বিয়ের সব কাজ শেষ করে কাজী চলে গেলো। ইমা সুমন কে বলে...
ইমাঃ- স্যার এবার তো আমি মায়ের কাছে যেতে পারি।
সুমনঃ-হ্যা এসো।
ইমাঃ- এই পোশাকে।
সুমনঃ-হ্যা...এটাই পরে যাবে।তোমার মায়ের কাছ থেকে আশির্বাদ নিতে হবে না।ওনার তো দেখা দরকার ওনার মেয়েকে বউ সাজে কেমন লাগছে তাও আবার (ইমার একদম কানের কাছে গিয়ে মুখ নিয়ে বলে)
সুমনের মাঃ-কি রে কি বলছিস ওকে?
সুমনঃ- মামনি ও ওর মায়ের সাথে দেখা করতে চায়।কথা ঘুরিয়ে।
সুমনের মাঃ-ঠিক আছে তুই ওকে নিয়ে যা,আর হ্যা তাড়াতাড়ি আসিস।আমাকে একটা ফোন করিস আমি চিন্তায় থাকবো।
সুমনঃ-মামনি তুমি চিন্তা করো না আমরা ফিরে আসবো।ফুলি এই ফুলি কোথায় তুই?
ফুলিঃ-জ্বি ভাইজান বলেন।
সুমনঃ-মামনির খেয়াল রাখিস আমি একটু বাইরে যাবো।
ফুলিঃ-জি ভাইজান রাখবো।আপনে কোনো টেনশন করবেন না।
সুমনঃ-গুড...ইমা চলো আমাদের বেরোতে হবে।
ইমাঃ- আসছি মা।
সুমনের মাঃ-তাড়াতাড়ি এসো।
ইমাঃ- জি মা আসবো।
ওরা হাসপাতালে গেলো,ইমা ডাক্তারের কাছে গিয়ে জানতে চাইলো ওর মায়ের এখন কি অবস্থা।
ইমাঃ-Doctor আমার মা কোথায়?
ডাক্তারঃ-ওনার অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো।যদি ও ওনার অপারেশন সাকসেসফুল তবুও ওনাকে বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখা......
সুমনঃ-মানে কি Doctor?
ডাক্তারঃ-দেখো সুমন জীবন মৃত্যু আল্লাহর হাতে এখন ওনি চাইলে মানুষ কে বাঁচাতে পারেন আবার মারতেও পারেন।আপনার মা আর বেশিদিন বাঁচবেন না।
ইমাঃ-আপনি পাগল হয়ে গেছেন Doctor।এটা কখনোই হতে পারে না আমার মা আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না।আমি মায়ের কাছে যাবো।
ইমা এক ছুটে মায়ের কেবিনে ডোকে মায়ের পাশে বসে কান্না করতে থাকে।
এদিকে সুমন ডাক্তারের সাথে কথা বলছে।
সুমনঃ-Doctor ওনাকে কবে রিলিজ করছেন?
ডাক্তারঃ-দুদিন পর ওনাকে রিলিজ করে দিবো।আর একটা কথা।
সুমনঃ- হ্যা Doctor বলুন।
ডাক্তারঃ-প্লিজ ওনার একটু খেয়াল রাখবেন ওনার হাতে মাত্র ছয়মাস সময় আছে।এই ছয়মাস ওনাকে একটু দেখে রাখবেন।
সুমনঃ- Okay Doctor I will try my best.
ডাক্তারঃ-Thank You Shrabon.
সুমনঃ- আমি আসছি।
সুমন কেবিনে এসে দেখে ইমা পাগলের মতো কান্না করছে সুমন কিভাবে ওকে সামলাবে কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ওর ঘাড়ে হাত রেখে ওকে শান্ত্বনা দেয়।
সুমনঃ-ইমা প্লিজ তুমি এভাবে ভেঙে পড়োনা।
তুমি যদি দুর্বল হয়ে পড়ো তাহলে তোমার মাকে কে সামলে রাখবে।ওনি তো এখন ও জানেন না ওনার হাতে সময় মাত্র কটা মাস।
ইমা পিছন থেকে ঘুরে সুমন কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে...
ইমাঃ- মায়ের কিছু হলে আমি কিভাবে বাঁচবো না স্যার।মা ছাড়া যে আমার আর কেউ নেই।আমি যে খুব একা হয়ে যাবো।
সুমন ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।
সুমনঃ-কেনো আমরা আছি তো।আমি আর মামনি কেনো এভাবে ভেঙে পড়ছো।ইমা তুমি নিজেকে সামলাতে শিখো।
সুমনের কথায় ইমা ওকে ছেড়ে দিয়ে সরে যায়।
ইমাঃ- I am sorry...
ইমার মাঃ- ইমা.......অস্পষ্ট ভাবে ডাক দিলেন।
ইমাঃ- মা তুমি ঠিক আছো তো।
ইমার মা উঠতে গেলে সুমন ওনাকে ধরে পিটের পিছনে বালিশ দিয়ে ওনাকে বসিয়ে দেয়।
ইমার মাঃ-বাহহ তোকে তো খুব সুন্দর লাগছে এই সাজে।(বিয়ের পোশাক দেখে)
ইমাঃ- মা আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি তোমাকে না জানিয়ে এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।
ইমার মাঃ- সুমন আমাকে সব বলেছে।
ইমাঃ- তুমি জানো।(অবাক হয়ে)
ইমার মাঃ- হ্যা...অপারেশন এ যাওয়ার আগে ওর সাথে আমার কথা হয়েছিলো আমি ওকে অনুমতি দেই তোকে বিয়ে করার।
ইমার মনে ভয় ডুকে যায় কি বলে স্যার মাকে বিয়ের জন্য রাজী করে ফেললো তাও আবার একটা এগ্রিমেন্ট এ সই করা বিয়ে।মা কি এটা জানে।মা এটা জানলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে।
ইমা সুমনের দিকে এক নজর তাকিয়ে ওর মাকে জড়িয়ে ধরে।
ইমার মাঃ-তুই খুব সুখী হবি মা।আমি তোর জন্য আল্লাহর কাছে রোজ কান্নাকাটি করে তোর জন্য এমন একজন কে চেয়েছি। সুমন খুব ভালো ছেলে মা ও তোকে খুব ভালো রাখবে।
ইমাঃ- মা...এখন এসব কথা ছাড়ো তো.আগে বলো তোমার এখন কেমন লাগছে?
মায়ের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।কথা ঘুরাতেই এমন কিছু বলা।
ইমার মাঃ-আমি একদম ঠিক আছি।
সুমনঃ-মা এখন একটু রেস্ট নিন নয়তো আবার শরীর খারাপ করবে।
ইমার মাঃ-ঠিক আছে।
সুমনঃ- ইমা চলো আমরা বাসায় যাই মামনি অপেক্ষা করছে।
ইমাঃ- স্যার আমি এখানেই থাকি মাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না।
ইমার মাঃ- কিন্তু মা আজ তো তোদের বিয়ের প্রথম...
ইমাঃ- মা প্লিজ...যাই বলো আমি এখন কোথাও যাচ্ছি না এটাই ফাইনাল।
ইমা বাচ্চাদের মতো মাকে জড়িয়ে ধরে রাখে।
ইমার মাঃ-পাগল মেয়ে।
ইমাঃ- তোমার ই তো।
সুমন মা আমি মামনিকে কল করে বলছি ইমা আসতে চাইছে না।
ইমার মাঃ-না বাবা ইমা যাবে।আজ মাত্র ওর বিয়ে হলো।আজ তো ওর বরের বাড়িতে থাকার কথা তাছাড়া আমি এখন ভালো আছি।তোমরা সকালে এসো রাতে তো দুজন থাকতে পারবে না।এটা Hospital।এখানে কি এতলোক জন Allow করবে।
ইমাঃ- কিন্তু মা আমি তোমাকে ছাড়া।
ইমার মাঃ-রাতটাই তো।সকালে আসিস অনেক সময় আড্ডা দিবো মা মেয়ে মিলে।এবার যা তোর সংসার সাজানোর প্লেন কর।
ইমাঃ- মা....(ইমা কান্নায় ভেঙে পরে।মায়ের কথা শুনে ইমার কান্নার বেগ যেন বাড়তেই থাকে)
ইমার মাঃ-কাঁদে না মা।আজ যে সুখের দিন।আজকের দিনে কাঁদতে নেই।(ইমার চোখের পানি মুছে ওর কপালে চুমু দিলেন)
ইমাঃ- মা আমি যাব না।
ইমার মাঃ-মায়ের কথা শুনতে হয়।আর তোর শ্বাশুড়ি মা তো অপেক্ষা করছে তোদের জন্য।
ইমাঃ- তাতে কি হয়েছে?
ইমার মাঃ-সুমন ওকে নিয়ে যাও তো বাবা।
ইমাঃ- মা তুমি এমন করছো কেনো?
ইমার মাঃ- পাগলি মেয়ে।নিজের বরের বাড়ি যাবি না এখানে থাকবি সেটা হয় নাকি।
সুমনঃ- ও খুব জেদি মা আমার একটা কথাও শুনে না বকা দিন তো একটু।
ইমা রাগে কটমট করে সুমনের দিকে তাকায়।
সুমনঃ- এইভাবে তাকিয়ো না মা বকা দিবে।
ইমার মাঃ- ইমা কি শুরু করলি তুই যাবি ওর সাথে।
ইমাঃ- যাচ্ছি তো।নিজের মেয়ের থেকে মেয়ের জামাইকে প্রায়োরিটি দিচ্ছো।তুমি খুব পঁচা।
ইমা রাগ দেখিয়ে বেড়িয়ে গেলো।
ইমার মাঃ- তোমার কাছে একটা অনুরোধ বাবা।
সুমনঃ- ছি মা অনুরোধ কেনো বলছেন বলুন না আপনি কি বলবেন?
ইমার মাঃ- আমি জানি আমার হাতে সময় নেই।আমি যখন থাকবো না ওকে দেখে রেখো বাবা।আমি চলে গেলে ও একা হয়ে যাবে।এটা একটা সন্তানের কাছে তার মায়ের অনুরোধ।(সুমনের হাত ধরে)
সুমনঃ- মা আমি আপনাকে আগেই সব বলেছি।আপনি একদম ভাববেন না।ইমার দায়িত্ব যখন আমি নিয়েছি তখন ওকে ভালো রাখার দায়িত্ব ও আমার আজ হোক কাল হোক ও আমার হবেই।হ্যা এটা ঠিক যে ইমা আগে একজনকে ভালোবাসতো।হয়তো সে থাকলে আজ ইমা আমার হতো না।মা আমি আপনাকে ওয়াদা করছি আজ থেকে ইমাকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার।একফোঁটা কষ্ট ও ওকে স্পর্শ করবে না মা।শুধু আপনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন।আমি যেন আমার সর্বস্ব দিয়ে ইমাকে ভালো রাখতে পারি।
ইমার মাঃ- আমি দোয়া করি একদিন তোমার ভালোবাসার জয় হবেই।আমার মেয়েটা যে কবে বুঝবে কে জানে?
সুমনঃ- চিন্তা করবেন না।বিয়ে যখন হয়েই গেছে তখন ও চাইলেও এই পবিত্র বন্ধর থেকে মুক্ত হতে পারবে না।আমি ওকে মুক্তি দেবো না।সারাজীবন আমার কাছেই থাকবে আমাদের মাঝে।মামনি তো ওকে চোখে হারায়।
ইমার মাঃ- তোমার মতো একজনের হাতে আমার মেয়েকে তুলে দিতে পেরেছি এর থেকে বড় সুখ আমার কাছে আর কি হতে পারে।
সুমনঃ- আসি মা ইমা গাড়িতে একা।
ইমার মাঃ- ঠিক আছে বাবা এসো।
সুমন গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়।ইমা চুপচাপ বসে আসে কেউ কোনো কথা বলছে না।ভাগ্যিস ইমা তখন কেবিনে ছিলো না নইলে সব শুনে ফেলতো মেয়েটা।এমনিতেই অনেক কষ্ট পাচ্ছে।আর কষ্ট দেওয়া যাবে না।এসব ভাবতে ভাবতে বাসার কাছে চলে আসে।গাড়ি থেকে নেমে ভেতরে যায়।
ইমা ফ্রেশ হতে যায়। সুমন ওকে আলমারি থেকে কিছু শাড়ি বের করে দেয়।আর একটা শাড়ি পরে নিতে বলে।ইমা ফ্রেশ হয়ে শাড়ি চেঞ্জ করে রান্নাঘরে যায়।
তারপর রাতের খাবার শেষ করে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ে ইমা।
চলবে..........
.
পরের পর্ব পেতে কমেন্ট করুন।
সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯
চুক্তির ভালবাসার বউ
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন