকে?তুমি অনেক সুন্দর আর ভালও ছেলে পাবে,প্লিজ এসব পাগলামি করিও না. রুপা রেগে গিয়েসব গুলা ট্যাবলেট মুখ পুরে ঢুকিয়ে দিল... রুহান চিৎকার দিয়ে বলল না রুপা প্লিজ ট্যাবলেট গুলা মুখ থেকে ফেলে দাও,আমি তুমাকে ভালবাসি অনেক ভালবাসি সত্যি। রুপা - তুমি সত্যি আমাকে ভালবাস?আমাকে ছেড়ে যাবে না তো?সত্যি ভালবাস? রুহান - হুম,রুপা আমি তুমাকে অনেক ভালবাসি। তোমাকে ছেড়ে যাব না কোনদিন। তুমি প্লিজ ওষুধ গুলা ফেলে দাও মুখ থেকে। রুপার মাথা যেন ঘুরছে,চারদিকে অন্ধকার দেখছে,পড়ে যাবার মতো অবস্থা,ধরে ফেল ল রুহান,অনেক টা ভিতু রুহান,রুপা রোহানকে জড়িয়ে ধরে হাসতে হাসতে বলে,আরে গাধা !!! ওই গুলা ঘুমের ট্যাবলেট না,সিভিট।আমি আমার আমার ভালবাসার মানুষ কে পেয়ে মরবো, না পেয়েনই, হি হি হি. রুহান রেগে গিয়ে রুপার চুল টেনে ধরলো,কুত্তী তুই আমাকে ভয় পাইয়ে দিলি,তোকে আজ ছাড়বো না..... পিছন থেকে কেউ যেন রুপার চুল ধরলো,হুম রুহান।রুহান অফিস থেকে এসে গেছে, রুহান রুপাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা আদুর দিয়ে বলল '' চল কেক টা কেটে ফেলি......''

মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯

সফলতা

মে ০৭, ২০১৯
সফলতা
মেয়েটার বিয়ের ৫ বছর পর হঠাৎ ছেলেটার সাথে দেখা হয়ে গেলো। - এই জানো আমার নতুন আরেকটা জব হইছে আর ওখানে আমার বেতন ১ লক্ষ টাকা।(জিসান) - ওহ গ্রেট।সত্তি তাই?(মুরশিদা) - হুমম সত্তি তাই।আজকে আমি অনেক খুশি?(জিসান) বলেই মুরশিদাকে জড়িয়ে ধরলো। , কে মুরশিদা আর কে জিসান জানতে ইচ্ছে হচ্ছে তো তাহলে চলুন জেনে নেই। মুরশিদা ি জিসানের বউ। জিসান আগে একটা কোম্পানিতে চাকরি করতো সেখানে তার বেতনটা মোটামুটি ভালোই ছিলো ৪০ হাজারের মতো। পারিবারিক ভাবেই তাদের বিয়েটা হয়। দুজনে বেশ সুখে আছে। আজকে জিসানের আরেকটা চাকরি হয়েছে। বেতন ১ লক্ষ টাকা। অনেক টাকা। আর এই টাকাই তো চেয়েছিলো মুরশিদা ি। আর তাইতো সে অনেক সুখে অাছে।নইলে কাওকে কষ্ট দিয়ে কেও কোনোদিন ভালো থাকতে পারেনা। , চলুন জেনে নেওয়া যাক কি হয়েছিলো। ৫ বছর আগে হঠাৎ মেয়েটা প্রত্তয়কে বললো, - প্রত্তয় ি আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আমি আর তোমার সাথে রিলেশন রাখতে পারবো না।(মুরশিদা) - কিন্তু কেনো কি দোষ আমার চলো পালিয়ে যাই। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।(সেদিন কাদতে কাদতে কথাগুলো বলেছিলো প্রত্তয়) - তোর দোষ তোর টাকা নাই এইটা কি খাওয়াবি আমাকে বিয়ে করে। আর কোনোদিন আমার সাথে দেখা করার বা কথা বলার চেষ্টা করবিনা।(মুরশিদা) । সেদিন অনেক চেষ্টা করেছিলো মুরশিদাকে আটকানোর কিন্তু সে ফিরে নাই। সে দেখেছিলো ছেলেটার অনেক টাকা আর ভালো বেতনের চাকরি করে। এজন্যই ছেড়ে দিলো প্রত্তয়কে , কিছুদিন প্রত্তয় নেশা নিয়ে পড়ে থাকতো কিন্তু তারপর ভাবলো। নাহ এসব করে কি হবে সে তো অনেক ভালো আছে আমাকে ছাড়া তাহলে আমি কেনো পারবো না। আর ও টাকার কথা বলছিলো না। ওকে আমি দেখিয়ে দিবো আমি কে। তখন ও নিজেই আফসোস করবে। , তারপর থেকেই শুরু। বাবার ব্যাবস্যা দেখাশোনা শুরু করলো সে। আস্তে আস্তে কঠোর পরিশ্রম আর মনের সেই জেদটা দিয়ে আজ কে সে জানেন?? জিসানের বস।জিসানের মতো আরো প্রায় দশটা জিসানকে বেতন দেয় সে। , চলুন মুল গল্পে ফিরি। , মুরশিদা বসে বসে ভাবছিলো কত সুখে আছে সে। আজ হঠাৎ প্রত্তয়ের কথা মনে হলো তার। মনে মনে বললো তাকে ছেড়ে দিয়ে ভালোই হইছে। হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো। জিসানের ফোন। জিসান তো বাথরুমে কি করবে সে। ভাবতে ভাবতে ফোনটা ধরলো সে। - হ্যালো জিসান সাহেব আপনি কি কালকে একটু অফিসে আসতে পারবেন??(ওপাশ থেকে প্রত্তয় বললো) মুরশিদা যা শুনলো তা কি সত্য? এটা তো প্রত্তয়ের নাম্বার আর কন্ঠটাও প্রত্তয়ের। তার গলা কাপতাছে। কাপা কাপা কন্ঠে সে বললো, - আপনি কে বলছেন?(মুরশিদা) - আমি প্রত্তয় জিসানের বস.(প্রত্তয়) কথাটা বলার পর প্রত্তয় বুঝতে পারলো এটা কে। এমন আচমকা কথা হবে সে ভাবতেই পারেনি। , মুরশিদা ভাবতাছে এটা কিভাবে সম্ভব। প্রত্তয় তার স্বামির বস। ভাবতেই তার মনে অবিশ্বাস এর সৃষ্টি হলো। যে প্রত্তয় একবেলা না খেয়ে থাকতো পকেটে টাকা থাকতো না তাই। সেই প্রত্তয় ১ লক্ষ টাকা বেতন দেয় তার স্বামিকে। - কেমন আছো?(প্রত্তয়) - হুম ভালো তুমি?(মুরশিদা) - হুম ভালোই।(প্রত্তয়) - এসব কিভাবে?(মুরশিদা( - যেভাবেই হোক অসৎ পথে কিছু হয়নাই।যা হইছে সব হালাল পথেই হইছে।(প্রত্তয়) - ওহ আমাকে কি মাফ করছো?(মুরশিদা) - আমি মাফ করার কে আল্লাহ মাফ করলে আমি কে?(প্রত্তয়) - বিয়ে করো নাই?(মুরশিদা) - হুমম করছি মেয়েটা অনেক কিউট দেখতে।(প্রত্তয় ি) - ওহ ভালো।(মুরশিদা) - ভালো থেকো আর তোমার স্বামিকে বইলো আমি ফোন দিছিলাম।(প্রত্তয়) হঠাৎ জিসান বেড়িয়ে এলো। - কে ফোন দিছে?(জিসান) - তোমার বস?(মুরশিদা) - কে প্রত্তয়?(জিসান) - হুমমম।তাইতো বললো,(মুরশিদা) জিসান ফোনটা নিয়ে বললো, - হ্যা বস বলুন। এদিকে মুরশিদা কাদতাছে। হয়তো খুব মিস করতাছে প্রত্তয়কে না তার টাকাগুলাকে। হয়তো এটা ভেবে যে কি মিসটাই করলাম। । আর ওদিকে প্রত্তয় তার বউয়ের ছবিটা আবারো দেখলো। ছবিটা কার জানেন?? মুরশিদার। সমাপ্ত। ... ।। কেও বাশ দিলে সেটাকে মই বানিয়ে উপরে উঠুন। কথাটা শুনতে একটু খারাপ হলেও অনেক অর্থ বহন করে। কেও আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে?? নেশা নয় তার কথাগুলোকে জেদ বানান। নিজেকে প্রমান করেন। আর কিছু বলবো না। ভালো থাকবেন সবাই। আর গল্পটা ভালো লাগলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। <<<<<<অামরা নতুন কোনো গল্প পেলেই ওযেব সাইটে এ এ্যাড করবো।অাপনাদের কোনো গল্প শেয়ার করতে অামাদের ইমেইল করুন। ইমেইলঃ asad.rahman661@gmail.com

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৯

সব কিছুরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিক থাকে

মার্চ ৩০, ২০১৯
সব কিছুরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিক থাকে
এক রাজার এক চাকর ছিল। চাকরটা সবসময় যেকোন অবস্থাতেই রাজাকে বলত, “রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না। কেননা আল্লাহ যা করেন তার সবকিছুই নিখুঁত ও সঠিক।” একবার রাজা সেই চাকর সহ শিকারে যেয়ে নিজেরাই এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলো। রাজার চাকর সেই প্রাণীকে মারতে পারলেও, ততক্ষণে রাজা তার একটা আঙুল হারান। রাগে- যন্ত্রণায়-ক্ষোভে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে চাকরের উদ্দেশ্য করে বলেন “আল্লাহ যদি ভালোই হবেন তাহলে আজকে শিকারে এসে আমার আঙুল হারাতে হতো না।” চাকর বলল, “এতকিছুর পরও আমি শুধু আপনাকে এটাই বলব আল্লাহ সবসময়ই ভালো ও সঠিক কাজই করেন; কোনো ভুল করেন না। চাকরের এই কথায় আরও বিরক্ত হয়ে রাজা তাকে জেলে পাঠানোর হুকুম দিলেন। এরপর একদিন রাজা আবার শিকারে বের হলেন। এবার তিনি একদল বন্য মানুষের হাতে বন্দি হলেন। এরা তাদের দেবদেবির উদ্দেশ্যে মানুষকে বলি দিত। রাজা কে বলি দিতে যেয়ে তারা দেখল যে, রাজার একটা আঙুল নেই। তারা এমন বিকলাঙ্গ কাউকে তাদের দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে রাজি হলো না। তাই তারা রাজাকে ছেড়ে দিল।প্রাসাদে ফিরে এসে তিনি তার সেই পুরোনো চাকরকে মুক্ত করে দেওয়ার হুকুম দিলেন। চাকরকে এনে বললেন, আল্লাহ আসলেই ভালো ৷ আমি আজ প্রমাণ পেয়েছি তার, আমি আজ প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু আঙুল না থাকার কারণে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি। “তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আল্লাহ ভালো, এটা তো বুঝলাম। কিন্তু তাহলে তিনি আমাকে দিয়ে তোমাকে জেলে পুরলেন কেন?” চাকর বলল, “রাজামশাই, আমি যদি আজ আপনার সাথে থাকতাম, তাহলে আপনার বদলে আজ আমি কোরবান হয়ে যেতাম। আপনার আঙুল ছিল না, কিন্তু আমার তো ছিল। কাজেই আল্লাহ যা করেন সেটাই সঠিক, তিনি কখনো কোনো ভুল করেন না। গল্পের শিক্ষাঃ- সব কিছুর ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই দিক থাকে। কখনো নিরাশ হবেন না, যদি কোন কিছুতে সফলতা না পান তবে ইতিবাচক চিন্তা করুন। সফল না হওয়ার কারণে কি ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে কি লাভ হয়েছে তা দেখুন।

এক রাজা ও তার বিশ্বস্ত কর্মচারী!

মার্চ ৩০, ২০১৯
 এক রাজা ও তার বিশ্বস্ত কর্মচারী!
এক দেশের এক রাজা ছিল খুবই কঠোর প্রকৃতির।তার রাজকার্য পরিচালনার জন্য নিয়োজিত ছিল অগনিত রাজ-কর্মচারী। এতোগুলো কর্মচারীর ভিতর তার কোনো কর্মচারী যদি তার রাজকার্য করতে গিয়ে কোনো ভুল করতো, তাহলে তিনি তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতেন।তার কাছে ভুলের কোনো হ্মমা নেই। রাজার এক বিশ্বস্ত কর্মচারী প্রায় ১০ বছর ধরে তার রাজকর্ম পালনের জন্য নিয়োজিত ছিল। একদা তার এ বিশ্বস্ত কর্মচারী তার আদেশ পালনে ভুল করে বসলো।কর্মচারী তার ভুলের জন্য রাজার কাছে খুবই আকুতি করলো। কিন্তু রাজার কাছে তো ভুলের কোনো হ্মমা নেই। ফলস্বরুপ রাজা তার দেহকে কুকুর দিয়ে ভহ্মন করানোর জন্য প্রহরীদেরকে আদেশ করলো। কর্মচারীকে হত্যা করার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হলো। কর্মচারী যখন দেখলো যে, তার আর রহ্মা নেই,তখন সে রাজার কাছে শুধু তার একটি ইচ্ছা পূরন করার জন্য ফরিয়াদ জানালো। ফরিয়াদটি হলো যে, হুজুর আমাকে মাত্র ১০দিন সময় দিন,আমি এই ১০ দিন কুকুরগুলোকে মনের মতো পেট পুরে খাওয়াবো। তখন রাজা তার এ কথা শুনে বললো যে,যেহেতু তুমি আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী ছিলে তাই তোমাকে এই ১০ দিন সময় দেয়া হলো।কিন্তু মনে রেখ মাত্র ১০ দিন। এই ১০ দিন ঐ কর্মচারী কুকুরগুলোকে খুব আদর যত্ন করে খাওয়ালো। ১০ দিন সময় শেষ হয়ে গেল! তাই রাজার সেই আদেশ পালনের জন্য প্রহরীরা নিয়মানুযায়ী ওই আগ্রাসী কুকুর গুলোর কাছে ওই কর্মচারীকে নিহ্মেপ করলো। কিন্তু দেখেন কুকুরগুলো দৌরে এসে ওই কর্মচারীর হাত -পা চাটা শুরু করলো। এ অবস্থা দেখে তো রাজা হতবাক! মাথা গরম, এ কি ব্যাপার! কি হলো কুকুরগুলোর? প্রহরীরা শত চেষ্টা করেও কুকুরগুলোকে রাগাতে ব্যর্থ হন। কিছুহ্মনপর ওই কর্মচারী উঠে দাড়িয়ে রাজাকে বললো যে,হুজুর ১০ বছর আপনার সেবা করে আমি কি পেলাম?কিছুই পেলাম না।মাত্র ১ দিনের ভুলের প্রতিদান পেলাম মৃত্যুদন্ড। আপনার কাছে আমার কোনো মূল্যেই নেই। কিন্তু দেখেন মাত্র ১০ দিনের সেবা-শুশ্রুশা পেয়ে কুকুরগুলো আমাকে কিভাবে সম্মান দিচ্ছে, প্রতিদান দিচ্ছে।আমার সাথে কুকুরগুলো বিশ্বাস ঘাতগতা করে নি।আপনার প্রহরীরা শত চেষ্টা করেও কুকুরগুলোকে রাগাতে ব্যর্থ হন। এ কথা শুনে রাজার মনে অনুশোচনা জাগ্রত হলো।সে মনে মনে ভাবলো মাত্র ১০ দিনের সেবা পেয়েই কুকুরগুলো তার মনিবকে কত সম্মান করছে।তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে নি। কিন্তু আমি এটা কি করতে চেয়েছি?যে কর্মচারী প্রায় ১০ বছর আমার হুকুম তামিল করতো,সেবা-শুশ্রুশা করতো তাকেই আমি………….কথাগুলো ভেবে রাজা মনে মনে লজ্জ্বাবোধ করলো। ফলস্বরুপ রাজা তার কর্মচারীকে মাফ করে দিল।সে তার ভুল বুঝতে পেরে কর্মচারীকে বুকে টেনে নিল। ‘নয়ন খান’ [বিঃদ্র=গল্পটি মিরাক্কেল দেখে লিখা।তাই অনেক ভুল হতে পারে]