লেখক: md Asad Rahman
কাজী সাহেব< পিতা সফিক চৌধরী
মাতা রেহানা চৌধরীর প্রথম কন্যা
মোছা: আহিয়া চৌধরীর সহিত
বিবাহ করিতে আপনি রাজি আছেন?
বলেন কবুল,
আমি চোখ দুইটা বন্ধ করে বললাম,
আমি< রুপা, রুপা, রুপা। আমি শুধু
রুপাকেই ভালবাসি, আমি এই বিয়ে
করতে পারব না।
আমাকে তুমি মাফ করে দাও আহিয়া,
আমি রুপাকে ছাড়া বাছব না।
আমি তোমার পায়ে পড়ি তুমি
আমাকে মাফ করে দাও(আমি আর
নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না,
আমার চোখ দিয়ে সাগরের বাদ
ভাঙার মত পানি গড়িয়ে পরল)
আমি যে ওই মায়াবতিটাকে অনেক
বেশি ভালবেসে ফেলেছি আহিয়া।
আমি চোখ বন্ধ করলে কোনো সময়
তোমার মুখ দেখতে পাই না।
দেখতে পাই রুপার মুখ।
আমি শুধু এখন সব জায়গায় রুপাকেই
দেখতে পাই।
রুপা এখন আমার রগে রগে মিশে আছে।
আমি হয়তো কোনোদিন তোমাকে
আমার মন থেকে ভালবাসতেই পারি
না।
প্লিজ আহিয়া তুমি আমাকে রুপার
কাছে যেতে দাও,
আমি যদি রুপার কাছে সময় মত যেতে
না পারি তাহলে যে ওকে আমি
সারাজীবনের জন্য হারাব।
প্লিজ তুমি বিষের বোতলটা হাত
থেকে ফেলে দাও।
তোমার কিছু হয়ে গেলে আমি
আনকেল আন্টির কাছে কী জবাব দেব,
ওরা যে আমাকে অনেক বিশ্বাস
করেন।
আহিয়া কিছু বলছে না, পাথার হয়ে
দাঁড়িয়ে চোখ দিয়ে শুধু পানি
ঝরাচ্ছে।
আহিয়া হুট করে জোরে জোরে
কান্না শুরু করে দিল,
আর আমাকে বলতে লাগল,
আহিয়া< আমি তোমাকে কী করে
যেতে দেই বল? আমি যে তোমাকে
নিজের ছেয়েও বেশি ভালবাসি,
তুমি হয়তো আমাকে মন থেকে
ভালবাসতে পার নাই। কিন্তু আমি
তো তোমাকে মন থেকেই
ভালবেসেছি।
এখন কী করে আমি তোমাকে ছাড়া
থাকতে পারি বল?
আমাকে যখন তুমি মন থেকে
ভালবাসতেই পার নাই তাহলে কেন
আমাকে এত মিথ্যে সপ্ন দেখিয়ছিল।
যাও চলে যাও তুমি আমার সামনে
থেকে!
আমি< তুমি প্লিজ হাত থেকে বিষের
বোতলটা ফেলে দাও।
আহিয়া< এখন তুমি এখান থেকে না
গেলে আমি বিষটা খাব।
আমি< প্লিজ আহিয়া এমনটা কর না,
আমি চলে যাচ্ছি।
আমি কাজী অফিস থেকে দৌড়ে
বেরিয়ে আসলাম,,
সিএনজিতে উঠে বললাম বাসটপ
যাবার জন্য,
আমি আহিয়ার উপর অনেক অন্য করে
ফেলেছি,
আমি যখ মেয়েটাকে ভালবাসতেই
পারি নাই তাহলে কেন আমি এত সপ্ন
দেখালাম,
নিজেকে নিজের কাছে অনেক বড়
অপরাধী মনে হচ্ছে।
এদিকে রুপার টেনশন ও আমাকে পিছু
ছাড়ছে না।
বার বার মনে হচ্ছে আমি রুপাকে
হারিয়ে ফেলব।
রুপা সায়ানের হয়ে যাবে।
সবমিলিয়ে আমি এক অদ্ভুত অস্থিরতায়
ভুগছি।
।
।
আজ যেন রাস্তা ফুরাচ্ছেই না বার
বার বাসের জানালা দিয়ে
দেখেছি কোথায় এসেছি।
আর বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি।
।
বাস থেকে নেমেই আমি সিএনজি
দিয়ে সুজা রুপার কলেজে গেলাম,
কলেজে গিয়ে রুপা আর সায়ানকে
সারা কলেজ জুরে খুঁজতে লাগলাম,
কিন্তু কোথাও খুজে পেলাম না।
আমি আদিবাকে ফোন দিলাম।
আমি< হ্যালো....আদিবা রুপা কী এখন
বাসায় আছে?
আদিবা< হুম..বাসায়ই তো..আর সায়ান
ভাইয়াও আমাদের বসায় এসেছে।
সায়ানের কথা শুনে আমার বুকের
ধুকধুকানি আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল।
আদিবা আরও কী যেন বলতে চাইছিল,
তার আগেই আমি ফোনটা কেটে
দিলাম,
আমি আবার একটা সিএনজি নিয়ে
বাসায় আসলাম,
বাসায় ডুকতেই আমি অনেক অবাক হয়ে
গেলাম,
সায়ান এখানে ওর ফেমেলি সহ কী
করছে।
এবং রুপা সহ আমার ফেমেলির সবাই
একসাথে ড্রইং রুমে বসে আছে কেন?
রুপাকে একটা শাড়ী পড়ানো হয়েছে,
রুপা মাথায় কাপর দিয়ে মাথা নিচু
করে বসেছিল,
আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না এখানে
এসব কী হচ্ছে?
হুট করে আমাকে বাসায় ডুকতে দেখে
সবাই অবাক হয়ে আমার দিকে
তাকিয়ে রইল,
আমাকে দেখে রুপার মুখে হাসি
ফুটে উঠল,
আম্মু< নিয়ান তুই হুট করে এলি যে?
যাইহোক ভালই হল এসেছিস,
এখানে আয়।
আমি গিয়ে আম্মুর পাশে বসলাম।
আব্বু আমাকে বললেন,
আব্বু< নিয়ান ওরা সায়ানের সাথে
রুপার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলেন! তর
কী মতামত?
আব্বু কথা শুনে আমার মাথা ঘুরে পড়ে
যাওয়ার মত অবস্থা,
আমার সুফাতে বসে তাকতে অনক কষ্ট
হচ্ছে।
আমার মনে হচ্ছে আমি এক্কনি মাথা
ঘুরে পরে যাব।
আব্বু< কী হল নিয়ান কিছু বলছিস না
যে?
আমি মাথা নিচু করে চোখের পানি
মুছে বললাম,
আমি< আব্বু রুপাকে জিজ্ঞেস কর যে
ওর কী ইচ্ছা?
রুপা< আপনারা যা বলবেন আমি তাই
করব।
সায়ানের আব্বু< আলহামদুলিল্লাহ.
..তাহলে তো আর কোনো সমস্যাই রইল
না।
রুপা দৌড়ে উপরে চলে গেল,
রুপাকে এভাবে চলে যেতে দেখে
সবাই ভাবল রুপা লজ্জা পেয়েছে।
রুপা আর সায়ানের বিয়ে ঠিক করা হল
সামনের সপ্তাহের সোমবারে,
আর ওইদিনই রুপার আটারো বছরও পূর্ণ
হবে।
।
আমি এতদিন মনে মনে রুপাকে
হারানোর ভয় পাচ্ছিলাম,
আজ আমি সত্যি সত্যি রুপাকে
হারিয়ে ফেললাম,
আম্মুর মখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম
আম্মু মুখটা মলিন করে বসে আছেন।
আম্মু এই কদিনেই মেয়েটাকে অনেক
আপন করে নিয়েছিলেন।
তাই হয়তো আম্মুও মেয়েটা চলে
যাবে ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন।
।
এদিকে রুপা দৌড়ে উপরে এসে
আদিবার রুমে ডুকে দরজা লাগিয়ে
বাথরুমে ডুকে হাউমাউ করে কান্না
করতে লাগল,
আর উপরে তাকিয়ে বলতে লাগল,
ইয়া আল্লাহ...আমি কী ছেয়েছিলাম
আর কী হয়ে গেল।
আমি যে ওনাকে অনেক বেশি
ভালবাসি।
আমি ওনাকে ছাড়া কিভাবে থাকব।
ওনাকে যে আমি নিজের জীবনের
চাইতেও বেশি ভালবেসে
ফেলেছি।
# চলবে
MD ASAD RAHMAN
KOTCHANDPUR,JHENAIDAH
1 টি মন্তব্য:
Nice post
buy mobile
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন