Entertaiment লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Entertaiment লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২০

চাচাতো বোন যখন বউ/asadrahman

জানুয়ারি ২৭, ২০২০ 0
চাচাতো বোন যখন বউ/asadrahman
চাচাতো বোন যখন বউ" (part:2) কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে গিয়েছিলাম নুসরাতের রুমে, গিয়ে দেখি উনি Tik Tok ভিডিও বানাতে ব্যস্ত...।তাই দরজার সামনে গিয়ে শাহরুখ খানের মতো স্টাইল নিয়ে... এ এ এ "ছোঁওয়াগাত নেহি কারোগি হামারা...? নুসরাত আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে এক মিনিট দাড়া নড়বি না, ছোওয়াগাত করতেছি তকে। তারপর পাশে থেকে একটা জুতা নিয়ে ঠাস করে আমার দিকে ছুরে মারলো। এরপরের বার রুমের সামনে আসলে.. ঝাড়ুছে কারোংগি তেরি ছোওয়াগাত....।এর পর পরই মুখের উপর ধারাম করে দরজা টা বন্ধ করে দিলো ইজ্জত কি ফালুদা বানা দিয়া রে.. ।আশে পাশে ঘুরে দেখলাম কেও আবার দেখে ফেললো নাকি।বলা তো যায় না কে আবার ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে ছেরে দিবে।এ সমস্ত ভিডিও ভাইরাল করতে তো আপনাদের আবার সময় লাগে না.. ।না, আশে পাশে কেউ নেই ভেবে যেই একটা স্বস্তির দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়তে যাবো ঠিক তখনি তাকিয়ে দেখি কাজের মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে ফ্যালফ্যাল করে হাসতেছে।আমি সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম কি হয়েছে হাসতেছো কেন..? কাজের মেয়েঃআমি সব দেখে ফেলেছি দাদা ভাই.. আমিঃএই রে, এইবার ইজ্জত নিলামে উঠবে শিওর।আমাদের কাজের মেয়েটাকে সবাই বি বি এস খবরবার্তা বলে।কারন ও সব কিছু 5G স্পিডে ছড়িয়ে দিতে উস্তাদ। তখন মাথায় ঘুরে ফিরে একটা গানই বাজতেছিলো"লুট গায়া ম্যা লুট গায়া"।ইজ্জতের মায়া ছেরে রুমে গিয়ে ফেসবুক টা লগইন করলাম।আহা কতো সুন্দর সুন্দর মেয়ে আমার ফ্রেন্ডলিস্টে, বিয়ের পর আর এদের সাথে কথা বলতে পারবো না ভেবেই আবেগে বুক হালকা হয়ে গেলে থুক্কু ভারি হয়ে গেলো।এসব কথা চিন্তা করে করে কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম বুঝতেই পারলাম না।ঘুম ভাঙতেও বেশী সময়ের প্রয়োজন হলো না,ধারাম করে এক গাদা পানি উড়ে এসে আমার উপরে পরলো। তাকিয়ে দেখি নুসরাত। আমিঃএগুলার মানে কি...? নুসরাতঃতর জন্য চা এনেছি... আমি:চা এনেছিস ভালো কথা তাই বলে এ ভাবে ঘুম ভাঙাবি..?দে.... নুসরাত: কি..? আমি: চা টা দে.. নুসরাতঃএই নে আমি একটু মুখে দিয়ে... আমি:বেআক্কেল মেয়ে ১৮ বছর হয়ে গেছে এখনো লবন আর চিনির পার্থক্য বুঝস না।চায়ে লবন না,চিনি দিতে হয় এ গুলা কেও তকে শিখায় নাই..? নুসরাত:চায়ে লবন ইচ্ছা করেই দিছি। এখন থেকে এগুলাই তর কপালে আছে।যতো তাড়াতাড়ি অভ্যাস করতে পারবি তর জন্য ততোই ভালো...বায় এখন ঘুমিয়ে থাক। আজব মাইয়া।পানি দিয়ে গোসল করিয়ে এখন বলে ঘুমিয়ে থাক।কি আর করার ভেজা শরিরে তো আর থাকা যাচ্ছে না তাই সকাল সকাল গোসল টা করেই ফেললাম। শীতের সকালে গোসল করার স্বাদ একমাত্র স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরাই বলতে পারবে।এমন ভাবে কাপতেছিলাম মনে হচ্ছিলো শরিরের প্রতিটা পেশিকোষে কেও ১১০০০ হাজার বোল্ডের বিদ্যুৎ এর শক দিতেছে। রেডি হয়ে নিচে চলে গেলাম নাস্তা করতে। হঠাৎ ফোন আসলো মেঝু চাচা,মেঝুচাচি দেশে আসতেছে।তাদের আনতে বিমানবন্দরে যেতে হবে। দুপুরের খাবার খেয়ে ছোট চাচাতো ভাই টাকে নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম।কিছু সমস্যার জন্য চাচা-চাচির ফ্লাইট ৩ ঘন্টা পিছিয়ে গেছে।কি আর করার, গাড়িতে বসে টিভি দেখে সময় পার করে দিলাম।অত:পর ১০:৪০ এ চাচা চাচি কে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম এবং ১১:৫৫ তে বাসায় পৌছে গেলাম।বাসায় গিয়ে মোবাইল চার্জদিতে গিয়ে দেখি চার্জার গায়েব।কে গায়েব করেছে তা এখন ভাবার সময় নেই,বউয়ের অবস্থা খারাপ যে কোন সময় দম বের হয়ে যাবে মাত্র ৩% চার্জ আছে।হঠাৎ মাথায় আসলো নুসরাতের দুইটা চার্জার একটা সিস্টেম করতে পারলেই আমার কাজ চলে যাবে।চোরের মতো নুসরাতে ঘড়ে প্রবেশ করে যেই চার্জার আনতে গেছি আর তখনি নুসরাত চলে এসেছে..।জান বাচাতে দিলাম অলম্পিকে ৮০০ মিটারের দৌড়, পায়ে লেগে নুসরাতের রাঙামাটি থেকে আনানো শখের ফুলেরটব টা ভেঙে চৌচির হয়ে গেলো।ভয়ে আমার হার্ট টা যেন বের হয়ে আসতেছিলো।বুঝতে পারতেছেন ধরতে পারলে ও আমার কি হালটাই না করবে...জান বাচাতে ছাদে গিয়ে পালাইছিলাম কিন্তু নুসরাত তো নাছোড়বান্দা জানে আমি ভূত কে অনেক ভয় পাই তাই আমাকে কিছু না বলে, চিলেকোঠার দরজাটাই লক করে দিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় আবার বলে গেছে বেস্ট অব লাক।এখন আমি ছাদে বসে গল্প লেখতেছি।দোয়া করবেন বেচে থাকলে পরের পর্বদিবো। .

বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২০

হঠাৎ দেখা ২০২০

জানুয়ারি ১৫, ২০২০ 0
হঠাৎ দেখা ২০২০
০১. সেদিন দেখেছিলুম লাল বেনারসিতে, চোখে ছিল গাঢ় কাজল, মাথার চুলে ছিল সোনার টিকলি। বেনারসির আচঁলটা ঘোমটা দিয়ে তুলা ছিল মাথায়। বেশ মানিয়েছিলো তাকে। একবার তাকালে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝলুম এত আয়োজনের মধ্যেও দৃষ্টিতে তার আগুন ঝরা শূন্যতা, সেই শূন্যতায় মুরুভূমির মতো তৃষ্ণার্ত চোখ দুটো কিসের অপেক্ষায় ডেবে গিয়েছে ভেতরে, অদূরে চেয়ে আছে দিগন্তের লাল রঙের দিকে । সেই অঙ্কিতা, যাকে দেখেছিলুম লাল বেনারসিতে, কপালে আঁকা ছিল টিপ; মাথায় তুলা ছিলো লাল বেনারসির ঘোমটা, তাকে আজ দেখলুম বিধবার সাদা শাড়িতে ! কেমন যেন বড্ড বেমানান লাগছে চোখে। আগের থেকে শুকিয়ে গেছে অনেক, চোখের নিচে পড়েছে কালি, বয়সের ছাপ পড়েছে ভাজ পড়া চামড়ার ভেতরে । সেই চোখ, মুখ, নাক, পাতলা ঠোঁটের একপাশের কালো তিলটাও: সবকিছু আগের মতোই আছে, একটুও বদলায় নি। চুলগুলোও ঠিক আগের মতো আছে, শুধু কপালের সামনের কয়েকগাছি চুলে পাক ধরেছে। প্রথমেই তাকালুম চোখের দিকে: দৃষ্টিতে সেদিনের আগুন ঝরা শূন্যতা আর নেই। সেদিনের দৃষ্টির আড়ালের শূন্যতায় অপেক্ষা ছিলো, হয়তো অপেক্ষার আড়লে তিল তিল করে জমিয়ে রাখা আশাও ছিলো। আজ এত বছর পর সেই চোখের দিকে হঠাৎ তাকিয়ে দেখলুম- সেখানে শূন্যতা আছে ঠিকই, কিন্তু সেই শূন্যতায় আর আগুন ঝরছে না। সেই শূন্যতা কেমন যেন নিস্তব্ধ, নিঃস্পৃহ, নিরব। নেই অপেক্ষা, আশা আর হতাশাও। আজ কত বছর পর দেখা, জানিনে। একসময় না দেখার হিসেবগুলো গুনে গুনে রাখতাম, খাতায় অংক কষার মতো। হিসেব রাখতে রাখতে কখন যে ক্লান্তি ভর করল, বিষণ্ণতা এসে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিলো, বুঝতেই পারলুম না। সেই থেকে হিসেব রাখাটা ভুলেছি বহুবছর। আজকের দিনটা বড় মেঘলা, সকাল থেকে ঝির ঝির করে বৃষ্টি পড়ছে ক্লান্তিহীনভাবে। অদূরে লাগানো আমার হাতের রক্তজবা গাছে ফুল ফুটেছে; বৃষ্টির ফোঁটায় কেঁপে কেঁপে ওঠছে তার পাপড়ি। সকালে স্টেশনে ট্রেন আসার কথা ছিলো, সেটা লেট করেছে। সকালের ট্রেন আসবে দুপুরে। আমার কোনো কাজ ছিলো না। বৃষ্টির বাতসের ঝাপটায় ওড়ে আসা গাছের কাঁচা পাতা ছড়িয়ে রয়েছে প্লাটফর্মের যত্রতত্র। ভাবলুম, পাতাগুলো কুড়িয়ে প্লাটফর্মটা পরিষ্কার করে দেই। পাতা কুড়িয়ে প্রায় পরিষ্কার করে ফেলেছি, অমন সময় চোখ পড়ল প্লাটফর্মের এককোণায়। দেখলুম কে যে বসে আছে সাদা আঁচলে ঘোমটা মাথায় । পাশে একটা টিনের বাক্স। শাড়ির আঁচলে মুখটা এমনভাবে ডেকে রেখেছে দেখা যাচ্চেনা। কাছে গিয়ে বললুম, -আপনি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন নাকি? ও শাড়ির আঁচল সড়িয়ে মুখ তুলে তাকালো আমার দিকে। প্রথম দেখাতেই চিনতে পারল নাকি জানিনে। অনেক্ষণ পর ধীরে ধীরে ওঠে দাঁড়াল, মৃদুভাবে কাঁপা গলায় বললে, রুপম…! বললুম, হ্যাঁ । কতক্ষণ যে বিমূঢ়ের মত দাঁড়িয়ে থাকলুম বলতে পারিনা। ও-ই আমাকে প্রশ্ন করল, বললে,- চিনতে পেরছ? ম্লান হেসে বললুম, হ্যাঁ। “কে?” -অঙ্কিতা ! ০২. শ্রাবণের ঘোমুট বাধা অন্ধকারে ঝড়ো বাতাসে একটুকরো ছেঁড়া চিঠির অংশ ওড়ে এসে পড়লে আমার পায়ের কাছে। তখনো কি জানতাম তার দেখা পাওয়া সম্ভব হবে? হায়, আজ কি অবেলায় তার দেখা পেলুম ! আমি জানতাম, কোনো একদিন তার দেখা পাবো; কোনো একদিন : যখন সূর্যটা অস্ত যাবে, ওপারের আকাশে অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে, নিমজ্জিত আঁধারে নিজের প্রতিচ্ছবিও যখন দ্যাখতে পাবোনা, তখনো হয়ত তার দেখা পাবো ! আমি জানতাম তার দেখা পাবো! কিন্তু, হায়, এমনভাবে তাকে দেখতে পাবো সেটা কি কখনো কল্পনা করেছিলুম? আমি তাকে কল্পনা করেছিলুম বাসন্তি রঙের শাড়িতে, চোখের নিচে লেপ্টে যাওয়া গাঢ় কাজলে, পাতলা ঠোঁটের কোণায় ফুটে ওঠা এক চিলতে হাসিতে ! হায় নিয়তি, আমি কি তাকে কখনো কল্পনা করেছিলুম, সাদা শাড়িতে? বেদনায় লেপ্টে যাওয়া চোখের নিচের গাঢ় কাজলের লেখাতে? শুকিয়ে যাওয়া মৃত ঠোঁটের এক চিলতে শুষ্ক হাসিতে? কক্ষনো না। কিন্তু নিয়তি হয়ত এভাবেই আমাদের দেখা মিলিয়ে রেখেছিলো। জিজ্ঞেস করলুম, এখানে কি করে আসলে? স্মিতহাস্য মুখে অদূরে চেয়ে বললে, কাজের স্বার্থে কত জায়গা যেতে হয়, এখান আর সেখান বলতে কোনো কথা নেই। “কি কাজ?” “মেয়েদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলার কাজ । তাদের কে নিজের পথ চিনিয়ে দেবার কাজ, নিজের আপন স্বত্বাকে ভুলে মেয়েরা নিজেকে খাঁচায় বন্দি পাখির মত করে রেখেচে , তাদের সেই আপন স্বত্বা কে জাগিয়ে তুলার কাজ।” চুপ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলুম অনেকক্ষণ। বুঝলুম নারী মুক্তির আন্দোলনে সে যোগ দিয়েছে। খানিক পর বললুম-“কবে থেকে এই কাজে আসলে?” “সুজিত চলে যাবার পর।” খানিক থেমে কিছুক্ষণ পর আপন মনেই বলতে থাকলে, সে অনেক বছর হলো। বিয়ের দুবছর পর আমি যখন পাঁচ মাসের অন্তঃস্বত্বা : রোড এক্সিডেন্টে সুজিত মারা পড়লে। শ্বশুর বাড়ির লোক ছিলো পুরোনো ধ্যান ধারণার, অপবাদ দিয়ে বল্লে, অপয়া, রাক্ষুসী। আরো কত কি উপাধি যে নামের সংঙ্গে যুক্ত করলে সেইসবের কথা এখন আর অত মনে পড়ে না। তুমি ভাবছো রাগ করে বুঝি তখন আমি চলে আসলুম। আরে না, ঠিক চলে আসলুম না, বিদেয় করে দিলো। তখন থেকে কি একটা যেনো আমার ভেতরে গজিয়ে ওঠছিলো ধীরে ধীরে, ঠিক বুঝে ওঠতে পারছিলুম না। সেই কি একটা যে আমার ভেতরের আলাদা একটা অংশ: এতদিন চাপা পড়েছিলে আবর্জনায় নিচে, এখন সুযোগ পেতেই অঙ্কুর গজানো শুরু করেছে সেটা বুঝতে আমার ঢের সময় লেগেছিলো। মেয়ে জন্ম নেওয়ার অনেক পড়ে বুঝলুম আমি আর আমি নেই। ঈশ্বর আমাকে নতুন জীবন দেখিয়ে দিলেন, আমিও সেই নতুন জীবনটাই বেচে নিলুম। এই পর্যন্ত বলে চুপ হতে রইল। বুঝলুম, জীবন সংগ্রামে হারতে হারতে জয়ী হয়ে ওঠেছে । নিজের ভেতরে গজিয়ে ওঠা স্বত্বাটা ভেঙে ফেলেছে নিয়ম বাধা সব শেকল। ছুঁড়ে ফেলেছে মুখোশের উপরের আবরণ। শুধু নিজের ভেতরের শেকলটা ভেঙে ফেলে, আবরণটা টেনে ওঠিয়েই ক্রান্ত হয়নি। এখন ভেঙে ফেলতে চাইছে সমাজের পায়ে বাধা শেকল, মুখোশটা ছিড়ে ফেলে দেখিয়ে দিতে চাইছে আসল চেহারা। বললুম, মেয়েও কি তোমার সাথে থাকে? “হ্যাঁ এতদিন সাথেই ছিলো, এখন থাকে না। এলাহাবাদে ওর বিয়ে দিয়েছি বছর তিনেক আগে ।” ০৩. আমার কথা জানতে চাইল। আমি এখানে কিভাবে স্টেশনমাস্টার হলাম? এই ভূতুড়ে জায়গায় কি করছি? এখান থেকে টার্ন্সপার হয়ে অন্যকোথাও চলে যাচ্চিনা কেন? সংক্ষেপে সব প্রশ্নের উত্তর করলাম। কিছুক্ষণ বৃষ্টি থেমে ছিলো, এখন আবার মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ট্রেন আসতে বেশি সময় নেই। হাতে যখন আর মিনিট দশেক সময় আছে, ওকে বসিয়ে রেখে ছুটে গেলাম বাইরে, রক্তজবা গাছটার কাছে। ফুল এসেছে অনেক, ফুলের ভারে গাছটার একটা চিকন ডাল নুয়ে পড়েছে মাটিতে। অনেকগুলো ফুল নিলাম। ভেজা শরীলে ওর হাতে যখন ফুল তুলে দিলাম ও বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইলে আমার দিকে। বললুম, তুমি রক্তজবা পছন্দ কর ভুলিনি। স্টেশনের ওধারটায় কয়েকটা গাছ লাগিয়ে ছিলুম অনেক আগে। প্রতি বর্ষাতে অনেক ফুল আসে, তেমনিভাবে ঝড়ে ঝড়ে পড়ে মাটিতে। কুড়িয়ে পর্যন্ত নেবার কেউ নেই। আমি মাঝে মধ্যে গিয়ে শুধু দ্যাখতুম, কখনো ঝড়ে পড়া ফুল কুড়িয়ে তুলতুম, কিন্তু ফিরে আসবার সময় ওভাবেই আবার ফেলে আসতাম । ফুলেরা হয়তো জানতো এই অসময়ে দেখা হয়ে যাবে ! ও আমার দিকে গাঢ় বিষাদভরা চোখে খানিক তাকিয়ে রইলে, ঠোঁটের কোণায় এক চিলতে শুষ্ক হাসির আভাস ফুটিয়ে তুলে বললে, রঙিন কাঁপড় ছেড়েছি সে অনেক বছর হলো; যদি নিজেকে রঙিন করার অভিলাষ মনে পুষে রাখতুম তাহলে জীবনের গাছে রক্তজবা ফুটতো তারও বহু আগে। ০৪. এই নির্জন স্টেশনে ট্রেন আসে, তবে যাত্রী হয়না সবসময়। হঠাৎ হাঠাৎ দু-একজনের দেখা পাওয়া যায়। ট্রেন থামে, ট্রেনে যাত্রী ওঠে, হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আবার চলে যায়। আবার কখনো যাত্রীশুন্য স্টেশনে ট্রেন আসে, পতাকা নাড়াই, কিন্তু সেদিন আর কেউ ওঠেনা, ট্রেন রীতিমতো গন্তব্যে ছুটে চলে। কিছুক্ষণের জন্য ট্রেনের হুইসেলে গমগম হয়ে ওঠে সারা স্টেশন, ট্রেন চলে গেলে আবার নির্জনতায় ডুবে যায় চারিপাশ। নিস্তব্ধ নিরবতায় খাঁ খাঁ করে দিগন্ত। অঙ্কিতা দাঁড়িয়ে আছে প্লাটফর্মে। পরনে সাদা শাড়ি, হাতে লাল টুকটুকে রক্তজবা। দৃষ্টি দূরের মেঘলা আকাশে নিবদ্ধ। মুষুলধারায় বৃষ্টি পড়ছে, বৃষ্টির শব্দে শুনে ভাবলুম, আকাশটা ফেটে বুঝি চৌচির হয়ে গেছে। বৃষ্টির শব্দে ঢাকা পড়েছে দূরের ট্রেনের হুইসেল। বৃষ্টিতে স্নান করে ধীর শরীলে ট্রেন যখন একেবেঁকে এসে ডুকেছে পাল্টফর্মে ; ও দূরের আকাশ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এনে আমার দিকে ফিরে বললে, -তোমার ছেলে মেয়ের কথা জিজ্ঞেস করলুম নাতো? তোমার ছেলে মেয়ে কয়টা? “নেই। ” ও কেমন বিস্ময় নিয়ে চেয়ে রইলে। ট্রেনের হাতল ধরে উঠতে যাবে এমনসময় অবিশ্বাসের স্বরে ফের জিজ্ঞেস করলে, -“সত্যি কোনো ছেলে মেয়ে নেই?” মাথা নাড়িয়ে বললুম, – না, নেই। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে, ও বসেছে জানলার পাশে। বাইরে থেকে তার হাতের অংশ দেখা যাচ্ছে। ট্রেনের গতি যখন বেড়ে চলেছে, ও জানলা দিয়ে মাথা বের করে তাকালো। বৃষ্টিতে ভেজে যাচ্ছে তার চুল, সেইদিকে খেয়াল নেই। ট্রেন ছুটে চলছে দ্রুত। হয়তো ওর গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের জল, বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে যাচ্ছে বহুদিনের জমানো ধূলোবালি। আমি তা অনুভব করলেও দ্যাখতে পাচ্ছিনা । কখন যে বৃষ্টি থেমে গেলো, ট্রেনের হুইসেল থেমে গিয়ে কবে যে দূরে মিলিয়ে গেলো ঠিক বুঝে ওঠতে পারলুম না। বিহ্বলতা কাটিয়ে ওঠতেই দেখি, এক অসহ্য নিরবতা, নিঃসঙ্গতা, নিস্তব্ধতা যেন দিগন্তবিস্তৃত নির্জনতা জুড়ে খাঁ খাঁ করছে। অদূরে লাগানো রক্তজবা গাছটার দিকে তাকিয়ে দেখলুম, তখনো পাপড়ি থেকে জল ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে পড়ছে মাটিতে।

হলো না পাওয়া তোকে

জানুয়ারি ১৫, ২০২০ 0
হলো না পাওয়া তোকে
উফফ, অসহ্য, সন্ধ্যায় এতটা বাজে পরিস্থিতিতে পরবে, কখনো ভাবেও নি মাহমুদা, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো, রাস্তা থেকে একপ্রকার দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ই পাশের একটা টং এর দোকানে গিয়ে দাঁড়ালো সে, ইতিমধ্যে সেখানে আরো লোকজন জড়ো হয়েছে বৃষ্টি থেকে একটু বাঁচার আশায়। . কয়েকটা ছেলে এসে মাহমুদার ভিজা শরীরের দিকে তাকিয়ে মজা নিচ্ছে। . মাহমুদা তার হাজব্যান্ড কে ফোন দিচ্ছে বারবার।ধরছে না কেটে দিচ্ছে। একরাশ বিরক্তি মুখে নিয়ে মনে মনেই সে উচ্চারণ করল স্টুপিড, কেয়ারলেস। . খিট খিটে মেজাজ ঠান্ডা করার কোনো উপায় পাচ্ছে না মাহমুদা।বাজে ছেলে গুলো গায়ের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবারও সে কল দিলো তার হাজবেন্ড কে।কল ওয়েটিং!! কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা সে।হঠাৎ মাহমুদা খেয়াল করলো এই ঝড় তুফানের মাঝেও একটা ছেলে ভবঘুরের মত ভিজে ভিজে আসছে।এটা দেখে মাহমুদার কলেজ জীবনের কথা মনে পড়ে যায়।তার ও বৃষ্টিতে ভেজার লোভ হয় খুব।কতো দিন মন খুলে বৃষ্টিতে ভেজা হয়না তার।কিন্তু এই শাড়ী – হাই হিল পরে কেউ বৃষ্টিতে ভিজলে সেটা কেমন যেনো হয়ে যাবে।ছেলেটার দিকে তাকিয়েই থাকতে থাকতেই এসব ভাবে সে।এদিকে হাঁটতে হাঁটতেই ছেলেটা খেয়াল করে একটা অপ্সরীর মত সুন্দর মেয়ে তার দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছে।ছেলেটা তখন আর মন খুলে ভিজতে পারেনা। মন খুলে বৃষ্টিতে ভিজতে হয় লোকচক্ষুর আড়ালে।বৃষ্টিতে ভেজার সময় কেউ হা করে তাকিয়ে থাকলে সেটা যে কত বিরক্তিকর তা যে ভেজে সেই কেবল বুঝে, ছেলেটাও ভেজা বাদ দিয়ে টং দোকানে এসে দাঁড়ায়, লজ্জায় মেয়েটার দিকে একবার ও আর তাকায় না। মাহমুদা তার কিশোরীবেলার স্মৃতি থেকে বাস্তবে ফিরে গাড়ির হর্ণ এর আওয়াজে।একজন সুটেট বুটেট লোক গাড়ির দরজা খুলে একরাশ বিরক্তি মুখে নিয়ে মাহমুদার দিকে তাকিয়ে ধমকের স্বরে বলে ভিতরে আসোহ।শাড়ি- হাই হিল পরে মাহমুদা টং দোকান থেকে বৃষ্টির ভিতর দিয়ে হেঁটে গিয়ে গাড়িতে উঠে।ওঠার সময় খেয়াল করে ভবঘুরে ছেলেটা তাকিয়েই আছে তার দিকে এখনো। . সাঁই সাঁই শব্দ করে পানির বুক চিরে চলে যায় গাড়িটা।ছেলেটাও আবার বৃষ্টির মাঝে হাঁটা শুরু করে। ___________________________ মাহমুদা গাড়িতে বসে ফোন হাতে নেয়। অনেক আগের মুখস্ত করা নাম্বার,একটু কষ্ট করে মনে করে।তারপর , টপাটপ ডায়াল করে, একটা মেসেজ পাঠায়, ” আগের মতই রয়ে গেছো তাই না?? তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে গোসল করো।নাহলে ঠান্ডা লেগে যাবে।জ্বর আসবে ” ছেলেটা মেসেজের শব্দ পায়, পকেট থেকে মোবাইল বের করে,স্ক্রীনে জ্বল জ্বল করতে থাকা প্রিয় নামটা আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে আসে বৃষ্টির পানির ফোঁটায়, ৮ বছর আগেও, এভাবেই নামটা আবছা হয়ে এসেছিলো ছেলেটির চোখের পানিতে, আজ চোখে পানি আছে?? হয়ত নেই, আবার হয়ত বৃষ্টির পানির সাথে মিশে গেছে তাই বোঝা যায় না। ৮ বছর আগে,মাহমুদার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করেনি হাসিব। বিরক্তি বোঝাই করা সংসার হলেও কোনরকম চলে যাচ্ছে মাহমুদার জীবনগাড়ি, কোন এক হঠাৎ সন্ধ্যায় আবার তাকে দেখা!! . থেমে নেই সময়।কখন যে আট টা বছর কেটে গেলো!! ভেবেই আবার ঝুম বৃষ্টিতে, রাস্তার পাশ ধরে হাঁটতে হাঁটতে চোখের আড়াল হয়ে যায় ছেলেটি। লেখক : আসাদ রহমান কোটচাঁদপুর,ঝিনাইদহ

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভাল লাগার কথা

ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯ 0
ভাল লাগার কথা
পৃথিবীর কোন কিছুই ছোট বা বড় করে দেখার মত কিছুই না।
তাঁর অবস্থানই তাঁর উত্তর বলে দিতে পারে
হতে পারে ভাল মন্দ দুইটাই মানুষ এবং মানুষের ছাঁয়ার মতো কাঁছাকাঁছি।

ভুল হয় সে ভুল শিকার করা,ভুল শিকিয়ে দেয় কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয় ভুল করে সাঁজিয়ে গুছিয়ে লেখা শুরু করলাম।

ভাল লাগার কথা,ভাল বাসার কথা।একটি ছেলে আর মেয়ের সাংসারিক জীবনের ছোট্ট কিছু কথা দিয়ে।

আমি নাঁয়ে,তুমি ঠাঁয়ে,বাঁধিয়াছ ঘর।আমার মাঝে সর্বদা তুমি সহচর।
এখন বুঝি তুমি এমন কেন ছিলে এখন বুঝি তোমার ভালবাসা ছিল কঠিন সত্য ও বাস্তবতাই
প্রমাণ করলে।
যা দূর থেকেও কাঁচে কাঁচে থেকেও দূরে ভালবাসা যাই তাঁর পরেও এমন করে।
আমি যদি তোমার জীবনের সঙ্গি না হতাম তা না হলে বুঝতে পারতাম না।
এমন সত্যতার মাঝে তোমার ভালোবাসায় বেঁচে থাকবো সেটা আমার ভাঙ্গের ব্যপার।


আমি কাঁদি তোমার কথা গুলো ভেবে যা আমার জীরন কে পার করতে সাহায্য করবে।
আমি হাসি আমার না বলা কথাগুলো উত্তর তোমার কাঁচ থেকে পেয়েছি বলে।
কষ্ট পেয়েছি বলা কথা গুলোর উত্তর পাইনি বলে।

আমি তোমায় জিগ্গেস করে ছিলাম,তুমি এমন কেন তোমার মুখে হাসি নেই কেন
সে আমার কোন কথার উত্তর না দিয়ে এরিয়ে যেতো
তখন নিজেকে অনেক টা অসহায় মনে হতো কি করবো বল্ আমি যে এতিম আমার যাবার মতো
তেমন কোন জাইগা নেই বাবা মরা সংসারে ছোট্ট
ভাই তাদের চলা দুর্হ্য।
তখনও সে আমার কোন কথার উত্তর না দিয়ে না শুনা না শুনা এরিয়ে চলত

এমন করে চলে গেল বহু দিন আমি আবার জিগ্গেস করে ছিলাম,
তুমি কি আমায় নিয়ে সুখে নেই।
তখনও সে ঠিক আগের মতো কোন কথার উত্তর না
দিয়ে চুপ করে থাকলো।

এই ভাবে কেটে গেলো কয়েক মাস হঠাৎ করে এক দিন রাতে খাবারের পর শুবার পর সে আমায়
বললো তুমি একটু কাছে এসো
আমি জিগ্গেস করলাম কি হলো এতটা ভালবাসা আগে কোন দিন দেখেনি,সেই দিনও আগের মতো 
আমার কথাটা এরিয়ে গেল।

রাগে খুবে বাম দিক হয়ে শুয়ে রইলাম সে উপরের দিকে মুখ করে শুয়ে আমার উপর পাটা দিয়ে ঘুমিয়ে পরলো
আমি আবার ডাক দিয়ে বললাম এই শোন হু বল্ যদি দরে রাখবে তহলে ভাল করে দরে রাখ না হয় আমাকে আমার মতো করে থাকতে দাও তোমার এই এগেয়ামি ভাল লাগেনা
তখও সে তাঁর মতো শোয়ে রইল কোন ভাবে বুঝতে চাইল না আমি কি বললাম
আমি বার বার চেষ্টা করেছি পাটা নাবার জন্য কিন্তু
নামাতে পারিনি সে এমন ভাবে পাটা আমার উপর রেখেছিল পাটা নামাতে গেলে ঘুমটা ভেঙ্গে যেতো 
আমিও রাগ নিয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।

এমন করে দিনের পর দিন চলতে লাগল তাঁর প্রতি রাগ হয় কিন্তু সে চলা ফেরা মাঝে কেমন জানি মায়ায় ঝড়ানো বেশি ক্ষণ রাগ করে থাকতে পারিনা


যদিও সে কম কথা বলে তাঁর পরেও একটি কথায়
কিছু ক্ষণ কিছু সময় কিছু দিন পযন্ত রাগ মাটি করে দেয় মাঝে মাঝে আমি চিন্তা করি তাঁর্ অনবদ্য কথার মাঝে বেঁচে থাকবো সারা জীবন আমি আর
কিছু চাই না।

রাত ৯ টার সময় হঠাৎ এসে খুব হাসি খুশি ভাবে আমায় ডেকে বল কি কর আমি বললাম কিছু না
ঠিক আছে খাবার খেয়েছ হ্যাঁ
আমার শরিলটা ততটা ভাল না আমার ঘুম আসছে
আমি ঘুমাব তুমি একটা কাজ কর্
কি কাজ দেখ ঘরে অনেক মসা মসারিটা টানিয়ে দাও এই বলে শুয়ে পরল
আমি মসারিটা টানাতে গেলে বলে উঠ সাবধানে
উপরে ফেন আছে হাতে লাগবে আর লাইটের আলো আমার চখে লাগে এই নাও গামছাটা মসারির উপর দিয়ে দাও সাবধানে খেয়াল করে কাজ করো হাতে লাগে না যেন 
তখন আমি বললাম আজ কি হলো এত দরদ বড়ে
বার বার সাবধান করছ
ঠিক আগের মতো উত্তর টা পেলাম না।
মনের বেতর রাগ নিয়ে পাশের রুমে চলে গেলাম
আমায় ডাক দিয়ে বললো কাজ শেষ করে এসে শুয়ে পড়।
পর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল যাবার সময় কিছু বলে যায়নি 
মনটা খারাপ এতটুকু বুঝতে পেররছি রাত দশটার দিকে আবার বাড়িতে এলো ঠিক সকালের মতো
মুখ ঘুমরা করে আছে।
আমি বললাম কি হয়েছে সকালে মনটা খারাপ করে কিছু না বলে চলে গেলে এখনও মনটা খারাপ তাই 
জিগ্গেস করলাম। 
আমি ভাল আছি
তুমি ঠিক থাকলে এক বার আয়নাতে মুখটি দেখ
দেখার পরে উত্তর পেয়ে যাবে।
সে দিনও উত্তর না দিয়ে চুপকরে থাকলো


এমনি করে দিন যেতে লাগল আর সে ধীরে ধীরে
দুর্বল হতে লাগল
কিছু দিন পর রাতে শোয়ার পর শরিলে জর আসে
সারা রাত তার সেবা যত্নে কেটে যাই সকালে আমি
ডাক্তারের কাছে যাবার কথা বললে সে অসমম্তি
জানায় প্রশ্ন করলে সে নাকি ঠিক আছে এমনিতে
ঠিক হয়ে যাবে দুই তিন দিন যেতে না যেতে সে মৃত্যুর কূলে ডলে পরে।

এই সংসারে আপন বলতে কেউ নেই চলে যেতে হবে
মন ভেঙ্গে গেলো চাওয়া পাওয়ার হিসেব গুলো ক্ষেন্ত কষ্টের দেহাই দিয়ে ফেরানো সম্বব না
তুমি আমার কি ছিলে যা ছিলে
তাঁর পৃথিবীতে যার কোন তৌলনা নেই তুমি তো
চলে গিয়ে একা আর আমি সমাজ সংসারে হাজারও মানুষের বিরে অসহায়ত্ব হয়ে একা
মারা যাবার কিছু দিন পরে তার ব্যাবহারের মাঝে একটার ডাইরীটা খোজে পেলাম তাঁর মাঝে কিছু লেখা দেখতে পেলাম।
সে কথা গুলো হলো চুপকরে থাকা,কথার উত্তর না দেয়ার উত্তর- 

"আমি কেমন জানিনা আমি জানি আমার হাসি পাই যখন তুমি

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

||কিপ্টা গার্লফ্রেন্ড||writer: Md Asad Rahman||

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ 0
||কিপ্টা  গার্লফ্রেন্ড||writer: Md Asad Rahman||
||♥Writer: Md Asad Rahman♥ || ||♥Jhenaidah♥ ||♥kotchandpur♥|| "আমার গার্লফ্রেন্ড যে এতটা কিপ্টামি করে আগে জানতাম না। জানলাম আজকে মার্কেটে আসার পর। শুধু এদিক সেদিক ঘুরছে। কোন দোকানে যাচ্ছেনা। আমিও সুবোধ বালকের নেয় ওর পিছু পিছু ঘুরছি। প্রচুর রাগ হচ্ছে। মন চাচ্ছে বাজারেই পিঠে গুম্মুত করে কিল দেই।😇 নিজের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে দিলাম না😏। বললাম....  . --বাবুউউউউউউ....🤔 . -কি হলো ভ্যাবরাচ্ছো কেনো?🤔 . --আজব আমি ভ্যাবারালাম কখন? 🤔 . -হারামজাদা তাইলে এত বাবুউউউ মারাও কেন?😇 . --সরি....😅 . -বাবু একটা কথা বলি? . --বলোগো..?😇 . -বলছি মার্কেটে টিশার্টের দাম বেশি। আচ্ছা আমরা বরং ফাডা কোম্পানি থেকে টিশার্ট কিনি কেমন? . --ফাডা কোম্পানি কি? . -আরে বাবু ঐ যে মোরে যে দোকান গুলো বসে। . --মানে...?😏 . -চলোতো আগে টিশার্ট কিনে দেই। . তারপর আমাকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো একটা দোকানে। দোকান দেখে দেখে আমি শিহরিত। এই গুলা দোকান থেকে টিশার্ট কিনে দিবে? এ জীবন রেখে কি লাভ। মারিয়া বলল.... . --ও বাব্বুউউউউ...😇 . -হুম বলো? . --এখান থেকে দুটো টিশার্ট নাও। . -তুমি পছন্দ করে দাও। . --আচ্ছা . তারপর মারিয়া দোকান থেকে দুটো টিশার্ট নিলো। আমার গায়ে ধরে দেখলো হবে কিনা। গেঞ্জি দুটো আমার একদম অপছন্দ। কিন্তু ভয়ে না করতে পারছিনা। অবশেষে সেই দুটো পছন্দ করলো। মারিয়া বলল.... . --চাচা দাম কত?  . -মামনি আপনে মাইয়া মানুষ আপনার জন্য একদাম দুটো ৬২০ টাকা। . --হুররর চাচা কি বলেন। আরো কমিয়ে বলেন। . -আর তো কমানো যাবেনা। . --আচ্ছা দুটো ৪০০ টাকা দেই? . মারিয়ার দাম শুনে টাস্কি খেলাম। বুকটা ফেটে যাচ্ছে। দোকানি চাচা হা করে তাকিয়ে আছে। একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার মারিয়ার দিকে। আমি কি বলবো বুঝতে পারছিনা। মনে মনে বললাম, হে আকাশ তুমি নুডলস ফালাও মুই খাইতে খাইতে নেপচুন যায়াম। মারিয়া আবার বলল.... . --কি হলো চাচা ৪০০ টাকায় দিবেন।  . -না এতো কম দামে দেওয়া যাবেনা।  . --আচ্ছা ৪৫০ টাকা এবার দেন। . -নিলে একদাম ৫০০ টাকা।  . --আচ্ছা ৫০ টাকা, আর ঝামেলা কইরেননাতো, দেন।  . -হাহা, মামনি তুমি বরং ১০০ টাকা দিয়া দুটো শর্ট প্যান্ট (জাইঙ্গা) নাও। . মারিয়া দোকানির দিকে তাকালো। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে চট করে বলে ফেললো....  . --বাব্বুউউউউ.... . -কিচ্চে বেপি...? . --শোনোনা একটা কথা? . -হুম বলো..? (তুমি যে বাঁশ দিবা সেটা জানি) . --টিশার্ট আরেকদিন নেই। . -কেনো? আজকে কি হলো? . --আজকে শর্ট প্যান্ট নাও দুটো। . -তাহলে একটা ফিডারো নাও.. . --মানে? . -আমি ফিডার খাবো। . --ফাজলামো করো? . -না, সত্যি ফিডার খাব। আর উয়া উয়া উয়ায়াআআআআ...বলে চিল্লাবো। . --দেখো রুবেল... (চোখ গরম করে) . -আচ্ছা নাও.... . তারপর মারিয়া দু'টো প্যান্ট নিলো আমার জন্য। এই দোকান গুলোতে ভালো ব্যাগ নেই। তাই প্যান্ট দু'টি পলিথিনে দিলো। নিজের সম্মানের কথা চিন্তা করে দুটো প্যান্ট দুই পকেটে ঢুকালাম। তারপর মারিয়া বলল.... . --বাবু আমি একটা বোরকা কিনবো... . -কেনো এখান থেকে। . --এখানে তো বোরকা পাওয়া যায়....বড় মার্কেটে যেতে হবে। . -তাহলে আমাকে এখান থেকে কিনে দিলে কেন? . --রাগো কেন? তুমি মানেইতো আমি তাইনা।  . -হুমমমম (রাগ করে) . --উলে উলে আমাল গুলুমুলু চুনা বাবুটা রাগ করে... . -হারামজাদি সোহাগ দেখাবি না। ম্যানহোলে চুবাবু খাচ্চুন্নি। (মনে মনে বললাম)  . --চলো মার্কেটে যাই।  . তারপর মারিয়া মার্কেটে গেলো। এখানে এসে একটা বোরকা পছন্দ হলো। বেশি দামাদামি করল না নিজের জিনিস বলে। ১৪০০ টাকা দিয়ে বোর্কা কিনে নিলো। তারপর আমাকে ৫ পাঁচ টাকা ঝালমুড়ি খাওয়ালো। বলল.... . --বাবু বোরকাটা কেমন হয়েছে? . -ওটা পরলে তোমায় ইন্দুরের মতন লাগবে। . --কিইই বললা? . -সরি মজা করলাম। . --আচ্ছা বাবু চলো হেটে বাসায় যাই... . -হেটে কেনো? . --আরে হাটলে শরীর ভালো থাকে, চলোতো..... . তারপর মারিয়া আর আমি হেটে বাড়ি যাওয়া শুরু করলাম। ওর হাতে ১৪০০ টাকা দামের বোরকা। আর আমার দুই পকেটে ১০০ টাকার শর্ট প্যান্ট। বুকে চিনচিন ব্যথা হচ্ছে। পকেট থেকে হেডফোন বের করে গান জুরে দিলাম.... . "পিড়িতি পেন্দাইলো ছ্যাড়া ত্যানা.. ও রঙ্গিলা, পিড়িতি পেন্দাইলো ছ্যাড়া ত্যানা..." . আমরা দুজন হাটছি। মারিয়া পটর পটর কথা বলছে। আমি সেই কথা শুনতে পাচ্ছি না। কষ্ট হচ্ছে, প্রসুর কষ্ট হচ্ছে। তবে শান্তি লাগছে এই ভেবে যে বিয়ে হলে সংসারে উন্নতি হতে দেরি লাগবেনা। যাইহোক একটা চরম সত্য কথা..'উইথ আউট কিপ্টা গার্লফ্রেন্ড লাইফ ইজ থোরা থোরা।" মানে লাইফে উন্নতি করতে চাইলে এরকম একটা গফ লাগবে।  ||♥The End♥||