দেমাগি মেয়ের অপমান
৭ম পর্ব
লেখক:মোঃ আসাদ রহমান
কোটচাঁদপুর"ঝিনাইদহ
দৃষ্টিঃ অই তুই পেয়েছিস কি শুনি?তুই আমার উপর অধিকার বোধ ফলাতে আসবি না,,বলে দিলাম।আর আমি কি তোর কথা মত চলবো নাকি?গাইয়া পোলা দূর হবি আমার সামনে থেকে,,
আমিঃদেখো তুমি এখন আমার বিয়ে করা সোনা বউ,আর আমি না কোনো স্বামী কি চাইবে তার স্ত্রী ছোট ছোট জামা পরে বাহিরে বের হোক।তুমি এই জামা পরে বের হলে লোকে তোমার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে যেটা আমার ভালো লাগবে না
দৃষ্টিঃ তোর ভালো লাগা না লাগাই আমার কিছু যায় আসে না।আমি এখন এটা পরেই বের হবো পাড়লে আটকিয়ে দেখা কেমন।
আমিঃশুনো তোমাকে আটকাতে পারবো না এটা আমি খুব ভালো ভাবেই জানি,,কিন্তু তারপরেও তোমাকে আমি অনুরোধ করছি তুমি প্লিজ এই জামা পরে বের হয়ো না।তুমি তো বাঙলী নারী তোমাকে শাড়িতে অনেক ভালো মানায় তুমি শাড়ি পরে বাহিরে যাও।দেখবে তোমারো ভালো লাগবে আর অন্য লোক তোমার দিকে খারাপ নজরে তাকাবে না।
দৃষ্টিঃ এই তোর এই গ্রাম্য ভাষণ বন্ধ কর আর আমার সামনে থেকে সড়...
আমিঃতাহলে তুমি এই জামা পরেই বের হচ্ছো??
দৃষ্টিঃ হ্যা এই জামা পরেই বের হবো তোর কোনো সমস্যা??
আমি আর কিছু বললাম না বলেও লাভ কি শুধু শুধু অপমানিত হবো নাকি??
তার থেকে ভালো দৃষ্টি যেভাবে যেতে চাই যেতে দেই।একদিন নিজের ভুল নিজেই বুঝতে পারবে।
তা
দৃষ্টির সামনে থেকে আমি সরে গেলাম আর দৃষ্টি হাতে গাড়ির চাবি নিয়ে বের হয়ে গেলো....
আমি বসে পড়লাম নিজেকে খুব একা লাগছে।
আমি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও আজো বউকে আপন করে পেলাম না ।। আর এতো বড় বাসায় আমি এখন একা কার ভালো লাগে এইভাবে একা বসে থাকতে।দৃষ্টি চলে গেছে অনেকক্ষণ হয়ে গেছে আমি বসে ছিলাম।হঠাৎ দৃষ্টির বলা কথা গুলো মনে পড়লো
দৃষ্টি আমাকে বলেছিলো যে এখন থেকে নাকি আমাকেই রান্না করে খেতে হবে....
হারামি বউ এতো কিউট একটা স্বামী তাকে দিয়ে রান্না করাবে।অন্য মেয়েকে বিয়ে করলে সেই মেয়ে
মেয়ে আমাকে মাথায় তুলে নাচতো।আর এনি তো আমাকে পিষে মারতে চাচ্ছে।যাই হোক দৃষ্টি যেহেতু বলেছে সেহেতু আমাকেই রান্না করে খেতে হবে।তাছাড়া কোনো উপায় নেই।নিজের রান্না নিজে না করলে না খেয়ে মরতে হবে।আমি রান্না ঘরে চলে গেলাম,,আমি গ্রামে যখন ছিলাম আম্মুর পাশে বসে থাকতাম রান্না দেখতাম অনেক কিছু শিখেছি,,আমি ভাত রান্না করলাম জানিনা কেমন হয়েছে??
তারপর ডিম ভাঁজলাম অহহ হ্যা ডিমের জন্য পেয়াজ কাটতে গিয়ে আমার আঙুল বেচারা কেটে গেছে অনেক রক্ত বের হয়েছে বাহিরে বের হয়ে একটা কাপড় দিয়ে কাটা যায়গা ভালো করে বেধে নিয়েছিলাম তারপর ডিম ভাজি করেছিলাম।
রান্না করতে করতে রাত ৯টা৩০ বেজে গেছে।তখনো দৃষ্টি বাসায় ফিরেনি...
৯টা৪৭ এ কলিং বেলের শব্দ শুনতে পেলাম খলে দেখি আমার দেমাগি বউ দাঁড়িয়ে আছে।
দৃষ্টি আমাকে কিছু না বলে ভেতরে চলে আসলো দৃষ্টির হাতে খাবার ব্যাগ ছিলো দুটো।
কিন্তু দুটো কেনো সেটা মাথায় আসছিলো না।
দৃষ্টি খাবারের প্যাকেট গুলো রেখে উপরে চলে গেলো ১০ মিনিট পর আবার ফিরে আসলো।এসে খাবার টেবিলে বসে পড়লো।
দৃষ্টিঃ কিরে অই ভাবে দাঁড়িয়ে আসিস কেনো??
আমিঃনাহ এমনি
দৃষ্টিঃ কিছু খেয়েছি??
আমিঃনাহ খাইনি খাবো...
দৃষ্টিঃ আচ্ছা আয় খেতে আয়!!আমি আমার রান্না করা ভাত আর ডিম ভাজি নিয়ে খাবার টেবিলে চলে গেলাম।
দৃষ্টিঃ কিরে তোর হাতে অই গুলো কি??
আমিঃতুমি তো বলেছিলে আজ থেকে নাকি আমার খাবার আমাকে রান্না করে খেতে হবে,,তাই তো রান্না করলাম।
দৃষ্টিঃ আচ্ছা তোর খাবার গুলো কালকে খেয়ে নিস কেমন।আজ আমি যেগুলো নিয়ে এসেছি সেই গুলো খাবি ওকে...
আমি;কিন্তু আমি যে রান্না করলাম??
দৃষ্টিঃ কাল সকালে খেয়ে নিস...
আমিঃআচ্ছা ঠিক আছে,,
দৃষ্টি নিজের হাতেই খাবার গুলো বেড়ে দিলো,,
কিন্তু আমি তো হাত কেটে ফেলেছি খাবো কি করে???
চামচ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আমার নেই।
আমি খাবার গুলো সামনে নিয়ে বসে আছি.
দৃষ্টিঃ কিরে তুই অমন ভাবে বসে আছিস কেনো??
আমিঃনা এমনি
দৃষ্টিঃ তখন বললো কিরে তোর হাতে কাপড় বাধা কেনো শুনি??
আমিঃনা মানে পিয়াজ কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলছি...
দৃষ্টিঃ উফফফ একটু দেখে শুনে কাজ করবি তো।
আমিঃআমি কি জানতাম সে হাত কেটে যাবে হঠাৎ করেই কেটে গেলো।।
দৃষ্টিঃ ভালো হয়েছে এখন থাক না খেয়ে,,
আমিঃএই তুমি আমাকে খাইয়ে দিবে??
দৃষ্টিঃ না আমি পারবো না।
আমি আর কিছু বললাম না যে মেয়ে আমাকে সহ্য করতে পারে না সেই মেয়ে আমাকে খাওয়ে দিবে এটা স্বপ্নে ভাবা হয়তো ঠিক হবে।
দৃষ্টিঃ তোর কি খুব খিদে পেয়েছে??
আমিঃহ্যা খুব
দৃষ্টিঃ আচ্ছা এই নে হা কর(আমার দিকে খাবার এগিয়ে দিয়ে)
আমি গপ করে খেয়ে ফেললাম।
কিন্তু ভেবে পাচ্ছিলাম না দৃষ্টি কেনো আমাকে খাইইয়ে দিলো।
দৃষ্টি আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর আমি খাচ্ছি অনেক রোমান্টিক একটা মোমেন্ট ছিলো।
দৃষ্টিঃ অই তুই আবার এটা ভাবিস না খাইয়ে দিচ্ছি বলে আমি তোকে ভালোবাসি আসলে তুই না খেয়ে থাকবি সেটা আমার কেমন জানি লাগছিলো তাই খাইয়ে দিলাম।যা এবার রুমে যা
আমিঃতুমি কি করবে।
দৃষ্টিঃ অফিসের কিছু কাজ আছে সেগুলো শেষ করে আমিও যাবো
আমি;আচ্ছা তাড়াতাড়ি এসো কিন্তু??
দৃষ্টিঃ তোর কাছে শুনে যাবো নাকি??
যাহ এখন এইখানে থেকে ভাগ
বুঝিনা এই মেয়ে এই ভালো ব্যাবহার করে আবার এই খারাপ ব্যাবহার করে আসলে এই মেয়ে চাইকি??
আমি রুমে চলে আসছি। দৃষ্টিও চলে আসলো কিছুক্ষণ পর
এসে
দৃষ্টিঃ কিরে তুই আমার বিছানায় শুয়ে আছিস কেনো??
আমিঃবারে এটা তোমার একার বিছানা নাকি এটা তো আমারো বিছানা...
দৃষ্টিঃ দেখ ভুলেও এই কথা ভাববি না এটা শুধু মাত্র আমার একার বিছানা।এই বিছানায় আমি একাই থাকবো একা।
আমিঃকেনো আমি থাকলে সমস্যা কোথায়??
দৃষ্টিঃ সেটা তুই বুঝবি না,আর তুই আজ থেকে অন্য রুমে গিয়ে ঘুমাবি,,এই রুম থাকতে পারবি না...
আমিঃকিন্তু আমার তো তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না
দৃষ্টিঃ উফফ তোর ন্যাক ন্যাকা কথা বন্ধ করবি।যা এখন এইই রুম থেকে বের হয়ে, যা।
আমি;না আমি বের হবো না??
দৃষ্টিঃ তুই বের হবি না তোর ঘাড় বের হবে।এই বলে দৃষ্টি একপ্রকার জোড় করে আমাকে রুম থেকে বের করে দিলো।বেড় করে দেওয়ার পর দৃষ্টি রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো।
কি আর করার পাশের রুমে গিয়েই আজকে ঘুমাতে হবে।বউতো সাথে থাকতে দিলো না।পাশের রুমে গিয়ে শুয়েছি কিন্ত কিছুতেই ঘুম আসছে না বার বার দৃষ্টিকে দেখতে ইচ্চা করছে।এতোদিন তবুও আমি মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে দৃষ্টিকে দেখেছি,,কিন্তু আজ থেকে সেটা আর হবে না।এই কথা যখন ভাবছিলাম বুকের মধ্যে কেমন জানি করে উঠছিলো।কিন্তু কোনো উপায় তো নেই।ঘুমহীন কাটলো সারারাত
সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।আমি উঠে দেখি দৃষ্টি রান্না করছে,,আমি কিছু বললাম না মানে দৃষ্টিকে শুধু শুধু বিরক্তা করবো না যে নিজেই চাই না,,আমি তাকে কেনো বিরক্ত করবো।আমি আমার রান্না করা বিরিয়ানি থুক্কু ভাত আর ডিম ভাজি নিয়ে খেতে বসে পড়লাম।যেই একটু মুখে দিয়েছি মনে হলো এর থেকে অখাদ্য আর হয়না।ডিম ভাজিতে প্রচুর লবন হয়েছে,,,যার ফলে খাওয়া যাচ্ছে না।কিন্তু কিছুই করার নাই তো নিজের খাবার নিজের জন্য রেঁধেছি অখাদ্য হলেও খেতে হবে,আর না খেলে মরে ভূত হতে হবে,,কোনো রকম খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি অফিসের জন্য রেডি হলাম„„,রেডি হয়ে এসে দেখি দৃষ্টি খাচ্ছে।
আমিঃএই তুমি অফিস যাবে না??
দৃষ্টিঃ হ্যা যাবো তো...
আমিঃতাহলে দুজন একসাথে যাবো কি বলো??
দৃষ্টিঃ তুই কি করে ভাবলি আমি তোকে আমার সাথে অফিস নিয়ে যাবো শুনে যদি তুই ভেবে থাকিস আমি তোকে আমার সাথে অফিস নিয়ে যাবো তাহলে তুই ভুল ভেবেছিস....
আমিঃকেনো ভুল ভাববো কেনো???
দৃষ্টিঃ তোর মত গাইয়া একটা ছেলেকে কি আমি আমার সাথে করে অফিস নিয়ে যাবো নাকি শুনি??
যা এখন সামনে থেকে দূরে যা।
আমি বুঝি না দৃষ্টি এমন করে কেনো??
আমি কি কোনো দোষ করেছি??
চলে এলাম বাসার বাইরে।একটা রিক্সা নিলাম বাসা থেকে অফিস যেতে ২০ মিনিট লাগলো।
অফিস গিয়ে নিজের কাজে মন দিলাম।এখন আমি অফিসের প্রায় সব কাজ কম বেশি পারি।এজন্য অফিসের সকলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে বেশি সময় লাগেনি।এখন বাসা টু অফিস-----আর অফিস টু বাসা এইভাবেই চলতে লাগলো আমাদের দিনকাল তবে এখন দৃষ্টি আগের তুলনায় আমার উপর বেশি বিরক্ত বোধ করে।আগে তবুও জিজ্ঞাস করতো খেয়েছি কিনা??এখন সেটুকু জিজ্ঞাস করে না।আগে তবুও মাঝে মাঝে মাঝে মজার কিছু কথা হতো কিন্তু এখন সেটাও হয়না।এখন বলতে গেলে প্রয়োজন ছাড়া কথা একদক অফ।আমি অনেক কথা বলতে চেষ্টা করি,,কিন্তু দৃষ্টি সেগুলো এড়িয়ে যায়।আমি তবুও দৃষ্টির সাথে কথা বলতে চাই।কিন্ত দৃষ্টি আমার উপর রেগে যায়।৭দিন পর
অফিসের একটা প্রজেক্টের কাজ আমাকে দেওয়া হয়েছে,দৃষ্টির পরেই আমার স্থান।তাই আমাকে অনেক কাজের চাপ সামলাতে হয়।সবাই ঠিক মত কাজ করছে কিনা?সবার কাজ গুলো ঠিক মত হচ্ছে কিনা?যদি কেও ভুল করে সেই ভুল গুলো আমাকে ঠিক করে দিতে হয়।এক কথায় অফিস টাইম এ আমার বিশ্রাম নেবার সময় টুকু নেই।অনেক সময় মাথা কাজ করে না চিনচিন ব্যাথা করে তবুও কাজ গুলো করি।হাজার হোক এখন তো এটা আমার বউয়ের কোম্পানি।প্রজেক্টের জন্য প্রায় সকল কাজ শেষ,, কিন্তু ঝামেলা হলো ইমন সাহেবকে নিয়ে।সে এক যায়গায় ভুল করে ফেলেছে,কোনো উপায় না পেয়ে নতুন করে সেটা করতে হবে, তাই আমি আমার কেবিনে চলে গেলাম।আর করিম সাহেব কে মানে অফিসের পিয়নকে বলেছিলাম যেনো অই ফাইল ম্যাডামকে না দেয়,দিলে ঝামেলা হয়ে যাবে।আমি
আমার কেবিনে বসে মন দিয়ে ফাইল রেডি করছিলাম,,ফাইল রেডি করা শেষ তখন পিয়ন এসে আমাকে বললো স্যাম ম্যাডাম আপনাকে বাহিরে ডাকছে,আমি বললাম তুমি যাও আমি আসছি।
ফাইল ঠিক ঠাক করে সেটা নিয়ে আমি আমার কেবিন থেকে বের হলাম।বাহিরে বের হয়ে দেখি দৃষ্টি চেঁচামিচি করছে,আমি দৃষ্টির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম কি হয়েছে এমন ভাবে চিৎকার। করছো কেনো??
দৃষ্টি কিছু না বলে কিছু না শুনে আমাকে একটা চড় বসিয়ে দিলো।
তারপর অই ছোটলোক তুই এটা কি করেছিস
এত বড় একটা প্রজেক্টের ফাইল তুই কিভাবে এত বড় ভুল করলি,,অহহ ভুল তো তোর না ভুল আমার তোর মত একটা গাইয়া ছেলেকে এতো বড় দায়িত্ব দেওয়া আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে,,
আমিঃদেখো আমি কিন্তু..
দৃষ্টিঃ তুই কিন্তু কি হা,,কি বলবি তুই??তোর মত ছোট লোক কি করে বুঝবে এই ফাইলের মূল্য।অফিসের সবার সামনে দৃষ্টি আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলে অপমান করতে লাগলো,একসময় ইমন সাহেব বললো ম্যাম আমার কিছু কথা আছে..
দৃষ্টিঃ আপনাদের কথা পরে শুনবো আগে এই ছোটলোকের একটা ব্যাবস্থা করে নেই...
ইমনঃনা মানে ম্যাম স্যারের কোনো দোষ নেই,,আসলে অই ফাইল টা আমি রেডি করেছি,আমি ভুল করেছিলাম ম্যাম।
দৃষ্টিঃ স্যার কে বাচাতে আপনি মিথ্যা কথা কেনো বলছেন??
ইমনঃনাহ ম্যাম আমি সত্যি বলছি বরং স্যার আমাকে বাচাতে চুপ করে আছে
দৃষ্টিঃ এই মামুন উনি যা বলছে তা কি সত্যি
আমি কিছু না বলে দৃষ্টির হাতে নতুন ফাইল ধরিয়ে দিলাম।
দৃষ্টি সেটা নিয়ে আমার দিকে অপরাধির দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে ছিলো।তারপর কিছু না বলে মাথা নিচু করে চলে গেলো।
দৃষ্টি চলে যাবার পর ইমন সাহেব আমার কাছে এসে বললো স্যার আমার জন্য আপনাকে অপমান সহ্য করতে হলো আমাকে মাফ করে দিন স্যার।
আমিঃআরে আরে কি করছেন আর কি বলছেন?
ভুল তো মানুষেরি হয় তাইনা।
আর আপনি যেমন ভুল করেছেন তেমন ম্যাম না জেনে একটা ভুল করে ফেলেছে।
এটা নিয়ে কিছু ভাব্বেন না,,আপনি কাজে মন দিন।
তখন রিমা মানে আমার সহকারী বললো ম্যাম তো ভাগ্যা করে আপনার মত স্বামী পেয়েছিলো।
কিন্তু সেটাকে এমন ভাবে অবহেলায়
হারাচ্ছে।
আমি যদি আপনার মত কাওকে পেতাম বা আপনাকেই পেতাম আমি মাথায় করে রাখতাম।
দৃষ্টি আবার চলে এসেছিলো আর দৃষ্টি রিমার বলা কথাটা শুনে কিছুক্ষনের জন্য নিরব পাথরের মত হয়ে গেছিলো।
তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে বললো
এখনো এখানে সবাই কি করছেন যান যার যার কাজে জান।
তারপর যে যার যার কাজে চলে গেলো।
সারাদিনের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরলাম,, দৃষ্টি আমার আগেই গাড়ি নিয়ে চলে এসেছিলো।
মন খারাপ তাই বাসায় গিয়ে আর রান্না করবো না বলে বাহির থেকে খাবার কিনে বাসায় গেলাম।
প্রতিদিন বাসায় গিয়ে রান্না করি,,সারাদিনের কাজের পর যেটা একদম ভালো লাগে না।আরর তার উপর আজকে শুধু শুধু এত অপমান।
বাসায় গিয়ে কলিং বেল না চেপেই আমার কাছে থাকা চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে গেলাম
ভেতরে প্রবেশ করে দেখি দৃষ্টি বসে আছে।
আমি সেদিকে খেয়াল না করে কোনো কথা না বলে আমার রুমে চলে গেলাম।কিছুক্ষণ পর নিচে এসে দেখি দৃষ্টি একই ভাবে মন খারাপ করে বসে আছে
দেখে মনে হচ্ছে মন খারাপ
চলবে
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন