Love-Fact
part -2
শুভ্র দরজায় নক করার পর মিম সামনে এসে
-কে আপনি?কি চাই?
-মুচকি হেসে আমি শুভ্র
-হোয়াট?
-ইয়াহ আই এম শুভ্র চৌধুরী
এই কথা বলে শুভ্র মিমের সামনে দিয়ে পাশ কাটিয়ে নিধির রুমের দিকে যায়।
মিম ভাবে এটা কিভাবে শুভ্র হয়?
এমন ক্ষেত ছেলেটা কি করে এত পরিবর্তন হলো?
কালকের শুভ্র আর আজকের শুভ্রকে চিনা মুশকিল।
-ভাইয়া কেমন আছেন?
- আলহামদুলিল্লাহ ভালো, তুমি কেমন আছো?
- আমিও ভালো,ভাইয়া আজকে কিন্তু সেই লাগতাছে
-মানে?
-মানে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগতেছে
-সবকিছুই তোমার জন্য
-ভাইয়া এসব আবোলতাবোল কি বলেন?
-আবোলতাবোল কই বললাম?
-সব সুন্দর আল্লাহ দান করে, আর আপনার সুন্দর ও আল্লাহ দান করছে
-হুম বুঝলাম কিন্তু এতদিন তোমার আপু ক্ষেত যে বলল?
-ক্ষেত বলছে তোমার চুল আর পোশাকের জন্য
-ওহহ
-হ্যা
সেদিনের মতো মিমরে তাক লাগিয়ে শুভ্র নিধিকে পড়িয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
পরেরদিন দিন নিধিই দরজা খুলল...
-ভাইয়া আজ দেরি হলো কেন?
-জ্যামের কারনে
-ওহ
-হ্যা
এই বলে পড়ার ঘরে গিয়ে পড়ানোর সময়
-কালকের কাজ গুলো সমাধান করছো?
-পারিনা
-পারোনা মানে?
-অনেক চেষ্টা করছি কিন্তু পারিনাই
-চেষ্টা যে করছো ঐ খাতাটা এখানে আনো
-এটা কোথাই যেনো, অনেক খুজেছি কিন্তু পাই নাই
-ওহ
-জি ভাইয়া
-মিথ্যা বলার কৌশলটা কার থেকে শিখছো?
-(চুপ)
-এখন থেকে যা-ই করো আমি যেই কাজ দেই সেগুলো করবা
-ওকে
শুভ্র নিধিকে পড়ানো শেষে বাসা থেকে বের হবে এমন সময় নিধি দরজা আটকানোর নাম করে শুভ্রর পিছন পিছন যায় আর শুভ্রকে আরেকবারের মতো দেখে নেয়। শুভ্রকে নিধি ভালোবেসে ফেলেছে, শুভ্র যখন নিধিকে পড়ায় তখন নিধি শুভ্রর ঠোটের দিকে চেয়ে থাকে আর ওকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর থাকে।
এদিকে শুভ্রকে নিধি ভালোবাসে সেটা আর কেউ না বুঝতে পারে কিন্তু মিম ঠিকই বুঝে নিলো।
-শুভ্রর সাথে এরকম ভাবে মিশতাছোছ কেন?
-আমার ভালো লাগে তাই
-ভালো লাগে মানে?(মিম)
-হুম আমি শুভ্রকে ভালোবাসি
-ঐ তোর রুচি এত নিচে কেন রে?
-রুচি নিচে না, শুভ্র জীবনসঙ্গী হিসাবে পারফেক্ট
-শুভ্র জানে?
-না
-হি হি হি
-হাসো কেন?
-তোর এই উদ্ভট কথা শুনে
-মানে?
-যাকে ভালোবাসিস সে ই জানেনা
-না জানলে কি হয়ছে,আস্তে আস্তে সব জানাবো
-ওহহ
-আপু তোরে একটা কথা বলি?
-হুম বল
-আপু তুই বিশ্বাস কর আমি শুভ্রকে অনেক ভালোবাসি,তুই আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা করিস না প্লিজ
-আমাকে তোর এমন মনে হয়?
-না মানে তোমিতো ওরে সবসময় ক্ষেত নামে ডাকো তাই বলতাছি
-ওহ ওকে আর বলবনা
এই বলে মিম নিধির সামনে থেকে চলে গেলো।
কয়েকদিন পর নিধির পরিবার থেকে সবাই কক্সবাজার যাবে ঘুরতে কিন্তু নিধি যাবেনা কারন হলো শুভ্র। শুভ্রকে না দেখে নিধি থাকতে পারবে না তাই নিধি ওর মা-বাবার কাছে জানিয়ে দিলো নিধি যাবেনা
-কেন যাবিনা(মিম)
-এমনি
-শুভ্র যদি সাথে যায় তাহলে যাবি?
-হুম
-ওরে আমার কিউট বোনটারে দেখি প্রেমে একদম ফিদা হয়ে আছে
-আপু আসলেও শুভ্র যাবে?
-আমি বাবার সাথে শেয়ার করছি বাবা বলছে শুভ্র সাথে গেলে নাকি আরো ভালো হবে
-সত্যিই আপু? বাবা বলছে?
-হ্যা
-তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ
-পাগলি একটা, এখন ঘুমিয়ে পর।
।
মিম আর নিধি দুজন সারাদিন ঝগড়া আর দুষ্টুমি নিয়ে কাটায়।
মিম নিধিকে একমাত্র বোন হিসাবে অনেক ভালোবাসে।সেই ছোট থেকে নিধিকে মিম দেখে আসছে।নিধির কি লাগবে না লাগবে এটা যেনো ওর মা থেকে মিমই বেশি জানে কারন মিম আর নিধির এই মা টা সৎ মা।
সৎ মা হিসাবে মিম আর নিধির সৎ মা অন্য দশটা সৎ মায়ের মতোই আচরণ করে।তাই মিম আর ওর বাবা ই নিধির সব সিদ্ধান্ত নেয়।
নিধি শুভ্রকে রাজি করিয়ে সবাই রওনা দেয়। শুভ্র যখন গুছালো থাকে তখন নিধির কাছে শুভ্রকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর পুরুষ
লাগে।
গাড়ির মধ্যে মিম শুভ্রকে নিধির সাথে বসায়।
গাড়ি তার আপন গতিতে চলছে তখন নিধি শুভ্রকে বলে....
-আমার মাথাটা ব্যাথা করতাছে(নিধি)
-ঔষধ খেয়ে নাও(শুভ্র)
-ঔষধ কি এখানে পাওয়া যাবে নাকি?
-তাহলে গাড়ি থামিয়েদোকান থেকে নিয়ে নিলে ভালো হবে
-দরকার নাই
-তাহলে
-মাথাটা একটু টিপে দেননা
-কিহহহ
-হুম এই বলে নিধি শুভ্রর কাদে মাথা রাখলো
-আরে কি করছো কি?
-কিছুনা
-তখন শুভ্র বাধ্য হয়ে নিধির কপালে আঙ্গুল দিয়ে মেসেজ করে দিচ্ছে আর নিধি তার প্রিয় মানুষের ছোয়া পেয়ে আনন্দে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। নিধি শুভ্রর কাদে হঠাৎ ঘুমিয়ে গেছে।
অপরদিকে শুভ্র এমন সুন্দর মেয়ে মনে হয় দেখেনি। নিধির থুতুনির তিল টার জন্য সৌন্দর্য যেনো আরো কয়েকগুন বেড়ে গেলো। এসব ভাবতে শুভ্র ও নিজের অজান্তে নিধির মাথায় মাথা লাগিয়ে ঘুমিয়ে গেলো।
সকালের দিকে তারা তাদের গন্তব্য স্থানে এসে পৌছালো, তখন সকাল হয়ে গেছে।
নিধির ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর চোখ খুলে দেখে শুভ্র ও নিধির মাথার সাথে মাথা লাগিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন নিধি মাথা উঠিয়ে আস্তে করে শুভ্রর ঠোটে........
চলবে
মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
গ্রামের ছেলের সাথে শহরের মেয়ের প্রেম
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন