শাড়ি পড়ে দরজা খুলতেই নিরব অবাক হয়ে গেলো রাত্রিকে দেখে।হালকা কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপিস্টিক,শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগছে রাত্রিকে।নিরব অবাক হয়ে তাকিয়েই আছে রাত্রির দিকে।আস্তে আস্তে রাত্রির গাল দুটোতে হাত দিলো।
নিরব-তোমাকে মায়াবী পরীর মত লাগছে রাত্রি।
রাত্রি-চলো বাড়িতে ফিরে যাবো।
নিরব-তুমি বাড়িতে যাবে?
রাত্রি-হ্যা.
নিরব-সত্যি?
রাত্রি-হুমম।
নিরব-আমি যেনো নিজেকে বিশ্বাসেই করতে পারছি না।
রাত্রি-ক্রাশ বর তোমাকে অনেক ভালোবাসি।সেদিন থাপ্পড় মেরেছিলে,তারপর কত্ত বকা দিতে তাই ভাবছি শাস্তি পাওয়া দরকার তোমার।তাই চলে এসেছি।
নিরব-আর আমিও বউ-এর পিছন পিছন চলে এসেছি।
রাত্রি-শাশুড়ি মা বলছিলো কয়েকদিন বাইরে থাকলেই নাকি তুমি বুজবে তুমিও আমাকে ভালোবাসো।তাই আর কী ডিভোর্সের প্ল্যান করলাম।
নিরব রাত্রির কথা শুনে অবাক হয়ে গেলো।এই সব কিছুর পিছনে ওর আম্মুর হাত আছে শুনে তো আরো অবাক হলো।
নিরব-বউ শাশুড়ির আর কাজ নাই এসব করে।
রাত্রি-হিহি।
নিরব-চলুন এবার বাড়িতো ফিরে চলুন ম্যাডাম।আপনাকে কাল থেকেই ভার্সিটিতে যেতে হবে,পড়ালেখা আবার শুরু করবেন।
রাত্রি-না আমি পড়ালেখা করবো না।
নিরব-কেনো?
রাত্রি-আমার ভালো লাগে না তাই করবো না।
নিরব-কালকেই যেতে হবে।
রাত্রি-না
নিরব-আচ্ছা আগে বাড়িতে চলুন।
রাত্রি-আমি তো রেডি।আর আম্মু জানে আমি আজকে ফিরে যাবো।
নিরব-শাড়ি পড়ে???
রাত্রি-হুমম আমি শাড়ি পরতে শিখে গেছি।
নিরব-বাহ ভালো তো।কোনো সমস্যা হবে না তো?
রাত্রি-না।
সবাইকে বিদায় দিয়ে বাড়ি চলে আসলো রাত্রি-নিরব।বাড়ির সবাই খুব খুশি রাত্রি ফিরে আসার জন্য।
পরেরদিন........
নিরব-এই মিষ্টি বউ উঠো।
রাত্রি-আরেকটু ঘুমাবো।
নিরব-তাহলো আমাকে উঠতে দাও।
রাত্রি-না আমি তোমার বুকে ঘুমাবো।
নিরব-ভার্সিটিতে যাবে না?
রাত্রি-না।
নিরব-যেতে হবে,উঠো বলছি।
রাত্রি-না যাবো না।
নিরব-তাহলে যাও জড়িয়ে ধরবো না।
রাত্রি-আচ্ছা যাবো।
নিরব-হুমম উঠো।
ফ্রেশ হয়ে একেবারে রেডি হয়ে নিছে নামলো রাত্রি-নিরব।
নিরবের আম্মু-কই যাবি?
নিরব-ওকে ভার্সিটিতে ছেড়ে আমি অফিসে যাবো।
নিরবের আম্মু-তাহলে ও পড়ালেখা করতে রাজি হয়েছে?
নিরব-না হয়ে যাবে কই?
নিরবের আব্বু-ভালো,সাবধানে যাইছ।
নাস্তা করে রাত্রি-নিরব বের হয়ে গেলো।রাত্রি ভার্সিটিতে ডুকতেই বন্ধুরা সবাই এসে ঘিরে ধরলো ওকে।
রিসা-কি রে তোর ক্রাশ তো হেব্বি কিউট।
রাত্রি-নজর দিস না।
নিরব-আচ্ছা আমি আসি তাহলে।
রুহি-আরে দুলাভাই আমাদের ট্রিট দিবেন না?
নিরব-আমার অফিসে কিছু কাজ আছে।বিকেলে ওকে নিতে আসলে তোমাদের ট্রিট দিবো।
রিসা- দুলাভাই আজকে না।আমি একটু বিজি থাকবো আজকে।
নিরব-তোমরা যেদিন বলবে সেদিনেই হবে।এখন আসি।
নীল-আচ্ছা ঠিক আছে।
নিরব চলে যেতেই রৌনক এগিয়ে আসলো সবার দিকে।
নীল-রৌনক এতক্ষনে এসেছিস।রাত্রির বরকে দেখতে পেতি।
রৌনক-আমার এত আগ্রহ নেই কাউকে দেখার।তা কেমন আছিস রাত্রি?
রাত্রি-ভালো তুই?
রৌনক-ভালো।অনেকদিন পর আসলি,ভুলেই গেছিলি আমাদের।
রাত্রি-না রে কিছু ঝামেলা ছিলো।তাই ভার্সিটিতে আসা হয়নি।
রৌনক-বিয়ে করেছিস জানালিও না।
রিসা-তোর বিয়ের পর থেকে রৌনক দেবদাস হয়ে গেছে।
রৌনক-রিসা চুপ থাক।আমি যাচ্ছি।
রৌনক চলে যেতেই সবাই ক্লাশের দিকে যাওয়া শুরু করলো।
নীল-রৌনক তোকে ভালোবাসতো রে রাত্রি।
রাত্রি-আমি কী করবো।আমি তো নিরবকে পছন্দ করতাম।
রিসা-ও ভেবেছিলো এটা তো তোর ক্রাশ।কিন্তু তুই তো ওকেই বিয়ে করে নিলি।যাক তুই তো তোর ভালোবাসা পেয়েছিস।হয়তো রৌনকও নিজেকে গুছিয়ল নিতে পারবে।
নীল-ওকে দেখেছিস।কেমন জানি চুপচাপ থাকে।
রিসা-চুপ থাক তো তুই।চল ক্লাশে যাই।
ক্লাশ শেষে রাত্রি নিরবের জন্য ওয়েট করছিলো।কিন্তু নিরবের আসার নাম নেই।রাত্রির অনেক রাগ হচ্ছে নিরবের উপর।তারপরেও ওয়েট করছিলো।হঠাৎ করেই রৌনক আসলো বাইক নিয়ে।রৌনক কে দেখে রাত্রি আরো বিরক্ত হলো।মুখ গুড়িয়ে চলে যেতে নিলেই রৌনক থামালো রাত্রিকে।।
চলবে.............
★লেখক--- মোঃআসাদ রহমান★
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন