শারিফা= কিছু মনে করবেন না, ওরা দুষ্টামি করছে
হুসাইন= আমি জানি, আমিও দুষ্টামিই করছি। এখন আমি যাই।
শারিফা খুবি মিষ্টি এবং লাজুক একটা মেয়ে, কিন্তু যার সাথে একবার মিশে যায় তাকে দেখিয়ে দেয় সে কতবর দুষ্টের শিরমনি। শারিফাকে বিদায় দিয়ে হুসাইন সামনে হাটা শুরু করে, হাঁটতে থাকে আর শারিফাকে নিয়ে ভাবতে থাকে, হঠাৎ মনে মনে বলা শুরু করে ইস মোবাইল নাম্বার টা নেয়া হল না, ফেইসবুক ইউস করে কিনা সেটাও তো জানা হল না।
আমি আসলেই একটা ফরমালিন। কিছু দিন পর হুসাইন ঢাকায় ফিরে আসে, হোস্টেলে ঢুকতেই বন্ধুরা যে যার মত হরর স্টোরি শুনাতে শুরু করে, এক জন বলে= এক সপ্তাহের ছুটি নিয়া দুই সপ্তাহ থাইকা আইছ, তোমার খবর আছে চান্দু,। আবার আরেক জন এসে বলে তরে সিউর হোস্টেল থেকে বের করে দিবে।
কিন্তু হুসাইনের কোন টেনশন নাই কারণ সে এভারেস্ট জয় করে আসছে ( আই মিন বিয়ে করে আসছে) আর এটা হল টিচার ভালো করেই জানে। হুসাইন রুমে ঢুকেই দেখে ওর চকির উপর মাসুদের লুঙ্গি, লুঙ্গি টা হাতে নিয়া মাসুদের মুখে মারে। মাসুদ হুসাইনের রুমমেট আবার ক্লাসমেটও।
পাশ থেকে হুসাইনের আরেক রুমমেট মামুন বলে উঠে আইতে না আইতেই বান্দরের লাফালাফি শুরু অইয়া গেসে হুসাইন কোন রিপ্লাই করে না। সে ব্যাগ, টেবিল, বিছানা পত্র না গুছিয়েই শুয়ে পড়ে। মামুন আর মাসুদ ভাবে হুসাইনের হয়ত মন খারাপ,
বাড়িতে খারাপ কিছু হইছে। বিকালে হুসাইন ঘুম থেকে উঠলে মামুন আর মাসুদ ওকে জিজ্ঞেস করে কিরে দোস্ত তোর কি হইছে
হুসাইন= আরে তেমন কিছু হয় নাই, জাস্ট আমি সিঙ্গেল থেকে মিঙ্গেল হয়ে গেসি
মামুন= মানে??
হুসাইন = মানে আমার বিয়ে হয়ে গেছে
মাসুদ= কি কস মামা!! ভাব টাতো এমন ধরসছ, যেন তোর বউ মইরা গেছে।
মামুন= তাইলে তো আজকে সন্ধ্যায় হাজী হোটেল চিকেন পার্টি হইব প্লাস গরুর গোস্তের তেহারি। পকেট তো তোর গরম আছেই।
হস্টেলে আসছে এক সপ্তাহ হয়ে গেছে, এই কয়দিন পড়ালেখা, খেলাধুলা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা ভালোই চলছে, কিন্তু যখনি একটু অন্যমনস্ক হয় তখনি শারিফার কথা মনে পড়ে, চোখের সামনে ভেসে উঠে দিঘির জলের মত স্বচ্ছ কাজল কালো বড় বড় চোখ।
মানুষ যখন প্রেমে পড়ে তখন ভালবাসার মানুষ কে নিয়ে চিন্তা করতেও ভালো লাগে, ওর নাম বার বার উচ্চারণ করতেও ভালো লাগে। হঠাৎ মোবাইলের দুইটা টুন টুন শব্দ হয়। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখে ফেইসবুক থেকে একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসছে, নাম শারিফা ইসলাম বীথি।
নামটা পড়েই হুসাইনের হার্ট জোরে জোরে পাম্পিং করা শুরু করে। এটা কি সেই শারিফা?? যাকে হুসাইন ভালবাসে। কোন কিছু না দেখেই কনফার্ম করে ফেলে। কিছুক্ষনের মধ্যেই একটা ম্যাসেজ আসল
শারিফা= কেমন আছেন??
হুসাইন= কে তুমি??
শারিফা= নিজের বউ কেও চিনেন না!!
হুসাইন= তুমি কি সত্যিই শারিফা??
শারিফা= না, আমি পেতনী। ভয় পাইছেন??
হুসাইন= নাহ, তুমি পেতনী হইলে আমি ভেম্পায়ার, সোঁ ভয় পাওয়ার কিছু নাই। আমার আইডি পাইছ কিভাবে??
শারিফা= আপনার ছোট বনের কাছ থেকে নিয়েছি।
হুসাইন= আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, তুমি শারিফা। একটা ছবি দেও।
সাথে সাথে শারিফা একটা ফটো সেন্ট করে দেয়। হুসাইন শারিফার ফটোর দিকে তাকিয়ে আছে, শারিফার মাথায় একটা ধূসর রঙের স্কার্ট, ডাগর ডাগর চোখের নিষ্পাপ চাহনি, গোলাপি ঠোঁটে মৃদু হাঁসির আভা, চাদের মত মায়াবী মুখমণ্ডল।
হুসাইন এক পলকে শারিফার ছবির দিকে তাকিয়ে আছে। হুসাইন একটু পর পর মোবাইল অন করে ছবিটা দেখে, এমন কি রাত্রে বেলা ছবিটা দেখতে দেখতে ঘুমাইয়াও গেছে।
গল্পের বাকি অংশ পেতে লাইক কমেন্ট করে সাথে থাকুন........
বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯
বউ এর সাথে প্রেম
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন