ভাইয়ের সাহসী বোনের প্রেম
লেখকঃ-
MD ASAD RAHMAN
..
..
সুমনঃ- তুই রাতে কার সাথে ফিসফিস করিস রে মীম?
মীমঃ- কই কারো সাথে নাতো ভাইয়া।
সুমনঃ- মিথ্যা বলবি না একদম। আমি সব বুঝি, ছেলেটা কে?
মীমঃ- ইয়ে মানে,ওর নাম সাকিব।
সুমনঃ- তুই পুচকে একটা মেয়ে হয়ে প্রেম করিস?
মীমঃ- ভাইয়া তুমিও তো ইমা আপুর সাথে প্রেম করো। আমি কি কিছু বলি?
সুমনঃ- চুপ বেয়াদব। ছেলেটা কি জানে তোর বড় ভাই আছে?
মীমঃ- না....জানে না।
সুমনঃ- জানিয়ে দিবি। সে যদি সাহসী হয়, আমার চোখের সামনে দিয়ে তোর হাত ধরে নিয়ে যেতে হবে, তবেই তোদের সম্পর্ক মেনে নেবো।
মীমঃ- চ্যালেন্জ দিচ্ছিস..??
সুমনঃ- হ্যা।
মীমঃ- Ok done...
সুমনঃ- আর শোন তোর ইমা আপু তোর সাথে অনেকদিন ধরে দেখা করতে চাইছে। পরশু বিকালে তোর টাইম হবে?
মীমঃ- হ্যা হবে... কোথায় আসবো।
সুমনঃ- ওই তো "খাই খাই রেস্টুরেন্টে"।
মীমঃ- হিহিহি। আচ্ছা ভাইয়া আসবো।☺☺☺
সুমনঃ- তোর ইমা ভাবি মানে আপু ট্রিট দিবে।
..
**ভাইয়া চলে যাওয়ার পর মীম কল দিলো তার বয়ফ্রেন্ড সাকিব কে....Calling....
..
মীমঃ- হ্যালো সাকিব।
সাকিবঃ- হুম বলো......
মীমঃ- তুমি কি আমার বড় ভাইয়ের সামনে দিয়ে আমার হাত ধরে নিয়ে যেতে পারবা?
সাকিবঃ- কিহ তোমার বড় ভাই আছে? আগে বলোনি কেনো? আগে জানলে তোমার সাথে প্রেমই করতাম না।
মীমঃ- ধুর ছাই, রাখো তুমি। ভীতুর ডিম।
সাকিবঃ- Call End...
..
**মীম ভাবতে শুরু করে অন্য প্ল্যান করতে হবে। বিকাল ৫ টা। "খাই খাই রেস্টুরেন্টে" বসে আছে মীম আর তার বড় ভাই সুমন। ইমা এখনো আসেনি। সুমন খোঁজ নিয়ে জানলো রাস্তায় আছে। কিছুক্ষনের মধ্যে চলে আসবে।....
..
সুমনঃ- খাওয়া কি এখনি অর্ডার দিবো নাকি তোর ভাবি আসলে? আই মিন তোর আপু আসলে?
মীমঃ- হইসে হইসে। আজ থেকে ভাবি ডাকবো। ভাবি আসুক তারপর অর্ডার দিও।
সুমনঃ- ওকে।
..
**দুজন বসে গল্প করছে। এরপর হঠাৎ করে সাকিব তাদের টেবিলের সামনে এসে হাজির। একবার সুমনের দিকে তাকালো আরেকবার মীমের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো। তারপর মীমের হাত ধরে টেনে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেল। সুমন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। নদীর ধারে বসে আছে সাকিব আর মীম। তখন সাকিব বললো.....
..
সাকিবঃ- ছি ছি মীম তুমি আমাকে ধোঁকা দিতে পারলা? তুমি কি না আরেকটা ছেলের সাথে.....
মীমঃ- ওয়েট ওয়েট ভাইয়া কল দিয়েছে।
মীমঃ- হ্যালো ভাইয়া, চ্যালেন্জ তো হেরে গেলে। আমার বয়ফ্রেন্ড তোমার চোখের সামনে দিয়ে আমার হাত ধরে নিয়ে গেল। এটাই আমাদের কাছে সাহসী প্রেম।
সুমনঃ- (..সুমন কিছু না বলে ফোনটা কেটে দিলো..)
সাকিবঃ- ঐটা তোমার ভাই ছিলো? কিন্তু তোমার বান্ধবী যে বললো,,তুমি অন্য ছেলের সাথে রেস্টুরেন্টে ডেটিং করছো।
মীমঃ- আরে ঐটা আমি বলতে বলেছিলাম। যাতে তুমি রাগ করে আমার হাত ধরে নিয়ে যাও। আমার প্ল্যান সফল হয়েছে।
সাকিবঃ- উনি মানে তোমার ভাই সুমন?
মীমঃ- হুম।☺
..
**একথা শুনে সাকিব অবাক। ঐদিকে ইমা রেস্টুরেন্টে এসে হাজির.....
..
ইমাঃ- কি ব্যাপার সুমন, মীম কোথায়?
সুমনঃ- নিয়ে গেছে।
ইমাঃ- মানে? কে নিয়ে গেছে?
...
তারপর সব ঘটনা খুলে বললো ইমা কে। ইমা শুনে হাসতে হাসতে বললো,,,
..
ইমাঃ- বড় ভাই হয়ে তো খুব ডায়লগ দিচ্ছিলে, অথচ আমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে বললে দেখা করতে চাও না। কিসের এতো ভয়?
সুমনঃ- প্রেমিকার বড় ভাই থাকা মানেই আতংক। যাই হোক, কি খাবা বলো?
...
**খাওয়া দাওয়া শেষ করে বিল দিতে যাবার পালা। এক হাজার টাকা বিল। তখন ইমা বললো....
..
ইমাঃ- বিলটা কি আমি দিবো?
সুমনঃ- না না আমি দিচ্ছি।
..
**পকেট থেকে এক হাজার টাকার নোট বের করে ম্যানেজারের হাতে দিলো সুমন। ম্যানেজার জিজ্ঞেস করলো,,,
..
ম্যানেজারঃ-খাবারের মান কেমন ছিলো?
সুমনঃ- হুম ভাই অসাধারণ। আগে তো এই রেস্টুরেন্টের নামই জানতাম না। ইমা আমাকে নিয়ে এসেছে।
ম্যানেজারঃ- Tanx....আবার আসলে খুশি হবো।
...
**রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে সুমন ইমা কে জিজ্ঞেস করলো,,,,
..
সুমনঃ- তোমার বাবা এখন কেমন আছেন? দুদিন আগে অসুস্থ আছে বলেছিলে?
ইমাঃ- হ্যাঁ ভালোই আছেন। তবে রেস্টে আছেন।
সুমনঃ- ওহ তাহলে আংকেলের রেস্টুরেন্ট কে দেখাশোনা করছে?
ইমাঃ- দেখলাই তো আমার ভাই দেখাশোনা করছে।
সুমনঃ- মানে??
ইমাঃ- মানে আরকি? আমরা যে রেস্টুরেন্টে আজ খেলাম সেটা আমার বাবার রেস্টুরেন্ট। বাবার অসুস্থতার কারনে কিছুদিনের জন্য ভাইয়া দেখাশোনা করছে।
সুমনঃ- ঐ ম্যানেজার টা তোমার ভাই?
ইমাঃ- হুম। ভাইয়া আমাকে চ্যালেন্জ দিয়েছিল,, তার সামনে যদি রেস্টুরেন্টে এসে খাওয়া দাওয়া করতে পারি তাহলে আমাদের প্রেম মেনে নিবে। এটা আমাদের কাছে সাহসী প্রেম সুমন।
...
.
.
.
#Slovenly_boy.........
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন