রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। গ্রামের বাড়ির উঠানে শীতের হালকা কুয়াশা নেমেছে। দূরে বাঁশঝাড়ের ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়ছে। উঠানের এক পাশে বসে ছিল আসিফ। হাতে চায়ের কাপ, কিন্তু মনটা যেন অন্য কোথাও।
ছোটবেলা থেকেই নীলাকে সে চিনত। চাচাতো বোন—একসাথে বড় হওয়া, ঝগড়া, ঈদের নতুন জামা দেখানো, স্কুলে যাওয়ার পথে খুনসুটি—সবকিছুতেই ছিল নীলা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সম্পর্কের ভেতরে অদ্ভুত এক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছিল। সেটা কেউ মুখে বলেনি, শুধু চোখে চোখে লুকিয়ে ছিল।
একদিন হঠাৎ পরিবারের সবাই সিদ্ধান্ত নিল—আসিফ আর নীলার বিয়ে হবে।
খবরটা শুনে আসিফ অবাক হয়েছিল, কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন অদ্ভুত এক শান্তি কাজ করছিল। নীলা অবশ্য প্রথমে লজ্জায় কারও সামনেই আসেনি। সারাদিন নিজের ঘরে ছিল।
বিয়ের দিন পুরো বাড়ি আলোয় ঝলমল করছিল। আত্মীয়স্বজন, হাসি, কোলাহল—সবকিছুর মাঝেও আসিফের চোখ শুধু একজনকেই খুঁজছিল। লাল শাড়িতে যখন নীলাকে আনা হলো, তখন আসিফ কয়েক সেকেন্ডের জন্য চুপ হয়ে গিয়েছিল। এ কি সেই ছোট্ট মেয়েটা, যে একসময় তার সঙ্গে আম চুরি করত?
বাসর রাতে ঘরে ঢুকে আসিফ দেখল, নীলা মাথা নিচু করে বসে আছে। চারপাশে ফুলের গন্ধ।
আসিফ হেসে বলল,
— “এই যে, এত চুপ কেন?”
নীলা ধীরে বলল,
— “অদ্ভুত লাগছে… ছোটবেলার সঙ্গীটা আজ আমার স্বামী।”
আসিফ একটু কাছে গিয়ে বলল,
— “আমার কাছেও। তবে একটা জিনিস বদলায়নি।”
— “কি?”
— “তুমি এখনও আমার সবচেয়ে আপন মানুষ।”
নীলা মুখ তুলে তাকাল। চোখে মায়া আর লাজুক হাসি। সেই মুহূর্তে তাদের সম্পর্কটা শুধু চাচাতো ভাইবোনের স্মৃতিতে আটকে থাকল না, নতুন এক জীবনের শুরু হয়ে গেল।
বিয়ের পরের দিনগুলোতে তাদের বন্ধুত্বটাই আরও গভীর হলো। সকালে একসাথে চা খাওয়া, ছাদে হাঁটা, পুরোনো গল্প নিয়ে হাসাহাসি—সবকিছু যেন নতুন রঙ পেল।
এক রাতে নীলা বলল,
— “জানো, আমি সবসময় ভয় পেতাম, বিয়ের পর মানুষ বদলে যায়।”
আসিফ হেসে উত্তর দিল,
— “তাহলে আমরা বদলাব না। আমরা আগে যেমন বন্ধু ছিলাম, এখনও তেমনই থাকব।”
জানালার বাইরে তখন বৃষ্টি পড়ছিল। আর ভেতরে, দুজন মানুষের সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর রূপ নিচ্ছিল।
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন