আপনি কি আপনার উল্লেখযোগ্য অন্যটি মিস করছেন? দুর্ভাগ্যক্রমে, আপনার প্রিয়জনকে বাদ দেওয়া অনেক সম্পর্কের একটি অংশ। আপনি একে অপরকে আবার দেখা না হওয়া পর্যন্ত দিনগুলি সংক্ষিপ্ত করতে আপনাকে সহায়তা করার জন্য আমরা উত্সাহের এই দুর্দান্ত নির্বাচনটি করেছি এবং আমি আন্তরিকভাবে আপনাকে উদ্ধৃতিগুলি মিস করছি। আপনার প্রিয়জন দূরে থাকাকালীন কেন একটি শুভ সকাল বার্তা দিয়ে অবাক করবেন না?
যদি আপনার সঙ্গী কোনও ব্যবসায় ভ্রমণে আসে, আপনি যদি দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কের মধ্যে থাকেন তবে আপনার প্রিয়জন যখন শারীরিকভাবে কাছের না হন তখন খুব চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আপনি একা অনুভব করতে পারেন এবং আপনার অর্ধেক থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করতে পারেন - দেখতে, শুনতে, স্পর্শ করতে এবং গন্ধ পেতে অক্ষম। আপনি যদি আপনার আরও ভাল অর্ধেকের বিষয়ে চিন্তাভাবনা বন্ধ করতে পারেন তবে নীচের উদ্ধৃতিগুলি আপনাকে আবার উত্সাহিত করবে।
"তারা বলেছে যে আপনি যখন কাউকে মিস করেন তখন সম্ভবত তারাও একইভাবে অনুভব করেন তবে আমি মনে করি না যে এই মুহুর্তে আমি আপনাকে যতটা মিস করছি ততই আপনি আমাকে মিস করতে পারবেন না।"
এডনা সেন্ট ভিনসেন্ট মিল
আপনার দুজনকে পরের দুই দিন বা এক সপ্তাহ এমনকি একসাথে থাকতে পারে না তা জেনে বেদনাদায়ক অনুভূতি। পিক্সিল্যাটেড স্কাইপ কল এবং সংক্ষিপ্ত ফোন কলগুলির সাথে বাস্তব জীবনের মিথস্ক্রিয়াগুলি প্রতিস্থাপন করার সময়, মনে হয় যে এটি আপনাকে নেওয়া হয়েছিল এটি আপনার পক্ষে সবচেয়ে মূল্যবান।
জীবনধারা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবনধারা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০
সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
দরজার ওপাশে ঘৃনা সংখ্যা
MD ASAD RAHMAN
ডিসেম্বর ২৩, ২০১৯
0
দরজার ওপাশে
১
টলমলে পায়ে হোণ্ডা থেকে নামে সে। টান দিতে গিয়ে টের পায় নিভে গেছে সিগারেটের আগুন। ‘ধুস শা..,’ খিস্তি দিয়ে ওঠে। মেসের গেটে ঢুকতে গিয়ে বাধা পায় দারোয়ানের কাছ থেকে।
‘এত রাতে ঢোকা নিষেধ। স্যারের মানা আছে।’
গালিটা চলে এসেছিল মুখের খুব কাছে। কিন্তু জাত মাতালেরাও তালে ঠিক থাকে। বেশি মেজাজ দেখালে পরে ঝামেলা হতে পারে। কি দরকার শুধু শুধু থাকার জায়গাটা হারানোর?
‘জলিল ভাই, কি করবো বলেন, হঠাৎ পুরান বন্ধুদের দেখা পাইয়া গেলাম। ছাড়তে চাইলো না...’,বলতে বলতে দারোয়ানের বুকপকেটে কড়কড়ে দুইটা নোট ঢুকায়ে দেয়।
দারোয়ান আর কথা বাড়ায়ে সময় নষ্ট করার মানে দেখে না। ‘ঢুইকা পড়েন, পরেরবার আর দেখবার পারুম না কইলাম।’
মনে মনে কষে বাপ-মা তুলে একটা গালি দেয় সে। মুখে তোয়াজের তুবড়ি ছোটায়ে ভেতরে ঢোকে।
ভেজানো দরজা গলে রূমে ঢুকেই সটান বিছানায়। চার বিছানার কামরা। মধ্যবিত্ত পরিবারের ভয়ে ভয়ে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখা তিন তরুণের কেউই এত রাতে আর ওর তামাশা দেখার জন্য জেগে নেই।
২
পরদিন সোয়া এগারোটার আগে নিদ্রাদেবী আলিংগন মুক্ত করে না। এত দেরীতে আর মেসে সকালের খাবার জুটবে না। আর ওসব ছাইপাশ মুখেও রোচে না তার। রাতে ঘরে ঢুকে কাপড় চোপড় পাল্টানো হয়নি। আশেপাশে কেউ থাকলে এখনো মুখ থেকে কাল রাতের বিটকেলে কটু গন্ধটা পেত নিশ্চয়ই। তেমন কেউ নেই আশেপাশে। রুমমেটদের সাথে তার তেমন দেখা সাক্ষাত ঘটে না। বাথরুম থেকে ঘুরে এসে বাসি কাপড় পালটে গায়ে দামী সেন্ট স্প্রে করে ফিটবাবুটি সেজে ঘর থেকে বেরোয় শাম্স। হ্যাঁ, ওইটাই মহামান্য পিতৃপ্রদত্ত নাম তার। পিতার দেওয়া সবকিছুকেই ঝেড়ে ফেলা গ্যাছে, নামটা আর ঝুলিয়ে রেখে কী হবে? ভেবেছে অনেক। তবু ঝাড়তে পারেনি শেষমেষ। বন্ধু-বান্ধবের কাছে এখনো নামটা জিন্দা আছে। অবশ্য সমস্যা বিশেষ নেই তাতে। রিয়েল প্রফেশনে ও বহুনামধারী।
হেলতে দুলতে সামনের গলির রফিক চাচার রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ে শাম্স। চাচার রেস্টুরেণ্টে টাইমের কোন হিসাব নাই। যখন তখন যেটা খুশী সেটা পাওয়া যায়। দেদার ব্যবসা। পেটের মধ্যে গোটা তিনেক খাস্তা পরোটা আর খাশীর নিহারী চালান করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। পকেট থেকে লেটেস্ট মডেলের দামী স্মার্টফোনটা বের করে দেখে, উনত্রিশটা মিসড্কল। কুছ পরোয়া নেহি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। ফোন লাগায় নির্দিষ্ট নাম্বারে। একবার রিং বাজতেই ফোন রিসিভ হয়।
‘হ্যালো। কি ব্যাপার, কই থাকো তুমি? ফোনটা পর্যন্ত ধরতে পারো না? জানো কয়বার কল দিছি আমি? কি করতাছিলা, এ্যাঁ?’
‘ ওহ্ ডার্লিং, মাই সুইটি। তুমি তো জানোই, রাত জেগে পড়াশুনা করতে হয়। সামনে এক্সাম। ভাল না করতে পারলে তোমার বাবা-মার কাছে আমার কথা বলতে পারবা? ফোনটা সাইলেণ্ট মোডে ছিল।’
‘তাই বলে তুমি আমার কলও দেখবা না?’ ওপর পক্ষের গলা ইতিমধ্যেই নরম হয়ে এসেছে।
মনে মনে হাসে শাম্স। মেয়েমাইনসের জাত। ন্যাকামি দেখাইবার বেলা ষোলআনা। একটা মিথ্যা কথারও গন্ধ বুঝবার পারে না।
দুনিয়ার সব মেয়েমানুষই বোকার হদ্দ, আর হাড়ে হাড়ে বজ্জাত। খালি বোঝে উপরের ফিটফাট, চাকুমচুকুম কথা। ভদ্রভাবে কথা বলতে গেলে এমন ভাব দেখাবে যেন সতি-সাবত্রী, যার তার সাথে কথা বলে না। একটু রংবাজি দেখাও, ব্যস। গলে একবারে পান্তাভাত। তখন আর কোন লাজ-লজ্জা কিছুই নাই। এমনি এমনি মেয়েদের সম্পর্কে এমন ধারণা হয়নি, দশ-বারো বছরের অভিজ্ঞতা এই লাইনে।
বাপের সাথে কানেকশন কাট করে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ঢাকা শহরে। বাবা খোঁজ জোগাড় করে পেছনে ফেউ লাগিয়ে দেয়। কত আর বয়স তখন? মাত্র তের-চৌদ্দ বছর। ছোট চাচারে অনেক ভালোবাসতো সে। ছোট চাচা এসে যখন তার মেসে ওকে নিয়ে গেল, ওর খুশী তখন দেখে কে? রসাতলে যাক দুনিয়া। এখন থেকে ছোট চাচাই তার বাপ-মা। ওর দেখাশোনার জন্য ছোট চাচাকে বাবাই দায়িত্বটা দিয়েছিল, বুঝতে পারেনি সে। ছোটচাচা তখন চাকরি বাকরির ধান্ধা করছে। শাম্স থেকে যায় তার সাথে। খরচপাতি কে চালাচ্ছে এটা চিন্তা করার মত মগজ হয়নি তখনো। পড়াশুনা করানোর অনেক চেষ্টা করে ছোটচাচা, কিন্তু শাম্সের পড়াশুনায় মন বসে না। ঐটুকুন বয়সেই দুনিয়ার সকল সুকুমার বস্তুর উপর থেকেই মন উঠে গেছে তার। আশপাশ থেকে বন্ধু-বান্ধবও জুটে যায় নিজের লেভেলের। সারাদিন তাদের সাথে মৌজ-মাস্তি, নিষিদ্ধ নেশা...অনেক কিছুই শিখে যায় সে। ঘর না, ওকে ব্যাকুলের মত টানতো বাইরের দুনিয়া। ছোটচাচা শাম্সের বেহাল এই দশা দেখে অনেক চেষ্টা তদবির করে ওকে ফেরানোর। কিন্তু শাম্সের দুনিয়াটাই তখন বদলে গেছে। ও এখন আর কারোরই পরোয়া করে না। শেষমেষ চাচাও ওর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
শাম্স ততদিনে দুনিয়া চিনে গেছে। কিন্তু হাতে টাকা না থাকলে আর কিসের দুনিয়া? এক বন্ধু চিনিয়ে দেয় জব্বর এক রাস্তা। বড়লোকের মালদার মেয়ে পটানোর কাজ। মেয়ে পটাও আর তারপরে মাথায় কাঁঠাল ভাংগো। ব্যাপক মনে ধরে এই কাজ তার।
আর এই লাইনে কঠিন পারদর্শীতার পরিচয় দেয় সে। মিনিমাম ইনভেস্টমেণ্টে কিভাবে ম্যাক্সিমাম ফায়দা হাসিল করা যায় অল্প দিনেই শিখে ফেলে। এই কাজে তার প্রয়োজন হয় মাত্র দুটি জিনিস। এক, একটি মোবাইল ফোন আর দুই, গোটা দশ-বারোটার মত সিমকার্ড। তারপর মোটামুটি মালদার পার্টি খুঁজে খুঁজে বের করে ফোন দেওয়া। ফোন নাম্বার বের করা তো বাঁ হাতের কাজ। পার্টি পটানোই হচ্ছে আসল কাজ। কিন্তু এই ব্যাপারে শাম্সের আছে শতকরা একশ ভাগ নিশ্চয়তা। এমন কোন মেয়ে সে পায়নি যাকে সে পটাতে পারেনি। একেক পার্টির জন্য একেক রকম দাওয়াই। পার্টিকে দু’একদিন ফলো করলেই এব্যাপারে বুঝতে আর কোন অসুবিধা হয় না যে, কোন দাওয়াই দিতে হবে। ব্যস, তারপরে মনের আনন্দে যত পারো খসিয়ে নাও। মেয়েগুলোন যে এত রামছাগল! বিন্দুমাত্র সন্দেহ করে না। এই খেলার শেষ অংশে সে একটা বড় দাও মারে। ইমোশনাল কোন একটা ব্ল্যাকমেইল করে মেয়েগুলোর কাছ থেকে বেশ বড় অংকের টাকা নিয়ে নেয়। তারপর, সিমকার্ড বদল...পাখি উড়াল। তবে এখন পর্যন্ত কোন মেয়েরই সে বড় কোন ক্ষতি করেনি। যেটা সে চাইলেই অনায়াসে করতে পারতো। বিবেকের কোন একটা জায়গায় এখনো হয়তো কিছু একটা বোধ ফোধ কাজ করে।
আপন মনেই হাসে শাম্স। বোধ!! হাহ্! দুনিয়ার সব মেয়ে জাতের সে শেষ দেখে ছাড়বে। যতদিন পর্যন্ত না ঐ একটা মুখ ভুলতে পারে। ওর জন্মদাত্রীর মুখ!
৩
পেছন ফিরে তাকাতে রুচি হয়না শাম্সের, ইচ্ছাও। মাত্র সাত বছরের শিশুপুত্রকে ফেলে কোন মা পরপুরুষের সাথে চলে যেতে পারে! বাবা ছোটখাট ব্যবসা করলেও অভাব ছিল না ওদের। প্রাচুর্য্যও হয়তো ছিল না তেমন। কিন্তু অভাব ছিল ওর মার মনে। মা কোনদিনই সুখী হতে পারেনি ওর বাবাকে নিয়ে। তার ছিল বিলাসের মোহ, অর্থের আকাশচুম্বী লিপ্সা। তরুণী মা নিজের মান-সম্মান বিসর্জন দিয়ে এক পয়সাওয়ালা বড় ব্যবসায়ীর হাত ধরে চলে যায়। একটিবারের জন্যও পেছন ফিরে দেখার প্রয়োজন মনে করে না।
শাম্সের ভালোমানুষ সাধাসিধে বাবা অনেক কষ্টে এই প্রচণ্ড ধাক্কা সামলে ওঠে। অবুঝ শিশুপুত্রকে পরম স্নেহে আগলে ধরে তার বাবা। সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতনে কেটে যায় বাপ-ছেলের দিনগুলো। কিন্তু আবার ঝড় ওঠে। এবার অবশ্য হঠাৎ করে না, বেশ বলে কয়েই ওঠে ঝড়।
ওর বয়স যখন তের কি চৌদ্দ, বাবা ওকে নানাভাবে বোঝাতে থাকে যে ওদের জীবনে একটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এমন কাউকে প্রয়োজন, যে ওদের বাড়িটা দেখেশুনে রাখবে, ওদের খেয়াল রাখবে। ঐ বয়সেই শাম্স বুঝতে পারে যে, বাবা কাউকে খুঁজে পেয়েই বিষয়টা কেবল ওর কাছে হালাল করে নিচ্ছে। ওর মতামতটা একটা বাহানা ছাড়া আর কিছু না। প্রচণ্ড অভিমান হয় ওর। মা চলে যাওয়ার পর ও যতবারই ‘মা’ বলে কেঁদেছে ততবারই একটা শক্ত হাত ওকে জড়িয়ে ধরেছে প্রবল স্নেহে। সেই শক্ত হাতটার প্রয়োজন তো ওর এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
শাম্সের বাবা অনেক চেষ্টা করেও ওকে বোঝাতে পারেনা। কিচ্ছু বুঝতে চায়না সে। নিজের মা ই ওকে ফেলে চলে গেছে, নকল মা কোন্ কাজে আসবে? কিন্তু বাবা কেন এরকম করবে এই ভেবে একদিন ছেলেমানুষি ভীষণ এক তাড়নায় বাড়ি ছাড়ে শাম্স।
ছোটচাচার মেসে অনেকবারই বাবা এসেছেন, শাম্সকে ফিরে যাবার জন্য অনেক কাকুতি মিনতি করেছেন। কিন্তু কিশোর এক ছেলের মনে কিসের যে তীব্র জেদ শিকড় গেড়ে বসে থাকে, কেউ তা বুঝতে পারে না। ছোটচাচার অনেক অনুরোধে প্রায় বছর দেড়েক বাদে একবার গিয়েছিল চাচার সাথে ওদের বাসায়। একটা বাচ্চা মেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময়, দেখে এসেছে। নকল মা খুব খাতিরদারি দেখানোর চেষ্টা করেছে। বার বার শাম্সকে থাকতে বলেছে। অভিনয়...সব অভিনয়, জানে শাম্স। একবার থাকলেই ওর ঘাড়টা একদিন ঠিক মটকে দেবে ঐ ডাইনী। আর যায়নি কোনদিন তারপরে। দিন চলে গেছে আপন গতিতে, শাম্সের জীবনধারার প্রচণ্ড গতির সাথে পাল্লা দিয়েই।
৪
মেসে ফিরেই আবার বিছানামুখো হয় শাম্স। আজ ভাল্লাগ্ছেনা শরীরটা। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে থাকে। এমন সময় আবার বেজে ওঠে ফোনটা। ছোট চাচা ফোন করেছেন! কি ব্যাপার? বাবা কিংবা চাচা কারো সাথেই কোনরকম যোগাযোগ করে না সে। তারাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন একরকম।
‘তুই কোথায় আছিস?’
‘কোথায় আবার! মেসেই আছি। কেন কি হয়েছে?’
‘আমি আধাঘণ্টার ভেতর আসছি। কোথাও যাবি না।’
শাম্স অবাক হয়। আধাঘণ্টার আগেই ছোটচাচা চলে আসে। কেমন যেন উদভ্রান্তের মত চেহারা।
‘কাল রাতে ফোন ধরিসনি কেন? ...দাদা চলে গেছে রে।’ হু হু করে কেঁদে ওঠে ছোটচাচা।
শাম্স দাঁড়িয়ে থাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। অনেক কথা হুটোপুটি খায় মনের মধ্যে। বাবা ওকে অনেকদিন ফোন করে বাসায় আসতে বলেছেন। অনেক কথা বলতে চেয়েছেন। নিজের কৃতকর্মের কৈফিয়ত দিতে চেয়েছেন অসংখ্যবার। শাম্স কোন কথাই শুনতে চায়নি। যেন পৃথিবীর কারো কাছেই ওর কিছুই চাইবার নাই।
‘কাল সারারাত তোর ফোন বন্ধ ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ হার্টএটাক। ভাবির ফোন পেয়ে হাসপাতালে যাই। বিকেলের মধ্যে সব শেষ।’
শাম্স হঠাৎ আবার নিরুৎসাহী হয়ে পড়ে। আছেই তো সবাই। ওর বাবাকে শেষবিদায় জানাতে ওর যাওয়ার কি এমন প্রয়োজন?
‘চল্, আমার সাথে,’ ছোটচাচা ওকে রাজি করাতে আসেনি, ওকে নিয়ে যেতে এসেছে। চাচার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল, শাম্স কথা বাড়ায় না। নিঃশব্দে যেতে থাকে চাচার পিছু পিছু।
৫
ওরা যাবার পর বাবার দাফন হয়। বাবার লাশের পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে শাম্স। কাঁদতে পারে না।
দাফন শেষে মেসে ফিরতে গিয়ে বাধা পায় শাম্স। ওর সৎমা ওকে আজ রাতটা থেকে যেতে বলে। একরাশ বিরক্তি নিয়ে তাকায় মহিলার দিকে। মুখটা ভীষণ শুকনো, চোখগুলো কাঁদতে কাঁদতে ফুলে আছে। চোখে কেমন যেন মমতার ছায়া। শাম্স নিজেকে অবাক করে দিয়ে সেই রাতটা থেকে যেতে রাজি হয়ে যায়।
মা-মেয়ে শোকের মাঝেও শাম্সের জন্য এটা ওটা করতে থাকে। বড় বড় চোখের কিশোরী মেয়েটার মুখে রাজ্যের কৌতুহল আর আগ্রহের মাখামাখি। শাম্সের পাত্তা না পেয়েও ‘ভাইয়া’ ‘ভাইয়া’ করতে থাকে। খুব যত্ন করে ওকে খাওয়ায় মা আর মেয়ে। আয়োজন অতি সামান্য। মরা বাড়ি, কে রান্নাবাড়ি করে! প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকে কিছু তরকারি দিয়ে গেছে, সেটা দিয়েই আজকের আয়োজন। খাওয়া শেষে ওর সৎবোন ওকে থাকার ঘরটা দেখায়। শাম্স দেখে ও যেই ঘরে থাকতো, সেই ঘরটাই। এরমধ্যেই মেয়েটা সুন্দর করে গুছিয়ে ফেলেছে ঘরটা । বিছানায় নতুন চাদর বিছানো। পরিপাটি যত্ন আর মমতার ছাপ সারাটা ঘর জুড়ে।
পরদিন সকালে উঠেই শাম্স যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে যায়। ভদ্রমহিলা এসে দাঁড়ায় সামনে।
‘তুমি চলে যাবা বাবা? থাকো না আমাদের সাথে! আমাদের আর কে আছে? মেয়েটা বাবাকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছিল। তোমাকে পেয়ে একদিনেই কেমন সব ভুলে গেল! তোমার বাবার যা আছে সবই তো তোমার। মেয়েটাতো বিয়ের পরই চলে যাবে। আর আমি...আমার একার বেঁচে থাকার জন্য কতটুকুই বা লাগে!’
শাম্সের মনে পড়ে যায় ওর মার কাছে বাবার এই সম্পদটুকু বড়ই সামান্য মনে হয়েছিল। আর সেজন্য ওকে ফেলে যেতেও দ্বিধা করেনি ওর নিজের মা!
শাম্স কোন কথা না বলে ঘরের দরজা খুলে সামনে এগিয়ে যায়। টের পায় ওর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে মা-বোন। অনিশ্চিত পায়ে এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনের লোহার গেটটার কাছে।
ভীষণ অভিমানী এক মানুষ সে। সেই শৈশব থেকেই এক প্রচণ্ড অভিমান বয়ে নিয়ে চলেছে হতভাগ্যের মত। এতদিন জেনে এসেছে তার নাম ঘৃণা। ঘৃণার অপরপাশে কোন ভালোবাসার দাবী বা আকুলতা যে ওত পেতে আছে মনে হয়নি কখনো। হঠাৎ ঝাপ্সা হয়ে যেতে থাকে ওর সামনের সবকিছু। গলার কাছে দলা পাকিয়ে ওঠে কিছু একটা। সামনে তাকিয়ে কিচ্ছু দেখতে পায় না সে।
আর কি আশ্চর্য! লোহার গেটটা এত শক্ত হয়ে গেল কিভাবে? শত চেষ্টা করেও গেটটা খুলতে পারেনা শাম্স।
ভ্যাবাচ্যাকার মত দাঁড়িয়ে থাকে গেটটার এপাশেই।
১
টলমলে পায়ে হোণ্ডা থেকে নামে সে। টান দিতে গিয়ে টের পায় নিভে গেছে সিগারেটের আগুন। ‘ধুস শা..,’ খিস্তি দিয়ে ওঠে। মেসের গেটে ঢুকতে গিয়ে বাধা পায় দারোয়ানের কাছ থেকে।
‘এত রাতে ঢোকা নিষেধ। স্যারের মানা আছে।’
গালিটা চলে এসেছিল মুখের খুব কাছে। কিন্তু জাত মাতালেরাও তালে ঠিক থাকে। বেশি মেজাজ দেখালে পরে ঝামেলা হতে পারে। কি দরকার শুধু শুধু থাকার জায়গাটা হারানোর?
‘জলিল ভাই, কি করবো বলেন, হঠাৎ পুরান বন্ধুদের দেখা পাইয়া গেলাম। ছাড়তে চাইলো না...’,বলতে বলতে দারোয়ানের বুকপকেটে কড়কড়ে দুইটা নোট ঢুকায়ে দেয়।
দারোয়ান আর কথা বাড়ায়ে সময় নষ্ট করার মানে দেখে না। ‘ঢুইকা পড়েন, পরেরবার আর দেখবার পারুম না কইলাম।’
মনে মনে কষে বাপ-মা তুলে একটা গালি দেয় সে। মুখে তোয়াজের তুবড়ি ছোটায়ে ভেতরে ঢোকে।
ভেজানো দরজা গলে রূমে ঢুকেই সটান বিছানায়। চার বিছানার কামরা। মধ্যবিত্ত পরিবারের ভয়ে ভয়ে আকাশকুসুম স্বপ্ন দেখা তিন তরুণের কেউই এত রাতে আর ওর তামাশা দেখার জন্য জেগে নেই।
২
পরদিন সোয়া এগারোটার আগে নিদ্রাদেবী আলিংগন মুক্ত করে না। এত দেরীতে আর মেসে সকালের খাবার জুটবে না। আর ওসব ছাইপাশ মুখেও রোচে না তার। রাতে ঘরে ঢুকে কাপড় চোপড় পাল্টানো হয়নি। আশেপাশে কেউ থাকলে এখনো মুখ থেকে কাল রাতের বিটকেলে কটু গন্ধটা পেত নিশ্চয়ই। তেমন কেউ নেই আশেপাশে। রুমমেটদের সাথে তার তেমন দেখা সাক্ষাত ঘটে না। বাথরুম থেকে ঘুরে এসে বাসি কাপড় পালটে গায়ে দামী সেন্ট স্প্রে করে ফিটবাবুটি সেজে ঘর থেকে বেরোয় শাম্স। হ্যাঁ, ওইটাই মহামান্য পিতৃপ্রদত্ত নাম তার। পিতার দেওয়া সবকিছুকেই ঝেড়ে ফেলা গ্যাছে, নামটা আর ঝুলিয়ে রেখে কী হবে? ভেবেছে অনেক। তবু ঝাড়তে পারেনি শেষমেষ। বন্ধু-বান্ধবের কাছে এখনো নামটা জিন্দা আছে। অবশ্য সমস্যা বিশেষ নেই তাতে। রিয়েল প্রফেশনে ও বহুনামধারী।
হেলতে দুলতে সামনের গলির রফিক চাচার রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ে শাম্স। চাচার রেস্টুরেণ্টে টাইমের কোন হিসাব নাই। যখন তখন যেটা খুশী সেটা পাওয়া যায়। দেদার ব্যবসা। পেটের মধ্যে গোটা তিনেক খাস্তা পরোটা আর খাশীর নিহারী চালান করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে। পকেট থেকে লেটেস্ট মডেলের দামী স্মার্টফোনটা বের করে দেখে, উনত্রিশটা মিসড্কল। কুছ পরোয়া নেহি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার জুড়ি মেলা ভার। ফোন লাগায় নির্দিষ্ট নাম্বারে। একবার রিং বাজতেই ফোন রিসিভ হয়।
‘হ্যালো। কি ব্যাপার, কই থাকো তুমি? ফোনটা পর্যন্ত ধরতে পারো না? জানো কয়বার কল দিছি আমি? কি করতাছিলা, এ্যাঁ?’
‘ ওহ্ ডার্লিং, মাই সুইটি। তুমি তো জানোই, রাত জেগে পড়াশুনা করতে হয়। সামনে এক্সাম। ভাল না করতে পারলে তোমার বাবা-মার কাছে আমার কথা বলতে পারবা? ফোনটা সাইলেণ্ট মোডে ছিল।’
‘তাই বলে তুমি আমার কলও দেখবা না?’ ওপর পক্ষের গলা ইতিমধ্যেই নরম হয়ে এসেছে।
মনে মনে হাসে শাম্স। মেয়েমাইনসের জাত। ন্যাকামি দেখাইবার বেলা ষোলআনা। একটা মিথ্যা কথারও গন্ধ বুঝবার পারে না।
দুনিয়ার সব মেয়েমানুষই বোকার হদ্দ, আর হাড়ে হাড়ে বজ্জাত। খালি বোঝে উপরের ফিটফাট, চাকুমচুকুম কথা। ভদ্রভাবে কথা বলতে গেলে এমন ভাব দেখাবে যেন সতি-সাবত্রী, যার তার সাথে কথা বলে না। একটু রংবাজি দেখাও, ব্যস। গলে একবারে পান্তাভাত। তখন আর কোন লাজ-লজ্জা কিছুই নাই। এমনি এমনি মেয়েদের সম্পর্কে এমন ধারণা হয়নি, দশ-বারো বছরের অভিজ্ঞতা এই লাইনে।
বাপের সাথে কানেকশন কাট করে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল ঢাকা শহরে। বাবা খোঁজ জোগাড় করে পেছনে ফেউ লাগিয়ে দেয়। কত আর বয়স তখন? মাত্র তের-চৌদ্দ বছর। ছোট চাচারে অনেক ভালোবাসতো সে। ছোট চাচা এসে যখন তার মেসে ওকে নিয়ে গেল, ওর খুশী তখন দেখে কে? রসাতলে যাক দুনিয়া। এখন থেকে ছোট চাচাই তার বাপ-মা। ওর দেখাশোনার জন্য ছোট চাচাকে বাবাই দায়িত্বটা দিয়েছিল, বুঝতে পারেনি সে। ছোটচাচা তখন চাকরি বাকরির ধান্ধা করছে। শাম্স থেকে যায় তার সাথে। খরচপাতি কে চালাচ্ছে এটা চিন্তা করার মত মগজ হয়নি তখনো। পড়াশুনা করানোর অনেক চেষ্টা করে ছোটচাচা, কিন্তু শাম্সের পড়াশুনায় মন বসে না। ঐটুকুন বয়সেই দুনিয়ার সকল সুকুমার বস্তুর উপর থেকেই মন উঠে গেছে তার। আশপাশ থেকে বন্ধু-বান্ধবও জুটে যায় নিজের লেভেলের। সারাদিন তাদের সাথে মৌজ-মাস্তি, নিষিদ্ধ নেশা...অনেক কিছুই শিখে যায় সে। ঘর না, ওকে ব্যাকুলের মত টানতো বাইরের দুনিয়া। ছোটচাচা শাম্সের বেহাল এই দশা দেখে অনেক চেষ্টা তদবির করে ওকে ফেরানোর। কিন্তু শাম্সের দুনিয়াটাই তখন বদলে গেছে। ও এখন আর কারোরই পরোয়া করে না। শেষমেষ চাচাও ওর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
শাম্স ততদিনে দুনিয়া চিনে গেছে। কিন্তু হাতে টাকা না থাকলে আর কিসের দুনিয়া? এক বন্ধু চিনিয়ে দেয় জব্বর এক রাস্তা। বড়লোকের মালদার মেয়ে পটানোর কাজ। মেয়ে পটাও আর তারপরে মাথায় কাঁঠাল ভাংগো। ব্যাপক মনে ধরে এই কাজ তার।
আর এই লাইনে কঠিন পারদর্শীতার পরিচয় দেয় সে। মিনিমাম ইনভেস্টমেণ্টে কিভাবে ম্যাক্সিমাম ফায়দা হাসিল করা যায় অল্প দিনেই শিখে ফেলে। এই কাজে তার প্রয়োজন হয় মাত্র দুটি জিনিস। এক, একটি মোবাইল ফোন আর দুই, গোটা দশ-বারোটার মত সিমকার্ড। তারপর মোটামুটি মালদার পার্টি খুঁজে খুঁজে বের করে ফোন দেওয়া। ফোন নাম্বার বের করা তো বাঁ হাতের কাজ। পার্টি পটানোই হচ্ছে আসল কাজ। কিন্তু এই ব্যাপারে শাম্সের আছে শতকরা একশ ভাগ নিশ্চয়তা। এমন কোন মেয়ে সে পায়নি যাকে সে পটাতে পারেনি। একেক পার্টির জন্য একেক রকম দাওয়াই। পার্টিকে দু’একদিন ফলো করলেই এব্যাপারে বুঝতে আর কোন অসুবিধা হয় না যে, কোন দাওয়াই দিতে হবে। ব্যস, তারপরে মনের আনন্দে যত পারো খসিয়ে নাও। মেয়েগুলোন যে এত রামছাগল! বিন্দুমাত্র সন্দেহ করে না। এই খেলার শেষ অংশে সে একটা বড় দাও মারে। ইমোশনাল কোন একটা ব্ল্যাকমেইল করে মেয়েগুলোর কাছ থেকে বেশ বড় অংকের টাকা নিয়ে নেয়। তারপর, সিমকার্ড বদল...পাখি উড়াল। তবে এখন পর্যন্ত কোন মেয়েরই সে বড় কোন ক্ষতি করেনি। যেটা সে চাইলেই অনায়াসে করতে পারতো। বিবেকের কোন একটা জায়গায় এখনো হয়তো কিছু একটা বোধ ফোধ কাজ করে।
আপন মনেই হাসে শাম্স। বোধ!! হাহ্! দুনিয়ার সব মেয়ে জাতের সে শেষ দেখে ছাড়বে। যতদিন পর্যন্ত না ঐ একটা মুখ ভুলতে পারে। ওর জন্মদাত্রীর মুখ!
৩
পেছন ফিরে তাকাতে রুচি হয়না শাম্সের, ইচ্ছাও। মাত্র সাত বছরের শিশুপুত্রকে ফেলে কোন মা পরপুরুষের সাথে চলে যেতে পারে! বাবা ছোটখাট ব্যবসা করলেও অভাব ছিল না ওদের। প্রাচুর্য্যও হয়তো ছিল না তেমন। কিন্তু অভাব ছিল ওর মার মনে। মা কোনদিনই সুখী হতে পারেনি ওর বাবাকে নিয়ে। তার ছিল বিলাসের মোহ, অর্থের আকাশচুম্বী লিপ্সা। তরুণী মা নিজের মান-সম্মান বিসর্জন দিয়ে এক পয়সাওয়ালা বড় ব্যবসায়ীর হাত ধরে চলে যায়। একটিবারের জন্যও পেছন ফিরে দেখার প্রয়োজন মনে করে না।
শাম্সের ভালোমানুষ সাধাসিধে বাবা অনেক কষ্টে এই প্রচণ্ড ধাক্কা সামলে ওঠে। অবুঝ শিশুপুত্রকে পরম স্নেহে আগলে ধরে তার বাবা। সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতনে কেটে যায় বাপ-ছেলের দিনগুলো। কিন্তু আবার ঝড় ওঠে। এবার অবশ্য হঠাৎ করে না, বেশ বলে কয়েই ওঠে ঝড়।
ওর বয়স যখন তের কি চৌদ্দ, বাবা ওকে নানাভাবে বোঝাতে থাকে যে ওদের জীবনে একটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এমন কাউকে প্রয়োজন, যে ওদের বাড়িটা দেখেশুনে রাখবে, ওদের খেয়াল রাখবে। ঐ বয়সেই শাম্স বুঝতে পারে যে, বাবা কাউকে খুঁজে পেয়েই বিষয়টা কেবল ওর কাছে হালাল করে নিচ্ছে। ওর মতামতটা একটা বাহানা ছাড়া আর কিছু না। প্রচণ্ড অভিমান হয় ওর। মা চলে যাওয়ার পর ও যতবারই ‘মা’ বলে কেঁদেছে ততবারই একটা শক্ত হাত ওকে জড়িয়ে ধরেছে প্রবল স্নেহে। সেই শক্ত হাতটার প্রয়োজন তো ওর এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
শাম্সের বাবা অনেক চেষ্টা করেও ওকে বোঝাতে পারেনা। কিচ্ছু বুঝতে চায়না সে। নিজের মা ই ওকে ফেলে চলে গেছে, নকল মা কোন্ কাজে আসবে? কিন্তু বাবা কেন এরকম করবে এই ভেবে একদিন ছেলেমানুষি ভীষণ এক তাড়নায় বাড়ি ছাড়ে শাম্স।
ছোটচাচার মেসে অনেকবারই বাবা এসেছেন, শাম্সকে ফিরে যাবার জন্য অনেক কাকুতি মিনতি করেছেন। কিন্তু কিশোর এক ছেলের মনে কিসের যে তীব্র জেদ শিকড় গেড়ে বসে থাকে, কেউ তা বুঝতে পারে না। ছোটচাচার অনেক অনুরোধে প্রায় বছর দেড়েক বাদে একবার গিয়েছিল চাচার সাথে ওদের বাসায়। একটা বাচ্চা মেয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ঘরময়, দেখে এসেছে। নকল মা খুব খাতিরদারি দেখানোর চেষ্টা করেছে। বার বার শাম্সকে থাকতে বলেছে। অভিনয়...সব অভিনয়, জানে শাম্স। একবার থাকলেই ওর ঘাড়টা একদিন ঠিক মটকে দেবে ঐ ডাইনী। আর যায়নি কোনদিন তারপরে। দিন চলে গেছে আপন গতিতে, শাম্সের জীবনধারার প্রচণ্ড গতির সাথে পাল্লা দিয়েই।
৪
মেসে ফিরেই আবার বিছানামুখো হয় শাম্স। আজ ভাল্লাগ্ছেনা শরীরটা। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে থাকে। এমন সময় আবার বেজে ওঠে ফোনটা। ছোট চাচা ফোন করেছেন! কি ব্যাপার? বাবা কিংবা চাচা কারো সাথেই কোনরকম যোগাযোগ করে না সে। তারাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন একরকম।
‘তুই কোথায় আছিস?’
‘কোথায় আবার! মেসেই আছি। কেন কি হয়েছে?’
‘আমি আধাঘণ্টার ভেতর আসছি। কোথাও যাবি না।’
শাম্স অবাক হয়। আধাঘণ্টার আগেই ছোটচাচা চলে আসে। কেমন যেন উদভ্রান্তের মত চেহারা।
‘কাল রাতে ফোন ধরিসনি কেন? ...দাদা চলে গেছে রে।’ হু হু করে কেঁদে ওঠে ছোটচাচা।
শাম্স দাঁড়িয়ে থাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। অনেক কথা হুটোপুটি খায় মনের মধ্যে। বাবা ওকে অনেকদিন ফোন করে বাসায় আসতে বলেছেন। অনেক কথা বলতে চেয়েছেন। নিজের কৃতকর্মের কৈফিয়ত দিতে চেয়েছেন অসংখ্যবার। শাম্স কোন কথাই শুনতে চায়নি। যেন পৃথিবীর কারো কাছেই ওর কিছুই চাইবার নাই।
‘কাল সারারাত তোর ফোন বন্ধ ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ হার্টএটাক। ভাবির ফোন পেয়ে হাসপাতালে যাই। বিকেলের মধ্যে সব শেষ।’
শাম্স হঠাৎ আবার নিরুৎসাহী হয়ে পড়ে। আছেই তো সবাই। ওর বাবাকে শেষবিদায় জানাতে ওর যাওয়ার কি এমন প্রয়োজন?
‘চল্, আমার সাথে,’ ছোটচাচা ওকে রাজি করাতে আসেনি, ওকে নিয়ে যেতে এসেছে। চাচার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল, শাম্স কথা বাড়ায় না। নিঃশব্দে যেতে থাকে চাচার পিছু পিছু।
৫
ওরা যাবার পর বাবার দাফন হয়। বাবার লাশের পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে শাম্স। কাঁদতে পারে না।
দাফন শেষে মেসে ফিরতে গিয়ে বাধা পায় শাম্স। ওর সৎমা ওকে আজ রাতটা থেকে যেতে বলে। একরাশ বিরক্তি নিয়ে তাকায় মহিলার দিকে। মুখটা ভীষণ শুকনো, চোখগুলো কাঁদতে কাঁদতে ফুলে আছে। চোখে কেমন যেন মমতার ছায়া। শাম্স নিজেকে অবাক করে দিয়ে সেই রাতটা থেকে যেতে রাজি হয়ে যায়।
মা-মেয়ে শোকের মাঝেও শাম্সের জন্য এটা ওটা করতে থাকে। বড় বড় চোখের কিশোরী মেয়েটার মুখে রাজ্যের কৌতুহল আর আগ্রহের মাখামাখি। শাম্সের পাত্তা না পেয়েও ‘ভাইয়া’ ‘ভাইয়া’ করতে থাকে। খুব যত্ন করে ওকে খাওয়ায় মা আর মেয়ে। আয়োজন অতি সামান্য। মরা বাড়ি, কে রান্নাবাড়ি করে! প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকে কিছু তরকারি দিয়ে গেছে, সেটা দিয়েই আজকের আয়োজন। খাওয়া শেষে ওর সৎবোন ওকে থাকার ঘরটা দেখায়। শাম্স দেখে ও যেই ঘরে থাকতো, সেই ঘরটাই। এরমধ্যেই মেয়েটা সুন্দর করে গুছিয়ে ফেলেছে ঘরটা । বিছানায় নতুন চাদর বিছানো। পরিপাটি যত্ন আর মমতার ছাপ সারাটা ঘর জুড়ে।
পরদিন সকালে উঠেই শাম্স যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে যায়। ভদ্রমহিলা এসে দাঁড়ায় সামনে।
‘তুমি চলে যাবা বাবা? থাকো না আমাদের সাথে! আমাদের আর কে আছে? মেয়েটা বাবাকে হারিয়ে পাথর হয়ে গিয়েছিল। তোমাকে পেয়ে একদিনেই কেমন সব ভুলে গেল! তোমার বাবার যা আছে সবই তো তোমার। মেয়েটাতো বিয়ের পরই চলে যাবে। আর আমি...আমার একার বেঁচে থাকার জন্য কতটুকুই বা লাগে!’
শাম্সের মনে পড়ে যায় ওর মার কাছে বাবার এই সম্পদটুকু বড়ই সামান্য মনে হয়েছিল। আর সেজন্য ওকে ফেলে যেতেও দ্বিধা করেনি ওর নিজের মা!
শাম্স কোন কথা না বলে ঘরের দরজা খুলে সামনে এগিয়ে যায়। টের পায় ওর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে মা-বোন। অনিশ্চিত পায়ে এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনের লোহার গেটটার কাছে।
ভীষণ অভিমানী এক মানুষ সে। সেই শৈশব থেকেই এক প্রচণ্ড অভিমান বয়ে নিয়ে চলেছে হতভাগ্যের মত। এতদিন জেনে এসেছে তার নাম ঘৃণা। ঘৃণার অপরপাশে কোন ভালোবাসার দাবী বা আকুলতা যে ওত পেতে আছে মনে হয়নি কখনো। হঠাৎ ঝাপ্সা হয়ে যেতে থাকে ওর সামনের সবকিছু। গলার কাছে দলা পাকিয়ে ওঠে কিছু একটা। সামনে তাকিয়ে কিচ্ছু দেখতে পায় না সে।
আর কি আশ্চর্য! লোহার গেটটা এত শক্ত হয়ে গেল কিভাবে? শত চেষ্টা করেও গেটটা খুলতে পারেনা শাম্স।
ভ্যাবাচ্যাকার মত দাঁড়িয়ে থাকে গেটটার এপাশেই।
শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯
কিডন্যাপ
শেষ গল্পের সেই ছেলেটি
আগস্ট ১৭, ২০১৯
0
গার্লফ্রেন্ড কে কিডন্যাপ করতে গিয়ে ভুলে তার
ষাট বছরের দাদীকে কিডন্যাপ করে নিয়ে
এসেছি। রাতের অন্ধকারে কি বোঝা যায় কোনটা
বুড়ি আর কোনটা যুবতী মেয়ে?
সকালবেলা কাজের ছেলের ডাকাডাকিতে ঘুম
ভেঙ্গে গেলো। ও হাতে করে একটা পেপার
নিয়ে এসেছে আমাকে কিছু একটা দেখাতে। খুব
বিরক্তি নিয়ে বললাম " কি দেখাবি বল? ও বলল "ভাইয়া
আপনার আর একটা বুড়ির ছবি পেপারে এসেছে।
পড়ে দেখুন কি লিখেছে? আমি তাড়াহুড়ো করে
ওর হাত থেকে পেপার কেড়ে নিলাম। দেখি
পত্রিকার প্রথম পাতার নিচে লিখা " প্রেমের টানে
ষাট বছরের বুড়িকে কিডন্যাপ করেছে বাইশ
বছরের এক যুবক " নিচে আমার আর একটা বুড়ির ছবি
দেওয়া।
তাড়াতাড়ি ফোন খুলে আমার কুখ্যাত বন্ধুদের ফোন
দিলাম। ওরাই বলেছিল "ছকিনাকে কিডন্যাপ করা ওদের
বাম হাতের কাজ। বন্ধুর জন্য যদি এটুকুই না করতে
পারে তাহলে বন্ধু কিসের"। ফোন ধরতেই ওপাশ
থেকে আক্কাস বলে উঠলো " বন্ধু তুই আসবি
কখন। ভাবীতো এখনো ঘুমাচ্ছে । আর শোন
ভাবীকে একদম হালাল উপায়ে কিডন্যাপ করেছি।
আমাদের সাথে কিডন্যাপ করার সময় রুমাও ছিল। ও
নিজে হাতে ভাবীর মুখ বেঁধে বোরখা পরে
দিয়েছে। তারপর বাকি কাজ আমরা করেছি। তুই আসবি
বলে এখনো বোরখা খুলিনি। তুই তাড়াতাড়ি আয়"।
আমি এপাশ থেকে নায়ক মান্নার কন্ঠে বলে উঠলাম
" ঐ হারামিরা, তোরা কাকে তুলে নিয়ে এসেছিস
ভালো করে দেখ। তোদের ভাবী এখন
বাপের বাড়িতে বসে কার্টুন দেখছে। আর তোরা
তুলে এনেছিস ওর ষাট বছরের দাদীকে"। ওপাশ
থেকেই ফোনের লাইন কেটে গেলো।
সাথেসাথে ফোনে একটা মেসেজ এলো।
চেক করে দেখি ছকিনার মায়ের নাম্বার থেকে
মেসেজ। ও লিখেছে " কাল রাতে বাবা আমাকে
আমার ঘরে ঘুমাতে দেয়নি। আমি আম্মার সাথে
ঘুমিয়েছিলাম। আর বাবা রাতে আম্মার ফোন কেড়ে
নিয়েছিল বলে তোমাকে খবরটা দিতে পারিনি। প্লিজ
তুমি কিছু একটা করো নাহলে আব্বা আমাকে
দুইদিনের মধ্যে বিয়ে দিয়ে দিবে"।
দৌড়ে গেলাম ছকিনার দাদীকে যেখানে কিডন্যাপ
করে রাখা হয়েছে সেখানে। দেখি বুড়ি বসে
বসে ফোন টিপছে। আমাকে দেখেই বলল "
ওই তোর ফোনে নেট আছে? আমি আমতাআমতা
করে বললাম " না , আমার বাসায় ওয়াইফাই আছে"।
দাদী ঠাস করে আমার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে
বলল" কি রকম ছোট মাপের কিডন্যাপার তোরা যে
তোদের এখানে ওয়াইফাই নাই"। পাশে তাকিয়ে
দেখি আক্কাসও গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বুঝতে আর বাকি রইলো না। আমার আগে ওর
গালেও থাপ্পড় পড়েছে। দুজনা চোখাচোখি করছি
এমন সময় দাদী বলে উঠলো " তাড়াতাড়ি তোরা
আমাকে নেট কিনে দে"। আমি তাড়াহুড়ো করে
নেট কিনে আমার ফোন দাদীর হাতে দিয়ে
বললাম এই নিন দাদী আমার ফোন"। দাদী আবার ঠাস
করে আমার নরম গালে থাপ্পড় দিয়ে বলল " ওই, তুই
আমাকে দাদী বললি কেন? আমি কি দেখতে
দাদীর মতন? বয়স একটু হয়েছে এই যা, এছাড়া
এখনো আমাকে যুবক ছেলেপেলে
ফেসবুকে মেসেজ দেয়। আমার ছবি
ফেসবুকে শেয়ার করে। তুই কোন সাহসে
দাদী বললি বল"? আমি ভয়েভয়ে বললাম " তাহলে
আপনাকে কি বলবো? দাদী এবার খুশিখুশি মুখে
বলল " আমাকে নারগিস বলে ডাকবি। ওটা আমার ডাক
নাম। আর তোরা সবাই আমার পাশে এসে দাঁড়া, একটা
সেল্ফি তুলবো। বুড়ির থাপ্পড়ের ভয়ে সবাই পাশে
এসে দাঁড়ালাম। বুড়ি সেল্ফি তুলে আমার হাতে দিয়ে
বলল ক্যাপশন লিখ 'অনেকদিন পর বন্ধুদের সাথে
সেল্ফিবন্দী হলাম। কেমন হয়েছে কমেন্টে
জানান "। বুড়ির কথামতো ক্যাপশন লিখে দিলাম।
দুইদিনেই বুঝে গেলাম। এইটা আমার প্রেমিকার বাবার
প্লানিং। উনি ইচ্ছে করেই উনার মাকে কিডন্যাপ করার
ব্যবস্থা করেছে সেই রাতে। আমাদের উচিৎ শিক্ষা
দেওয়ার জন্য।
রান্না করি আমি আর বুড়ি ফেসবুকে ছবি আপলোড
দিয়ে ক্যাপশন লিখে " বন্ধুরা অনেকদিন পর নিজে
হাতে রান্না করলাম, খাবারের স্বাদ কেমন হয়েছে
কমেন্ট জানাও"। এই দুইদিনে বুড়ি আমাদের
জ্বালিয়ে শেষ দিয়েছে। এতবার করে বললাম "
চলো নারগিস তোমাকে তোমার বাড়িতে দিয়ে
আসি"। বুড়ি বলে কিনা ঐ বাড়িতে আর কখনো যাবে
না। সারাজীবন আমার সাথে থাকবে । আমি মনে
মনে বলি দুইদিনে তোমার পা টিপে দিয়ে আমার হাত
ফুলে গেছে। সারাজীবন পা টিপে নেওয়ার ধান্ধা
তোমার।
সেইদিন রাতে আবার বুড়িকে কিডন্যাপ করলাম।
কিডন্যাপ করে উনার বাড়িতে রেখে আসলাম।
সকালবেলা উঠে দেখি বুড়ির মেসেজ " মজনু, তুমি
কেন আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে গেলে? তুমি কি আমার
চোখের ভাষা বুঝতে পারোনি? আমি তোমাকে
ভালবেসে ফেলেছি মজনু। আমি সবকিছু ছেড়ে
তোমার কাছে ছুটে আসতে চাই মজনু। আমি জানি
এই সমাজ আমাদের মেনে নিবে না। তাই তুমি যদি চাও
তাহলে তোমাকে নিয়ে আমি মঙ্গল গ্রহে চলে
যাবো। সেখানে তুমি ধান চাষ করবে আর আমি
তোমার জন্য মজার মজার সব খাবার রান্না করবো।
আমাদের অনেক গুলো বাচ্চাকাচ্চা হবে। ওরা
তোমাকে আব্বা আব্বা বলে ডাকবে। আর আমি
পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো। আমি আসছি
তোমার বাড়িতে মজনু, তুমি থেকো "।
বুড়ির মেসেজ পড়ে মাথা ভোঁ ভোঁ করতে
লাগলো। দৌড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম।
কখন যে বুড়ি এসে বলে" চলো হানিমুনে যাই"।
.
গল্প : কিডন্যাপ
লেখা :মোঃআসাদ রহমান
কোটচাঁদপু,ঝিনাইদহ 

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৯
শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯
X গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস 2019
শেষ গল্পের সেই ছেলেটি
জুলাই ২০, ২০১৯
0
X গার্লফ্রেন্ড যখন অফিসের বস
লেখক : মো: আসাদ রহমান
কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ
আম্মুঃ সুমন উঠ বাবা
আমি; আরেকটু ঘুমাই না প্লিজ
আম্মুঃ ইন্টার্ভিউ দিতে যাবি না? লেট হয়ে যাবে তো।
আমিঃ হুম যাব।
আমি উঠে গেলাম।
আম্মুঃ ফ্রেশ হয়ে খাইতে আয়
আমিঃ তুমি যাও আমি আসতেছি।
আম্মুঃ যলদি
আম্মু চলে গেল। আমি ওয়াশরুমে ডুকলাম। এতক্ষনে তো নিশ্চই বুঝছেন আমি কে? তারপর ও বলছি আমি সুমন । যার সাথে কথা বলতেছিলাম সে আমার প্রানপ্রিয় আম্মু।
যাহোক আমি ফ্রেশ হয়ে খাইতে গেলাম। খাইয়া রুমে এসে রেডি হয়ে নিলাম।
তারপর ইন্টার্ভিউ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেড় হলাম। বিশাল বড় কোম্পানি।
পৌছে গেলাম অফিসে। একে একে সবার ইন্টার্ভিউ নেওয়া হলো। সবার শেষে আমাকে ডাকা হলো।
আমি গিয়ে ডুকলাম। ডুকে দেখি তিন জন বসে আছে । একজন মহিলা দুজন পুরুষ। মহিলা টা চেয়ার টা ঘুরিয়ে রেখেছে অন্যদিকে। তাই চেহারা দেখতে পারিনি।
আমিঃ আসসালামু আলাইকুম
একজনঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। দেখি আপনার সিভি
আমি দিলাম।
দুজন পাল্টাপাল্টি করে সব দেখল।
একজনঃ বাহ বাহ।qualification so good..তো সঞ্জিতা আমাদের তো ওনাকে বেশ পছন্দ হইছে তোমার কোনো প্রশ্ন থাকলে করতে পারো।
সঞ্জিতা নাম টা শুনতেই বুকের বা পাশ টা কেমন যেন করল। মনে হলো ইনি আমার আপন কেউ।।
তারপর মেয়েটি যখন মাথা ঘুরিয়ে আমার মুখোমুখি হলো। খেলাম শকড। এমন শকড খাব আগে ভাবতে পারিনি। সঞ্জিতা এ সঞ্জিতা আর কেউ নয়। আমার x girlfriend...। ও আমাকে দেখে কেমন লেগেছে বুঝতে পারিনি। কিন্তু আমি শকড খেয়েছি বিশাল।।
আমি দাড়িয়ে গেলাম ওরে দেখে।
সঞ্জিতাঃ আরে দাড়ালেন কেন? বসুন
আমিঃ জ্বী সরি মেডাম।
সঞ্জিতাঃ তা আপনার চাকরির কেন প্রয়োজন?
আমিঃ পারসোনাল মেডাম বলা যাবেনা।
সঞ্জিতাঃ কিন্তু এখানে যে বলতেই হবে।
মন টা চায় মাথা ফাটিয়ে দেই। জানে আমি কেন জব করব তারপরেও প্রশ্ন করে( মনে মনে আমি)
আমিঃ আসলে দু মাস আগে আমার গালফ্রেন্ড আমাকে ছেড়ে দেয় কোনো কাজ করিনা দেখে। আর বাসায় সারাদিন তো আব্বুর বকাঝকা আছেই। এজন্যই দরকার
সঞ্জিতাঃ আব্বু কাকু আমার ও ওরে পছন্দ হইছে। রেখে দাও ওরে।
আমি অভাক হয়ে গেলাম। এটা কি তাহলে সঞ্জিতাদের কোম্পানি। শালার কুত্তা কপাল শেষ মেষ আবার এই মেয়ের পাল্লাতেই পড়লাম।
তারপর একজন বললঃ তুমি কাল থেকে জয়েন করতে পারো।
আমিঃ ধন্যবাদ স্যার।
এবার আমি বেড় হয়ে গেলাম কেবিন থেকে। সোজা রিকশা নিয়া বাসায় চলে গেলাম।
বাসায় যেতেই আম্মু,,,
আম্মুঃ কিরে চাকরি হয়েছে
আমিঃ হুম হয়েছে।
আম্মুঃ যাক অবশেষে পেলি।
আমিঃ হুম। আমি রুমে গেলাম। মাথা ব্যাথা করতেছে।
আম্মুকে আর কিছু বলার সুযোগ নক দিয়ে রুমে ডুকে গেলাম। তারপর ওয়াশরুমে ডুকে ইচ্ছামত বিজলাম। বেড় হয়ে বিছানায় শুইলাম।
আপনারা ভাবছেন চাকরি পেলাম খুশির কথা এর চিন্তার কি আছে। আমি বলছি ভাই। একটাই সমস্যা সঞ্জিতা। বড় ডেঞ্জারাস। তার উপর আমি এক্স। না জানি আমার সাথে কি করে।
বড় বিষয় টা খুলে বলি।
আজ থেকে দুবছর আগে। আমি তখন অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি। আর সঞ্জিতা তখন নতুন কলেজে ইন্টার প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়।।
তো একদিন কলেজে ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতেছি। এমন সময় একটা মেয়ে সামনে দিয়া যায়। আমি দেখেই ক্রাশ খাই।
আমিঃ বন্ধু ক্রাশ খাইছি
তুষারঃ কি কছ কার উপর...?
আমিঃ ওই যে দেখ সবুজ ড্রেস।
শাওনঃ আরে এতো নতুন এসেছে।
আমিঃ নতুন পুরান জানিনা। আমি প্রেমে পড়ে গেছি। এ মেয়েকে আমার লাগবেই।
শাওনঃ পরে দেখা যাবে। এখন ক্লাসে চল।
আমিঃ ওকে চল।।
তারপর ক্লাসে গেলাম। ক্লাসে গিয়ে একটুও লেকচারে মন দিতে পারিনি। খালি মেয়েটির মুখ মাথায় ঘুরতেছে। ক্লাস শেষ করে যলদি বেড় হলাম। বেড় হয়ে মেয়াটাকে খুজতে থাকলাম। কিছুক্ষন পর পেয়েও গেলাম।
আমিঃ excuse me
মেয়েটিঃ জ্বী বলুন
আমিঃ আপনার নাম কি?
মেয়েটিঃ জ্বী আমার নাম সঞ্জিতা কিন্তু কেন..?
মাথায় আসল। এত যলদি প্রপোজ করব। যদি রাজি না হয়। থাক আজ বলব না।
আমিঃ না কিছু না এমনি।
সঞ্জিতাঃ ওকে তাহলে বাই।
সঞ্জিতা চলে গেল। আমি ওর হাটার দিকে তাকিয়েই থাকলাম।
তারপর বাসায় চলে গেলাম।। কিন্তু সঞ্জিতা ছাড়া মাথায় কিছু ঘুরছে না। প্রেমে পড়ে গেছি আমি।
পরদিন আবার কলেজে ওরে ফলো করতে লাগলাম। এভাবে কয়েকদিন ফলো করার পর একদিন সঞ্জিতার পেছন পেছন হাটছি এমন সময় সঞ্জিতা,,,
সঞ্জিতাঃ এই যে মিস্টার এদিকে আসুন
আমি গেলাম।
সঞ্জিতাঃ সমস্যা কি আপনার..???
আমিঃ কোনো সমস্যা নেই তো
সঞ্জিতাঃ তাহলে বেশ কিছুদিন ধরে ফলো করছেন কেন?
আমিঃ...
সঞ্জিতাঃ চলুন আমার সাথে
সঞ্জিতা আমার হাত টানতে টানতে একটা নিরব জায়গায় নিয়া গেল।
সঞ্জিতাঃ এবার বলুন কেন ফলো করেন..?
আমিঃ আসলে হয়েছে কি আপু
সঞ্জিতাঃ আপু কি? আমি আপনার আপু লাগি. ( রেগে)
আমিঃ না।
সঞ্জিতাঃ তাহলে আপু বলেন কেন? কি বলতে চান সেটা বলুন।
আমিঃ আসলে আমি আপনাকে
সঞ্জিতাঃ আরে কি আপনাকে আপনাকে লাগাইছেন। আমি তোমার ছোট তুমি কইরা বলো।
আমিঃ আমি তোমাকে ভা""""লো
সঞ্জিতাঃ তুমি আমাকে ভালোবাসো টাই তো..?
আমিঃ হুম ( মাথা নিচু করে)
সঞ্জিতাঃ মাথা উঠাও সোজা হয়ে দাড়াও
আমি হলাম।
তারপর যা হলো তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সঞ্জিতা আমাকে জড়িয়ে ধরল।
সঞ্জিতাঃ আমিও তো ভালোবাসি হাদারাম। এ কথা টা বলতে পুরো দু মাস কাটিয়ে দিলা।
এটা শুনে আমিও সঞ্জিতা কে জড়িয়ে ধরলাম।
আমিঃ তুমিও তো বলোনি।
সঞ্জিতাঃ আমার আচরন চলাফেরায় বুঝতে পারলেনা।
আমিঃ না বুঝিনি।
শুরু হলো নতুন প্রেম কাহিনি। দেখতে দেখতে আমার পরিক্ষা শেষ হলো। বেকার ঘুরছি। সঞ্জিতাও পড়াশোনা এবং আমাকে টাইম দিয়ে চলছে। চলছে আমাদের প্রেম লিলা।
একদিন,,,
সঞ্জিতাঃ তুমি কি কিছু করবানা?
আমিঃ কি করব?
সঞ্জিতাঃ যেকোনো চাকরি নাও। তারপর আমাকে বিয়ে করে নাও। তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছিনা
আমিঃ পারব না। আমার দ্বারা এসব সম্ভব না।
সঞ্জিতাঃ তুমি আমাকে চাও না?
আমিঃ আজব এর সাথে তোমাকে চাওয়ার সাথে কি সম্প র্ক। তুমি হচ্ছ আমার জীবন।
সঞ্জিতাঃ তাহলে চাকরি নাও।
এই চাকরি কাজ বিয়া নিয়া প্রতিদিন সঞ্জিতার সাথে ঝগরা হতো।
দু মাস আগে,,,
সঞ্জিতাঃ তুমি চাকরি করবা কিনা.???
আমিঃ না করব না।
সঞ্জিতাঃ ঠিক আছে। আজ থেকে তোমার আর আমার মাজে কোনো সম্প র্ক নেই। তুমি তোমার পথে আমি আমার পথে।
আমিঃ মানে কি এসবের
সঞ্জিতাঃ আমি কোনো বেকার ছেলের সাথে থাকতে চাই না। আর হ্যা ভালোবাসার কসম তুমি আজ থেকে আর আমার সাথে যোগাযোগ করবানা।
এই বলে সঞ্জিতা হাটা ধরল। আমি ডাকলাম। কিন্তু কিছুই শুনল না।
একদিকে সঞ্জিতাকে হারালাম। অন্যদিকে শুরু হলো আব্বুর বকা। কেন কিছু করিনা। বসে বসে বাপের অন্ন নষ্ট করি।
সেজন্যই আজকে ইন্টার্ভিউ দিলাম। এবং চাকরিও হয়ে গেল। কিন্তু সমস্যা সঞ্জিতা। আল্লাহ জানে কপালে কি আছে....????
To be continue....
লেখক ঃমোঃআসাদ রহমান
কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ