বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯

আবারো তোমায় ফিরে পেলাম

লেখকঃ #Asadrahman গ্রাজুয়েট কমপ্লিট করে সবে মাত্র চাকরিতে জয়েন করেছি, আর এর মধ্যেই বাবা মা উঠে পরে লেগেছে যে আমাকে বিয়ে দিবে। এত করে বললাম, -দেখ মা,সবে মাত্র চাকরিতে জয়েন করলাম,আর তোমরা আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছো,বছর খানেকটা যাক তারপর না হয় ভাবা যাবে। কিন্তু কে শুনে কার কথা, আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়েই আরো বলল যে, -আমি অত কিছু বুঝিনা জানিনা,তুই আজ অফিস যা,আর কালকের ছুটি নিয়ে আসবি কালকে তোকে অফিস যেতে হবেনা। -কেন মা?কালকে আবার কেন ছুটি নিবো? -আমি এত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবনা। বুঝে গেছি কি জন্য কাল ছুটি নিতে বলল, হাতে বেশি সময় নেই,যা করার আজকেই করতে হবে। . অফিসে গিয়ে বসে আছি,তেমন কাজ নাই। ভাবলাম একটু জীম কে ফোন দেই,(ওহ জীম আবার আমার সেই ল্যংটা কালের বন্ধু,সেই ছোট থেকেই দুজনে একসাথে বড় হওয়া,এক সাথে স্কুল,কলেজ,ভার্সিটিতে পড়া,এক কথায় সে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু যাকে বলা হয় বেষ্ট ফ্রেন্ড)তাকে ফোন দিলাম। -কিরে হারামি এই দুইদিন কই ছিলি হুম,একটা বারো ফোন করিসনি,ফেবুতেও এক্টিভ থাকিসনা,আরে একটা বার টেক্সট তো করবি?(জীম) -আরে রাখ তোর ওইসব, যত ঝামেলার মাঝে আছি, -তোর আবার এমন কি হইলো যে ঝামেলার মধ্যে আছিস? -ফোনে অত কিছু বলতে পাড়বোনা,আচ্ছা বিকালে ফ্রি থাকবি তুই? -আরে মামা আমিতো সবসময় ফ্রী, -ওকে,তাহলে বিকাল বেলা আমার সাথে দেখা করবি। -হুম ওকে! আমি জানি জীম আমার কথা কোনো দিনো ফেলেনি আর ফেলতেও পারবেনা,আমার বিপদে সবসময় পাশে দাড়িয়েছে। . অফিস শেষ করে বাসায় গেলাম শাওয়ার নিয়ে খাওয়া করে একটু রেষ্ট নিতে গিয়ে কখন যে চোখটা নেমে এলো। হাঠাৎ মোবাইলের টন বাজতেই ঘুমটা ভেঙে গেল,স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি জীমের ফোন, -কিরে কোথায় তুই?আমি সেই কখন থেকে এখানে তোর জন্য অপেক্ষা করতেছি! -দোস্ত আর একটু ওয়েট কর আমি এক্ষুনি আসতেছি। ফোনটা রেখে জলদি বাইকটা নিয়ে বের হচ্ছি, এমন সময় মা বলল, -এত তারাহুরা করে কই যাচ্ছিস রে? -এইতো একটু জীমে'র সাথে দেখা করতে যাচ্ছি মা,প্রায় দুইদিন হলো ওর সাথে দেখা হয়নি তাই। -যা,তবে বেশি দেরি করবিনা! -ঠিক আছে মা বলেই বেরিয়ে এলাম, উফ একদম বিরক্তিকর, যখন মেসে থাকতাম তখনি দিন গুলা ভালো যাচ্ছিলো, বিন্দাস ঘুরতাম খেতাম ঘুমাতাম, বাসায় এসে চাকরি জইন করায় এইসব আর হয়না। সারাক্ষন মায়ের কেয়ারিং থাক ওইসব। বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে গেলাম, আমি জানি জীম কোন জায়গায় আছে, জীম যে জায়গায় আছে সেই জায়গাটা আমার আর ওর খুব চেনা, এই জায়াগাটার একটা রহস্যও আছে! . -কিরে আসতে এতখন লাগলো তোর? -হুম লাগলো,তো এখন কি তুই আমাকে মারবি? -আজব ব্যাপার তো,আচ্ছা বলতো তুই এত রাগছিস কেন? -রাগবনা তো কি,বাসায় বাবা মা কি শুরু করেছে,তুইতো জানিস আমি বাবা মা'র কথা ফেলতে পারিনা,তাই আর তাদের সামনে কিছু বলিনি। -হুম জানি,কিন্তু আঙ্কেল আন্টি তোকে কি বলেছে সেটাই তো বললিনা? -ওহ,আরে আমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, এই কথা বলাতেই জীম কেমন আনন্দে লাফে উঠলো। -বলিস কি দোস্ত এত্ত বড় একটা খুশির খবর তুই আগে আমাকে বলিসনি কেন? -চুপপ!আমি এদিক টেনশনে আছি,এখনে আমি বিয়ে করতে চাচ্ছিনা আর তোর খুশি লাগতেছে তাইনা? প্লিজ দোস্ত জীবনে তো আমার অনেক হেল্প করছিস,এবার আমাকে এই বিষয়টাতে একটু হেল্প কর, -না দোস্ত এবার আমি পারলামনা। -প্লিজ দোস্ত এইভাবে বলিসনা, -তুই যতই বল আমি আর পারলাম না, যাই আমাকে এখন থেকে তৈরী হতে হবে আমার একমাত্র বেষ্টুর বিয়ে বলে কথা। বলেই চলে গেল, মনে হচ্ছে সালা কে গিয়ে দেই একটা। কোনো উপায় না পেয়ে বাসায় চলে এলাম। . রাত্রে খাওয়া করে রুমে এলাম, ভালো লাগছেনা,সালা হারামীটা এত খারাপ আমার কথা শুনলইনা। সকালে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো। ঘুম থেকে উঠে ছাদে চলে গেলাম, আজ কেন জানি সকাল সকাল মনটা খুব ফ্রেশ লাগছে। হঠাৎ কোথা থেকে জেন আওয়াজ আসল, -কি ভাইয়া আজ এত সকালে ছাদে যে? পাশে তাকাতেই দেখলাম পাশের বাসার পিংকি, -আর আপনাকে এত খুশি খুশি লাগছে কেন?ব্যাপার কি নুতুন ভাবি ঘরে আসতেছে তাই এত খুশি, সালার কি একটা খানদানি মেয়ে, সকাল সকাল মোডটাই নষ্ট করে দিলো আরে ওতো আমার দু'চোখের বিষ যখন কলেজে পরি তখন আমাকে প্রোপজ করেছিল,আর তখন থেকেই আমার দু'চোখের বিষ। নিজের চেহারাটা একবার আয়নায় দেখেছিল? আর ওর সাথে যাবো আমি প্রেম করতে। -কি হলো কথা উত্তর দিচ্ছেন না যে? খানদানিটার কথার উত্তর না দিতেই নিচে নেমে এলাম। ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গেলাম, খাওয়ার মাঝখানে বাবা বলল -ঠিক বেলা এগারোটার সময় আমরা বেরোব! -কোথায় যাব?(আমি) -কোথায় যাব মানে তুই জানিস না?আমরা পাত্রী কে দেখতে যাব(মা) -আর শোন ওর বাবা আমার বন্ধু হবে,কোনো ভেজাল পাতাবিনা বলে দিলাম।(বাবা) আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ সুচক জবাব দিলাম। . দুপুর প্রায় এগারোটা বাজে, মা এসে বলল, -জলদি কাপড় পরে নে! আবার মাথা নেড়ে হ্যাঁ সুচক জবাব দিলাম, -কিরে বাবা তুই সকাল থেকে এমন করছিস কেন?তোর কি অন্য কাউকে পছন্দ? -(ছিলো একজন মনের মত মানুষ,কিন্তু ভাগ্য হয়তো আমার উপর সহায় ছিলোনা)না মা তেমন কেউ নাই -দেখ বাবা,আমরা তোর বাবা মা আমরা তো অবশ্যই চাইব যে নিজের ছেলেটা ভালো একজন জীবন সঙ্গী নিয়ে বাকী জীবনটুকু কেটে দিক,তাই আমি বলছি মেয়েটা খুব ভালো তোর বাবার খুব পরিচিত তাই তোর ভালোই হবে। এসব কথা বলেই মা চলে গেল, আমিও ভাবতে লাগলাম বিয়ে তো করতেই হবে,যাকে পাবার ইচ্ছে ছিলো সে তো আর নাই,তাই বাবা মা'কে খুশি করে তাদের ইচ্ছেই বিয়েটা করে ফেলি। কাপড় পরে মা বাবা'র সাথে বেরিয়ে পড়লাম, বাবা'র গাড়িতে আমরা উঠে পরলাম। যেতে বেশিক্ষন লাগলোনা এই আধঘন্টার মতো রাস্তা। নেমে পড়লাম, একটু সামনে যেতেই বাবা একটা বাসা দেখিয়ে দিয়ে বলল, -এটাই ওদের বাসা। কলিং বেল টিপতেই একটা মহিলা এসে গেট খুলে দিল। -আরে ভাইজান আপনারা ?? আসুন আসুন ভিতরে বসুন,আপনাদের আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো?? একটা লোক এইভাবে কথা গুলা বলছিলে,, আনুমান করলাম হয়তো মেয়ের বাবা হবে। -আরে না না কোনো সমস্যা হয়নি(বাবা) আমাকে এখানে বসে থাকতে খুব বোরিং লাগছে। টেবিলের নাস্তা রাখা আছে, -কই আপনার মেয়েকে নিয়ে আসুন(বাবা) -হ্যাঁ অবশ্যই, কই মিথিলাকে নিয়ে আসো। . একটু পড়, মাথায় ঘোমটা দেওয়া একটা মেয়েকে নিয়ে আসলো। -আস্সালামুআলাইকুম(মেয়েটা) গলার আওয়াজটা বেশ মিষ্টি লাগলো, -ঘোমটাটা একটু সরাও মা,, (মা) যেই না মেয়েটা মুখ থেকে ঘোমটাটা সরাল ওমনিই আমি চমকে গেলাম,, আরে এতো নিশি,, আমি আমার নিজের চোখ'কে বিশ্বাস করতে পারছিনা... . To Be Continue......

কোন মন্তব্য নেই: