গল্পঃ- 😜😜ঝগড়াটে ভালোবাসা 😜😜
পর্ব ০২
💘💘মোঃ আসাদ রহমান 💘💘
কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ
সাফার কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে বাসায় চলে এসেছি খেয়ালই করিনি।বাসায় ঢুকেই,
:আম্মু অনেক ক্ষুদা লেগেছে,তারাতারি খেতে দাও(রাফিদ)
:এখনো একটু বাকি আছে বাবু,তুই গোসল করে আয় তার মধ্যে হয়ে যাবে(আম্মু)
:ওকে মাই ডিয়ার আম্মু😊(রাফিদ)
বাথরুমে গিয়ে মনের সুখে শাওয়ার নিলাম কতক্ষন।তারপর দুপুরের খাবার খেয়ে লম্বা একটা ঘুম দিলাম।এক ঘুমে সন্ধ্যায় উঠলাম।উঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় এসে ডিনার করে রুমে এসে বিছানায় গা টা এলিয়ে দিলাম।কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না।তাই ভাবলাম সাফা পাগলিকে একটা কল দিই।যেই ভাবা সেই কাজ
ক্রিং ক্রিং ক্রিং......
:হ্যালো মাই ডিয়ার বাবুর আম্মু😜(রাফিদ)
:উফফফফফফফফ পেইন একটা।অই তুই এখন কল দিছিস কেন?
আমি এখন ঘুমাবো😡(কিছুটা রেগে সাফা)
:সেকি!আমি আরও ভাবলাম তোমার সাথে একটু প্রেম করবো।
আর তুমি ঘুমাবে?(রাফিদ)
:তোর কি আমার পেছনে লাগা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই(সাফা)
:কি করবো বল।তোকে ছাড়া আমি কিছু ভাবতেই পারি না
।ভালোবাসিতো খুব তোকে(রাফিদ)
:দেখ আমরা যাস্ট ফ্রেন্ড।এর বেশি কিছু না(সাফা)
:আমাকে একটু ভালোবাসলে কি হয়।আমি কিন্তু খুব সিরিয়াস।(রাফিদ)
:এটা আমার পক্ষে সম্ভব না(সাফা)
:অসম্ভবকে সম্ভব করাই রাফিদের কাজ মাই ডিয়ার বাবুর আম্মু।
ভালো তোমাকে বাসতেই হবে।আর আমার একটু ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তুমি পাগল হয়ে যাবে।(রাফিদ)
:দেখা যাবে।হুহ রাখ আমি এখন ঘুমাবো।বাই(সাফা)
:ওকে বাই।গুড নাইট(রাফিদ)
সাফার ভাবনা:
উফফফ পাগলটা এইরকম করলে তো আমি অর উপর আরও দূর্বল হয়ে পরবো।ভালো তো ওকে আমিও বাসি। যখন থেকে ভালোবাসার মানেটা বুঝতে পেরেছি ঠিক তখন থেকে ভালোবাসি। কিন্তু রাফিদকে সেইটা বুঝতে দেয়া যাবে না। অরে আর একটু জ্বালাবো। আমিও দেখতে চাই ও আমাকে ঠিক কতটা ভালোবাসে।এতো না ভেবে এখন ঘুমাই।কাল সকালে তোমাকে মজা দেখাবো চান্দু😆
সকালে রাফিদের বাসায়:
টিং টিং টিং
:আরে সাফা মামনি যে,কেমন আছো?(রাফিদের আম্মু)
:ভালো আছি আন্টি।তোমারা কেমন আছো?(সাফা)
:আমরাও ভালো আছি।তুমি বসো আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসছি(রাফিদের আম্মু)
:আচ্ছা আন্টি তোমার শয়তান ছেলে টা কই।(সাফা)
:কি আর বলবো অর কথা।দেখো গিয়ে এখোনো ষারের মত ঘুমচ্ছে(রাফিদের আম্মু)
:পা টিপে টিপে বান্দরটার ঘরে গেলাম।গিয়ে দেখি আরামসে কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে।(সাফা)
দারাও মাই ডিয়ার তোমার ব্যবস্থা করছি।এই বলে রাফিদের বাথরুমে গিয়ে সারা ফ্লোরে সাবান ঘষে দিলাম।তারপর রাফিদকে এসে ডাকা শুরু করলাম।
:(একটু দুস্টুমি করে)ওগো শুনছো।কি হলো উঠছো না কেনো?
বাবুর আব্বু,
ধুর উঠছেই না।কাগজ পেচিয়ে কানের মধ্যে যখন শুরশুরি দিলাম তখন লাফিয়ে উঠলো(সাফা)
:(দেখে তো আমি ভুত দেখার মত চমকে উঠলাম)কি ব্যপার এ আমি কাকে দেখছি, হঠাৎ এখানে?(রাফিদ)
:কেনো আসতে পারি না বুঝি?(সাফা)
:না তা না আসলে..
: থাক আর কিছু বুঝতে হবেনা এখন যাও ফ্রেশ হয়ে এসো কলেজ যাবো(সাফা)
:হুম যাচ্ছি(রাফিদ)
চোখ ডলতে ডলতে বাথরুমে গিয়ে আমি চিৎ পটাং অমাগোওওওও (রাফিদ)
পেছন থেকে হাসির শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি সাফা দারিয়ে হাসছে।
:আহালে আমাল বাবুতা ব্যাথা পাইতে,কোথায় ব্যাথা পাইতে?😆😆(সাফা)
:কোন রকমে উঠে সাফার সামনে গেলাম আর সাফাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে আমার ঠোট দিয়ে সাফার ঠোট দুটো বন্ধ করে দিলাম।
উমমমমমমমমমমমমমমমমম
...........
ঠিক ৫ মিনিট পর সাফাকে ছাড়লাম।দুজনেই হাপাচ্ছি।সাফার দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ দিয়ে পানি পরছে।পরক্ষনেই আমার মনে পরলো হায় হায়,এ আমি কি করলাম😱😱
:সাফা আই এম সরি(রাফিদ)
(সাফা কিছু না বলেই দৌরে চলে গেলো)
:কিরে সাফা চলে গেলো কেনো(আম্মু)
:আমি কিভাবে বলবো?(যাক বেচে গেছি।আম্মুকে কিছু বলে নাই।মনে মনে)
:কলেজে যাবি না?নিচে আয় নাস্তা দিচ্ছি(আম্মু)
:হুম(রাফিদ)
অন্যদিকে সাফা বাড়িতে গিয়ে শুধু সকালের ঘটনার কথা ভাবছে আর লজ্জা পাচ্ছে সাথে রাগও হচ্ছে সাফার।
:বান্দর পোলা,হারামি,কুত্তা,বিলাই হনুমান কোথাকার।একটু দুষ্টামি করে ফেলে দিছি বলে এইভাবে কিস করতে হবে?
ইশশশ আমার ঠোট দুইটার বারোটা বাজিয়ে দিছে।শালা লুইচ্চা।
কিন্তু পরক্ষনেই সাফা লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে আর ভাবছে এখন আমি ওর সামনে কিভাবে যাবো🙈🙈🙈?(সাফা)
অইদিকে রাফিদ কলেজে গিয়ে সাফাকে পাগলের মত খুজছে।আর ভাবছে,
:সকালের ব্যপারটা কি বেশি বারাবারি হয়ে যায় নি তো?
ধুর কেনো যে ওরে কিস করতে গেলাম জোর করে।এখন নিজের মাথা নিজেরই ফাটাইতে ইচ্ছা করছে।
আমার ওপর রাগ করেই হয়তো মেয়েটা কলেজে আসে নি।নাহ কালই সরি বলেতে হবে।ওরে ছাড়া যে আমার এক মুহুর্তও ভালো লাগে না।(রাফিদ)
সেইদিন আর রাফিদ কোনো ক্লাস না করেই বাড়ি চলে যায়।
★
আর সাফার সারা দিন কেটে যায় সকালের কথা চিন্তা করতে করতে।
:(রাতে আয়নার সামনে বসে)ইশশশ আমার ঠোট দুইটার বারোটা বাজাই দিছে শয়তানটায়।(সাফা)
আবার এই ভেবে সাফার ভালোও লাগছে যে ওর ভালোবাসার মানুষটির প্রথম ছোয়া পেয়েছে।সাফা যেনো রাফিদের স্পর্শগুলো অনুভব করতে পারছে আর লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে😊😊😊
★
রাফিদেরও একই অবস্থা।সকালের কথা মনে পরলেই ওর বুকের ভেতরটা কেমন যনো করে ওঠে।ওর চখের সামনে সাফার ভয়ার্ত মুখাটাই যেনো খালি ভাসছে।ইশশশ পাগলিটাকে ভয় পেলে কি সুন্দরটাই না লাগে।বিয়ের পর মাঝে মাঝে পাগলিটাকে এইভাবে ভয় দেখাতে হবে😜😜।
অই মুহুর্তের কথা ভেবে যেনো ওদের দুজনের চোখ থেকেই ঘুম চলে গেছে।তাই সেইদিন আর কেউই ঠিক মত ঘুমাতে পারে না।
পরেরদিন সকালে,
:আম্মু আমার নাস্তা দাও আমাকে একটু তারাতারি কলেজে যেতে হবে(রাফিদ)
:তুই ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি তোর নাস্তা দিচ্ছি(আম্মু)
নাস্তা করে রাফিদ তারাতারি করে কলেজে চলে গেলো।গিয়ে দেখে সাফা এখনো আসে নি।তাই রাফিদ ওদের ডিপার্টমেন্টের কয়েকটা মেয়ের সাথে দারিয়ে কথা বলছিলো।
কলেজে ঢুকেই রাফিদকে মেয়েদের সাথে হেসেহেসে কথা বলতে দেখে সাফার মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো।আর সেইটা বুঝতে পেরেই রাফিদ আরো বেশি করে হাসাহাসি করতে লাগলো।
সাফা সেইখানে আর এক মুহুর্তও না দারিয়ে কলেজের পুকুরপাড়ে গিয়ে একা একা বসে রইলো।
:আমাকে নাকি কুত্তাটায় ভালোবাসে😡,
এই ওর ভালোবাসার নমুনা?
কিস করবে একজনকে আর রঙ তামাশা করবে অন্যদের সাথে।আসুক খালি একবার আলগা পিরিত দেখাতে,তখন বোঝাবো এই সাফা কি জিনিস হুহ😡😡😡(সাফা)
:কিছু একটা পোড়ার গন্ধ পাচ্ছি মনে হয়😜
:তুই...................
চলবে.........
(( গল্পটা পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট আর শেয়ার করুণ))
বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৯
ঝগড়াটে ভালোবাসা
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন