পর্ব **
লেখাঃ(Asad Rahman )
- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (নীলা)
- হুম (অচেনা)
- কেঁ বলছেন (নীলা)
- আমি মুরাদ বলছি হৃদয়ের ফ্রেন্ড (মুরাদ)
- জ্বি বলেন (নীলা)
- একটা কথা বলার ছিল (মুরাদ)
- জ্বি বলেন , হৃদয় তো বাসায় নেই (নীলা)
- জ্বি জানি , আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো (মুরাদ)
- আচ্ছা বলেন (নীলা)
- আসলে,,,,,,, আসলে,,,,,,,,,আসলে,,,,,, (মুরাদ)
- এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে ওঠে।নীলা ভাবে এই বুঝি হৃদয় এলো ।
- একটু পরে কল দেন হৃদয় চলে আসছে (নীলা)
- আরে শুনুন (মুরাদ)
- টুট.........টুট.........টুট............
- এক রকম দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দাঁড়ায় নীলা। কিন্তু দরজা খুলে অবাক হয়ে যায় নীলা। দরজায় মাহি দাঁড়ানো । মাহিকে দেখে দেয়ালের ঘড়িতে তাকায় নীলা। ঘড়িতে ১২ টা বেজে ৫৫ মিনিট বাজে । এতো রাতে মাহি তাও এমন অবস্থায় । মাহিকে দেখে নীলার কলিজার পানি শুকিয়ে যায় ।
- মাহি কি হইছে (নীলা)
- ভা,,,,ভা,,,,ভাইয়া (মাহি)
- হৃদয় তো বাসায় নেই , কি হইছে বলো (নীলা)
- ভাবি,,,,, ভাবি,,,,ভাইয়ায়ায়ায়া (মাহি)
- এই বলে ঝাপিয়ে পরে নীলার বুকে , মাহির আর্তনাদ দেখে নীলাও কেঁদে দেয় ।
- এই মাহি এই কি হইছে , এতো রাতে আসলা , মা ঠিক আছে তো , আর বাবা ,,,,,, বাবার শরীর ভালো আছে তো ? (নীলা)
- ভাবিইইইইইইই,,,,,,,ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া (মাহি)
- কি হইছে ভাইয়ার , হৃদয় তো সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে গেলো (নীলা)
- কিচ্ছু হবে না ভাবি , কিচ্ছু হবে না , তুমি শক্ত থাকো (মাহি)
- উফফফফফফ মাহি কি বলো আবল তাবল বলতেছো , কি হইছে বলবা তো নাকি (নীলা)
- ভাবিইইইইইইইইই (মাহি)
- মাহি প্লিজ কান্না থামাও আর বলো কি হইছে , আমার কিন্তু খুব ভয় করছে মাহি (নীলা)
- ভাবি , ভাইয়ার , ভাইয়ার (মাহি)
- হু ভাইয়ার , ভাইয়ার কি মাহি,, বলো (নীলা)
- ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে ভাবি (মাহি)
- কিহহহহহ , কি বলো আবল তাবল , মাথা ঠিক আছে তোমার (নীলা)
- ভাবি ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে , হাইওয়েতে গাড়িটা দুমরে মুচরে গেছে ভাবি , আব্বুকে কল করে খবর দেয় পুলিশ রা , আব্বু আর আম্মু হাসপাতালে আমি এইখানে আসছি ভাবি (মাহি)
- মা,,,,,,মা,,,,,মাহি , (নীলা)
- ভাবি একটু কান্না করো , কান্না করো ভাবি , বুকটা হালকা হবে , কান্না করো না প্লিজ , (মাহি)
- হৃ,,,,হৃ,,,,হৃদ,,,,,,,হৃদয় , আর এক্সিডেন্ট ,,,,,, (নীলা)
- ভাবি এই ভাবি কান্না করো না প্লিজ , কান্না করো (মাহি)
- হৃদয়ের কাছে যাবো মাহি , আমি হৃদয়ের কাছে যাবো (নীলা)
- কাল যাবো ভাবি , আমরা কাল যাবো , (মাহি)
- নাহ , এখন যাবো , এক্ষুনি যাবো , মাহি আমি তার কাছে যাবো , তার কাছে যাবো (নীলা)
- কিন্তু ভাবি এতো রাতে (মাহি)
- কোন রাত না আমি এখনি যাবো আমি এখনি যাবো তার কাছে (নীলা)
- কিন্তু ভাবি (মাহি)
- কোন কিন্তু না , চলো (নীলা)
- মাহিকে নিয়ে রওনা হয়ে গেলো হাসপাতালের উদ্দেশ্য । মনের মধ্যে একটুও জোর নেই যে চিৎকার দিয়ে কান্না করবে । পুরা জমে আছে সে । সন্ধ্যায় যেই মানুষ টা বাসায় এতো চিৎকার চেচামেচি করে গেলো , সে নাকি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে । তিন/চার ঘন্টার ব্যবধানে কি থেকে কি হয়ে গেলো । মানুষ টা কেমন আছে কি অবস্থায় আছে এই ভেবে ভেবে নীলার বুক কেপে উঠে বার বার ।
- হাসপাতালে গিয়ে আরো বড় সড় ধাক্কা খায় নীলা । শুধু শ্বশুর শ্বাশুড়ি না তার নিজের বাড়ির লোক ও আছে । নীলার বাবা ভাই মা ও এসছে হাসপাতালে । নীলাকে দেখে তার মা এসে জড়িয়ে ধরে ,
- কিচ্ছু হবে না মা , জামাইয়ের কিছুই হবে না, আল্লাহ কে ডাক মা আল্লাহ কে ডাক । আল্লাহ বিপদ দিয়েছে আল্লাহই রক্ষা করবে মা (মা)
- বাবুই পাখি , হৃদয়ের কিছুই হবে না অপারেশন চলছে , ভালো হয়ে যাবে (নিলয়)
- আম্মু শুনো তো (মাহি)
- হ্যা বল (মাহির মা)
- ভাবি একটুও কাদে নি (মাহি)
- কিহহহহহহ (মাহির মা)
- হুম আম্মু , ভাবি একদম বরফ হয়ে গেছে (মাহি)
- এইভাবে তো অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা)
- হুম আম্মু তুমি কিছু করো (মাহি)
- বেয়ান শুনেন তো একটু (মাহির মা)
- জ্বি বেয়ান বলেন , আর এতো কান্না কইরেন না বোন (নীলার মা)
- বেয়ান কি অন্যায় করলাম গো বোন , আমার ছেলের এই অবস্থা , এইদিকে আমার বউ ও বরফ হয়ে গেছে (মাহির মা)
- হ্যা বেয়ান মেয়ে আমার কাদে না কেন , (নীলার মা)
- ওকে কান্না করান বেয়ান না হয় অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা)
- দেখতেছি (নীলার মা)
- প্রায় ২০ মিনিট ধরে চেষ্টার পরেও নীলা না বলছে কথা না করছে কান্না । সবাই অনেক চিন্তায় পরে যায় তার জন্যে । এই সময়েই ডক্টর বের হয় O.T থেকে ।
- শফিক , কেমন দেখলি দোস্ত , আমার ছেলেটা বেচে যাবে তো (মাহির বাবা)
- শান্ত হো , কথা শুন আগে (শফিক সাহেব)
- বল (মাহির বাবা)
- এতো অন্যমনস্ক হয়ে কেউ গাড়ি চালায় নাকি , কি হয়ে গেলো (শফিক সাহেব)
- আংকেল ও কেমন আছে , শুধু এইটুকু বলেন (নীলা)
- এক্সিডেন্ট খুব মারাত্মক ভাবে হয়েছে । বাম পায়ে অনেক চোট পেয়েছে , ঘাড়ের একটা রগ কেটে গেছে , শিড়দারায় অনেক ফ্যাকচার এসে গেছে । মাথায় অনেক আঘাত লেগেছে , ডান হাত টার সব গুলো আঙুল থেতলে গেছে । এক কথায় দোস্ত আল্লাহ কে ডাক , এই মুহূর্তে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তোর ছেলেকে বাচাতে পারবে না (শফিক সাহেব)
- আল্লাহ এইগুলা কি শুনাইলেন ভাই , আমার ছেলেটার কি হয়ে গেলো (মাহির মা)
- আল্লাহ কে ডাকেন ভাবি (শফিক সাহেব)
- দোস্ত এখন কি অবস্থা বুঝতেছিস তুই (মাহির বাবা)
- যদিও বেচে যায় প্যারালাইসিস হয়ে থাকবে , সেড়ে উঠতে সময় লাগবে (শফিক সাহেব)
- আল্লাহ ভাই কি শুনাইলেন (মাহির মা)
- আংকেল আমি ওকে দেখতে চাই প্লিজ আংকেল , (নীলা)
- আরেকটু পরে আই.সি.ইউ তে দিবো তখন দেখতে পারবা মা (শফিক সাহেব)
- হৃদয়কে নিয়ে এক প্রকার জমে মানুষে টানাটানি করেছে সেই রাতে । কারো চোখেই ঘুম নেই ।
- রাত প্রায় ৩ টা বেজে ২৫ মিনিট ,
- এক্সকিউজ মি , শুনছেন (মাহি)
- জ্বি (নিলয়)
- ধরুন (মাহি)
- কফি ? এতো রাতে (নিলয়)
- কি আর করার , রাত টা বড্ড কালো , কখন শেষ হবে কে জানে , চিন্তিত দেখাচ্ছে আপনাকে , তাই ভাবলাম কফি হলে কেমন হয় (মাহি)
- ধন্যবাদ (নিলয়)
- হুম , ধন্যবাদ কি পকেটে রাখেন নাকি সব সময় (মাহি)
- মানে (নিলয়)
- এতো ধন্যবাদ ধন্যবাদ করেন কেন (মাহি)
- তোমার চোখ মুখ ও তো ফুলে একাকার , ঘুমিয়ে নাও একটু , (নিলয়)
- ঘুম আর আসবে না , এতো বিপদে ঘুম আসেও না (মাহি)
- চিন্তা করো না , হৃদয় ভালো হয়ে যাবে (নিলয়)
- হুম সেই আশাতেই আছি , কিন্তু আংকেলের কথায় ভরসা পাচ্ছি না (মাহি)
- ভয় পেও না , সব ঠিক হয়ে যাবে , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো , বাবুইপাখি কোথায় (নিলয়)
- আই.সি.ইউর সামনে দাঁড়িয়ে আছে , কিছুই খেলো না (মাহি)
- থাক জোড় করো না , ও এমনি , মন খারাপ থাকলে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দেয় , আর এখন তো তার স্বামী অসুস্থ , এখন তো মেরে ফেলে দিলেও খাবে না (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- তুমি খাবে না কফি (নিলয়)
- নাহ আমি লিকার খাই , কফি না (মাহি)
- তাহলে কফি আনলে আমার জন্যে ? আই মিন জানো কিভাবে যে আমি কফি খাই তাও স্ট্রং ব্ল্যাক কফি (নিলয়)
- ভাবির কাছে শুনেছিলাম একদিন (মাহি)
- ওহ , তা বসো না , (নিলয়)
- নাহ , একটু ওইদিক টায় যাবো , আপনি কফি খান (মাহি)
- হুম (নিলয়)
- একি আপনি এইখানে (মাহি)
- কেন , সমস্যা করলাম নাকি (নিলয়)
- নাহ , সমস্যা কেন হবে (মাহি)
- তাহলে দাড়াই একটু (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- কি ব্যাপার কাদছো কেন (নিলয়)
- কই না তো (মাহি)
- কই আবার কি , কাদলে তো , চোখের পানি গুলো আমায় দেখে মুছে নিলে (নিলয়)
- ভালো লাগছে না , ভাইয়া টা ভালো হবে তো (মাহি)
- ইনশাআল্লাহ , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো (নিলয়)
- চলুন যাওয়া যাক (মাহি)
- আরে আরে কি হলো (নিলয়)
- একটু দাড়ান , মাথা টা কেমন যেনো করে উঠলো (মাহি)
- খুব খারাপ লাগছে কি (নিলয়)
- না , মাথা টা ঘুরে গেলো হঠাৎ করে (মাহি)
- এতো কান্না করলে এমনিতেই তো অসুস্থ হয়ে যাবে তাই না , তার উপরে নির্ঘুম রাত পার করছো (নিলয়)
- উফফফফফফফ (মাহি)
- আরে আরে পরে যাবে তো , দেখি এইখানে বসো , সবাই এক সাথে অসুস্থ হলে আন্টি আংকেল কে দেখবে কে বলো তো , বসো এইখানে (নিলয়)
- এখন কেমন লাগছে ? (নিলয়)
- ভালো , চলুন (মাহি)
- আরে করো কি , বসে থাকো এখানে , একটু রেষ্ট করো (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- ঘুমানোর চেষ্টা করো একটু (নিলয়)
- কিছুক্ষণ পর ,
- একটা মানুষ এতো টা সুন্দর হয় কিভাবে , জানা ছিলো না , স্নিগ্ধ চেহারায় কি অমোলোনিয় সৌন্দর্য বিরাজ করছে মেয়েটার মুখে । কত টুকু অপূর্ব লাগছ তাকে সে নিজেও জানে না (নিলয়)
- মাহির গায়ের ওড়না টা দিয়ে মাহির শরীর টাকে সুন্দর করে ঢেকে দেয় নিলয়। যেনো ঠান্ডা বাতাস টা গায়ে না লাগে ।
- এইদিকে হৃদয়ের অবস্থা খুবই শোচনীয় । আর নীলা ঠায় দাঁড়িয়ে আই.সি.ইউর সামনে ।
কালকের ভোর টা তাদের জন্যে কি অপেক্ষা করে আছে তা আল্লাহ ভালো বলতে পারবে ।
- আজ আসি আবার কাল আসবো সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।আর কাছের মানুষদের ভালো রাখবেন।
** চলবে **
বিঃদ্রঃ ১১তম পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
<😍 Session 2 😍>
** শেষ
পর্ব **
লেখাঃ(Asad Rahman )
- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (নীলা)
- হুম (অচেনা)
- কেঁ বলছেন (নীলা)
- আমি মুরাদ বলছি হৃদয়ের ফ্রেন্ড (মুরাদ)
- জ্বি বলেন (নীলা)
- একটা কথা বলার ছিল (মুরাদ)
- জ্বি বলেন , হৃদয় তো বাসায় নেই (নীলা)
- জ্বি জানি , আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো (মুরাদ)
- আচ্ছা বলেন (নীলা)
- আসলে,,,,,,, আসলে,,,,,,,,,আসলে,,,,,, (মুরাদ)
- এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে ওঠে।নীলা ভাবে এই বুঝি হৃদয় এলো ।
- একটু পরে কল দেন হৃদয় চলে আসছে (নীলা)
- আরে শুনুন (মুরাদ)
- টুট.........টুট.........টুট............
- এক রকম দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দাঁড়ায় নীলা। কিন্তু দরজা খুলে অবাক হয়ে যায় নীলা। দরজায় মাহি দাঁড়ানো । মাহিকে দেখে দেয়ালের ঘড়িতে তাকায় নীলা। ঘড়িতে ১২ টা বেজে ৫৫ মিনিট বাজে । এতো রাতে মাহি তাও এমন অবস্থায় । মাহিকে দেখে নীলার কলিজার পানি শুকিয়ে যায় ।
- মাহি কি হইছে (নীলা)
- ভা,,,,ভা,,,,ভাইয়া (মাহি)
- হৃদয় তো বাসায় নেই , কি হইছে বলো (নীলা)
- ভাবি,,,,, ভাবি,,,,ভাইয়ায়ায়ায়া (মাহি)
- এই বলে ঝাপিয়ে পরে নীলার বুকে , মাহির আর্তনাদ দেখে নীলাও কেঁদে দেয় ।
- এই মাহি এই কি হইছে , এতো রাতে আসলা , মা ঠিক আছে তো , আর বাবা ,,,,,, বাবার শরীর ভালো আছে তো ? (নীলা)
- ভাবিইইইইইইই,,,,,,,ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া (মাহি)
- কি হইছে ভাইয়ার , হৃদয় তো সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে গেলো (নীলা)
- কিচ্ছু হবে না ভাবি , কিচ্ছু হবে না , তুমি শক্ত থাকো (মাহি)
- উফফফফফফ মাহি কি বলো আবল তাবল বলতেছো , কি হইছে বলবা তো নাকি (নীলা)
- ভাবিইইইইইইইইই (মাহি)
- মাহি প্লিজ কান্না থামাও আর বলো কি হইছে , আমার কিন্তু খুব ভয় করছে মাহি (নীলা)
- ভাবি , ভাইয়ার , ভাইয়ার (মাহি)
- হু ভাইয়ার , ভাইয়ার কি মাহি,, বলো (নীলা)
- ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে ভাবি (মাহি)
- কিহহহহহ , কি বলো আবল তাবল , মাথা ঠিক আছে তোমার (নীলা)
- ভাবি ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে , হাইওয়েতে গাড়িটা দুমরে মুচরে গেছে ভাবি , আব্বুকে কল করে খবর দেয় পুলিশ রা , আব্বু আর আম্মু হাসপাতালে আমি এইখানে আসছি ভাবি (মাহি)
- মা,,,,,,মা,,,,,মাহি , (নীলা)
- ভাবি একটু কান্না করো , কান্না করো ভাবি , বুকটা হালকা হবে , কান্না করো না প্লিজ , (মাহি)
- হৃ,,,,হৃ,,,,হৃদ,,,,,,,হৃদয় , আর এক্সিডেন্ট ,,,,,, (নীলা)
- ভাবি এই ভাবি কান্না করো না প্লিজ , কান্না করো (মাহি)
- হৃদয়ের কাছে যাবো মাহি , আমি হৃদয়ের কাছে যাবো (নীলা)
- কাল যাবো ভাবি , আমরা কাল যাবো , (মাহি)
- নাহ , এখন যাবো , এক্ষুনি যাবো , মাহি আমি তার কাছে যাবো , তার কাছে যাবো (নীলা)
- কিন্তু ভাবি এতো রাতে (মাহি)
- কোন রাত না আমি এখনি যাবো আমি এখনি যাবো তার কাছে (নীলা)
- কিন্তু ভাবি (মাহি)
- কোন কিন্তু না , চলো (নীলা)
- মাহিকে নিয়ে রওনা হয়ে গেলো হাসপাতালের উদ্দেশ্য । মনের মধ্যে একটুও জোর নেই যে চিৎকার দিয়ে কান্না করবে । পুরা জমে আছে সে । সন্ধ্যায় যেই মানুষ টা বাসায় এতো চিৎকার চেচামেচি করে গেলো , সে নাকি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে । তিন/চার ঘন্টার ব্যবধানে কি থেকে কি হয়ে গেলো । মানুষ টা কেমন আছে কি অবস্থায় আছে এই ভেবে ভেবে নীলার বুক কেপে উঠে বার বার ।
- হাসপাতালে গিয়ে আরো বড় সড় ধাক্কা খায় নীলা । শুধু শ্বশুর শ্বাশুড়ি না তার নিজের বাড়ির লোক ও আছে । নীলার বাবা ভাই মা ও এসছে হাসপাতালে । নীলাকে দেখে তার মা এসে জড়িয়ে ধরে ,
- কিচ্ছু হবে না মা , জামাইয়ের কিছুই হবে না, আল্লাহ কে ডাক মা আল্লাহ কে ডাক । আল্লাহ বিপদ দিয়েছে আল্লাহই রক্ষা করবে মা (মা)
- বাবুই পাখি , হৃদয়ের কিছুই হবে না অপারেশন চলছে , ভালো হয়ে যাবে (নিলয়)
- আম্মু শুনো তো (মাহি)
- হ্যা বল (মাহির মা)
- ভাবি একটুও কাদে নি (মাহি)
- কিহহহহহহ (মাহির মা)
- হুম আম্মু , ভাবি একদম বরফ হয়ে গেছে (মাহি)
- এইভাবে তো অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা)
- হুম আম্মু তুমি কিছু করো (মাহি)
- বেয়ান শুনেন তো একটু (মাহির মা)
- জ্বি বেয়ান বলেন , আর এতো কান্না কইরেন না বোন (নীলার মা)
- বেয়ান কি অন্যায় করলাম গো বোন , আমার ছেলের এই অবস্থা , এইদিকে আমার বউ ও বরফ হয়ে গেছে (মাহির মা)
- হ্যা বেয়ান মেয়ে আমার কাদে না কেন , (নীলার মা)
- ওকে কান্না করান বেয়ান না হয় অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা)
- দেখতেছি (নীলার মা)
- প্রায় ২০ মিনিট ধরে চেষ্টার পরেও নীলা না বলছে কথা না করছে কান্না । সবাই অনেক চিন্তায় পরে যায় তার জন্যে । এই সময়েই ডক্টর বের হয় O.T থেকে ।
- শফিক , কেমন দেখলি দোস্ত , আমার ছেলেটা বেচে যাবে তো (মাহির বাবা)
- শান্ত হো , কথা শুন আগে (শফিক সাহেব)
- বল (মাহির বাবা)
- এতো অন্যমনস্ক হয়ে কেউ গাড়ি চালায় নাকি , কি হয়ে গেলো (শফিক সাহেব)
- আংকেল ও কেমন আছে , শুধু এইটুকু বলেন (নীলা)
- এক্সিডেন্ট খুব মারাত্মক ভাবে হয়েছে । বাম পায়ে অনেক চোট পেয়েছে , ঘাড়ের একটা রগ কেটে গেছে , শিড়দারায় অনেক ফ্যাকচার এসে গেছে । মাথায় অনেক আঘাত লেগেছে , ডান হাত টার সব গুলো আঙুল থেতলে গেছে । এক কথায় দোস্ত আল্লাহ কে ডাক , এই মুহূর্তে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তোর ছেলেকে বাচাতে পারবে না (শফিক সাহেব)
- আল্লাহ এইগুলা কি শুনাইলেন ভাই , আমার ছেলেটার কি হয়ে গেলো (মাহির মা)
- আল্লাহ কে ডাকেন ভাবি (শফিক সাহেব)
- দোস্ত এখন কি অবস্থা বুঝতেছিস তুই (মাহির বাবা)
- যদিও বেচে যায় প্যারালাইসিস হয়ে থাকবে , সেড়ে উঠতে সময় লাগবে (শফিক সাহেব)
- আল্লাহ ভাই কি শুনাইলেন (মাহির মা)
- আংকেল আমি ওকে দেখতে চাই প্লিজ আংকেল , (নীলা)
- আরেকটু পরে আই.সি.ইউ তে দিবো তখন দেখতে পারবা মা (শফিক সাহেব)
- হৃদয়কে নিয়ে এক প্রকার জমে মানুষে টানাটানি করেছে সেই রাতে । কারো চোখেই ঘুম নেই ।
- রাত প্রায় ৩ টা বেজে ২৫ মিনিট ,
- এক্সকিউজ মি , শুনছেন (মাহি)
- জ্বি (নিলয়)
- ধরুন (মাহি)
- কফি ? এতো রাতে (নিলয়)
- কি আর করার , রাত টা বড্ড কালো , কখন শেষ হবে কে জানে , চিন্তিত দেখাচ্ছে আপনাকে , তাই ভাবলাম কফি হলে কেমন হয় (মাহি)
- ধন্যবাদ (নিলয়)
- হুম , ধন্যবাদ কি পকেটে রাখেন নাকি সব সময় (মাহি)
- মানে (নিলয়)
- এতো ধন্যবাদ ধন্যবাদ করেন কেন (মাহি)
- তোমার চোখ মুখ ও তো ফুলে একাকার , ঘুমিয়ে নাও একটু , (নিলয়)
- ঘুম আর আসবে না , এতো বিপদে ঘুম আসেও না (মাহি)
- চিন্তা করো না , হৃদয় ভালো হয়ে যাবে (নিলয়)
- হুম সেই আশাতেই আছি , কিন্তু আংকেলের কথায় ভরসা পাচ্ছি না (মাহি)
- ভয় পেও না , সব ঠিক হয়ে যাবে , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো , বাবুইপাখি কোথায় (নিলয়)
- আই.সি.ইউর সামনে দাঁড়িয়ে আছে , কিছুই খেলো না (মাহি)
- থাক জোড় করো না , ও এমনি , মন খারাপ থাকলে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দেয় , আর এখন তো তার স্বামী অসুস্থ , এখন তো মেরে ফেলে দিলেও খাবে না (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- তুমি খাবে না কফি (নিলয়)
- নাহ আমি লিকার খাই , কফি না (মাহি)
- তাহলে কফি আনলে আমার জন্যে ? আই মিন জানো কিভাবে যে আমি কফি খাই তাও স্ট্রং ব্ল্যাক কফি (নিলয়)
- ভাবির কাছে শুনেছিলাম একদিন (মাহি)
- ওহ , তা বসো না , (নিলয়)
- নাহ , একটু ওইদিক টায় যাবো , আপনি কফি খান (মাহি)
- হুম (নিলয়)
- একি আপনি এইখানে (মাহি)
- কেন , সমস্যা করলাম নাকি (নিলয়)
- নাহ , সমস্যা কেন হবে (মাহি)
- তাহলে দাড়াই একটু (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- কি ব্যাপার কাদছো কেন (নিলয়)
- কই না তো (মাহি)
- কই আবার কি , কাদলে তো , চোখের পানি গুলো আমায় দেখে মুছে নিলে (নিলয়)
- ভালো লাগছে না , ভাইয়া টা ভালো হবে তো (মাহি)
- ইনশাআল্লাহ , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো (নিলয়)
- চলুন যাওয়া যাক (মাহি)
- আরে আরে কি হলো (নিলয়)
- একটু দাড়ান , মাথা টা কেমন যেনো করে উঠলো (মাহি)
- খুব খারাপ লাগছে কি (নিলয়)
- না , মাথা টা ঘুরে গেলো হঠাৎ করে (মাহি)
- এতো কান্না করলে এমনিতেই তো অসুস্থ হয়ে যাবে তাই না , তার উপরে নির্ঘুম রাত পার করছো (নিলয়)
- উফফফফফফফ (মাহি)
- আরে আরে পরে যাবে তো , দেখি এইখানে বসো , সবাই এক সাথে অসুস্থ হলে আন্টি আংকেল কে দেখবে কে বলো তো , বসো এইখানে (নিলয়)
- এখন কেমন লাগছে ? (নিলয়)
- ভালো , চলুন (মাহি)
- আরে করো কি , বসে থাকো এখানে , একটু রেষ্ট করো (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- ঘুমানোর চেষ্টা করো একটু (নিলয়)
- কিছুক্ষণ পর ,
- একটা মানুষ এতো টা সুন্দর হয় কিভাবে , জানা ছিলো না , স্নিগ্ধ চেহারায় কি অমোলোনিয় সৌন্দর্য বিরাজ করছে মেয়েটার মুখে । কত টুকু অপূর্ব লাগছ তাকে সে নিজেও জানে না (নিলয়)
- মাহির গায়ের ওড়না টা দিয়ে মাহির শরীর টাকে সুন্দর করে ঢেকে দেয় নিলয়। যেনো ঠান্ডা বাতাস টা গায়ে না লাগে ।
- এইদিকে হৃদয়ের অবস্থা খুবই শোচনীয় । আর নীলা ঠায় দাঁড়িয়ে আই.সি.ইউর সামনে ।
কালকের ভোর টা তাদের জন্যে কি অপেক্ষা করে আছে তা আল্লাহ ভালো বলতে পারবে ।
- আজ আসি আবার কাল আসবো সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।আর কাছের মানুষদের ভালো রাখবেন।
** চলবে **
বিঃদ্রঃ ১১তম পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
পর্ব **
লেখাঃ(Asad Rahman )
- হ্যালো আসসালামু আলাইকুম (নীলা)
- হুম (অচেনা)
- কেঁ বলছেন (নীলা)
- আমি মুরাদ বলছি হৃদয়ের ফ্রেন্ড (মুরাদ)
- জ্বি বলেন (নীলা)
- একটা কথা বলার ছিল (মুরাদ)
- জ্বি বলেন , হৃদয় তো বাসায় নেই (নীলা)
- জ্বি জানি , আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো (মুরাদ)
- আচ্ছা বলেন (নীলা)
- আসলে,,,,,,, আসলে,,,,,,,,,আসলে,,,,,, (মুরাদ)
- এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে ওঠে।নীলা ভাবে এই বুঝি হৃদয় এলো ।
- একটু পরে কল দেন হৃদয় চলে আসছে (নীলা)
- আরে শুনুন (মুরাদ)
- টুট.........টুট.........টুট............
- এক রকম দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দাঁড়ায় নীলা। কিন্তু দরজা খুলে অবাক হয়ে যায় নীলা। দরজায় মাহি দাঁড়ানো । মাহিকে দেখে দেয়ালের ঘড়িতে তাকায় নীলা। ঘড়িতে ১২ টা বেজে ৫৫ মিনিট বাজে । এতো রাতে মাহি তাও এমন অবস্থায় । মাহিকে দেখে নীলার কলিজার পানি শুকিয়ে যায় ।
- মাহি কি হইছে (নীলা)
- ভা,,,,ভা,,,,ভাইয়া (মাহি)
- হৃদয় তো বাসায় নেই , কি হইছে বলো (নীলা)
- ভাবি,,,,, ভাবি,,,,ভাইয়ায়ায়ায়া (মাহি)
- এই বলে ঝাপিয়ে পরে নীলার বুকে , মাহির আর্তনাদ দেখে নীলাও কেঁদে দেয় ।
- এই মাহি এই কি হইছে , এতো রাতে আসলা , মা ঠিক আছে তো , আর বাবা ,,,,,, বাবার শরীর ভালো আছে তো ? (নীলা)
- ভাবিইইইইইইই,,,,,,,ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া (মাহি)
- কি হইছে ভাইয়ার , হৃদয় তো সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে গেলো (নীলা)
- কিচ্ছু হবে না ভাবি , কিচ্ছু হবে না , তুমি শক্ত থাকো (মাহি)
- উফফফফফফ মাহি কি বলো আবল তাবল বলতেছো , কি হইছে বলবা তো নাকি (নীলা)
- ভাবিইইইইইইইইই (মাহি)
- মাহি প্লিজ কান্না থামাও আর বলো কি হইছে , আমার কিন্তু খুব ভয় করছে মাহি (নীলা)
- ভাবি , ভাইয়ার , ভাইয়ার (মাহি)
- হু ভাইয়ার , ভাইয়ার কি মাহি,, বলো (নীলা)
- ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে ভাবি (মাহি)
- কিহহহহহ , কি বলো আবল তাবল , মাথা ঠিক আছে তোমার (নীলা)
- ভাবি ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হইছে , হাইওয়েতে গাড়িটা দুমরে মুচরে গেছে ভাবি , আব্বুকে কল করে খবর দেয় পুলিশ রা , আব্বু আর আম্মু হাসপাতালে আমি এইখানে আসছি ভাবি (মাহি)
- মা,,,,,,মা,,,,,মাহি , (নীলা)
- ভাবি একটু কান্না করো , কান্না করো ভাবি , বুকটা হালকা হবে , কান্না করো না প্লিজ , (মাহি)
- হৃ,,,,হৃ,,,,হৃদ,,,,,,,হৃদয় , আর এক্সিডেন্ট ,,,,,, (নীলা)
- ভাবি এই ভাবি কান্না করো না প্লিজ , কান্না করো (মাহি)
- হৃদয়ের কাছে যাবো মাহি , আমি হৃদয়ের কাছে যাবো (নীলা)
- কাল যাবো ভাবি , আমরা কাল যাবো , (মাহি)
- নাহ , এখন যাবো , এক্ষুনি যাবো , মাহি আমি তার কাছে যাবো , তার কাছে যাবো (নীলা)
- কিন্তু ভাবি এতো রাতে (মাহি)
- কোন রাত না আমি এখনি যাবো আমি এখনি যাবো তার কাছে (নীলা)
- কিন্তু ভাবি (মাহি)
- কোন কিন্তু না , চলো (নীলা)
- মাহিকে নিয়ে রওনা হয়ে গেলো হাসপাতালের উদ্দেশ্য । মনের মধ্যে একটুও জোর নেই যে চিৎকার দিয়ে কান্না করবে । পুরা জমে আছে সে । সন্ধ্যায় যেই মানুষ টা বাসায় এতো চিৎকার চেচামেচি করে গেলো , সে নাকি এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে । তিন/চার ঘন্টার ব্যবধানে কি থেকে কি হয়ে গেলো । মানুষ টা কেমন আছে কি অবস্থায় আছে এই ভেবে ভেবে নীলার বুক কেপে উঠে বার বার ।
- হাসপাতালে গিয়ে আরো বড় সড় ধাক্কা খায় নীলা । শুধু শ্বশুর শ্বাশুড়ি না তার নিজের বাড়ির লোক ও আছে । নীলার বাবা ভাই মা ও এসছে হাসপাতালে । নীলাকে দেখে তার মা এসে জড়িয়ে ধরে ,
- কিচ্ছু হবে না মা , জামাইয়ের কিছুই হবে না, আল্লাহ কে ডাক মা আল্লাহ কে ডাক । আল্লাহ বিপদ দিয়েছে আল্লাহই রক্ষা করবে মা (মা)
- বাবুই পাখি , হৃদয়ের কিছুই হবে না অপারেশন চলছে , ভালো হয়ে যাবে (নিলয়)
- আম্মু শুনো তো (মাহি)
- হ্যা বল (মাহির মা)
- ভাবি একটুও কাদে নি (মাহি)
- কিহহহহহহ (মাহির মা)
- হুম আম্মু , ভাবি একদম বরফ হয়ে গেছে (মাহি)
- এইভাবে তো অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা)
- হুম আম্মু তুমি কিছু করো (মাহি)
- বেয়ান শুনেন তো একটু (মাহির মা)
- জ্বি বেয়ান বলেন , আর এতো কান্না কইরেন না বোন (নীলার মা)
- বেয়ান কি অন্যায় করলাম গো বোন , আমার ছেলের এই অবস্থা , এইদিকে আমার বউ ও বরফ হয়ে গেছে (মাহির মা)
- হ্যা বেয়ান মেয়ে আমার কাদে না কেন , (নীলার মা)
- ওকে কান্না করান বেয়ান না হয় অসুস্থ হয়ে যাবে (মাহির মা)
- দেখতেছি (নীলার মা)
- প্রায় ২০ মিনিট ধরে চেষ্টার পরেও নীলা না বলছে কথা না করছে কান্না । সবাই অনেক চিন্তায় পরে যায় তার জন্যে । এই সময়েই ডক্টর বের হয় O.T থেকে ।
- শফিক , কেমন দেখলি দোস্ত , আমার ছেলেটা বেচে যাবে তো (মাহির বাবা)
- শান্ত হো , কথা শুন আগে (শফিক সাহেব)
- বল (মাহির বাবা)
- এতো অন্যমনস্ক হয়ে কেউ গাড়ি চালায় নাকি , কি হয়ে গেলো (শফিক সাহেব)
- আংকেল ও কেমন আছে , শুধু এইটুকু বলেন (নীলা)
- এক্সিডেন্ট খুব মারাত্মক ভাবে হয়েছে । বাম পায়ে অনেক চোট পেয়েছে , ঘাড়ের একটা রগ কেটে গেছে , শিড়দারায় অনেক ফ্যাকচার এসে গেছে । মাথায় অনেক আঘাত লেগেছে , ডান হাত টার সব গুলো আঙুল থেতলে গেছে । এক কথায় দোস্ত আল্লাহ কে ডাক , এই মুহূর্তে আল্লাহ ছাড়া আর কেউই তোর ছেলেকে বাচাতে পারবে না (শফিক সাহেব)
- আল্লাহ এইগুলা কি শুনাইলেন ভাই , আমার ছেলেটার কি হয়ে গেলো (মাহির মা)
- আল্লাহ কে ডাকেন ভাবি (শফিক সাহেব)
- দোস্ত এখন কি অবস্থা বুঝতেছিস তুই (মাহির বাবা)
- যদিও বেচে যায় প্যারালাইসিস হয়ে থাকবে , সেড়ে উঠতে সময় লাগবে (শফিক সাহেব)
- আল্লাহ ভাই কি শুনাইলেন (মাহির মা)
- আংকেল আমি ওকে দেখতে চাই প্লিজ আংকেল , (নীলা)
- আরেকটু পরে আই.সি.ইউ তে দিবো তখন দেখতে পারবা মা (শফিক সাহেব)
- হৃদয়কে নিয়ে এক প্রকার জমে মানুষে টানাটানি করেছে সেই রাতে । কারো চোখেই ঘুম নেই ।
- রাত প্রায় ৩ টা বেজে ২৫ মিনিট ,
- এক্সকিউজ মি , শুনছেন (মাহি)
- জ্বি (নিলয়)
- ধরুন (মাহি)
- কফি ? এতো রাতে (নিলয়)
- কি আর করার , রাত টা বড্ড কালো , কখন শেষ হবে কে জানে , চিন্তিত দেখাচ্ছে আপনাকে , তাই ভাবলাম কফি হলে কেমন হয় (মাহি)
- ধন্যবাদ (নিলয়)
- হুম , ধন্যবাদ কি পকেটে রাখেন নাকি সব সময় (মাহি)
- মানে (নিলয়)
- এতো ধন্যবাদ ধন্যবাদ করেন কেন (মাহি)
- তোমার চোখ মুখ ও তো ফুলে একাকার , ঘুমিয়ে নাও একটু , (নিলয়)
- ঘুম আর আসবে না , এতো বিপদে ঘুম আসেও না (মাহি)
- চিন্তা করো না , হৃদয় ভালো হয়ে যাবে (নিলয়)
- হুম সেই আশাতেই আছি , কিন্তু আংকেলের কথায় ভরসা পাচ্ছি না (মাহি)
- ভয় পেও না , সব ঠিক হয়ে যাবে , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো , বাবুইপাখি কোথায় (নিলয়)
- আই.সি.ইউর সামনে দাঁড়িয়ে আছে , কিছুই খেলো না (মাহি)
- থাক জোড় করো না , ও এমনি , মন খারাপ থাকলে নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দেয় , আর এখন তো তার স্বামী অসুস্থ , এখন তো মেরে ফেলে দিলেও খাবে না (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- তুমি খাবে না কফি (নিলয়)
- নাহ আমি লিকার খাই , কফি না (মাহি)
- তাহলে কফি আনলে আমার জন্যে ? আই মিন জানো কিভাবে যে আমি কফি খাই তাও স্ট্রং ব্ল্যাক কফি (নিলয়)
- ভাবির কাছে শুনেছিলাম একদিন (মাহি)
- ওহ , তা বসো না , (নিলয়)
- নাহ , একটু ওইদিক টায় যাবো , আপনি কফি খান (মাহি)
- হুম (নিলয়)
- একি আপনি এইখানে (মাহি)
- কেন , সমস্যা করলাম নাকি (নিলয়)
- নাহ , সমস্যা কেন হবে (মাহি)
- তাহলে দাড়াই একটু (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- কি ব্যাপার কাদছো কেন (নিলয়)
- কই না তো (মাহি)
- কই আবার কি , কাদলে তো , চোখের পানি গুলো আমায় দেখে মুছে নিলে (নিলয়)
- ভালো লাগছে না , ভাইয়া টা ভালো হবে তো (মাহি)
- ইনশাআল্লাহ , আল্লাহর উপরে ভরসা রাখো (নিলয়)
- চলুন যাওয়া যাক (মাহি)
- আরে আরে কি হলো (নিলয়)
- একটু দাড়ান , মাথা টা কেমন যেনো করে উঠলো (মাহি)
- খুব খারাপ লাগছে কি (নিলয়)
- না , মাথা টা ঘুরে গেলো হঠাৎ করে (মাহি)
- এতো কান্না করলে এমনিতেই তো অসুস্থ হয়ে যাবে তাই না , তার উপরে নির্ঘুম রাত পার করছো (নিলয়)
- উফফফফফফফ (মাহি)
- আরে আরে পরে যাবে তো , দেখি এইখানে বসো , সবাই এক সাথে অসুস্থ হলে আন্টি আংকেল কে দেখবে কে বলো তো , বসো এইখানে (নিলয়)
- এখন কেমন লাগছে ? (নিলয়)
- ভালো , চলুন (মাহি)
- আরে করো কি , বসে থাকো এখানে , একটু রেষ্ট করো (নিলয়)
- হুম (মাহি)
- ঘুমানোর চেষ্টা করো একটু (নিলয়)
- কিছুক্ষণ পর ,
- একটা মানুষ এতো টা সুন্দর হয় কিভাবে , জানা ছিলো না , স্নিগ্ধ চেহারায় কি অমোলোনিয় সৌন্দর্য বিরাজ করছে মেয়েটার মুখে । কত টুকু অপূর্ব লাগছ তাকে সে নিজেও জানে না (নিলয়)
- মাহির গায়ের ওড়না টা দিয়ে মাহির শরীর টাকে সুন্দর করে ঢেকে দেয় নিলয়। যেনো ঠান্ডা বাতাস টা গায়ে না লাগে ।
- এইদিকে হৃদয়ের অবস্থা খুবই শোচনীয় । আর নীলা ঠায় দাঁড়িয়ে আই.সি.ইউর সামনে ।
কালকের ভোর টা তাদের জন্যে কি অপেক্ষা করে আছে তা আল্লাহ ভালো বলতে পারবে ।
- আজ আসি আবার কাল আসবো সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।আর কাছের মানুষদের ভালো রাখবেন।
** চলবে **
বিঃদ্রঃ ১১তম পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন