"ছিঃ তুতি এতো পঁতা কেন আমাত বাবাই কে মেরেছ। তুতি দেত না বাবাই কাঁততে। তুতি জানো বাবাই কাঁততে আমাত খুত কস্ত হয়। আল্লাত তোমার পাঁত দিবে! সরি বতো বাবাই কে!, তুতাকে কোতায় যেন দেখিছি!হ্যাঁ মনে পড়ছে! জানো তুতার ছবি বাবাই বুকে নিয়ে কাঁতে। প্রতিরাতে কাঁতে!
-রাইসার মুখে এমন কথা শুনবে কথা কখনো ভাবেনি। কথা করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাঁকালো।
- এই রাইসা মা আমার কি সব বলছিস। ওকে কেন বকা দিচ্ছে তুমি?
-মামনি,বাবাই আরো কি কি করে বলো তো?
- মনে মনে বলছি আজ আমার কপালে কি যে আছে আল্লাই জানে। কারণ রাইসা তো সব জানে। কারণ আমি যে কথাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারিনি।
- তুমি পঁতা তোমায় কেন বলমো? তুতি আমাত বাবাই কে মেরেত। আমাত বাবাই কাঁততে। তোমাত সাতে কোন কতা নেই।
- আর তোমার বাবাইকে বকা দিবো না। এই যে রাজ সরি আপনার গায়ে হাত তোলার জন্য! এখন বলো তোমার বাবাই রাতে আরো কি কি করে?
- তুতার সাতে কতা নাই। তোতাতে মম মাইর দিবে। বাবাই মমকে অনেত ভালোবাতে। কতো আদত করে।
- রাইসার মুখে, রাইসার মায়ের কথা শুনে কথা অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে।
- এই যে আপতি বাবার দিতে ডিপতল এর মতো তাতাই রয়েছেন কেন?
- রাইসার কথা শুনে কথা হেসে দিল। রাগকে আর কন্টোল করতে পারছে না। রাইসাকে হাত বাড়িয়ে কাছে টেনে নিতেই। রাইসা বললো" ছুঁতে না আমাত, তুতি বাবাত কে কষ্ত দিয়েত! চলো তো বাবাই এথান থেতে চতে যাই! "
- কথা মৃদু হেসে বললো" মিঃ রাজ সত্যি আপনার মেয়েটা, ভারী মিষ্টি কথা বলে।"
- হুমম ঠিক ওর মায়ের মতো। ওর মা'টাও এমন ভারী মিষ্টি কথা বলে। আমাকে হাসায় কাঁদায়! বড্ড বেশি ভালবাসি তার মা'টাকে। চোখের পানি লুকিয়ে মুখে হাসির রেখা, রেখে কথাগুলো বললাম।
- ওহ্! আচ্ছা! একদিন রাইসার মমটাকে নিয়ে আসবেন।
-মনে মনে বললাম তুমিই তো রাইসার জন্মদাত্রী। আচ্ছা! সে যদি রাজি থাকে নিয়ে আসবো কেমন।
- আচ্ছা এবার তাহলে আসুন। আর রাইসাকে আমার কাছে রেখে যান।
- আমি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিলাম। মনে মনে বললাম আমি তো চাই রাইসা সারাজীবন তোমার কাছে থাকুক।
- আমি ডেস্কে এসে বসতেই। সাথি কাছে এসে বললো " আজকে রাইসা আর আপনার জন্য, রান্না করে নিয়ে এসেছি, আজকে কিন্তু না করবেন না। লাঞ্চটা একসাথে করবো "।
- আচ্ছা ঠিক আছে বলে কাজে মন দিলাম।
- আপনাতে কি বতে ডাকব?
- রাইসার কথা শুনে কথা ক্ষানিকটা অবাক হলো। হঠাৎ কথার মনে পড়লো রাজের সে কথা" জানো কথা আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমাদের একটা রাজকন্যা হবে, রাজকন্যাটা তোতা পাখির মতো কথা বলবে! আচ্ছা বলোতে নাম কী রাখা যায়? "
- কি হলে বলতো না কেন। কি ডাতবো তোমায়?
- কথা ভাবছে, আমার সন্তানটা যদি আজ বেঁচে থাকতো আজ রাইসার মতোই হতো। চোখ থেকে টপ করে একফোঁটা পানি রাইসার মুখে পড়লো।
- তুতি কাঁততো কেন? আমাত কুতে নিবা?
- কথা রাইসাকে কুলে নিলে, রাইসা কথার চোখের পানি মুঁছে দেয়। কথার কাছে মনে হচ্ছে তাঁর সবচেয়ে আপন কেউ চোখের পানি পরম আদরে মুছে দিল। বুকটা প্রশান্তিতে ভরে গেল। বুঝতেছে না, একটা চরিএহীন লোকের ঘরে আল্লাহ্ তায়ালা এতো মায়াবতী মেয়ে দেয় কেমনে! কথা রাইসাকে নিজের অজান্তেই বুকে সাথের চেপে ধরে বললো " আমাকে তোমার মম ডাকবে বুঝেছো মামনী?
- ছিঃ আমাত মম আতে, সে রাগ করবে তো। আমি তোমাত কেন মম ডাকবো। আচ্ছা! তোমাত নাম তী?
- কথা চালাকি করে বললো, আমার নাম মম। তুমি আমাকে নাম ধরে ডাকবে।
- বাবাই বলেতে বতদের সম্মাত করতে, তাই তোমাতে মম আত্তি বতে ডাকবো। মম আত্তি তুতি কিন্তু বাবাতে মারতে পাতবে না।
- আচ্ছা তুমি বাবাইকে খুব ভালোবাসো?
- হুমমম খুত ভালোবাতি! বাবাই কিতু হয়ে গেতে আমি মতে যামু।
- রাইসার কথাটা কেন জানি কথার কলিজায় গিয়ে বিঁধলো। কেন এতো মায়ায় জড়িয়ে যাচ্ছে, কথা বুঝতে পারছেনা! কথা নিজের অজান্তেই রাইসার মুখটা ধরে বললো" মারে এমন কথা বলিস না!
- আচ্তা আমি আতি, বাবাই কাতে যাবো।
- রাইসা চলে গেলে, রাজের সাথে কাটানো স্মৃতিগুলে কথার চোখে দিনের আলোর মতো ভেসে উঠলো। এখনো মাঝে মাঝে, রাজের কথাগুলো মনে পড়লে কথা সেন্সলেন্স হয়ে যায়। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে কীভাবে এতোটা ঠকাতে পারে কথা কোনদিন নিজে চোখে না দেখলে ভাবতে পারতো না। রাজ কথাকে বিয়ে করেছিল শুধু তার বাবার টাকার লোভে। সত্যি আমি কি দেখতে খারাপ ছিলাম যার জন্য রাজ অন্য মেয়েদের সাথে গোপনে অশ্লীল কাজ করতো।
রাজের প্রতি, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই কথা রাজকে বিশ হাজারের জায়গায় ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরিতে রেখেছে। কিন্তু এখন রাজকে দেখলেই পুরোনো স্মৃতিগুলো স্মৃতিপটে ভেসে উঠে। কথার চোখ গুলো জলে ভরে উঠল। চোখের পানি মুছে ভাবল, তার সাথে প্রতারণার বিচার সে নিজে করবে। রাজকে অপমান করে তার শরীরের জ্বালা নিভাবে।
- একটু পর পিয়ন এসে বললো" ম্যাম লাঞ্চ করবেন না?"
-পিয়নের কথা শুনে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো, ২টা বেজে গেছে। পিয়নকে খাবার আনতে বললো। পিয়ন খাবার আনতে গেলে কথা ভাবলো, রাইসাকে নিয়ে
আজ খাই। প্রতিদিন তো একাই খাই।
.
এদিকে সাথি এসে রাজকে আর রাইসাকে ক্যান্টিনে নিয়ে যায়। এক প্রকার জোর করেই।
-মম তুতি বাবাইকে এত্তো ভালোবাতো, বাবাত জন্য রান্না কতে নিয়ে আততো?
- রাইসার কথা শুনে আমি আর সাথি দুজনের বিস্মিত হয়ে গেলাম। সাথির দিকে চেয়ে দেখি, লজ্জায় সাথির মুখটা লাল হয়ে গেছে! সাথি নিচের দিকে চেয়ে প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। রাইসা এটা সেটা বলেই যাচ্ছে।
- মিস সাথি, রাইসার কথায় কিছু মনে করবেন না। রাইসা ছোট মানুষ তো তাই।
- নাহ্ আমি কিছু মনে করিনি, তবে কথাটা বেশ ভালোই লেগেছে। মনে হলো একদম তোতা পাখি কথা বলছে।
- মানে কী বলছেন আপনি?
- আরে কিছু না খাবার রেখে কথা বলতে হয় না শুরু করেন।
- আমি সাথির কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতেছি না।
- হঠাৎ রাইসা বললো" জাতো মম, আত তোমাতে না পেলে, বাবাইকে নিয়ে মম কিনতে বাজারে যেতাম। বাজারে নাতি সব কিততে পাওয়া যায়। আর মম তো পাওয়াই যেত তাই না। কিন্তু দেত কপাত কতো ভালা অফিতে তোতায় পেয়ে গেলাম। তুতি অনেক ভাতো মম। তুতি আমাত ততলেট দিতো। বাবাইকে রান্না করে দিতো। মম তোতায় হাত টা দাওতো এতটু।
- সাথি হাতটা দিতেই, রাইসা হাতটা তার মাথায় রেখে বললো " বলো মম আমাত কখনো ছেততে যাবে না। জানো মম সবাত মম আতে আমাত মম নেই,তাব্যর মম কতো আদত করে, ওকে তুতে খাইয়ে দেয়। কুলে নিয়ে বেড়ায়। আমাত না দেতে এই বুকে কেমত কেমত লাগে! বতো মম আমাত মাতায় হাত রেতে তুমি ছেড়ে যাবে না আমাত! আতি না রাতে খুত কান্না করি। বাবাইকে বলি আমাতত মম লাগবে। বাবাই শুধু আমাত বুতে নিয়ে কাতে। জাতো মম ততন আমিও কাঁতি। খুত কাঁতি আমি। আমি বাবাকে যে অনেক ভালোবাতি তাই কাঁতি তাইনা মম। এথন থেতে বাবাইকে আর কাঁততে দিবো না। তুতি এতে গেছ যে।
- এই রাইসা মা আমার কি সব পাগলামী করছো। চুপ কর।
- আপনি চুপ করেন মি রাজ , নারে মা তুকে ছেড়ে কোথা যাবো না। তোর মতো মায়াবতীকে ছেড়ে যেতে পারি? তুই আমার মেয়ে। আর মিঃ রাজ আপনি কিছু না মনে করলে রাইসাকে আমি নিজের মেয়ের মতোই বুকে আগলে রাখতে চাই। কয়েক বছর পর বড় হলে এমনিতেই বুঝতে পারবে। ছোট বাচ্চাতো তাদের কষ্ট দিতে নেই। এবার খাওয়া শুরু করো।
- সাথি রাইসাকে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে।
- আমি যখনি খাবার খেতে যাবো তখনি রাইসা আমার হাতটা ধরে ফেলল।
- বাবাই তুতি কি করতো? জাতো না সিনেমাই বাবাই মমকে খাইয়ে দেয়। তুতি মম কে খাইয়ে দাও। কথা বলেই কান্না করতে লাগলো।
- এদিকে একটা মহা সমস্যা রাইসা বেশি কাঁদলে, কথার মতোই সেন্সলেন্স হয়ে যায়। উপায় না পেয়ে, মন চাচ্ছিল না, তাও যখন সাথির মুখে খাবার তুলে দিতে যায় তখনি কথা এসে দেখে ফেলে।
- কথার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। দেখে বুঝা যাচ্ছে, শরীরটা রাগে ফেঁটে যাচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে, কেন এতো কষ্ট হচ্ছে। কথা ইচ্ছে করেই প্লেটটা ফেলে দিয়ে এতোগুলা মানুষের সামনে যা করলো তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। সাথি ভয় পেয়ে গেল।
চলবে """"""
wait for next part..........
বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন