ভার্সিটিতে যাওয়ার পর অঞ্জনা মাঠের মাজখানে গাড়ি থামায় ,,,গাড়ি থামানো দেখে সবাই তাকিয়ে থাকে ,,অঞ্জনা গাড়ি থেকে নেমে ,,গাড়ির দরজাটা টান দেয় ,,, এমন সময় গাড়ি থেকে এক পা বের করতেই আরো অভাক হয়ে
তাকিয়ে থাকে সবাই ,,,,,কে হতে পারে ছেলেটা ,,,,,এমন সময় নীল গাড়ি থেকে নেমে আসে ,,,
_সবার মুখে একি কথা এটা কি করে হতে পারে ,,এত সুন্দর দামি শার্ট ,,পেন ,,টাই ,,সো,,পড়া ছেলেটা কি সত্তিই নীল ,,, সবাই কাছ থেকে দেখার জন্য এগিয়ে আসে ,,,অঞ্জনা নীলের হাত দরে ক্লাস রুমের দিকে চলে যেতে থাকে ,,,
_দোস্ত আর পারছি না ,,কেন জানি শরিলের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ,...(নীল)
_আমি জানি তোর লোম কেন দাঁড়িয়ে যাচ্ছে শুরশুরি লাগছে তাইত ,,,
_দোস্ত হাতটা ছারনা প্লিজ..
_তুই কি পাগল হয়ে গেছিস এত গুলা মানুষের সামনে এখন হাতটা ছেরে দিয়ে পেসটিস পান্সার করতে চাষ ,,,কিছু করার নাই অভ্যাস কর ,,,,বিয়ের পরে কি করবি ,,,
_ আমি বিয়ে করবো না তোর সাথেই কাটিয়ে দিবো সারাজীবন ,,,
_আহারে শক কত ,,,সারাজীবন কাটিয়ে দিবে ,,,কিছুদিন পরত ,,বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে তখন কি করবি ,,,
_আমিও তর সাথে চলে যাবো ,,,
_ওফ তর সাথে কথা বলে পারা যাবে না ,,এবার ক্লাসে জলদি চল,,,
_ক্লাসে যাওয়ার কিছুক্ষন পর স্যার চলে আসে ,,, স্যার পড়ানো শুরু করে দেয় ,,,
_কি হলো তুমাদের ,,,এত ইনপ্রটেন্ট একটা ক্লাস চলছে এইদিকে নজর না দিয়ে ওর দিকে সবাই হা করে কি দেখছো ,,,(স্যার)
_নীল দেখ সবাই তর দিকে কি ভাবে তাঁকিয়ে আছে ,,,আজ থেকে কেও তকে আর মদন বলে ডাকবে না ,,,,
_এই সব কিছুত শুধু মাএ তর জন্যই ,,
_থাক আর বলতে হবে না ,,
_ দোস্ত সত্তিই কি তর বিয়ে দিয়ে দিবে ,,,
_মেয়ে হয়ে জন্মেছি যেহেতু বিয়েত একদিন না একদিন দিবেই ,,,
_আমার জন্য একটুও কাঁদবি না তুই বল ,,
_এই পাগল আমিত সেটা কথার কথা বলছি ,,,তোর চোখে পানি কেন হাম ,,একদম কাঁদবি না ,,,ক্লাসে মন দে ,,,সামনের দিকে তাঁকা বলছি ,,
_নীল একদম চুপ হয়ে বসে থাকে ,,,কিছুক্ষন পর স্যার ক্লাস থেকে চলে যায় ,,এমন সময় অঞ্জনার ফোনে একটা ফোন আছে ,,,
_নীল তুই একটু বস আমি আসছি ,,,,
_নীল ক্লাসে একা বসে থাকে এমন সময় কয়েকটি মেয়ে এসে ,,,
_হায় নীল ,,,
_হায় ,,,
_কেমন আছ ??
_এইত ভালো ,,,
_আমরা কি তুমার ফ্রেন্ট হতে পারি ,,,
_নীল মুছকি একটা হাঁসি দিয়ে মনে মনে ভাঁবতে থাকে ,,হায়রে টাকা তর জন্যই সবাই আমাকে মদন বলে ডাকতো ,,আজ তোর জন্যই আবার ফ্রেন্ডশিপ করতে চায় ,,,,,আমার মতো গরিব মদন একটা ছেলের ফ্রেন্ট হয়ে কি করবা বল,,,
_আসলে আমরা না বুঝে তুমার সাথে খারাপ আচরন করে ফেলেছি প্লিজ পারলে ওই সব ভূলে যাও ,,
_ঠিক আছে যাও ভূলত মানুষি করে,,আমিও তুমাদের সবারি ফ্রেন্ট হতে চাই ,,যদি তুমাদের কোন আপত্তি না থাকে ,,,,
_কি বলছ এসব ,,আপত্তি থাকবে মানে আমাদের কোন আপত্তি নেই ,,,
_ঠিক আছে চল মাঠে বসে আড্ডা দেই ,,,,নীল সবাইকে নিয়ে মাঠে চলে যায় ,,
_আচ্ছা নীল তুমি হঠ্যাৎ করে এত পরিবর্তন হলে কি করে ,,,
_আমার এই পরিবর্তন শুধু মাএ অঞ্জনার জন্য ,,,আমি গরিব এটা ঠিক কিন্তু তুমাদের মতোই আমারো সুন্দর একটা মন আছে ,,,মন কখনো গরিব হয় না ,,,আমারো তুমাদের মতো পোশাক পড়ে থাকতে ইচ্ছে করে ,,,শুধু মাএ গরিব বলে এই ছোট ছোট ইচ্ছে গুলোকে কবর দিয়ে রাখি ,,,একমাএ গরিব মানুষি বলতে পারে জীবনের পথ চলাটা কত কঠিন ,,তুমরা আমাকে মদন বলে ডাকতা অনেক কষ্ট হতো ,,,তবুও সব কিছু সহ্য করতাম বাবার স্বপ্নের দিকে তাঁকিয়ে ,,,
_নীল আমাদের ভূল হয়েগেছে তার জন্য ছরি ,,,নীল তুমায় একটা কথা বলবো ..
_হে বল ,,,
_তুমার হাঁশিটা অনেক সুন্দর ,,তুমার ফোন নাম্বারটা দিবা ,,,,
_নীল কোন কথা না বলে সরাসরি চলে যায় ,,,,
_কি হলো নীল কোথায় যাচ্ছ ,,,আজবত এই নীল
_নীল কোন উওর না দিয়ে চুপ করে বাসায় চলে যায় ,,,,
_কি হলো বাবা আজ এত তারাতারি চলে আসলি যে ,,মন খারাপ ,,,
_হে মা ,,,,
_কেন কি হয়েছে বল আমায়,,
_আমাকে একটা ফোন কিনে দিবা ,,,আমার একটা ফোনের খুব দরকার ,,,বন্ধু দের কাছে থেকে ভার্সিটির কোন খবর নিতে পারি না,,সবার হাতেই একটা করে ফোন ,,,আমার অনেক খারাপ লাগে ,,,বল মা দিবে কি না ,,
_নীলের মা কিছু না বলে ঘরে চলে যায় ,,বসে বসে ভাঁবতে থাকে ছেলেটার আবদার দিন দিন বেড়েই চলছে ,,,ছেলেটা এখন ভার্সিটিতে পড়ে একটা ফোন তার দরকারি ,,,কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবো ,,,
_ওই দিকে অঞ্জনা ফোনে কথা বলা শেষ করে ক্লাসে গিয়ে দেখে নীল নেই ,, সারা কেম্পাস খুজে কোথাও না পেয়ে বাসায় চলে যায় ,,
_নীল ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসে ,,এমন সময় তার মা রুমে আসে ,,,
_মা হঠ্যাৎ তুমি আমার রুমে এলে যে ,,,
_আচ্ছা বাবা কম দামের মাঝে একটা ফোন কিনতে কত টাকা লাগে ,,,
_7 হাজার টাকা লাগে মা ,,,
_এত টাকা কোথায় পাবো আমার কাছে মাএ 3 হাজার টাকা আছে ,,,কিছু দিন পর কিনে দিলে হয় না ,,,
_না মা আমার এখনি দরকার ,,আমার কাছে আরো চার হাজার টাকা আছে ,,,
_ঠিক আছে কাল যাওয়ার সময় টাকাটা নিয়ে যাইস ,,,
_পর দিন সকালে নীল অনেক খুশিতে মার্কেটে গিয়ে একটা টার্চ ফোন কিনে নিয়ে আসে ,,,
_অঞ্জনা ভার্সিটিতে গিয়ে দেখে নীল কোথাও নেই ,,,ক্লাসের সময় হয়ে গেছে এখনো আসছে না ,,,আস্তে আস্তে অঞ্জনা চিন্তিত হয়ে পড়ে ,,কিছুক্ষন পড় নীল ক্লাসে আসে ,,,
_নীল দাঁড়া ,,,,
_দোস্ত কিছু বলবি
_ কিছু বলবো মানে কোথায় ছিলি এতক্ষন,,,
_বাহিরে চল পরে বলছি ,,,
_কোথাও যাবো না আমি বল কোথায় ছিলি এতক্ষন ,,
_আগে একটা হাঁশিদে পরে বলছি,,
_এখনো তুই দুষ্টমি করছিস ,,,জানিস কতটা টেনশন হচ্ছিলো ,,,,
_হাম জানি ,,,আর টেনশন করতে হবে না ,,,এই দেখ এটা কি ,,,
_ওয়াও তুই ফোন কিনেছিস ,,,,সেটা বলবি না আমায় ,,,চল আগে একটা সেলফি হয়ে যাক ,,,চল আজ আমিই তকে ট্টিড দিবো ,,,,
_ রেস্টুরেন্স এ যাবার পর এই নীল এটা তুই কি করছিস ,,,লোক জন দেখলে কি মনে করবে ,,,হাতে চামিছ নে ,,,
_দোস্ত আমি হাত দিয়েই খাই ,,এই সব দিয়ে আমি খেতে পারি না ,,,
_না তকে এবাবেই খেতেই হবে ,,,আমি শিখিয়ে দিচ্ছি ,,,
_ওই দিকে নীল এর মা মাস খরচ সহ যা কয়েক টাকা ছিলো সব নীলকে ফোন কিনার জন্য দিয়ে দিছে তাই সে আবারো বাড়ি ওলার কাছে যায়,,,
_হুজুর একটা কথা বলার ছিলো ,,,
_কি কথা তারাতারি বল ,,,
_হুজুর আমার ছেলেটার একটা ফোনের খুব দরকার ছিলো তাই মাস খরচের টাকাটা সহ সব দিয়ে দিয়েছি ,,চলার মতো একটা টাকাও নেই ,,,আপনি যদি একটু দয়া করে কিছু টাকা দিতেন খুব উপকার হতো ,,না হলে আজ না খেয়ে থাকতে ,,আমার ছেলেটা একদমি না খেয়ে থাকতে পারে না ,,,আমি আপনার সব টাকা কাজ করে ওশল করে দিবো ,,,
_তকে এর আগেও অনেক বার বলেছি মাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন টাকা দেওয়া যাবে না ,,,বের হয়ে যা আমার বাড়ি থেকে ,,,তর আর কাজ করতে হবে না..
_হুজুর মাফ করবেন চাকরিটা আমার খুব দরকার ,,,প্লিজ বের করে দিবেন না ,,
_তর কোন কথাই আজ আর শুনবো না আমি ,,,ভালো করে বলছি বের হয়ে যা না হলে গার দরে বের করে দিবো ,,,,
_নীল এর মা কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যায় ,,,এমন সময় নীল বাসায় এসে দেখে ,,,,,চলবে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন