Writer - তানিশা আপু 😍
Part - 4
-- সকালে নাস্তার টেবিলে বসে কাব্য তার বাবাকে বলল,,,
কাব্য : বাবা আমি একটা কাজে বাহিরে যাচ্ছি। আজকে অফিসটা তুমি সামলে নিয়ো।
বাবা : আচ্ছা ঠিক আছে।
কাব্য : নীলা যাওয়ার সময় তোকে ভার্সিটিতে পৌঁছে দিবো। তৈরি থাকিস,,
নীলা : হঠাৎ আমা,, ( বলতে গিয়ে আর বললো না )
কাব্য : আমি ঐ দিকে যাচ্ছি তাই,,
নীলা : ওকে ভাইয়া।
--- কাব্য রুমে এসে ভাবছে তানিশাকে একটা কল করবে। যদি মেয়েটা আজ ভার্সিটিতে না আসে? যেই ভাবা সেই কাজ। কাব্য কল করতে তানিশা রিসিভ করে বলল,,,
তানিশা : কি চাই আপনার?
কাব্য : আজ ভার্সিটিতে আসতে যেন লেট না হয়।
তানিশা : একশবার হবে, হাজারবার হবে, কোটিবার হবে। তাতে আপনার কি? আমি আজকে ভার্সিটিতে যাবো না।
কাব্য : তুমি না আসলে তোমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসবো।( বলেই হেসে দিলো )
তানিশা : সাহস থাকলে আসেন। আপনাকে কুপিয়ে কিমা বানিয়ে পরটার সাথে খাবো। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কেটে রোদে শুকিয়ে দিবো। ছুরি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ভুনাখিচুড়ি সাথে রান্না করে ফেলবো।
কাব্য : আর কিছু?
তানিশা : আপনার মতো বজ্জাত devil, নাইজেরিয়ান এনাকন্ডা, আফ্রিকান গন্ডার, মুখ পুড়া হনুমান, লাল বাদর, কালো কুমির, বন মানুষ, ডাইনোসর, ডায়েন, জলহস্তী, গরিলাকে আরো অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করে। যদি সামনে পেতাম তাহলে দেখাতাম তানিশা কি জিনিস।
কাব্য : really...?? miss devil_queen... তুমি চাইলে আমি এখনি তোমার সামনে চলে আসতে পারি। একবার বলে দেখো,,
তানিশা : ঐ ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আপনি আমাকে devil_queen... বললেন কেন?
কাব্য : আমি devil হলে, তুমি devil_queen... right...??
তানিশা : মুখ পুড়া হনুমান, লাল বাদর, লুচুর হাড্ডি তুই আমাকে devil_queen বলবি না। আমাকে আর কোনোদিন কলও দিবি না ( রাগে ফুঁসাতে ফুঁসাতে )
কাব্য : stop it... ( ধমক দিয়ে ) এতক্ষণ যা ইচ্ছে বলেছো আমি কিছু মনে করিনি। তাই বলে তুইতোকারি করবে? I can't tolerate it... আর আমার সাহস দেখতে চাইছো। তাইনা? আজকে তোমাকে দেখাবো "নাহিল মাহমুদ কাব্য" সাহস কতটুকু। ( দাঁতে দাঁত চেপে )
--- কাব্য প্রচন্ড রেগে কল কেটে দিলো। আর যাই হোক কাব্য তুইতোকারি সহ্য করতে পারেনা। এই মেয়ের সাহস হয় কিভাবে কাব্যর সাথে এভাবে কথা বলার? এই মেয়ে কি কখনো মানুষ হবে না? তানিশা মোবাইল হাতে নিয়ে নিজেই নিজেকে বলতে লাগলো,,,
তানিশা : devil তো রেগে পুরো লাল বাদর হয়ে গেছে। আমি কুপানোর আগে মনে হয় আজকে আমাকে কুপিয়ে রান্না না করে কাঁচাই খেয়ে ফেলবে। আজকে মনে হয় আমি শেষ। না শেষ হওয়ার আগে আমি বরং ভার্সিটিতে চলে যাই। নিজের জীবন বাচানো ফরজ কাজ, আমার এতো তাড়াতাড়ি মরার কোনো ইচ্ছে নাই।
তান্নিমা : আপ্পি কে মারবে তোমাকে?
তানিশা : আর বলিস না বোন, আমার পিছনে এক এনাকন্ডা লেগেছে। এখন এটার থেকে পিছু ছাড়াতে পারছিনা। আমি মনে হয় এবার শেষ হয়ে যাবো রে,, বোন আমি মরে গেলে কি তোরা আমাকে ভুলে যাবি? ( কাঁদোকাঁদো গলায় )
তান্নিমা : আপ্পি কি যে বলো! তোমার মতো কইতরিকে আবার ভুলা যাবে নাকি?
তানিশা : বজ্জাত মেয়ে, শেওড়া গাছের সাদা পেত্নী, জলহস্তিনী তুই আর কখনো আমাকে আপ্পি বলবি না।
--- তান্নিমাকে ইচ্ছে মতো বকে তানিশা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। কাব্য নীলাকে ভার্সিটিতে ড্রপ করে গাড়িটা রাস্তায় সাইড করে রেখে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। খুব ভালো করে জানে তানিশা ভার্সিটিতে আসবে। কাব্য দূর থেকে দাড়িয়ে দেখে তানিশা আসছে। তানিশাকে দেখে নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে হাসি চলে আসলো। তানিশার দিকে তাকিয়ে থেকে তার কাছে কল করলো, তানিশা কলটা কেটে দেয়। যেটা কাব্যর চোখে এড়ায়নি। কাব্য তানিশার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে আবারো কল করলো। তানিশা কলটা কেটে ভার্সিটিতে ঢুকতে যাবে তখনি কাব্য তার হাত ধরে ফেললো। তানিশা তাকিয়ে দেখে কাব্য! সকালে এই devil কে যেভাবে বকছে। এখন কি করবে আল্লাহ জানে? ভাবতেই তানিশার গলা শুকিয়ে গেছে,,,
তানিশা : আ,,আ,,আপনি এখানে? ( কাঁপা কাঁপা গলায় )
কাব্য : তুমি আমার call কাটার সাহস পেলে কোথায়? ( রাগী গলায় )
তানিশা : আমার হাত ছাড়েন। ( ছাড়ানোর চেষ্টা করে )
কাব্য : আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
তানিশা : দেখুন ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আমার সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে কিসের কথা? অযথা কেন আমাকে call করে বিরক্ত করছেন? আর আমার মতো কইতরির পিছনে কেন পরে আছেন? ( করুণ গলায় )
কাব্য : আমি তোমাকে বিরক্ত করছি? ( চোখ রাঙ্গিয়ে )
তানিশা : না মানে,, আমি কি এমন দোষ করছি? আমার সাথে কেন এমন করছেন? আর please... আমার হাতটা ছাড়েন। আশেপাশের মানুষ গুলো দেখছে। ( ভয় পেয়ে )
কাব্য : দেখুক I don't care... চলো আমার সাথে।
--- বলেই তানিশাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। ভয়ে তানিশার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে তবুও বলল,,,
তানিশা : আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
কাব্য : গেলেই দেখতে পাবে।
তানিশা : আমি কোথাও যাবো না। আমি কিন্তু এখন চিৎকার করবো।
কাব্য : করো তাতে আমার কি?
--- তানিশাকে গাড়িতে বসিয়ে কাব্য ড্রাইভ করতে শুরু করলো। তানিশা ভাবছে না জানি devil তাকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে। ভাবতেই তানিশা কেঁদে দিলো। তানিশার কান্না দেখে কাব্য বলল,,,
কাব্য : কি হলো কাঁদছো কেন? ( ভ্রু কুচকে )
তানিশা : আমি জানি,, সকালে আপনাকে অনেক বকছি তাই আপনি আমাকে এখন নিয়ে মেরে ফেলবেন। তার আগে আমি আপনার নামে মামলা করবো। পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে। তখন বুঝবেন কেমন লাগে ( কাঁদোকাঁদো গলায় )
কাব্য : what...?? are you lost of your mind...??
তানিশা : আমার অনেক বড় ভুল হয়েছে। আমি আর জীবনেও আপনার সামনে আসবো না। আর কোনোদিনও আপনাকে কিছু বলবো। আমাকে ছেড়ে দেন মারবেন না please...
কাব্য : চুপ করে গাড়িতে বসে থাকো। ( সামনে তাকিয়ে )
--- তানিশা আর কিছুই বলছে না শুধু কান্না করছে। কাব্য শহর পেরিয়ে অনেকটা দূরে এসে গাড়িটা একটা কাঁচা রাস্তায় থামালো। নিরিবিলি রাস্তা দেখে তানিশা আরো জোরে কাঁদতে লাগলো। আজকেই তার জীবনের শেষ দিন। কাব্য গাড়ি থেকে নেমে অনেকটা বিরক্তি নিয়ে বলল,,,
কাব্য : যদি তোমার কান্না শেষ হয়? এখন নামো,,
তানিশা : না আমি আরো কাঁদবো। ( বলেই আরো জোরে কাঁদতে লাগলো )
কাব্য : এতো কান্নার কি আছে? ( বিরক্তি নিয়ে )
তানিশা : আমার তো এখনো বিয়েও হয়নি তার আগে আপনি আমাকে মেরে ফেলবেন। আমার জামাই বিয়ের আগে বিধবা হয়ে যাবে। আমার অনাগত সন্তান গুলো মা হারা হয়ে যাবে। আমার স্বামী বাচ্চা গুলো দেখার সুযোগ পাবোনা তার আগে পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যাবো। আপনি কত বড়,,
কাব্য : just shut up... তোমার nonstop বকবক শুনার জন্য এখানে আসিনি। চলো আমার সাথে।
--- বলেই তানিশার হাত ধরে নদীর কিনারায় নিয়ে গেলো। চারপাশটা অনেক সুন্দর নিরিবিলি জায়গা। এই জায়গাটা কাব্যর খুব ভাললাগে। নদীর কিনারায় নিয়ে যেতে, নদী দেখে তানিশা আরো জোরে কাঁদতে লাগলো,,,
তানিশা : আপনি কি আমাকে নদীতে ফেলে দিবেন? আমি জানতাম আপনি আস্ত একটা devil, বজ্জাতের হাড্ডি,,
কাব্য : তানিশা please... at least... ২ মিনিট চুপ থাকো। তোমার এই nonstop বকবক শুনে আমি কিন্তু প্রচন্ড রেগে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমার এখন রাগার কোনো ইচ্ছে নাই।
তানিশা : মানুষের মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হয়। আমার একটা শেষ ইচ্ছে আছে। আমি আগে আপনাকে ইচ্ছে ম,,
--- কাব্য এবার প্রচন্ড রেগে গেছে, তানিশার কথা শেষ হওয়ার আগে তার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলো,,,
কাব্য : এই মেয়ে তোমাকে না বলেছি ২ মিনিট চুপ থাকতে। আর আমি কি সাইকো নাকি? যে তোমাকে মারার জন্য এখানে নিয়ে আসবো।
--- তানিশা গালে হাত দিয়ে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,,,
তানিশা : তাহলে কেন নিয়ে এসেছেন?
--- কাব্য তানিশার অনেকটা কাছে এসে দাড়ায়, তানিশার যে গালে চড় মেরেছিল সেই গালে হাত দিয়ে শান্ত গলায় বলল,,,
কাব্য : sorry... আসলে আমি নিজের রাগকে কেন জানি control করতে পারিনা। next time কখনো এমন হবেনা promise...
তানিশা :... ( নিশ্চুপ )
কাব্য : জানো এই জায়গাটা আমার অনেক ভাললাগে। শুধুমাত্র আমার প্রিয় মানুষদের এখানে নিয়ে আসি। তোমাকে কেন নিয়ে এসেছি জানো? ( একটু হেসে )
তানিশা :... ( নিশ্চুপ )
কাব্য : তুমি বলেছিলে আমি কেন তোমাকে বিরক্ত করি, কেন বারবার কল করি, তোমার পেছনে কেন লেগে আছি। এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়ার জন্য তোমাকে উৎসর্গ করে একটা কবিতা লিখেছি,,
--- বলতেই পারো তোমাকে আমার
আছে কি কোনো প্রয়োজন?
যদিও তোমার অজানা
তোমাকে নিয়ে আমার যত আয়োজন।
বলতেই পারো তোমার মাঝে
আমি কি এমন পেয়েছি খোঁজে
যদিও তোমার অজানা
আমি তোমাতেই রয়েছি ডুবে।
বলতেই পারো আমার জীবনে
তোমাকে কেন দিতে চাই এতো প্রধান্য
যদিও তোমার অজানা
তুমি আমার জীবনে অনন্য।
এখান থেকে তোমার প্রশ্নের উত্তর গুলো খোঁজে নিয়ো।
তানিশা : আরে ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আপনি কবিতা লিখতে পারেন? ( অনেক খুশি হয়ে )
কাব্য : তোমার জন্য এই প্রথম লিখেছি ( মুচকি হেসে )
তানিশা : আপনি জানেন? আমি আপনার থেকে আরো ভালো কবিতা লিখতে পারি।
কাব্য : really...?? তাহলে একটা কবিতা তো শুনতেই হয়।
তানিশা : তাহলে শুনেন,,
চলবে,,,
( ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন )
আমি এতোদিন ধরে আমার আইডিতে ডুকতে পারছিলাম না। তাই গল্প পোস্ট করতে পারি নাই তার জন্য দুঃখিত। আজ থেকে প্রতিদিন গল্প পোস্ট করা হবে।
Writer - তানিশা আপু 😍
Part - 4
-- সকালে নাস্তার টেবিলে বসে কাব্য তার বাবাকে বলল,,,
কাব্য : বাবা আমি একটা কাজে বাহিরে যাচ্ছি। আজকে অফিসটা তুমি সামলে নিয়ো।
বাবা : আচ্ছা ঠিক আছে।
কাব্য : নীলা যাওয়ার সময় তোকে ভার্সিটিতে পৌঁছে দিবো। তৈরি থাকিস,,
নীলা : হঠাৎ আমা,, ( বলতে গিয়ে আর বললো না )
কাব্য : আমি ঐ দিকে যাচ্ছি তাই,,
নীলা : ওকে ভাইয়া।
--- কাব্য রুমে এসে ভাবছে তানিশাকে একটা কল করবে। যদি মেয়েটা আজ ভার্সিটিতে না আসে? যেই ভাবা সেই কাজ। কাব্য কল করতে তানিশা রিসিভ করে বলল,,,
তানিশা : কি চাই আপনার?
কাব্য : আজ ভার্সিটিতে আসতে যেন লেট না হয়।
তানিশা : একশবার হবে, হাজারবার হবে, কোটিবার হবে। তাতে আপনার কি? আমি আজকে ভার্সিটিতে যাবো না।
কাব্য : তুমি না আসলে তোমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসবো।( বলেই হেসে দিলো )
তানিশা : সাহস থাকলে আসেন। আপনাকে কুপিয়ে কিমা বানিয়ে পরটার সাথে খাবো। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কেটে রোদে শুকিয়ে দিবো। ছুরি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে ভুনাখিচুড়ি সাথে রান্না করে ফেলবো।
কাব্য : আর কিছু?
তানিশা : আপনার মতো বজ্জাত devil, নাইজেরিয়ান এনাকন্ডা, আফ্রিকান গন্ডার, মুখ পুড়া হনুমান, লাল বাদর, কালো কুমির, বন মানুষ, ডাইনোসর, ডায়েন, জলহস্তী, গরিলাকে আরো অনেক কিছু করতে ইচ্ছে করে। যদি সামনে পেতাম তাহলে দেখাতাম তানিশা কি জিনিস।
কাব্য : really...?? miss devil_queen... তুমি চাইলে আমি এখনি তোমার সামনে চলে আসতে পারি। একবার বলে দেখো,,
তানিশা : ঐ ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আপনি আমাকে devil_queen... বললেন কেন?
কাব্য : আমি devil হলে, তুমি devil_queen... right...??
তানিশা : মুখ পুড়া হনুমান, লাল বাদর, লুচুর হাড্ডি তুই আমাকে devil_queen বলবি না। আমাকে আর কোনোদিন কলও দিবি না ( রাগে ফুঁসাতে ফুঁসাতে )
কাব্য : stop it... ( ধমক দিয়ে ) এতক্ষণ যা ইচ্ছে বলেছো আমি কিছু মনে করিনি। তাই বলে তুইতোকারি করবে? I can't tolerate it... আর আমার সাহস দেখতে চাইছো। তাইনা? আজকে তোমাকে দেখাবো "নাহিল মাহমুদ কাব্য" সাহস কতটুকু। ( দাঁতে দাঁত চেপে )
--- কাব্য প্রচন্ড রেগে কল কেটে দিলো। আর যাই হোক কাব্য তুইতোকারি সহ্য করতে পারেনা। এই মেয়ের সাহস হয় কিভাবে কাব্যর সাথে এভাবে কথা বলার? এই মেয়ে কি কখনো মানুষ হবে না? তানিশা মোবাইল হাতে নিয়ে নিজেই নিজেকে বলতে লাগলো,,,
তানিশা : devil তো রেগে পুরো লাল বাদর হয়ে গেছে। আমি কুপানোর আগে মনে হয় আজকে আমাকে কুপিয়ে রান্না না করে কাঁচাই খেয়ে ফেলবে। আজকে মনে হয় আমি শেষ। না শেষ হওয়ার আগে আমি বরং ভার্সিটিতে চলে যাই। নিজের জীবন বাচানো ফরজ কাজ, আমার এতো তাড়াতাড়ি মরার কোনো ইচ্ছে নাই।
তান্নিমা : আপ্পি কে মারবে তোমাকে?
তানিশা : আর বলিস না বোন, আমার পিছনে এক এনাকন্ডা লেগেছে। এখন এটার থেকে পিছু ছাড়াতে পারছিনা। আমি মনে হয় এবার শেষ হয়ে যাবো রে,, বোন আমি মরে গেলে কি তোরা আমাকে ভুলে যাবি? ( কাঁদোকাঁদো গলায় )
তান্নিমা : আপ্পি কি যে বলো! তোমার মতো কইতরিকে আবার ভুলা যাবে নাকি?
তানিশা : বজ্জাত মেয়ে, শেওড়া গাছের সাদা পেত্নী, জলহস্তিনী তুই আর কখনো আমাকে আপ্পি বলবি না।
--- তান্নিমাকে ইচ্ছে মতো বকে তানিশা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হলো। কাব্য নীলাকে ভার্সিটিতে ড্রপ করে গাড়িটা রাস্তায় সাইড করে রেখে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। খুব ভালো করে জানে তানিশা ভার্সিটিতে আসবে। কাব্য দূর থেকে দাড়িয়ে দেখে তানিশা আসছে। তানিশাকে দেখে নিজের অজান্তে ঠোঁটের কোণে হাসি চলে আসলো। তানিশার দিকে তাকিয়ে থেকে তার কাছে কল করলো, তানিশা কলটা কেটে দেয়। যেটা কাব্যর চোখে এড়ায়নি। কাব্য তানিশার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে আবারো কল করলো। তানিশা কলটা কেটে ভার্সিটিতে ঢুকতে যাবে তখনি কাব্য তার হাত ধরে ফেললো। তানিশা তাকিয়ে দেখে কাব্য! সকালে এই devil কে যেভাবে বকছে। এখন কি করবে আল্লাহ জানে? ভাবতেই তানিশার গলা শুকিয়ে গেছে,,,
তানিশা : আ,,আ,,আপনি এখানে? ( কাঁপা কাঁপা গলায় )
কাব্য : তুমি আমার call কাটার সাহস পেলে কোথায়? ( রাগী গলায় )
তানিশা : আমার হাত ছাড়েন। ( ছাড়ানোর চেষ্টা করে )
কাব্য : আগে আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
তানিশা : দেখুন ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আমার সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নাই। তাহলে কিসের কথা? অযথা কেন আমাকে call করে বিরক্ত করছেন? আর আমার মতো কইতরির পিছনে কেন পরে আছেন? ( করুণ গলায় )
কাব্য : আমি তোমাকে বিরক্ত করছি? ( চোখ রাঙ্গিয়ে )
তানিশা : না মানে,, আমি কি এমন দোষ করছি? আমার সাথে কেন এমন করছেন? আর please... আমার হাতটা ছাড়েন। আশেপাশের মানুষ গুলো দেখছে। ( ভয় পেয়ে )
কাব্য : দেখুক I don't care... চলো আমার সাথে।
--- বলেই তানিশাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। ভয়ে তানিশার কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে তবুও বলল,,,
তানিশা : আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
কাব্য : গেলেই দেখতে পাবে।
তানিশা : আমি কোথাও যাবো না। আমি কিন্তু এখন চিৎকার করবো।
কাব্য : করো তাতে আমার কি?
--- তানিশাকে গাড়িতে বসিয়ে কাব্য ড্রাইভ করতে শুরু করলো। তানিশা ভাবছে না জানি devil তাকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে। ভাবতেই তানিশা কেঁদে দিলো। তানিশার কান্না দেখে কাব্য বলল,,,
কাব্য : কি হলো কাঁদছো কেন? ( ভ্রু কুচকে )
তানিশা : আমি জানি,, সকালে আপনাকে অনেক বকছি তাই আপনি আমাকে এখন নিয়ে মেরে ফেলবেন। তার আগে আমি আপনার নামে মামলা করবো। পুলিশ আপনাকে গ্রেফতার করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে। তখন বুঝবেন কেমন লাগে ( কাঁদোকাঁদো গলায় )
কাব্য : what...?? are you lost of your mind...??
তানিশা : আমার অনেক বড় ভুল হয়েছে। আমি আর জীবনেও আপনার সামনে আসবো না। আর কোনোদিনও আপনাকে কিছু বলবো। আমাকে ছেড়ে দেন মারবেন না please...
কাব্য : চুপ করে গাড়িতে বসে থাকো। ( সামনে তাকিয়ে )
--- তানিশা আর কিছুই বলছে না শুধু কান্না করছে। কাব্য শহর পেরিয়ে অনেকটা দূরে এসে গাড়িটা একটা কাঁচা রাস্তায় থামালো। নিরিবিলি রাস্তা দেখে তানিশা আরো জোরে কাঁদতে লাগলো। আজকেই তার জীবনের শেষ দিন। কাব্য গাড়ি থেকে নেমে অনেকটা বিরক্তি নিয়ে বলল,,,
কাব্য : যদি তোমার কান্না শেষ হয়? এখন নামো,,
তানিশা : না আমি আরো কাঁদবো। ( বলেই আরো জোরে কাঁদতে লাগলো )
কাব্য : এতো কান্নার কি আছে? ( বিরক্তি নিয়ে )
তানিশা : আমার তো এখনো বিয়েও হয়নি তার আগে আপনি আমাকে মেরে ফেলবেন। আমার জামাই বিয়ের আগে বিধবা হয়ে যাবে। আমার অনাগত সন্তান গুলো মা হারা হয়ে যাবে। আমার স্বামী বাচ্চা গুলো দেখার সুযোগ পাবোনা তার আগে পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে যাবো। আপনি কত বড়,,
কাব্য : just shut up... তোমার nonstop বকবক শুনার জন্য এখানে আসিনি। চলো আমার সাথে।
--- বলেই তানিশার হাত ধরে নদীর কিনারায় নিয়ে গেলো। চারপাশটা অনেক সুন্দর নিরিবিলি জায়গা। এই জায়গাটা কাব্যর খুব ভাললাগে। নদীর কিনারায় নিয়ে যেতে, নদী দেখে তানিশা আরো জোরে কাঁদতে লাগলো,,,
তানিশা : আপনি কি আমাকে নদীতে ফেলে দিবেন? আমি জানতাম আপনি আস্ত একটা devil, বজ্জাতের হাড্ডি,,
কাব্য : তানিশা please... at least... ২ মিনিট চুপ থাকো। তোমার এই nonstop বকবক শুনে আমি কিন্তু প্রচন্ড রেগে যাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমার এখন রাগার কোনো ইচ্ছে নাই।
তানিশা : মানুষের মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হয়। আমার একটা শেষ ইচ্ছে আছে। আমি আগে আপনাকে ইচ্ছে ম,,
--- কাব্য এবার প্রচন্ড রেগে গেছে, তানিশার কথা শেষ হওয়ার আগে তার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলো,,,
কাব্য : এই মেয়ে তোমাকে না বলেছি ২ মিনিট চুপ থাকতে। আর আমি কি সাইকো নাকি? যে তোমাকে মারার জন্য এখানে নিয়ে আসবো।
--- তানিশা গালে হাত দিয়ে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,,,
তানিশা : তাহলে কেন নিয়ে এসেছেন?
--- কাব্য তানিশার অনেকটা কাছে এসে দাড়ায়, তানিশার যে গালে চড় মেরেছিল সেই গালে হাত দিয়ে শান্ত গলায় বলল,,,
কাব্য : sorry... আসলে আমি নিজের রাগকে কেন জানি control করতে পারিনা। next time কখনো এমন হবেনা promise...
তানিশা :... ( নিশ্চুপ )
কাব্য : জানো এই জায়গাটা আমার অনেক ভাললাগে। শুধুমাত্র আমার প্রিয় মানুষদের এখানে নিয়ে আসি। তোমাকে কেন নিয়ে এসেছি জানো? ( একটু হেসে )
তানিশা :... ( নিশ্চুপ )
কাব্য : তুমি বলেছিলে আমি কেন তোমাকে বিরক্ত করি, কেন বারবার কল করি, তোমার পেছনে কেন লেগে আছি। এই প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়ার জন্য তোমাকে উৎসর্গ করে একটা কবিতা লিখেছি,,
--- বলতেই পারো তোমাকে আমার
আছে কি কোনো প্রয়োজন?
যদিও তোমার অজানা
তোমাকে নিয়ে আমার যত আয়োজন।
বলতেই পারো তোমার মাঝে
আমি কি এমন পেয়েছি খোঁজে
যদিও তোমার অজানা
আমি তোমাতেই রয়েছি ডুবে।
বলতেই পারো আমার জীবনে
তোমাকে কেন দিতে চাই এতো প্রধান্য
যদিও তোমার অজানা
তুমি আমার জীবনে অনন্য।
এখান থেকে তোমার প্রশ্নের উত্তর গুলো খোঁজে নিয়ো।
তানিশা : আরে ফুফাতো ভাইয়ার বন্ধু আপনি কবিতা লিখতে পারেন? ( অনেক খুশি হয়ে )
কাব্য : তোমার জন্য এই প্রথম লিখেছি ( মুচকি হেসে )
তানিশা : আপনি জানেন? আমি আপনার থেকে আরো ভালো কবিতা লিখতে পারি।
কাব্য : really...?? তাহলে একটা কবিতা তো শুনতেই হয়।
তানিশা : তাহলে শুনেন,,
চলবে,,,
( ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন )
আমি এতোদিন ধরে আমার আইডিতে ডুকতে পারছিলাম না। তাই গল্প পোস্ট করতে পারি নাই তার জন্য দুঃখিত। আজ থেকে প্রতিদিন গল্প পোস্ট করা হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন