বাসায় এসে
নিরবছন্ন দেহটাকে
বিচানায় লেলিয়ে দিলাম!
তারপর গভীর
ঘুমে হারিয়ে গেলাম!
কাদিনি এমনটা
নয়!
কেঁদেছি আর কেঁদেছি বলেই
ঘুমিয়েছি।
কাঁদলে শরীরের শক্তি হ্রাস পায়!
আপনি যত কাদবেন
তত বেশি দুর্বল হয়ে পড়বেন!
সকালে ঘুম ভাঙ্গে
সূর্যের লাল আবরনী আভার ছায়ায়!
ঘুম থেকে ওঠে
আয়নার সামনে দাড়িয়ে
নিজেকে
একবার দেখে নিই!
এক রাত্রির ব্যবধানে নিজের
সাহ্যজ্জল চেহারার
এতোটা পরিবর্তন দেখে
হিমশিম খেয়ে যায়!
আয়নার সামনে
দাড়ালেই নিজেকে
চতুষ্পদ জন্তুর মতো মনে
হয়।
আবার গিয়ে বিচানায়
গা লেলাই।
মনে মনে সংকল্প
করি
আজ আর অফিসে
যাবোনা!
অতঃপর গভীর নিদ্রায়
ঢলে পড়ি।
আকস্মিক ভাবে
কেঠে যায় দুদিন!
ফোন অফ রেখে অঘোর ভাবে
কাঠিয়েছি এই দুদিন!
;
আজ দুদিন পর
অফিসে আসলাম।
অফিসে প্রভেশ করেই একরাশ
আক্রোশ নিয়ে সরাসরি
নিজের কেভিনে চলে গেলাম।
তারপর কাজের প্রতি
স্পৃহা বাড়ালাম।
যতক্ষন অফিসে থাকলাম
নিজেকে
কোপানলের মাঝে
বন্দি করে
জেনিয়াকে ভুল থাকতে
চেষ্টা করলাম!
সারাদিন নিজের কেভিনে বসেই কাঠিয়ে
দিলাম।
একমূহুতের জন্যেও
প্রাচীরঘেরা রুমটা থেকে বের হয়নি!
এমনকি ফাইলটা দেবার জন্য বের
হয়নি!
ফাইলের কাজ সম্পূর্ন
হলে
বিকালে চাচাকে দিয়ে
ফাইলটা
জেনিয়ার রুমে
পাঠিয়ে দিই।
বুঝতে পারি কাজটা
অসঙ্গতিপূর্ন!
তবুও সঙ্গতাকে আড়ালে ঢেকে দিতেএছাড়া আমার
হাতে বিকল্প কেনো পথ খোলা নেই!
অফিসের কাজ শেষ করে
অফিস থেকে মাএ
বের
হচ্ছিলাম
ঠিক ঐই মূহুতে
কানের মধ্যে কাউকে ডাকার শব্দ এলো!
আমার নাম ধরেই
ডাকছে!
সংকীর্ন দৃষ্টিতে
অনেকটা উৎসুখ চোখে পেছেন তাকায়।
দেখতে পাই
জেনিয়াকে।
আমার দিকেই হেঁটে আসছে!
হেঁটে বললে ভুল হবে
অনেকটা দৌড়ে
আসছে!!
বুঝতে পারি এখন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি
হতে হবে আমাকে
তাই অনেকটা
দূরত্ব বজায় রেখে দাড়িয়ে
থাকি।
|
|
-কোথায় ছিলে
তুমি?(প্রথমবার তুমি
বলে)
;
,,জেনিয়ার কথার
সূএ খুজতে চেষ্টা
করি!
প্রথমবার ও আমাকে
তুমি বলে
সম্ভোদন করার কারন
কি?
কথার মধ্যে রহস্যের
চাপ খুজে
পাই।
তবে আমি ওর কথার
উওর দিতে
আগ্রহী নই!
কিছু না বলে দেহটাকে ঠিক জায়গায়
দাড় করিয়ে
রাখি!
।
।
-কি হলো কথা বলছো না কেনো?
(জেনিয়া)
.
-তা আপনাকে বলার প্রয়োজন বোধ
করিনা।
,,
ভগ্ন কন্ঠে জেনিয়ার
কথার জবাব
দিই।
বুঝতে পারি
ও আমার কথায় অনেকটা
বিব্রত বোধ
করছে!
ও ফর্সাকৃর্তি চেহারাটা
ক্রমন অন্ধকারে
ঢেকে যাচ্ছে।
ওর এই রকম অবস্থা
দেখে নিজেকে
ঠিক রাখতে পারবো না ভেবে
দ্রুত পায়ে হেটে
বাসার দিকে
পা চালাই।কিছুক্ষন হেটেই থমথম খেয়ে যায়।
লক্ষ করি চোখের জলগুলো গাল
বেয়ে
গ্রীবা আর বুকের
মাঝামাঝি জায়গায় পতিত হচ্ছে।
আতকে ওঠে হাতের
তালুতে আবদ্ধ
করি জলগুলোকে।
ফিছনে ফিরে একবার
জেনিয়াকে
প্রদক্ষিন করে নিই!
সঅশ্রসজল নয়নে
ও আমার চলে যাওয়া
দেখছে!
তারপর বাসায় চলে
আসি!!
এভাবে প্রতিদিন অবহেলা আর
অজস্র অঘোর ব্যাথাকে কে সঙ্গ দিয়ে
কাঠিয়ে দিতে থাকি দিনগুলো!
এর মাঝে অনেক
কিছু বদলে
গেছে!!
যতবারই জেনিয়াকে
দেখি
ততবারই মনে হয়
ব্যতায় কোকড়নো কেনো চারপায়া
জন্তুকে দেখছি!!
মাঝে মাঝে ইচ্ছে
হয়
ওর মহিমাখাময় মুখটাকে
কাছে এনে
নিজের মতো করে
ওকে সাজিয়ে
দিতে!
কিন্তু বারবার ব্যর্থ
হয়ে ফিরে
আসি!
যাইহোক,,
প্রতিদিনের ন্যায় আজও অফিস থেকে
একরাশ বেদনা
আর ভরাক্রান্ত মন নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম।
কিন্তু,, হঠাৎ করেই
মনে হলো
কেউ একজন আমাকে ডাকছে।
ফিছনে ফিরতেই জেনিয়াকে দেখে ভূত
দেখার মতো
চমকে ওঠি!!
একটা মানুষ এতোটা
নিংশব্দহীন ভাবে হাটতে পারে
তা হয়তো ওকে না দেখলে উপলব্ধি করতে পারতাম
না!
তবে যাইহোক
এর মাধ্যমে নতুন এক অভিঙ্গতার
সম্মুখীন হতে পেরেছি ভেবে ভালোই
লাগছিলো।
তবে অবাক হয়নি।অবাক হবার পালাটা
হয়তো তখনো
আমার জন্য
আপেক্ষিত
ছিলো যখন অভিমানকে সঙগ দিয়ে চলে আসতে
চেয়েছিলাম।
সামনে পা বাড়ানোর
সাথে সাথে
জেনিয়া তার কুসুমকোমল হাতে আমার
হাত পেছন থেকে টেনে ধরলো!!
বলা যায় অনেকটা জোর পূর্বক।
আমিও ছাড়াতে
চেষ্টা করিনি।
জানি চেষ্টা করলেও বৃথা হবে।
বলা যায় অনেকটা ঝড় অদৃষ্টের মাঝে মানবত্তার সংগ্রাম।
।
।
-চলো!(জেনিয়া)
,,
আমি কিছু বলিনি।
শুধু অদৃষ্টের
আড়ালে বয়ে চলা ক্ষীনদৃষ্টিটাকে নত করি।
হয়তো এটার অর্থ সম্মতি বোঝায়।
আবার অন্যকিছুও হতে
পারে!
জেনিয়া আমাকে টেনে নিয়ে গাড়িতে
তুললো!
অনেকটা শিশুর মতোই।
বাচ্চারা খেতে না
চাইলে;
মা বাচ্চাদের জোর করে খাওয়ান।
আমাকেও ঠিক এভাবেই
ইচ্ছার বিরুদ্ধে
জোর করে গাড়িতে
তোলা হলো।
আমি শুধু পলকহীন
নয়নে জেনিয়াকে
দেখছি!!
আগের থেকে অনেকটা
শুকনো আর
কুহেলিকাবৃত হয়ে
গেছে ও!!
আমার দৃষ্টির বাধ
ভাঙ্গে ওর হাতের র্স্পশে।
অভিমানী কন্ঠে
ও আমাকে গাড়ি থেকে নামতে বলে।
অতঃপর গাড়ি থেকে
নেমে
একটা রেষ্টুডেন্টের
ভিতরে নিয়ে
যায়।
খানিকটা মৌনাবলম্বন পালন করি
দুজনি।
অতঃপর প্রীতিফুল্ললোচনে
একে অন্যর দিকে
তাকায়!!চন্দ্রীমার আলো
কাঁচের আবরন ভেদ করে
ওর মুখে এসে
পড়ে
আর আমি ভরাক্রান্ত নয়নে
তা সোৎসাহে
ভাসায়।
জেনিয়া আমাকে অবলোকনমাএ লজ্জা পেয়ে দু হাতের আড়ালে
মুখ লোকায়।
তবে অভিমানী ছাপটা রয়ে
যায়!
।
।
-আমার সাথে এভাবে
খারাপ ব্যবহার
এবং আমাকে এড়িয়ে চলার কি?
,,
সব রাগ,আক্রোশ
নিয়ে
জেনিয়া আমাকে
কথাটি বলে অসহায় দৃষ্টিতে
আমার দিকে তাকায়।
আমি অপরাধীর মতো
মাথা নিচু
করে বসে থাকলাম!
।
।
-কি হলো?
কথা বলো।(জেনিয়া)
.
-ঐই দিনের ছেলেটা কে
ছিলো?(আমি)
.
জেনিয়া আমার
কথা শুনে
তপ্তনিঃশ্বাস ফেলে বললো
;
-ঐ ছেলেটা আমার কাজিন ছিলো।
একটা মেয়েকে পছন্দ করতো।
কিন্তু
বলতে পারতো না।
তাই আমার সাহায্য
নিতে ঐখানে
ডেকেছিলো।তাছাড়া তোমার সমস্যা
কি ওর সাথে আমি
রিলেশন করলে?
(জেনিয়া)
.
জেনিয়ার এইরকম প্রশ্ন শুনে
আমি অনেকটা
হতাশ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকায়!
ওর কথার জবাব
কি হতে
পারে এইমূহুতে আমার মস্তিষ্কে
কাজ করছে না!!
অভিপ্রায় নন্দনময় দৃষ্টিতে ওর চোখের
দিকে তাকায়!
।
।
-তুমিকি আমাকে
ভালোবাসো নাহিদ?
(জেনিয়া)
,,
মাথা নেড়ে হুমম
সম্মতি জানাই।
আর মনে মনে
ওর কুটকৌশলের প্রশংসা করি!!
।
।
-তোমার হাতটা দিবে
কি একটু ধরার
জন্য?
(জেনিয়া)
.অনেকক্ষন যাবত
এই কথাটি শোনার
প্রতীক্ষায়
ছিলাম।
নির্ভাবনায় হাতটি সামনে বাড়াই
আর জেনিয়া
অকুতোভয় ভাবে হাতটি ধরে!
।
।
- নাহিদ চলোনা একটু বাহিরে যাই।
(জেনিয়া)
.
-হুম চলো।
,,
অপ্রতি ভাবে ওকে
নিয়ে বাহিরে
আসি।
ও আমার হাতটি আরও শক্ত
করে আকড়ে
ধরে।
চন্দ্রীমার আলোর ফুটন্ত আভায়
ওকে দিবাঙ্গনার
মতো দেখায়।
সন্ধার সিগ্ধ স্বভাবে
মুগ্ধ হয়ে
আমি জেনিয়ার হাত ধরে হাঁটতে থাকি!
মাঝে মাঝে কুসুমকোমল হাতের স্পর্শে
শিউরে ওঠি।
আরও একবার
অবাক করে দিয়ে
জেনিয়া
আমাকে আলিঙ্গনভাবে ঝরিয়ে ধরলো।
এবার আর বাধা দিলাম
না।
শুধু অনাড়স্বর ভাবে ওর কপালে ছোট
একটা ভালোবাসা একে দিয়ে
দেহের মাঝে আবদ্ধ
করে নিলাম।
হাঁতটি এখনো ধরেই
আছে জেনিয়া।
দোয়া করবেন যেনো
চন্দ্রীমার আলোর
মতো চিরদিন স্মরনীয় হয়ে থাকে
আমার আর জেনিয়ার ভালোবাসা।
কিছু কিছু ভালোবাসা আত্নপ্রকাশ পায়
কিন্তু সমাপ্ত হয়না!!
.
(সমাপ্ত)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন