লেখকঃ মোঃ আসাদ রহমান ।
.
গিয়েছিলাম বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়েতে। হঠাৎ করে পাত্রী বলে উঠলো, আমার সাথে নাকি তার ২ বছরের রিলেশন ছিলো। আর এই বিয়েটা সে করবেনা। আমাকে ছাড়া সে বাচবে না।
মেয়েটার এরকম কথা শুনে সকলে আমার দিকে তাকালো।
কি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সত্যি কথা বলতে আমি মেয়েটাকে চিনি কিন্তু মেয়েটার সাথে আমার কোনো রিলেশন নাই, আর তার এরকম আবদার।
কিভাবে পালাবো সেই প্লান করতেছি। কিন্তু যেটা বুঝলাম এখান থেকে পালানো সম্ভব না৷ বন্ধু আমার হাত ধরে আছে।
বন্ধুকে কানে কানে বললাম,
- তুইতো জানিস ব্যাপারটা, কোনোমতে ম্যানেজ কর ভাই।(আমি)
- সম্ভব না। ফেসে গেছিস, আর তোকে তো আমি পিটাবো।আমার ভাইয়ের বিয়েটা দিলি শেষ করে।😠(রাফি)
- ভাই তোর পায়ে ধরি, তুই আমায় মার, কা ট, যা ইচ্ছা কর কিন্তু এখান থেকে এখন বাচা।(আমি)
- আচ্ছা তুই পালা আমি দেখতেছি।(রাফি)
- থ্যাংকস দোস্ত।
.
ও ওদিকটা সামলে নিতেই আমি পেছন থেকে কেটে পড়লাম।
বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসতেই সব ভয় কেটে গেলো৷ বেচে গেছি 😁। মেয়েটা কিভাবেই না ফাঁসাতে চেয়েছিলো, বজ্জাত মাইয়া।
.
- কিছু বললা?
পিছনে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা দাড়িয়ে আছে।
তাহলে আর বাঁচলাম কই? আজরাইল এসে হাজির।
- আপনি এখানে কেনো? যান বিয়ে করেন।আমার কাছে কি?(আমি)
- বিয়ে তো তোকে করবো সালা।(নিলিমা)
- মানে? আমাকে কেনো?(আমি)
- চুপচাপ চল, পিছনে পাবলিক৷ প্যাদানী না খেতে চাইলে আমাকে নিয়ে চল।(নিলিমা)
- দেখেন আপু....
কথাটা শেষ করার আগেই মেয়েটা এসে হাতটা ধরে ফেললো। তারপর টানতে টানতে দাড়িয়ে থাকা সিএনজির কাছে নিয়ে গেলো।
সিএনজি ওয়ালা মামাকে দেখে বুঝলাম ভালোই মজা নিতেছে।
মেয়েটা আমাকে সিএনজিতে উঠিয়ে নিজেও বসে পড়লো ।
.
- মামা টানেন।(নিলিমা)
- আরো দুজন আসুক তারপর।(মামা)
- আরে মামা ওদের ভাড়াও দিয়ে দিবো চলেন তো।(নিলিমা)
।
মামা সিএনজি টান দিলো।
মেয়েটাকে দেখে মোটেও চিন্তিত লাগছেনা।
তবুও একহাতের আঙুল দিয়ে শাড়ির আচল কুঁচকাচ্ছে আরেকটা হাত দিয়ে আমার হাত ধরে রেখেছে।
আমি যেনো আসামি।
মেয়েটাকে শাড়িতে কখনো দেখিনি।
অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে, আমি একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি।
কেমন জানি ভালো লাগছে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকতে।
আমার ছোটবেলার অভ্যেস কারো দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে তার গাল ধরে টানতে ইচ্ছে হয়। মেয়েটাকে এতো কাছে থেকে দেখে সেই লোভটা সামলাতে পারলাম না।
মেয়েটার গাল ধরে টান দিতেই,
- কি হচ্ছে এসব?(নিলিমা)
- বাজে অভ্যেস।😩(আমি)
- মনে আছে আমার। ফেসবুকে মেসেজ করেছিলে একবার।(নিলিমা)
- তার মানে আপনি লুকিয়ে লুকিয়ে এসএমএস পড়তেন?😂(আমি)
- হ্যা পড়তাম তো?(নিলিমা)
- কিছুনা।
।
কিছুই বুঝতে পারছেন না তাইতো?
দাড়ান ক্লিয়ার করতেছি সবটা।
প্রথমে পরিচয় থেকেই শুরু করি,
আমি সানভি, আর আমার পাশের মেয়েটা নিলিমা।
মেয়েটা বেশি না আমার ৬ মাসের বড়। যার কারনে সে আমার এক বছরের সিনিয়র। মানে পড়ালেখার দিক থেকে আরকি।
আমি ডিপ্লোমা শেষ করে একটা জব করতেছি আর বিএসসি করতেছি, আর সে ডাক্তারি পড়তেছে। ফাইনাল ইয়ার।
.
মেয়েটা আমাদের কলেজের সামনে দিয়েই যেতো।
আমি রোজ দেখতাম মেয়েটাকে। একটা নিল রঙের ড্রেস পড়ে সে কলেজ যেতো।
আমি তাকিয়েই থাকতাম যতক্ষন না সে চোখের আড়াল হতো। মাঝে মাঝে তার কলেজ ছুটির পর তার পিছু নিতাম।
কি ভাবছেন প্রেমে পড়ে গেছি?
হ্যা মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম আমি।
সেই থেকে ঘুরছি, একবার তাকে প্রোপোস ও করেছিলাম।
কিন্তু সে আস্তে করে আমার হাতটা ধরে তার বাবার কাছে নিয়ে গেছিলো।
তার বাবা পুলিশ অফিসার। সেদিন রাম ক্যালানি দিয়েছিলো।
তারপর থেকে আড়াল থেকে দেখেছি সেও দেখতো আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতেছি কিন্তু কিছু বলতোনা।
মাঝে মাঝে শুধু বলতো সে আমার ৬ মাসের বড়। তাই আমাদের মধ্যে রিলেশন সম্ভব না।
এভাবেই কাটে ৪ বছর। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো মেয়েটাকে সবসময় একাই দেখতাম, কোনো ছেলের সাথে কোনোদিন দেখিনি। হয়তো তার বাবা পুলিশ বলে কোনো ছেলের সাহস হয়না। অন্যদের কথা কি বলছি? আমি নিজেও তো সামনে যাইনা আড়াল থেকে দেখি।
তারপর কেটে যায় অনেকদিন।
.
দু সপ্তাহ আগেইই রাফি এসে বললো তার ভাইয়ের সাথে ওর বিয়ে। ব্যাস দুদিন কাদলাম তারপর সব ঠিক। আমি ইমোশনাল তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে জানি, তাই বেশি ঘাটিনি। মেয়েটার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে অন্যরা হলে সিগারেট, গন্জিকা নিয়ে পড়ে থাকতো সেখানে আমি নরমাল জিবন যাপন করছি।
আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা হলো,
- জিবন কোথায়, কখন মোড় নিবে সেটা বলা যায়না।
.
আজ তার বিয়ে।
গত ১১ দিন মেয়েটার সাথে দেখা হয়নি। আমি ব্যাস্ত ছিলাম নিজেকে নিয়ে আর সে হয়তো বিয়ের শপিং আর প্লানিং নিয়ে।
বিয়েতেও আসতাম না। রাফি জোর করে ধরে আনলো। আবার বিয়ের সাজে কেমন লাগে তাকে এটাও দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো তাই চলেই আসলাম।
বেশ আড়াল থেকেই দেখছিলাম তাকে।
ভালোই লাগছিলো দেখতে কিন্তু ঝামেলা বাধালো সে।
তারপর বাকি ঘটনা তো আপনাদের সামনেই।
মেয়েটাকে প্রচুর জ্বালাতাম আমি।
ফেসবুক আইডি খুজে বের করেছিলাম তাকে ফ্রেন্ড রিকুৃয়েস্ট দিয়ে ঝুলেই ছিলাম, এখনো ঝুলেই আছি।
মেসেজ করা যেতো মেয়েটাকে।
মেয়েটা মেসেজ রিকুৃয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ইগনোর করে রেখেছিলো। তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে আমার সব মেসেজ দেখতো আর বোকার মতো আমি ভাবতাম সে কখনো দেখেইনা আমার মেসেজ। তাই সব বলতাম তাকে। মনের যত কথা থাকতো সব লিখে ফেলতাম। সেন্ড হতো কখনো সিন হতোনা। আমি ভাবতাম সে তো দেখেইনা মেসেজ আমি যা খুশি বলবো তাতে কি? আমার মনের যত কথা আছে সব বলবো। তার বাপও কিছুই করতে পারবেনা। সামনা সামনি তো তাকে দেখলেই হাটু কাপে। তবুও যদি কথা বলার সময় দিতো। সে তো কথাই বলতোনা। আর তার বাবার ভয়তো ছিলোই।
তাই সবকিছু লিখে পাঠাতাম।
কত ইমোশনাল কথা, সারাদিন কি করলাম না করলাম সব লিখতাম। একবার তো মুসলমানি কেম্নে করায় সেটাও লিখেছিলাম।
সেটাও কি সে পড়েছিলো??
জিজ্ঞেস করবো নাকি? না থাক।
নিজেই লজ্জা পাবো।
।
চলুন বাস্তবে ফিরি। অনেক তো অতিত শুনলেন।
মেয়েটার সাথে কোনো রিলেশন নেই আমার। কিন্তু মেয়েটাকে আমি চিনি। খুব ভালোভাবেই চিনি। রাগি, একঘেয়ে আর জুনিয়রদের সাথে প্রেম করবেনা এমন একটা মেয়ে।
আমার কথা হলো,
আপনি তখনই বেশি কষ্ট পাবেন যখন আপনি কোনো সিনিয়র মেয়েকে ভালোবাসবেন। কারন আপনি যতই ভালোবাসুন না কেনো সে সেটাকে ইমোশন ভাববেই আর আপনাকে সর্বোচ্চ লেভেলের ইগনোর করবে। তারপর বের করে আনবে একটা বয়ফ্রেন্ড। তারপর আর কি? আপনার সব শেষ। বোকার মতো শুধু ভাববেন এমন একটা মেয়ের পিছনে ঘুরলাম যার কি না বয়ফ্রেন্ড আছে।
তখন ইমোশন সব কান্নার মতো ঝড়বে।
না পারবেন তাকে ভুলতে না পারবেন আর যোগাযোগ করতে। কথা বলতে আপনার বাধবে।
সারাজিবনই কষ্ট পেয়ে যাবেন। সে বুঝবেনা আপনার কষ্টটা।
ব্যাস জিবন শেষ আপনার।
তবুও আমরা সেই সিনিয়র মেয়ের প্রেমে পড়তেও ভালোবাসি। কারন আমরা কষ্ট পেতে ভালোবাসি।
.
তেমনি আমিও ভালোবেসে ফেললাম সিনিয়র মেয়েকে।
কষ্টও পেলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বিয়েটা হলোনা আমাকে নিয়েই পালালো। তবে সামনে কি হবে জানিনা।
হয়তো সেও একটা বয়ফ্রেন্ড এনে বলবে,
- ধন্যবাদ সানভি আমাকে হেল্প করার জন্য। এটা আমার বয়ফ্রেন্ড, পরিচিত হও।
হয়তো এমনই কিছু হবে, কারন সিনিয়র মেয়েকে ভালোবাসলে কখনোই সফল হওয়া যায়না।
.
চলবে??
পরের পর্ব এই পেজ এ দেওয়া হবে,লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন
স্পর্শহীন অনুভুতি
ধন্যবাদ
লেখকঃ মোঃ আসাদ রহমান ।
.
গিয়েছিলাম বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়েতে। হঠাৎ করে পাত্রী বলে উঠলো, আমার সাথে নাকি তার ২ বছরের রিলেশন ছিলো। আর এই বিয়েটা সে করবেনা। আমাকে ছাড়া সে বাচবে না।
মেয়েটার এরকম কথা শুনে সকলে আমার দিকে তাকালো।
কি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। সত্যি কথা বলতে আমি মেয়েটাকে চিনি কিন্তু মেয়েটার সাথে আমার কোনো রিলেশন নাই, আর তার এরকম আবদার।
কিভাবে পালাবো সেই প্লান করতেছি। কিন্তু যেটা বুঝলাম এখান থেকে পালানো সম্ভব না৷ বন্ধু আমার হাত ধরে আছে।
বন্ধুকে কানে কানে বললাম,
- তুইতো জানিস ব্যাপারটা, কোনোমতে ম্যানেজ কর ভাই।(আমি)
- সম্ভব না। ফেসে গেছিস, আর তোকে তো আমি পিটাবো।আমার ভাইয়ের বিয়েটা দিলি শেষ করে।😠(রাফি)
- ভাই তোর পায়ে ধরি, তুই আমায় মার, কা ট, যা ইচ্ছা কর কিন্তু এখান থেকে এখন বাচা।(আমি)
- আচ্ছা তুই পালা আমি দেখতেছি।(রাফি)
- থ্যাংকস দোস্ত।
.
ও ওদিকটা সামলে নিতেই আমি পেছন থেকে কেটে পড়লাম।
বিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসতেই সব ভয় কেটে গেলো৷ বেচে গেছি 😁। মেয়েটা কিভাবেই না ফাঁসাতে চেয়েছিলো, বজ্জাত মাইয়া।
.
- কিছু বললা?
পিছনে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা দাড়িয়ে আছে।
তাহলে আর বাঁচলাম কই? আজরাইল এসে হাজির।
- আপনি এখানে কেনো? যান বিয়ে করেন।আমার কাছে কি?(আমি)
- বিয়ে তো তোকে করবো সালা।(নিলিমা)
- মানে? আমাকে কেনো?(আমি)
- চুপচাপ চল, পিছনে পাবলিক৷ প্যাদানী না খেতে চাইলে আমাকে নিয়ে চল।(নিলিমা)
- দেখেন আপু....
কথাটা শেষ করার আগেই মেয়েটা এসে হাতটা ধরে ফেললো। তারপর টানতে টানতে দাড়িয়ে থাকা সিএনজির কাছে নিয়ে গেলো।
সিএনজি ওয়ালা মামাকে দেখে বুঝলাম ভালোই মজা নিতেছে।
মেয়েটা আমাকে সিএনজিতে উঠিয়ে নিজেও বসে পড়লো ।
.
- মামা টানেন।(নিলিমা)
- আরো দুজন আসুক তারপর।(মামা)
- আরে মামা ওদের ভাড়াও দিয়ে দিবো চলেন তো।(নিলিমা)
।
মামা সিএনজি টান দিলো।
মেয়েটাকে দেখে মোটেও চিন্তিত লাগছেনা।
তবুও একহাতের আঙুল দিয়ে শাড়ির আচল কুঁচকাচ্ছে আরেকটা হাত দিয়ে আমার হাত ধরে রেখেছে।
আমি যেনো আসামি।
মেয়েটাকে শাড়িতে কখনো দেখিনি।
অসম্ভব সুন্দর লাগছে তাকে, আমি একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছি।
কেমন জানি ভালো লাগছে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকতে।
আমার ছোটবেলার অভ্যেস কারো দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে তার গাল ধরে টানতে ইচ্ছে হয়। মেয়েটাকে এতো কাছে থেকে দেখে সেই লোভটা সামলাতে পারলাম না।
মেয়েটার গাল ধরে টান দিতেই,
- কি হচ্ছে এসব?(নিলিমা)
- বাজে অভ্যেস।😩(আমি)
- মনে আছে আমার। ফেসবুকে মেসেজ করেছিলে একবার।(নিলিমা)
- তার মানে আপনি লুকিয়ে লুকিয়ে এসএমএস পড়তেন?😂(আমি)
- হ্যা পড়তাম তো?(নিলিমা)
- কিছুনা।
।
কিছুই বুঝতে পারছেন না তাইতো?
দাড়ান ক্লিয়ার করতেছি সবটা।
প্রথমে পরিচয় থেকেই শুরু করি,
আমি সানভি, আর আমার পাশের মেয়েটা নিলিমা।
মেয়েটা বেশি না আমার ৬ মাসের বড়। যার কারনে সে আমার এক বছরের সিনিয়র। মানে পড়ালেখার দিক থেকে আরকি।
আমি ডিপ্লোমা শেষ করে একটা জব করতেছি আর বিএসসি করতেছি, আর সে ডাক্তারি পড়তেছে। ফাইনাল ইয়ার।
.
মেয়েটা আমাদের কলেজের সামনে দিয়েই যেতো।
আমি রোজ দেখতাম মেয়েটাকে। একটা নিল রঙের ড্রেস পড়ে সে কলেজ যেতো।
আমি তাকিয়েই থাকতাম যতক্ষন না সে চোখের আড়াল হতো। মাঝে মাঝে তার কলেজ ছুটির পর তার পিছু নিতাম।
কি ভাবছেন প্রেমে পড়ে গেছি?
হ্যা মেয়েটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম আমি।
সেই থেকে ঘুরছি, একবার তাকে প্রোপোস ও করেছিলাম।
কিন্তু সে আস্তে করে আমার হাতটা ধরে তার বাবার কাছে নিয়ে গেছিলো।
তার বাবা পুলিশ অফিসার। সেদিন রাম ক্যালানি দিয়েছিলো।
তারপর থেকে আড়াল থেকে দেখেছি সেও দেখতো আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতেছি কিন্তু কিছু বলতোনা।
মাঝে মাঝে শুধু বলতো সে আমার ৬ মাসের বড়। তাই আমাদের মধ্যে রিলেশন সম্ভব না।
এভাবেই কাটে ৪ বছর। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো মেয়েটাকে সবসময় একাই দেখতাম, কোনো ছেলের সাথে কোনোদিন দেখিনি। হয়তো তার বাবা পুলিশ বলে কোনো ছেলের সাহস হয়না। অন্যদের কথা কি বলছি? আমি নিজেও তো সামনে যাইনা আড়াল থেকে দেখি।
তারপর কেটে যায় অনেকদিন।
.
দু সপ্তাহ আগেইই রাফি এসে বললো তার ভাইয়ের সাথে ওর বিয়ে। ব্যাস দুদিন কাদলাম তারপর সব ঠিক। আমি ইমোশনাল তবে বাস্তবতাকে মেনে নিতে জানি, তাই বেশি ঘাটিনি। মেয়েটার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুনে অন্যরা হলে সিগারেট, গন্জিকা নিয়ে পড়ে থাকতো সেখানে আমি নরমাল জিবন যাপন করছি।
আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা হলো,
- জিবন কোথায়, কখন মোড় নিবে সেটা বলা যায়না।
.
আজ তার বিয়ে।
গত ১১ দিন মেয়েটার সাথে দেখা হয়নি। আমি ব্যাস্ত ছিলাম নিজেকে নিয়ে আর সে হয়তো বিয়ের শপিং আর প্লানিং নিয়ে।
বিয়েতেও আসতাম না। রাফি জোর করে ধরে আনলো। আবার বিয়ের সাজে কেমন লাগে তাকে এটাও দেখার খুব ইচ্ছে ছিলো তাই চলেই আসলাম।
বেশ আড়াল থেকেই দেখছিলাম তাকে।
ভালোই লাগছিলো দেখতে কিন্তু ঝামেলা বাধালো সে।
তারপর বাকি ঘটনা তো আপনাদের সামনেই।
মেয়েটাকে প্রচুর জ্বালাতাম আমি।
ফেসবুক আইডি খুজে বের করেছিলাম তাকে ফ্রেন্ড রিকুৃয়েস্ট দিয়ে ঝুলেই ছিলাম, এখনো ঝুলেই আছি।
মেসেজ করা যেতো মেয়েটাকে।
মেয়েটা মেসেজ রিকুৃয়েস্ট এক্সেপ্ট করে ইগনোর করে রেখেছিলো। তারপর লুকিয়ে লুকিয়ে আমার সব মেসেজ দেখতো আর বোকার মতো আমি ভাবতাম সে কখনো দেখেইনা আমার মেসেজ। তাই সব বলতাম তাকে। মনের যত কথা থাকতো সব লিখে ফেলতাম। সেন্ড হতো কখনো সিন হতোনা। আমি ভাবতাম সে তো দেখেইনা মেসেজ আমি যা খুশি বলবো তাতে কি? আমার মনের যত কথা আছে সব বলবো। তার বাপও কিছুই করতে পারবেনা। সামনা সামনি তো তাকে দেখলেই হাটু কাপে। তবুও যদি কথা বলার সময় দিতো। সে তো কথাই বলতোনা। আর তার বাবার ভয়তো ছিলোই।
তাই সবকিছু লিখে পাঠাতাম।
কত ইমোশনাল কথা, সারাদিন কি করলাম না করলাম সব লিখতাম। একবার তো মুসলমানি কেম্নে করায় সেটাও লিখেছিলাম।
সেটাও কি সে পড়েছিলো??
জিজ্ঞেস করবো নাকি? না থাক।
নিজেই লজ্জা পাবো।
।
চলুন বাস্তবে ফিরি। অনেক তো অতিত শুনলেন।
মেয়েটার সাথে কোনো রিলেশন নেই আমার। কিন্তু মেয়েটাকে আমি চিনি। খুব ভালোভাবেই চিনি। রাগি, একঘেয়ে আর জুনিয়রদের সাথে প্রেম করবেনা এমন একটা মেয়ে।
আমার কথা হলো,
আপনি তখনই বেশি কষ্ট পাবেন যখন আপনি কোনো সিনিয়র মেয়েকে ভালোবাসবেন। কারন আপনি যতই ভালোবাসুন না কেনো সে সেটাকে ইমোশন ভাববেই আর আপনাকে সর্বোচ্চ লেভেলের ইগনোর করবে। তারপর বের করে আনবে একটা বয়ফ্রেন্ড। তারপর আর কি? আপনার সব শেষ। বোকার মতো শুধু ভাববেন এমন একটা মেয়ের পিছনে ঘুরলাম যার কি না বয়ফ্রেন্ড আছে।
তখন ইমোশন সব কান্নার মতো ঝড়বে।
না পারবেন তাকে ভুলতে না পারবেন আর যোগাযোগ করতে। কথা বলতে আপনার বাধবে।
সারাজিবনই কষ্ট পেয়ে যাবেন। সে বুঝবেনা আপনার কষ্টটা।
ব্যাস জিবন শেষ আপনার।
তবুও আমরা সেই সিনিয়র মেয়ের প্রেমে পড়তেও ভালোবাসি। কারন আমরা কষ্ট পেতে ভালোবাসি।
.
তেমনি আমিও ভালোবেসে ফেললাম সিনিয়র মেয়েকে।
কষ্টও পেলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বিয়েটা হলোনা আমাকে নিয়েই পালালো। তবে সামনে কি হবে জানিনা।
হয়তো সেও একটা বয়ফ্রেন্ড এনে বলবে,
- ধন্যবাদ সানভি আমাকে হেল্প করার জন্য। এটা আমার বয়ফ্রেন্ড, পরিচিত হও।
হয়তো এমনই কিছু হবে, কারন সিনিয়র মেয়েকে ভালোবাসলে কখনোই সফল হওয়া যায়না।
.
চলবে??
পরের পর্ব এই পেজ এ দেওয়া হবে,লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন
স্পর্শহীন অনুভুতি
ধন্যবাদ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন